একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের সাথে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে ৫ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২১ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল ইসলাম অভিযুক্ত ৫ জনকে সাজা প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবালিয়া এলাকার মৃত সামাদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামকে ১৫ দিন, একই এলাকার মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে তারেক, কোদালিয়া এলাকার পরেশ চন্দ্রের ছেলে পল্লব চন্দ্র, দেলদুয়ার উপজেলার পরাইখালী গ্রামের মালেক সিকদারের ছেলে রাকিব সিকদার ও কালিহাতী উপজেলার ভূক্তা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হাসানকে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।সোমবার (২১ জুন) দুপুরে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানকালে তাদের আটক করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি দালাল চক্র দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগী ও স্বজনদের নানাভাবে হয়রানী এবং প্রতারনা করে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অতীতের রেকর্ড ভেঙে গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪২ দশমিক ৮৫ শতাংশ করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন ৩৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৬৫জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ক্রমাগত করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইল পৌরসভা ও কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় মঙ্গলবার(২২ জুন) ভোর ৬টা থেকে আগামি ২৮ জুন(সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান সোমবার(২১ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় রোববার(২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডক্টর মো. আতাউল গনি সাক্ষরিত ৯ দফা নির্দেশনা সহ একটি বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে গৃহীত কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সোমবার(২১ জুন) দিনব্যাপী জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা তথ্য অফিস, জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌর এলাকায় কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করায় শহরে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, এটিএম বুথ, কাঁচা বাজার, শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলোতে উপচেপড়া ভীর দেখা গেছে। শহরের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৯৯জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক ১৬৫ জনের কোরোনা শনাক্ত হয়েছে।
তিনি জানান, একমাস ধরে জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তায় গাণিতিক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে- যা জেলার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনস্বার্থে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌরসভায় ২২ জুন(মঙ্গলবার) থেকে ২৮ জুন(সোমবার) পর্যন্ত সাতদিনের কঠোরবিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামে সোমবার(২১ জুন) দুপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে নাজমুল(১৬) নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরে মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নাজমুল ওই গ্রামে জয়নুদ্দিনের ছেলে। নাগবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান সিদ্দিকী মিল্টন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুপুরে নাজমুল নামে ওই কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে একই গ্রামের সামাদের পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের এক পর্যায়ে নাজমুল পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা প্রায় একঘণ্টা চেষ্টা করে পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পাকুটিয়া সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আবেদা খানম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শারমীন আক্তার প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে রোববার (২০ জুন) দিনগত রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি করটিয়া ইউনিয়নের খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর মেয়ে।
পারিবারি সূত্রে জানা যায়, খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শারমীন আক্তারের(২০) সাথে একই এলাকার খসরু মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলামের(২৫) দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ওই প্রেমের সম্পর্ক এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। শারমিন আক্তার ইতোপূর্বে প্রেমিক সাইদুলকে একাধিকবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা তালবাহানা করতে থাকে। সর্বশেষ রোববার(২০ জুন) বিকালে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সাইদুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। উপান্তর না দেখে শারমিন আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শারমীনের মা পারভীন বেগম জানান, তার মেয়ের সাথে সাইদুলের দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দু’জনে স্বামী-স্ত্রীর মতো চলাফেরা করতো। সাইদুল ইসলাম তার মেয়েকে আদালতে হলফ নামার মাধ্যমে বিয়ে করে। কাবিন রেজিস্ট্রি করতে বলা হলে সাইদুল তার পরিবারের চাপে অস্বীকার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, ছেলে-মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। ছেলে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় মুজিব বর্ষে দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার ১৩০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় কবুলিয়ত দলিলসহ নব-নির্মিত বাসগৃহ পেয়েছেন। রবিবার (২০ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই বাসগৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপকারভোগীদের হাতে বাসগৃহের কবুলিয়ত দলিল তুলে দেন সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গণি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ।
