একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কিশোরীকে ভাড়া করে এনে দেহ ব্যবসা করার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ মে) সকালে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলীন বাজার এলাকা থেকে কিশোরীসহ তাদেরকে গোপালপুর থানা পুলিশ আটক করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা থেকে আনা ওই কিশোরী ভূঞাপুর থানায় পুুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামের হবি মন্ডলের ছেলে মিন্টু এবং তার স্ত্রী তানিয়া (৩২)।
জানা গেছে, মিন্টু ভূঞাপুর পৌরসভার ফসলান্দি এলাকায় নুরুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী এনে দেহ ব্যবসা করেন। এই ব্যবসায় তার স্ত্রীও জড়িত ছিল। গত মার্চের ২৩ তারিখে সাতক্ষীরা থেকে একজন কিশোরীকে ভূঞাপুর নিয়ে এসে ব্যবসা শুরু করেন।
এসময় উপজেলার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ওই কিশোরীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তির কাজ করানো হয়। শুক্রবার মিন্টু ও তার স্ত্রী তানিয়া ওই কিশোরীকে গোপালপুরের নলীন বাজার এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যায় পতিতাবৃত্তির জন্য। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে কিশোরীসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরার ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিন্টু ও তার স্ত্রী তানিয়ার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, ওই কিশোরীকে সাতক্ষীরা থেকে এনে মিন্টু ও তার স্ত্রী ব্যবসা করতো। এছাড়া তার স্ত্রীও পতিতাবৃত্তির কাজ করতো। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শনিবার (২০ মে) তাদের কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এছাড়া সাতক্ষীরা থেকে আনা ওই কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিন্টু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিজ ঘরে এখলাছ উদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবক ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার চর অলোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে এ খবর পেয়ে দুপুরে নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
সে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চর অলোয়া গ্রামের সোহরাব আলী মুন্সীর ছেলে। এখলাছ তিন সন্তানের বাবা। সে শ্রমিকের কাজ করতো।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, এখলাছ উদ্দিন মানসিক রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া ৪-৫ মাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের ঝগড়ার ঘটনা ঘটে এবং মামলা হয়। পরে এখলাছের তিন সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। স্ত্রী শ্বশুর বাড়ি চলে যাওয়ায় এখলাছ আরও হতাশায় ভুগছিলেন। এ অবস্থাতেই শ্রমিকের কাজ করতো সে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় তার মা খাবারের জন্য ডাকতে গেলে দেখতে পান ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আছে। পরে তার মা ডাক-চিৎকার করলে আশ-পাশের লোকজন এসে ঘরের আড়ার থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ নিচে নামায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরফান আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং মরদেহের সুরতাহল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরোও জানান, পরে বিকালে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তার স্ত্রী বাড়ি না থাকায় হতাশায় হয়তো সে আত্মহত্যা করতে পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা (২৪) এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ মে) রাত ২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।
বুধবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠীর মোটরসাইকেলে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তার মাথা ফেটে প্রচুর রক্তপাত হয়।
নিহত শারমিন সুলতানা রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। সে ২০১৪ সালে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বুধবার রাতে টাঙ্গাইল শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাগমারী-চারাবাড়ী সড়কের আরিফ নগর এলাকায় মোটরসাইকেলের সামনে কুকুর দেখে চালক ব্রেক চাপলে শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। তখন আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মস্তিষ্কের প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করে। ঢাকা নেয়ার পথে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বাড়তে থাকায় রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। রাত ১২ টার দিকে ঢাকা নেয়ার পথে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এনাম মেডিকেলে নেয়ার পথে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় আহত শিক্ষার্থীকে বহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর এনাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। এনাম মেডিকেলে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে শোক প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শারমিনের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। ক্যাম্পাসের বাইরে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলার নেই। কারিগরি ত্রুটি হতেই পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে এস.এস.সি পরীক্ষা শেষে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছে আলিফ লাম (১৭) নামে এক পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেটের সামনে হামলার শিকার হয় আলিফ।
