একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে না দিয়ে পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় বিষপানে আয়েশা আক্তার আশা (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) ওই ছাত্রীর পরিবার তার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে অভিমানে বিষ পান করে।সোমবার (১মে) ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আয়েশা আক্তার উপজেলার কচুয়া গ্রামের আজহার আলীর মেয়ে।সে স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখীপুর সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আয়শা আক্তার আশার সঙ্গে এক প্রতিবেশী সহপাঠীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) তাকে পারিবারিক ভাবে তার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় তার পরিবার। তার মতের বিরুদ্ধে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার কথা শুনেই সে বিষপান করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার(১ মে) ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, বিষপানে আত্মহত্যা করা মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে একসঙ্গে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় বসেছে তিন সহোদর বোন। একসঙ্গে তিন বোনের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে। তারা হলো সখীপুর পৌর শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের তিন কন্যা সুমাইয়া ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও রাবিয়া ইসলাম।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় তারা উপজেলার সখীপুর পিএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তারা উপজেলার সখীপুর পিএম পাইলট মডেল সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।
সখীপুর পিএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাইয়ুম হোসাইন বলেন, ওই তিন বোন মেধাবী শিক্ষার্থী। এর আগে তারা প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। এবারের পরীক্ষায়ও তারা কৃতিত্বের ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রাখবে বলে আশাবাদব্যক্ত করেন তিনি।
তিন বোনের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েদের সন্তোষজনক ফলাফল এবং একই সঙ্গে আমার তিন কন্যার পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের। মেয়েদের তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষে সাদিয়া ইসলাম বলেন, তিন বোন একসঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার মজাই আলাদা। আমাদের তিনজনের পরীক্ষা ভালো হয়েছে। ভালো ফলাফলের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন সাদিয়া ইসলাম।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীসহ চার জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই শিক্ষার্থী।
টাঙ্গাইল-জামালপুর মহসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়নের বাঘীল বাজার এলাকায় রবিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও বাঘিল গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে রুশনী আক্তার (১৩), রুশনীর সহপাঠী একই গ্রামের হাসেন আলীর মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৩), একই উপজেলার নরিল্যা গ্রামের মৃত নিয়ত আলীর ছেলে ভ্যান চালক আব্দুল হাকিম (৬৪) এবং গোপালপুর উপজেলার হাদিরা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশা চালক গোলাম মোস্তফা (৫২)।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় ধনবাড়ী উপজেলার বাঘীল গ্রামের জয়নালের মেয়ে যুথি আক্তার (১৩) ও আসর আলীর মেয়ে আফসানা আক্তার (১৩) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ধনবাড়ী থেকে টিএস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার বাঘীল বাজার এলাকায় পৌছালে নিয়ন্ত্রন হারায়। এ সময় বাসটি দুধবাহী একটি ভ্যানকে চাপা দিয়ে বিপরীতমুখী অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালক আব্দুল হাকিম, অটোচালক গোলাম মোস্তফা ও রুশনী আক্তার নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত ৩ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদিয়া আক্তার মারা যায়।
এ বিষয়ে নিহত সাদিয়ার মামা আয়নাল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদিয়া আক্তার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। আহত অপর দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে যুথির অবস্থা আশংকাজনক।
ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, এসএসসি পরীক্ষা থাকায় বেলা দুইটা থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস দেওয়া হয়েছে। বাঘীল থেকে অটোরিকশায় ওই নিহত ছাত্রীরা ভাইঘাটের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা একঘণ্টা টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত ইদ্রিস আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাসটি আটক করেছে কিন্তু চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলাম হোসাইন জানান, দুর্ঘটনা রোধে ধনবাড়ী বাস মালিক সমিতির সাথে সভা সেমিনারের মাধ্যমে গাড়ী চালাকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও লাইন্সেসবিহীন চালক যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সে বিষয়ে মালিকদের দায়িত্বশীল হতে পরামর্শ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় করটিয়ার কলেজ পাড়ায় বিয়ের দাবিতে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে এক নারী। শুক্রবার(২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে সাইফুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন কথিত ওই প্রেমিকা।
যুবক সাইফুল ইসলাম বাবু সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেওয়া ওই নারী জানায়, সে আর সাইফুল এক সাথে টাঙ্গাইল ‘ল’ কলেজে পড়ালেখা করতো। সেই সুবাদে বিগত ১ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে।
তিনি আরো জানান, সাইফুল তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে তার প্রেমিক সাইফুল। এমনকি সাইফুলের পরিবারও এই সম্পর্ক মানতে নারাজ। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন তিনি । তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবেন বলেও জানান ওই নারী।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল থেকে ওই নারী বিয়ের দাবিতে সাইফুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