এ সময় জেলার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার ১২টি উপজেলায় স্ব স্ব আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বাসগৃহের কবুলিয়ত দলিল উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল জেলায় এক হাজার ১৩০টি ঘরের মধ্যে ৭৪৮টি ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে, বাকি ৩৮২টি ঘরের নির্মাণ কাজ আগামি ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
একতার কন্ঠঃ আগামীকাল সোমবার(২১ জুন) থেকে সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রবিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস টার্মিনাল ছাড়া কোনো জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যেই কমিটির ১১১টি সুপারিশ ছিল। পরে এ বিষয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে পথে, অল্প কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করবো, আমরা সেই বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি।
’আজকে সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি সারাদেশে রিকশা-ভ্যানের মধ্যে মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। শুধু সামনের চাকায় ব্রেক, পিছনের চাকায় কোনো ব্রেক নেই বা ব্যবস্থা থাকলেও তা অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে যাত্রীসহ গাড়ি উল্টে যায়। এই ধরনের দৃশ্য আমরা দেখেছি।’‘আমরা দেখেছি হাইওয়েগুলোতেও এই রিকশা চলে আসছে।
এ জন্য সারাদেশের প্যাডেল চালিত রিকশার বিষয়ে আমরা বলছি না। প্যাডেল চালিত রিকশাকে যারা ইঞ্জিন দিয়ে রূপান্তর করেছেন, সেই সব রিকশা-ভ্যান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আজকের সভায় নেয়া হয়েছে।’ইজিবাইক, নছিমন, করিমনের জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। এগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নছিমন, করিমন, ভটভটি বিভিন্ন শহরে অটোরিকশা চলছে। আমরা সব জায়গায় যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারিনি। গ্রাম-গ্রামান্তরে সুন্দর রাস্তা হয়ে গেছে। হাঁটা কিংবা সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ছাড়া পর্যাপ্ত যানবাহন নেই। সেজন্য নছিমন, করিমন পণ্য পরিবহন কিংবা যানবাহনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এটা নিয়েও আলোচনা হবে। খুব শিগগিরই এটাকে পরিমিত করা এবং ফাইনালি বন্ধ করা যায় কি-না সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা সেখানেও কাজ করবো।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইজিবাইক যথেষ্ট পরিমাণ এসে গেছে। ছোট ছোট গলিতে এগুলোর চলার কথা ছিল, প্রথমে সেভাবেই আসছিল। কিন্তু এরা সর্বত্র বিচরণ করছে। কমিশনার (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার) জানিয়েছেন, ১৩ হাজার মোটরচালিত রিকশা-ভ্যান আমরা ধ্বংস করেছি।
ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যাতে তারা তাদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে বের হতে না পারে। হাইওয়েতে কিংবা বড় রাস্তায় না আসতে পারে। ক্রমান্বয়ে আমরা এটাও বন্ধ করে দেব।’সভায় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান, সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. মসিউর রহমান রাঙা, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার সাদাৎ তানাকা শনিবার(১৯ জুন) দিনগত রাতে পারদিঘুলিয়ার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি শহরের পারদিঘুলিয়ার বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। তিনি মা, বাবা, স্ত্রী এক ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কাউন্সিলর আনোয়ার সাদাৎ তানাকার বাবা আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম জানান, প্রতিদিনের ন্যায় তানাকা শনিবার (১৯ জুন) রাতে ঘুমোতে যায়। রোববার(২০ জুন) সকালে তার মা ঢাকা যাওয়ার সময় তাকে ডাকাডাকি করেন। ঘুম থেকে না উঠায় শরীর ধরে ধাক্কা দেন। কোন সাড়া না দেওয়ায় দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রোববার বাদ যোহর পারদিঘুলিয়া জামে মসজিদে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা নামাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন, পৌরসভার কাউন্সিলরবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। পরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে আনোয়ার সাদাৎ তানাকা ৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইল পৌরসভা ও কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকায় মঙ্গলবার(২২ জুন) সকাল ৬টা থেকে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (২০ জুন) দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি এ ঘোষণা করেন ।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে টাঙ্গাইল শহর ও কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌর এলাকায় ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সাত দিনের সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এসব এলাকার কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্য পরিবহন ছাড়া হোটেল ও মার্কেটসহ সবই বন্ধ থাকবে। এ সময় সকল ধরণের গণপরিবহন, রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালানো যাবেনা। এক সপ্তাহ পরে করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এদিকে, টাঙ্গাইল জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পর্যন্ত ১৫৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৭ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।
জেলায় আক্রান্তের হার ৩০দশমিক ৭১শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ জন, কালিহাতীতে ১৭ জন, ঘাটাইলে ৯ জন, সখীপুরে ৪ জন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ছয় হাজার ১০৯ জন। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে চার হাজার ৩৯৬ জন। করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৯৮ জন।