পরে স্থানীয়রা আহত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে রক্তাত্ব অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলার শিকার আলিফ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা শিবরাম গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে এ বছর দাইন্যা বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে (মানবিক বিভাগ) এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আলিফ নিজে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল বটতলা পাশ্ববর্তী এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (১৬) সহ অজ্ঞাত ১২ থেকে ১৩ জনের নামে কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে।
হামলা প্রসঙ্গে, বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, হামলাকারী আমিনুর রহমান ইতোপূর্বেও আমার স্কুলের সামনে এসে দলবল নিয়ে গ্যাদারিং করত। স্কুলের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বিড়ি-সিগারেট খেয়ে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করত ও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। পরে আমরা স্কুলের শিক্ষকরা মিলে ঐ কিশোর গ্যাংকে পুলিশে সোপর্দ করি।
তিনি আরোও জানান, বুধবার এস.এস.সি পরীক্ষা শেষে আমার এক শিক্ষার্থীকে ঐ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর করেছে। এ অবস্থায় আমার ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শাহীনুর রহমান জানান, আলিফ নামে এক এস.এস.সি পরীক্ষার্থী অভিযোগ দায়ের করেছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ইসমাইল হোসেন মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় বুধবার(১৭ মে) দুই ভাইকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব-১৪)।
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে র্যাব-১৪ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটককৃতরা হচ্ছেন- সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালোমেঘা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত জালাল মোল্লার ছেলে জাকারিয়া মোল্লা(৩২) ও এনামুল মোল্লা(৩০)।
তাদেরকে ঢাকা মহানগরের খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
র্যাব-১৪ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে একদল র্যাব সদস্য ঢাকা মহানগরের নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুই ভাইকে আটক করে। র্যাব সদস্যরা ইতোপূর্বে ওই হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক আসামি মো. আজিজুল হক মোল্লাকে আটক করে।
প্রকাশ, সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা সিন্দুরিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন মোল্লার সঙ্গে মো. আজিজুল হক মোল্লা ও তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
গত ১৪ মে(রোববার) জমিটি প্রতিপক্ষরা দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে ইসমাইল হোসেন মোল্লার উপর হামলা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ওই ঘটনায় ইসমাইল হোসেন মোল্লার ছেলে মো. মামুন মোল্লা বাদি হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে লিচু পাড়তে গিয়ে করিম খান (৫৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। মঙ্গলবার(১৬ মে) সকালে উপজেলার সাগরদিঘি ইউনিয়নের কামালপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী।
নিহতের ভাতিজা মাহফুজ খান ও স্থানীয়রা জানান, করিম খানের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের কামালপুর মোথাজুরি গ্রামে। করিম খানের বাড়ির পাশে একটি বড় লিচু গাছ রয়েছে। গাছের পাকা লিচু পেড়ে বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন এই উদ্দেশ্যে তিনি মঙ্গলবার সকালে ওই লিচু গাছে ওঠেন। লিচু পাড়ার সময় পা ফোঁসকে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী জানান, লিচু পাড়তে গিয়ে করিম খান নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাটি সত্য। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তার লাশ পারিবারিক ভাবে দাফন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ মে) ভোরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের ট্রেনলাইনের জোড়বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের গড়াশিন মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে হাবিল মিয়া (১৭) ও একই উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মৈশানন্দনাল গ্রামের মনজুরুল ইসলামের মেয়ে রিতা আক্তার (১৫)।
তারা দুজনেই ভাতকুড়া এলাকায় আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে শ্রমিকের কাজ করতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিল ও রিতা আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে একত্রে শ্রমিকের কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। পারিবারিকভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা দুজনে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় অভিমান করে তারা বাসাইল জোড়বাড়ী এলাকায় গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। পরে সকালে স্থানীয়রা তাদের লাশ দেখতে পেয়ে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় প্রেমিক হাবিলের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
জোড়বাড়ী লেভেলক্রসিংয়ে গেট কিপার সুলতান মাহমুদ বলেন, ভোর ৪টার দিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশ এসে নিহতদের লাশ নিয়ে গেছে।
ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের এএসআই ফজলুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘঠিত কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ মে) সকালে ভাসানী পরিষদ, পীর শাহজামান বাজার কমিটি ও ন্যাপ ভাসানীর পক্ষ থেকে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে মাজারে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি ও পীর শাহজামান বাজার কমিটির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব আজাদ খান ভাসানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন বিএসসি, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও মাভাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু, মাভাবিপ্রবি ভাসানী পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন ও কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মা নদীর নাব্যতা হারানোর আশঙ্কায় ও পানির নায্য হিসসার দাবিতে ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লাখো জনতার সেই লংমার্চ রওনা হয় ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে। লংমার্চ শেষে কানসাট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেন মজলুম জননেতা। সেই থেকে ১৬ মে ফারাক্কা দিবস নামে পরিচিতি লাভ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মাটি খেঁকো সালাম খান গংদের বিরুদ্ধে। ফসলি জমি দিয়ে ট্রাক নিতে বাঁধা দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা করেছে বালু খেঁকোরা। এতে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিন জন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার পর এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হামলায় আহতরা হচ্ছেন, উত্তর তারটিয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল হোসেন ও মো. একাব্বর আলী। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল হোসেন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘারিন্দার রাশেদ খানের হস্তক্ষেপে তার বোন জামাই সালাম খান দীর্ঘ দিন যাবত নওগাঁ ও তারটিয়া গ্রামের এলেংজানী নদী থেকে রাতের আধারে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী তার জমি দিয়ে ট্রাক নেয়ার অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে তিনি মৌখিকভাবে না করেন। সালাম খান বিষয়টি না শোনায় তিনি ফসলি জমির উপর বাঁশ দিয়ে বেড়া দেন। গত ৯ মে সেই বাঁশের বেড়া উঠিয়ে সালাম খান ট্রাক নেয়ার চেষ্টা করে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী এগিয়ে গিয়ে বাঁধা দিলে তার উপরে হামলা করে। তার আত্মচিৎকারে তার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া ও একাব্বর আলী এগিয়ে গেলে তাদের উপরও হামলা করে সালাম খান গংরা। তাদের লাঠির আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী ও একাব্বর আলীর ডান পা ভেঙে যায়। তারা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ মে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া বাদি হয়ে সালাম খানকে প্রধান আসামী করে চার জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী বলেন, ঘারিন্দার রাশেদ খানের কথায় আমার ফসলি জমির উপর দিয়ে প্রথমে ট্রাক নেয়ার অনুমতি দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আরেক জমি দিয়ে ট্রাক নিতে গেলে সেখানে বাঁধা দেই। তারপর মাটি খেঁকো সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা করে। এতে আমরা তিন ভাই গুরুতর আহত হই। অবৈধ মাটির ট্রাক যেতে বাঁধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা করা হবে, সেটা কল্পনাও করি নাই। আমি মাটি খেঁকো সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, আহতরা সবাই আমার আত্মীয়। এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার পর মৃদুল নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৫ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ কিশোরী ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ মে)দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রূপম কুমার দাস তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আদালতে হাজির হন। বড়মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড়মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল চেম্বার জজ আদালত চার সপ্তাহের জামিন স্থগিত করে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। গত রোববার ছিল ২ সপ্তাহের শেষ দিন। টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে গত রোববার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সোমবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল আদালতের সরকারি কৌঁশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে বড়মনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। এসময় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী তার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। বাদী পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধীতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য,গত ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড়মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মারধর ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় উল্লেখ করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল বেলা তিনটার দিকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেসকে জান্নাত রিপা ওই কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে কিশোরীকে তার এক আত্মীয় শামীমা আক্তারের কাছে জিম্মায় দেন আদালত। ওই সময় ডাক্তারী পরীক্ষায় ওই কিশোরী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্তা বলে জানান টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সাদেকুর রহমান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ইসমাইল হোসেন (৬২) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধলা মিয়া (৪০) নামের আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছে।
