/ হোম / আমাদের টাঙ্গাইল
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদল - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদল

আরমান কবীর:টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং ও থার্ড সেক্রেটারি শিয়া ডাওজিং। শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের শুরুতে চীনা প্রতিনিধিদল মাওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার ও ভাসানী জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং মাওলানা ভাসানীর জীবন, দর্শন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। সম্ভাব্য শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা এবং চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়।

চীনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদল ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন। তারা বিভাগের শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, সেমিনার লাইব্রেরি ও গ্যালারি রুম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ ছাড়া চীনা প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ডরমিটরিও পরিদর্শন করেন। শিক্ষা ও গবেষণায় সম্ভাব্য সহযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক বিনিময় কার্যক্রমের সুযোগ নিয়েও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের এ সফরের মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির সঙ্গে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০২:এএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৫০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া সদরের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।’

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও শিক্ষামুখী ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’

১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।

অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। BUET ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৯:এএম ১ মাস আগে
সতীনকে ‘মা’ ডাকায় কোলের শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ - Ekotar Kantho

সতীনকে ‘মা’ ডাকায় কোলের শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের সখীপুরে আশরাফুল (৩) নামে এক শিশুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে।

এ সময় তাঁর আরেক মেয়ে সিদরাতুলকে (৮) ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আকলিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে আকলিমাকে হেফাজতে নিয়েছে সখীপুর থানা-পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারের সন্তান না হওয়ায় তিনি চার বছরের এক মেয়েসহ আকলিমাকে বিয়ে করেন। পরে আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়। শিশুটির বয়স ৪০ দিন হওয়ার পর আকলিমা তাঁকে প্রথম স্ত্রী নাসিমার কাছে রেখে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতে যান। এরপর নাসিমার কাছেই বড় হয় আশরাফুল।

স্থানীয়রা জানান, আশরাফুল নাসিমাকে ‘বড় মা’ এবং আকলিমাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাতে আকলিমা তাঁর ছেলে আশরাফুল ও মেয়ে সিদরাতুলকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে আশরাফুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সিদরাতুলও গুরুতর আহত হয়েছে।

ঘটনার পর আকলিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাঁকে বাড়ির উঠানে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। সকালে পুলিশ গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

শিশুটির বাবা শাহিন মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, ‘ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তার মরদেহ সেখানেই রয়েছে। নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১০:পিএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় দেন।

এছাড়াও আসামীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দন্ডিত আসামী মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে রশিদ মিয়া (৫৫)।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে আরো উল্লেখ করেন, আসামীর কাছ থেকে অর্থদন্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামী যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে।

ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দন্ডিত আসামীর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পতি নিলামে বিক্রি করে অর্থদন্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, ধর্ষনের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতা ধর্ষক রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকার ঘোষনা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাস্ট্র গ্রহন করবে।

শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমান নির্ধারন পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করতে হবে।

টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়।

এসময় প্রতিবেশী সম্পর্কে দাদা দন্ডিত আসামী রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

এসময় এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা পরিবর্তন হলে শিশু তার মার কাছে ধর্ষনের কথা বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার পিতার বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

তিনি আরও জানান,পরে ভিকটিম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। পরে আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দন্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৯:এএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সার কাজের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এবং নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগেও প্রথম দরপত্র আহ্বানের সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই দরপত্রটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও এবারও একই কায়দায় প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় একটি প্যাকেজে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর ই-জিপিতে দরপত্রটি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই প্রাক্কলন ফাঁস হওয়ায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও পৌরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত টাকার তথ্য জানিয়ে দেন। এর ফলে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কম দর দেখিয়ে কাজটি লুফে নেয় মেসার্স কাওছার আকবার। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের মেয়াদ শেষ না হতেই অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো ধরনের পরিদর্শন ছাড়াই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করেন সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ২৫ মে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হলে সে সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে তা বাতিল করে চলতি বছর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু এবারও প্রাক্কলনটি ফাঁস হয়ে যায়। প্রথমবার দরপত্র বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না দেখিয়েই দ্বিতীয়বার তা আহ্বান করা হয়। বর্তমান অনলাইন ই-জিপিতে লাইভে থাকা এই প্রকল্পের দাফতরিক প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রাক্কলন ফাঁসের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসায় গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়নি।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডিসি লেকের সংস্কার, রাস্তার বাতি স্থাপন এবং হাঁটার পথ (অ্যাম্ফিথিয়েটার ও প্লাজা) নির্মাণে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬০১ টাকা ৬৮ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ঢাল সুরক্ষা ও হাঁটার পথ নির্মাণে ১ কোটি ৩০ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯৭ পয়সা এবং একই স্থানে সীমানা প্রাচীর, প্রধান প্রবেশদ্বার ও টিকিট কাউন্টার নির্মাণে ৪৮ লাখ ২১ হাজার ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ই-জিপি (ওটিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌর কর্মকর্তা দাবি করেন, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সদ্য বিদায়ী পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেই দরপত্র আহ্বানের পরপরই প্রাক্কলন ফাঁস করেন। গত বছরও একই কারণে দরপত্র বাতিল করতে হয়েছিল।