একতার কণ্ঠঃ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ও টাঙ্গাইল-২(ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের স্ত্রী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অপরাজিতা হকের মা কুলছুম জামান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মরহুমার ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা ক্লাবের সভাপতি খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল জানান, শনিবার (১৯ জুন) ভোরে বার্ধক্যজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মায়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, তিনি এক ছেলে ঢাকা ক্লাবের সভাপতি খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল(সিআইপি) ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অপরাজিতা হক সহ অসংখ্য গুণগাহী রেখে গেছেন।তিনি জানান, খন্দকার কুলছুম জামানের প্রথম জানাজা নামাজ গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ।দ্বিতীয় দফা জানাযা নামাজ তাদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নারুচিতে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তার স্বামী মরহুম খন্দকার আসাদুজ্জানের কবরের পাশে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা করটিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে।বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে করটিয়া বাইপাস এলাকার সীমান্ত বণিক মার্কেটে শুক্ররার(১৮ জুন) দিনগত রাতে ওই অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার দিবাগত রাতে বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।রাত ১২টার দিকে বাজারের মোন্নাফের শাকিল ষ্টোর নামে মনোহারি দোকানে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মূহুর্তের মধ্যে আগুণের লেলিহান শিখা পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ “শেকড়ের সন্ধানে ছুটে চলা’ – এই প্রত্যয় কে ধারন করে আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকমের এক ঝাক তরুন সাংবাদিক একত্রে হয়েছিলেন শুক্রবার(১৮ জুন) সকালে। এই দিন ছিলো আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকমের ২য় বর্ষে পদার্পণের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছিল আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলন। একই অনুষ্ঠানে বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়।
চ্যানেল আই এর জেলা প্রতিনিধি, আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কালের কন্ঠের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি এবং আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকমের বিশেষ প্রতিবেদক অরণ্য ইমতিয়াজের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, প্রথম আলো এর স্টাফ রিপোর্টার কামনা শীষ শেখর, মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তরুন ইউসুফ, একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কাজী তাজউদ্দিন রিপন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তবে মুসলিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সত্যের পথে আছি এবং শেখরের সন্ধানে ছুটে চলছি। তাই আমি আজকের দিনে বলতে চাই- যারা আমাদের সাথে রয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ বলেন, আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকম আজ ২ য় বর্ষে পদার্পণ করেছে। আজকের এই আনন্দের দিনে আমি আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকম পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই পোর্টালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি- এ অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকুক।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, মত প্রকাশ করা আমাদের মৌলিক অধিকার। তবে গণমাধ্যমে কর্মরতদের মনে রাখতে হবে সেই মত প্রকাশ যাতে হয় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকম সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বাহক হিসেবে কাজ করবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পোর্টালের রির্পোট আমি পর্যবেক্ষন করে থাকি এবং আমার উপজেলায় কোনো সমস্যা থাকলে তাৎক্ষনিক সমাধানের চেষ্টা করি। টাঙ্গাইলের এবং সমাজ পরিবর্তনে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কাজী জাকেরুল মওলা বলেন, এই পথচলাকে শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকম একটি ভালো ও জনপ্রিয় পত্রিকা এবং এই জনপ্রিয়তা কে ধরে রাখতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক হাবিবুল্লা শেফুল বলেন একটি পোর্টালের জন্য ১ বছর খুব বেশি সময় নয়। এই অল্প সময়ে টাঙ্গাইলের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। আপনাদের সকলের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে কাজ করে যাবে আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকম।
শেষ পর্বে আমাদের টাঙ্গাইল টুয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রতিনিধিদের সংবাদিকতার কলাকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন ,কামনা শীষ শেখর, অরন্য ইমতিয়াজ, তরুণ ইউসুফ এবং মুসলিম উদ্দিন আহমেদ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চীনের উৎপাদিত সিনোভ্যাক্স টিকা(ভ্যাকসিন) প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তৃতীয় ধাপে জেলায় মোট ১৫ হাজার ৬০০ ডোজ চীনে তৈরি সিনোভ্যাক্স ভ্যাকসিন এসেছে। অনলাইনে নিবন্ধিত তালিকানুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন জানান, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার প্রায় ৪২ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১২ লাখ ৮ হাজার ২৯৭ জন অনলাইনে করোনা ভাইরাসের টিকার জন্য আবেদন করেন।
এরমধ্যে ১০ লাখ এক হাজার ৫৩২জন টিকার প্রথম ডোজ এবং ৭৫ হাজার ৬৯৪জন দ্বিতীয় ডোজ গ্রহন করেছেন। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৮৩৮জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাননি।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৯২জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার শতকরা ৩৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।শনিবার(১৯ জুন) সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ছয় হাজার ৬২ জন।