অবশ্য সাইফুল ওই মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করছেন।’
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, এ নিয়ে ওই নারী এখনো থানায় কোনও অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সম্মেলন উপলক্ষে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. কামাল আহমেদ। শুক্রবার (২৮ এপ্রিল)বিকেলে শহরের আইনজীবী সহকারি সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। কামাল আহমেদ বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
মত বিনিময়কালে কামাল আহমেদ বলেন, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। সেই ১৯৯৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে যোগদান করি। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৯ সালে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদের (বাকাছাপ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০০০ সালে সততার সাথে দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহŸায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০১ সালে ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০০৬ সালে ঘাটাইল উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলাম। এছাড়া গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে কালিহাতী আসনে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হই।
ইঞ্জিনিয়ার কামাল আরও বলেন, ছোট বেলায় ছাত্রলীগ করলেও পরবর্তীতে যুবলীগের দায়িত্ব পালন করেছি। সেই থেকে যুবলীগের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়। যুবলীগকে ভালবেসে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপির হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি। যুবলীগের শহর থেকে তৃণমুল পর্যালের সকল কাউন্সিলর ও ডেলিগেটেরদের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। আমি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে পারলে উপজেলা, শহর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। আর এসব কমিটি প্রবীণ ও ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অপর দিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি আসনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দিন-রাত জনগনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরবো।
তিনি বলেন, যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে সকলকে সাথে নিয়ে বর্তমান যে যুবলীগের কমিটি রয়েছে তার চেয়ে গ্রহণযোগ্য গতিশীল কমিটি করে টাঙ্গাইল জেলাবাসীকে উপহার দেবো। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চেয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট চান তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মো. কামাল আহমেদ টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি কালিহাতীর পৌরসভা সালেঙ্কা এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ২০০১ সালে ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে। কামাল আহমেদ বর্তমানে ঠিকাদারি ও একাধিক ব্যবসার সাথে জড়িত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আপন ভাইয়ের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবুল হোসেন ওরফে গাজী (৫৫) নামের এক ব্যাক্তিকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা সীমাকাছরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল হোসেন ওরফে গাজী পালিমা সীমাকাছরা গ্রামের মৃত রিয়াজ মন্ডলের ছেলে।
নিহত আবুল হোসেনের মেয়ে নার্গিস আক্তার জানান, আমার বাবা আবুল হোসেন ওরফে গাজী সীমাকাছরা এলাকার মৃত ইকবাল হোসেনের ছেলে বেলালের সেচ মেশিন লীজ নিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমার মা ও বড় ভাই সালমানের মাধ্যমে জানতে পারি বুধবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আমার বাবাকে একজন ডেকে নিয়ে যায়। পরে ফজরের আযানের সময় ঘরের বারান্দায় বাবাকে ফেলে রেখে আমার মাকে ডাক দিয়ে চলে যায়। পরে আমার মা বাইরে এসে দেখে বাবার হাত মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা এবং মুখ দিয়ে গোলটা বের হচ্ছে।
তিনি জানান, পরে আমার ভাইকে ডেকে এনে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন তাকে কীটনাশক খাওয়ানো হয়েছে। ওয়াশ করে সেগুলো বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তার আমার বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, তার আপন চাচা করিমের সাথে বাড়ির জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত তিনদিন আগেও চাচা করিম, তার ছেলে আশরাফুল ও তার উকিল বিয়াই মকবুল আমার বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমার চাচা বলে যে পর্যন্ত আবুল কে না মারমু সে পর্যন্ত ভাত খামুনা।
এসময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবাকে আমার চাচা করিম ও তার উকিল বিয়াই মকবুলরাই মেরে ফেলেছে।
এবিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান,নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম কালিহাতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় অজ্ঞাতনামা ট্রলির চাপায় মাথা থেথলে প্রাণ গেল আরিফুল ইসলাম রাফি (২৩) নামের এক যুবকের।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর পৌর এলাকার নরকোণায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফুল ইসলাম রাফি পৌর এলাকার দক্ষিণ দামপাড়ার জামাল হোসেনের ছেলে। সে আউটসোর্সিং এর কাজ করত।
স্থানীয়রা জানায়, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল রাফি। ঘটনাস্থলে একটি ট্রলিকে অতিক্রম করতে গিয়ে ট্রলির চাপায় মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ১০০ শয্যার মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মধুপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে আব্দুস সাত্তার(৬২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে মির্জাপুর পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী ট্রেনলাইনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুর সাত্তার ওই গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার জানায়, কৃষক আব্দুস সাত্তার ভোরে গরু চড়ানোর উদ্দেশ্যে ট্রেন লাইন পার হওয়ার সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন দেখে গরু দু’টি এলোমেলো দৌঁড়াতে থাকে। ওই সময় গরু দু’টি সামলাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানায়, মাস দুয়েক আগেও মাঠে গরু চরাতে গিয়ে ভিমরুলের কামড় খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আব্দুর সত্তর। এবার তাকে প্রাণ দিতে হলো। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া বইছে।