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সদ্য বিদায়ী প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ উল্লেখিত কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দমতো ঠিকাদারকে কাজ দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রাক্কলন ফাঁস করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মোবাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে সরাসরি অফিসে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান।

নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ই-জিপির পাসওয়ার্ড কেবল তার কাছে নয়, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের কাছেও রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনিযুক্ত প্রশাসক সুমাইয়া মোমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮:এএম ১ মাস আগে
মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীর: দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আটপুকুর পার এলাকায় অবস্থিত সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যবীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি খামারগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরে খামারের ব্রুড মাছের পুকুরে মাছ পর্যবেক্ষণ এবং খামার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪২:এএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আনসার সদস্য নিহত, গ্রেপ্তার ২  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আনসার সদস্য নিহত, গ্রেপ্তার ২ 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের বাসাইলে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হানিফ শেখ (৩৭) নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হাবলা উত্তর পাড়ার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে, ডায়মন্ড ( ৩৮) ও একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মদদ মিয়া (৪৩)।

নিহত হানিফ শেখ হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার আলী খানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিলপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন হানিফ। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এএসআই) মো. আতিকুর রহমান বলেন, রাতে হানিফ নামের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা ২০ জনকে আসামি করে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর স্তন্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১৯:পিএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যার বিচারের দাবিতে আলোচনা সভা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যার বিচারের দাবিতে আলোচনা সভা

আরমান কবীর:টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান ও দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ ফারুক স্মৃতি সংসদের আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে ও ফারুক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ও দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাবু’র সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, শফিকুর রহমান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, থানা মহিলা দলের সভাপতি পারুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক শিল্পী আজম প্রমুখ।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ,সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের একমাত্র সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ফুয়াদ ইসলাম অনিক ও ভাগিনা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিত ইসলাম দিপু।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান ছিলেন,টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাঁর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন অন্যথায় বর্তমানে শান্ত টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চল অশান্ত হয়ে উঠবে।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদল যুবদলের নেতাকর্মী সহ,দাইন্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে তিনি প্রাতভ্রমনে বের হয়ে শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৩:পিএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘মিষ্টি উৎসব’  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘মিষ্টি উৎসব’ 

  • আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’। বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনের এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় এ উৎসবের ঘোষণা দেওয়া হয় ৩১ আগস্ট টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, বিশেষ করে জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নির্দেশনায় উৎসবটি আয়োজন করা হচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসবের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের দুইশত বছবের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ ও বিদেশে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জেলার স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন পণ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

উৎসবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মিষ্টি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির বড় পরিসরের প্রদর্শনী।

আয়োজকদের মতে, উৎসবের প্রধান তিনটি লক্ষ্য হলো, টাঙ্গাইলের দুইশত বছরের মিষ্টিশিল্পকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরে ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলা, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

টাঙ্গাইলের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য শাড়ি, আনারস, চমচম, সন্দেশসহ স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে এবারের উৎসব। এই উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, এর মাধ্যমে জেলার পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মিষ্টি কারিগর, তাঁতি ও ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।

তিন দিনের এই ‘মিষ্টি উৎসব’ শুধু মিষ্টি খাওয়ার আয়োজন নয়। এটি টাঙ্গাইল মিষ্টির ২০০ বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির এক সম্মিলিত উদযাপন।