রোববার (১৪ মে) সকালে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল হোসেন ওই এলাকার খোরশেদ আলম ওরফে খুরছু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন মিয়া বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন ওই এলাকার নছুমুদ্দিনের কাছ থেকে ১ একর জমি ক্রয় করে। এরপর থেকে জমিটি ওই এলাকার নতু মোল্লার ছেলে আজিজ মোল্লা, তোফাজ্জল মোল্লা, নব্বে মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম গোনাই এবং আবুল হোসেনের ছেলে কামরুল হাসান ও সাইফুল ইসলাম তাদের বলে দাবি করে কয়েকবার দখলের চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিরোধ চলছিল।
রবিবার সকালে আজিজ মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম গোনাইয়ের নেতৃত্বে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ধান কাটতে গেলে ইসমাইল হোসেন বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা ইসমাইল হোসেনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মামুন মিয়া জানান, টাকা দিয়ে জমি কিনে বিনিময়ে বাবার লাশ পেয়েছি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরকার নুরে আলম মুক্তা জানান, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সালিশে জমিটি ইসমাইল হোসেনের বলে প্রমাণিত হয়েছে। মূলত জমিটি প্রতিপক্ষ দখলের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গেলে ইসমাইল হোসেনের ওপর হামলা চালায়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ আরিফ-সুমাইয়া দম্পতির কোল আলোকিত করে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে যমজ পুত্র সন্তান হাসেন-হোসেন। তবে শিশু দুটি স্বাভাবিক নয়, বুকে জোড়া লাগানো।
গত শনিবার (৬ মে) রাত ২:৩০ টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের রাজধানী নার্সিং হোম-এ সিজারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন সুমাইয়া আক্তার।
নবজাতক যমজ শিশুর পিতা টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের আগ দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পিতা আরিফ হোসেন বলেন, ৬ তারিখ টাঙ্গাইলের রাজধানী নার্সিং হোম-এ আমার স্ত্রীর যমজ শিশুর জন্ম দেয়। কিন্তু তাদের বুক একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো। ক্লিনিকে নিবির পর্যবেক্ষণ না থাকায় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ৯ তারিখ বাসায় নিয়ে আসি। বাচ্চা দুটি এখন সুস্থ্য। বিকল্প পদ্ধতিতে তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। স্ত্রী সুমাইয়াও সুস্থ্য আছেন।
আরিফ হোসেন আরো বলেন, আমার বাবা ঘোড়ার গাড়ি চালক। আমি পেশায় দিনমুজর। আমাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না। ক্লিনিক থেকে বলেছে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা আমার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিত্তবানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
মা সুমাইয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্তান দুজনকে আলাদা শরীরে দেখতে চাই। চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমার সামর্থ নেই চিকিৎসা করানোর। তাই সরকারের কাছে সকল প্রকার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এদিকে জোড়া লাগানো যজম শিশু দুটি দেখতে বাড়িতে ভিড় করছে প্রতিবেশিসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ।
সুবর্ণতলী গ্রামের বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম বলেন, আমি জীবনেও জোড়া লাগানো বাচ্চা দেখিনি। তাই দেখতে আসছি।
প্রতিবেশি আরাফাত বলেন, সামনে থেকে প্রথম বার আমি জোড়া লাগানো বাচ্চা দেখলাম। এর আগে ইউটিউবে দেখেছি। এমন ঘটনা আমাদের গ্রামে এই প্রথম। তাই অনেকে উৎসুক হয়ে শিশু দুটিকে দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে।
আরিফ হোসেনের বোন জামাই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ডেলিভারির আগেও আল্ট্রাসনোতে বাচ্চা যমজ জানতে পারলেও জোড়া লাগানোর বিষয়টি জানা যায়নি। জন্মের পর দেখা যায় তাদের শরীর জোড়া লাগানো। চিকিৎসকরা জানান ক্লিনিকে জোড়া লাগানো যমজ শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তারা ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থ না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশুদে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশু দুটি নিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে আগ দিঘুলিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরো জানান, শরীর জোড়া লাগানো থাকলেও খাবার ও পস্রাব-পায়খানার রাস্তা তাদের আলাদা। যত্নের সাথে তাদের লালন-পালন করছেন মা সুমাইয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। জোড়া লাগানো সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। এখন কোন সমস্য না হলেও বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের সমস্যটা বড় হতে থাকবে। এই জটিল চিকিৎসার ব্যয়ভার আর অস্ত্রোপচারের জটিলতা নিয়ে পরিবারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত সু-চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান সরকারসহ বিত্তবানদের প্রতি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. লিংকু রাণী কর জানান, চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে কনজয়েনড টুইন বেবি বা সংযুক্ত যমজ শিশু বলা হয়। এটি অবশ্যই জটিল একটি চিকিৎসা। অস্ত্রোপচার করা গেলে সফলতা সম্ভব। দেশে জোড়া লাগানো বেশ কয়েকটি শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছে।
নবজাতক শিশু দুটির সু-চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের আগ দিঘুলিয়া গ্রাম।
নবজাতক শিশু দুটির মাতা সুমাইয়া আক্তার। বিকাশ নম্বর: ০১৩১৪-৬৯৮৯০৩