মির্জাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম জানান, গরু রক্ষা করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। পরে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী তাঁর মরদেহ নিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে আলমগীর হোসেন (২৩) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে মৃতের দাদির ঘরের আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশ।
আত্নহননকারী আলমগীর মধুপুর উপজেলার আকাশী গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানা যায়, পারিবারিক কলহে স্ত্রীর সাথে আলমগীরের বেশ কিছু দিন যাবৎ অভিমান চলছিল।
মধুপুর থানার উপ পরিদর্শক(এসআই) আমির আলী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় রাত দিনের কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ৩ জনের ফাঁসী দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
এদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ ও দুইজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কুড়াতলি, কুইচতারা ও পোস্টকামুরী গ্রামে এই ঘটনা গুলো ঘটে।
মির্জাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের আব্দুল কাদের পলান (৬০) বাড়ির পাশে একটি গাব গাছের ডালে দড়ি পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। গভীর রাতে তাঁর স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে পলানকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন।
পরে বাড়ির পাশে গাব গাছে তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। আত্মহত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি।
এ দিকে মঙ্গলবার রাত ১ টার দিকে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কুইচতারা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী আব্দুস ছালাম মিয়ার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সায়মা আক্তার শিমু (১৫) ঘরের সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। রাতে শিমুর মা ঘুম ভেঙে মেয়েকে দেখেত না পেয়ে পাশের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় শিমুর মরদেহ দেখতে পান।
এ ব্যাপারে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর কারণ পুলিশকে জানাতে পারেনি।
অন্যদিকে, ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের (আর ওয়ান ফাইভ) মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ার কারনে বুধবার সকাল সারে দশটার দিকে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বসবাসরত পোস্টকামুরী গ্রামের আমিনুল হোসেন লিটনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে ফয়সাল আহমেদ জয় (১৭) তাঁর কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। জয়ের মা হোসনেয়ারা সকালের নাশতা খেয়ে তাকে বাসায় রেখে পাশেই তার বাবার বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর তারই ছোট বোন বাসায় ফিরে এসে জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হসপিটালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ সব ঘটনায় থানায় তিনটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) ভোরের দিকে উপজেলার এলেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পলাশ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিমহামজানী গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাতে পলাশকে আসামি করে ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা। তার তিন ছেলে আলাদা আলাদা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন। বৃদ্ধার গোঙানির শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে ছেলের বউ এসে দেখেন দরজা বাইরে থেকে আটকানো। তখন ছেলের বউ চোর এসেছে বলে চিৎকার করেন। এরপর পরিবারের লোকজন ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে খাটের নিচে পড়ে থাকতে দেখেন। ধর্ষণে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিল ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধের একটি দাঁত ভেঙে ফেলে অভিযুক্ত। পরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত পলাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে মাদকাসক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধা স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়ির একটি টিনসেড ঘরে একাই ঘুমাতেন। তার তিন ছেলে পৃথক ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন।
সোমবার(২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে। পরে জোরপূর্বক ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে। বৃদ্ধার চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা বৃদ্ধার পুত্রবধু এগিয়ে আসলে ওই যুবক পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত পলাশ (২৫) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিম হামজানী গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত। সে মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই চুরি- ছিনতাই করে থাকে। তাদের ধারণা মাদকের টাকার জন্য ওই যুবক বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে। পরে বৃদ্ধাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। এসময় বৃদ্ধার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের শিকার ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ জানান, শ্বাশুড়ির ডাক চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘরে গিয়ে শ্বাশুড়িকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে লক্ষ্য করি তার গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে । প্রতিবেশীদের সহায়তায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি।
তিনি আরো জানান, পলাশ নামের ওই যুবককে পালিয়ে যেতে দেখি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান জানান, ওই নারীকে ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার গোপনাঙ্গে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালের ৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ মালেক ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি ওই যুবকের শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।