মেলায় দুই জমজ কন্যাকে সাথে নিয়ে এসেছেন খুরশিদা হক, তিনি জানালেন, তিনি চাকুরী সূত্রে ঢাকায় থাকেন।জেলা প্রশাসনের ফেসবুকে মিষ্টি উৎসবের খবর দেখে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি আরোও জানান, টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে এই ধরনের উৎসবের আয়োজন করা উচিত। মেলার পরিবেশ অত্যন্ত ভালো, পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঘুরছি।

জয়কালী মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বপন ঘোষ বলেন, টাঙ্গাইলের চমচমের ইতিহাস, ২০০ বছরের ইতিহাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ইতিপূর্বে এই নিয়ে কোন ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক ও সরকারকে ধন্যবাদ এই মিষ্টি উৎসব আয়োজন করার জন্য। এই মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোক এসেছে মিষ্টি খেতে ও পরিবারের জন্য নিয়ে যেতে। আশা করি, এই উৎসবের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলাকে আরও ব্যান্ডিং করা যাবে।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’—এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

মেলা উদ্বোধনের পর প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য,- দশরথ গৌড়(বাঙালি হালুইকর) নামে এক ব্যক্তি ব্রিটিশ আমলে আসাম থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে আসেন। তিনি যমুনার পানি ও গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথমে চমচম তৈরি শুরু করেন। পরে সেখানেই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

এর আগে ১৬০৮ সালে পোড়াবাড়ি গ্রামটিকে নদীবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সে সময়কালে ধলেশ্বরীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র পোড়াবাড়ি বাজার। তখন পোড়াবাড়ি ঘাটে ভিড়তো বড় বড় সওদাগরি নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার। এ বাজারে যোগ হয় সুস্বাদু চমচম, গড়ে ওঠে মিষ্টির বাজার। ধীরে ধীরে পোড়াবাড়িতে প্রায় অর্ধশত চমচম তৈরির দোকান গড়ে ওঠে। তবে এখন পোড়াবাড়ী নয়, মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনি বাজার।

জেলায় চমচমের পাশাপাশি সাদা চমচম, রসগোল্লা, আমির্তী, পানতোয়া, কালোজাম, ক্ষিরমোহন, রসমালাই, মালাইকারী, ছানার পোলাও, দই (লাল), দই (সাদা), সন্দেশ, জিলাপি, ইত্যাদি এখন মন ভিজিয়েছে ভোজন রশিকদের।

এ ছাড়াও রয়েছে জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুকীর কালিদাসের গুড়ের ও চিনির সন্দেশ জেলাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৭:পিএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলের চমচম – এক কামড়ে ২০০ বছরের ইতিহাস - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের চমচম – এক কামড়ে ২০০ বছরের ইতিহাস

আরমান কবীর:টাঙ্গাইলকে যদি ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্লেষণ করি, তাহলে এর ৩টি পিলার পাব: তাঁত, আনারস, চমচম। তাঁত আজ অস্তিত্ব সংকটে। আনারস মৌসুমি। কিন্তু চমচম? ২০০ বছর ধরে সে একাই টাঙ্গাইলের “সফট পাওয়ার”।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি গ্রামটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। নদীর পানিতে আয়রন ও মিনারেলের অনুপাত এমন যে ছানা কাটলে দানা হয় ঝরঝরে, কিন্তু শক্ত হয় না। দেশের অন্যান্য জেলার পানিতে সেই “মাউথফিল” আসে না।

টাঙ্গাইলের মিষ্টি তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো তাজা দুধ। দুধ জ্বাল দিয়ে তা থেকে ছানা তৈরি করা হয়। এরপর ছানাকে কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে অতিরিক্ত পানি ঝরে যায়। নিচে রাখা বড় পাত্রে ছানা থেকে ঝরে পড়া তরল জমা হয়।

সাধারণ মেশিনে ১০ মিনিটে যে কাজ হয়, টাঙ্গাইলের চমচমের কারিগর হাতে ২ ঘণ্টা ধরে ছানা মথে। ফলে প্রোটিনের স্ট্রাকচার ভাঙে না। তাই কামড় দিলে দানাদার, কিন্তু গলে যায়।

ছানা প্রস্তুত হওয়ার পর তা ভালোভাবে মথে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া হয়। এরপর চিনির ঘন সিরায় ধীরে ধীরে জ্বাল দেওয়া হয়। দক্ষ কারিগরের হাতের নিপুণতায় সাধারণ ছানা তখন রূপ নেয় সুস্বাদু চমচমে।

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি তৈরিতে যত্ন ও সময় প্রয়োজন হয়। ৬-৭ ঘণ্টা চিনির সিরায় ডোবানোর ফলে চমচমের চিনি ভেতরে ঢোকে। ফলে বাইরে ক্যারামেলাইজড লেয়ার তৈরি হয় আর ভেতরে ৭০% ময়েশ্চার। চমচম তৈরির এই পদ্ধতির কারণে প্রায় ২০০ বছরের খ্যাতি ধরে রেখেছে টাঙ্গাইলের চমচম।

বিদেশে রপ্তানি না হলেও অতুলনীয় স্বাদের কারণে এ জেলা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় চমচম যায়। এ ছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে না হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চমচম রপ্তানি করা হয়।

ইতিহাস বলছে- দশরথ গৌড় নামে এক ব্যক্তি ব্রিটিশ আমলে আসাম থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে আসেন। তিনি যমুনার পানি ও গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথমে চমচম তৈরি শুরু করেন। পরে সেখানেই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

এর আগে ১৬০৮ সালে পোড়াবাড়ি গ্রামটিকে নদীবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সে সময়কালে ধলেশ্বরীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র পোড়াবাড়ি বাজার। তখন পোড়াবাড়ি ঘাটে ভিড়তো বড় বড় সওদাগরি নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার। এ বাজারে যোগ হয় সুস্বাদু চমচম, গড়ে ওঠে মিষ্টির বাজার। ধীরে ধীরে পোড়াবাড়িতে প্রায় অর্ধশত চমচম তৈরির দোকান গড়ে ওঠে।

তবে এখন পোড়াবাড়ী নয়, মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনি বাজার।

জেলায় চমচমের পাশাপাশি সাদা চমচম, রসগোল্লা, অমৃতী, পানতোয়া, কালোজাম, ক্ষীরমোহন, রসমালাই, মালাইকারী, ছানার পোলাও, দই (লাল), দই (সাদা), সন্দেশ, জিলাপি, ইত্যাদি এখন মন ভিজিয়েছে ভোজন রসিকদের। এ ছাড়াও রয়েছে জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুকীর কালিদাসের গুড়ের ও চিনির সন্দেশ। যা জেলাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

বর্তমানে মিষ্টি শিল্পে টাঙ্গাইলের ঘোষ ও পাল সম্প্রদায় বংশানুক্রমিক ভাবে নিয়োজিত আছে। তবে দে, নাগ ইত্যাদি উপাধিধারী অনেকেও মিষ্টান্ন তৈরিতে নিয়োজিত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের মোদক উপাধি প্রাপ্তরাও মিষ্টি শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

টাঙ্গাইল শহর ও পোড়াবাড়ি মিলিয়ে ২০০টির অধিক মিষ্টির দোকান। প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি দোকানে ৫ মণ, বছরে প্রায় ১৮০ মণ চমচম তৈরি হয়। প্রতি কেজি গড়ে ৩৫০ টাকা ধরলে শুধু চমচমের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২৮ কোটি টাকা।

টাঙ্গাইলের মিষ্টির ঐতিহ্যের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানও জড়িত। জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও কারখানায় বহু মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। প্রতিদিন তাজা দুধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ছানা তৈরি, মিষ্টি প্রস্তুত, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত, পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ।

পোড়াবাড়ির মিষ্টি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বর্তমানে খোকা ঘোষ ও গোপাল চন্দ্র দাস, গৌর ঘোষ, হারু ঘোষ, কানাই ঘোষ উল্লেখযোগ্য।

তবে পোড়াবাড়ি নয়, বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনি বাজার মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে। জয়কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ি মিষ্টি ঘরে এখনও নির্ভেজাল পোড়াবাড়ির চমচম পাওয়া যায়। এই পাঁচআনি বাজারে প্রায় অর্ধশত মিষ্টির দোকান রয়েছে। আর যেখানে চমচমের জন্ম সেই পোড়াবাড়িতে এখন রয়েছে হাতেগোনা মাত্র চার থেকে পাঁচটি মিষ্টির দোকান।

টাঙ্গাইলের চমচম এখনও কেন এত জনপ্রিয়, সে তথ্য জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা সাহান হাসান ও উম্মে সালমা মাসুদ বলেন, “ছোট বেলায় দেখেছি হাতেগোনা কয়েকটি মিষ্টির দোকান ছিল। এখনতো প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান হয়েছে। সে সময়ের মিষ্টির স্বাদ ও বর্তমানে যে স্বাদ তাতে অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু মিষ্টির গুণগত মান আগের তুলনায় খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অন্যান্য মিষ্টির তুলনায় পোড়াবাড়ির চমচম অনেক সুস্বাদু। দীর্ঘ পরিক্রমায় এখনও সেই সুনাম ধরে রেখেছেন চমচম ব্যবসায়ীরা।”

জয় কালী মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বপন ঘোষ বলেন, “আমার বাবা ১৯৩৯ সাল থেকে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। সেখান থেকে আমিও মিষ্টির ব্যবসা করছি। আমার পরের জেনারেশনে আমার ছেলেও আছে। মূলত এই পোড়াবাড়ির চমচমের উৎপত্তি হয়েছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে।”

চমচমের স্বাদ ও মান বিষয়ে স্বপন ঘোষ বলেন, “চমচম সুস্বাদু হওয়ার একটা কারণ হচ্ছে- চরাঞ্চল থেকে যে সমস্ত গাভীর দুধ আসে, সেগুলো অনেক ভালো। আর জলেরও একটা বিষয় আছে। দুধ, জল ও কারিগরের সমন্বয়েই এই মিষ্টির স্বাদ হয়। মিষ্টিগুলো খুবই প্রাকৃতিক। মিষ্টি তৈরিতে কোনও ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। এসব কারণেই চমচম বিখ্যাত হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে এই পোড়াবাড়ির মিষ্টির সুনাম রয়েছে। তবে তৎকালীন সময়ে মিষ্টির যে ফ্লেভার ছিল, সেটা বর্তমানে নেই। আমরা চেষ্টা করছি আগের ফ্লেভার ধরে রাখতে। তারপরও টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির মিষ্টির চেয়ে কোথাও আর ভালো মিষ্টি তৈরি হয় না।”

তবে আধুনিকতার এই সময়ে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির মান ও স্বকীয়তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন, মানসম্মত দুধের ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুত প্রণালির সংরক্ষণ, এসব বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে পোড়াবাড়ির চমচমসহ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আরও উপকৃত হতে পারেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৭:এএম ২ মাস আগে
ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন দেখভালের দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন দেখভালের দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীর: দেশের আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকর তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে দেওয়াকে তাঁর প্রতি সরকারের আস্থা ও প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বে তিনি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে, টাঙ্গাইলের সন্তান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজধানী ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় টাঙ্গাইলবাসীর মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা টুকুর ওপর ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব অর্পণ টাঙ্গাইলের জন্যও গর্বের বিষয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নতুন দায়িত্বে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. অগাস্ট ২০২৬ ০৩:৪১:এএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক ভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ফেলা হচ্ছিল যমুনায় - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক ভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ফেলা হচ্ছিল যমুনায়

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় একটি পিকআপ আটক করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার দিবাগত রাতে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকায় পিকআপটি আটক করা হয়। পরে পুলিশ ওষুধসহ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বস্তায় করে পিকআপে তোলা হয়। পরে সেগুলো গোবিন্দাসী যমুনা নদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। টি-রোড এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা পিকআপটি থামিয়ে দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করা এসব ওষুধের একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং কেন সেগুলো নদীতে নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পিকআপচালক আজমত বলেন, বাবুল নামের এক ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে গোবিন্দাসী এলাকায় বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর পিকআপ ভাড়া করেন। বস্তাগুলোর ভেতরে কী ছিল, তা তিনি জানতেন না।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া পিকআপভর্তি ওষুধ ও চালককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অগাস্ট ২০২৬ ০৮:৩০:পিএম ২ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।