একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় ট্রাকচাপায় আব্দুল আজিজ (৮০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে ধনবাড়ী থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল পৌর শহরের খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী জানান, ভোরে খাসপাড়া মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুল আজিজ।
এ সময় জামালপুরগামী আলুভর্তি একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলইে বৃদ্ধ নিহত হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রতিনিধি
মোবাইল -০১৮১৭৫০১৬০০
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল মহাসড়কে অপর ট্রাকের চাপায় বিকল ট্রাকের পিছনে দাড়িয়ে থাকা দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পৌলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বগুড়া সদরের ব্রাহ্মনপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান (২৪) ও রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কলোনীবাজার এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (২২)। নিহতরা বিকল ট্রাকের যাত্রী ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মো. নবীন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রংপুরগামী একটি ট্রাক ভোরে মহাসড়কের পৌলি এলাকায় আসলে পিছনের চাকা ফেটে যায়। এ সময় ট্রাক থেকে দুই যাত্রী নেমে পিছনে আসলে অপর একটি ট্রাক এসে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান,নিহতদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া ট্রাক দুইটি কে আটক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকা থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ মোসা. ফারজানা আক্তার সালমা (২৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃত,ফারজানা আক্তার সালমা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সাদকপুর গ্রামের মো. আ. ছালামের মেয়ে। তিনি এলেঙ্গা পৌরসভার মশাজান এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
এর আগে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এলেঙ্গা দক্ষিণপাড়া বাগানবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. নুরুজ্জামান বাদি হয়ে কালিহাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান, রাতেই কালিহাতী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে তাকে আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার ( ৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের বেংরোয়া মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিকালে মো. হাকিম উদ্দিন (৫৮) নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে।
তিনি একই এলাকার মৃত রবি শেখের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম (মটু)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা বারোটার দিকে শিশুটিকে চকলেট দিয়ে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর শিশুটির চিৎকারে আশেপাশের বাড়ির লোকজন এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টাঙ্গাইল অফিসের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনার সময় বনবিভাগের ২ প্রহরী ও এক শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করেছে। কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে ঘুষ নেয়ার সময় ওই কর্মচারীরা আটক হন।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ সাদেক জানান, টাঙ্গাইল জেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চেকপোস্ট পার হওয়া বাবদ ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই ভিত্তিতে দুদকে টাঙ্গাইল অফিসের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি তিনি আরো জানান, অভিযান পরিচালনার সময় ছদ্মবেশে থাকা দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম টাঙ্গাইল বনবিভাগের ২ জন প্রহরী ও ১ শ্রমিককে কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জিম্মায় দিয়ে আইনি ব্যবস্থার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযোগকারী, কাঠ ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের উপস্থিত বক্তব্য নেয়। যার ভিত্তিতে দুদক টিম জানতে পারে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা কাঠ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকা অভিমুখে নিয়মিত চলাচলকালে বন বিভাগ থেকে টিপি বা ট্রানজিট পাস নিতে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেন হয়।
আবার সেই টিপি বা ট্রানজিট পাস নিয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়া চেকপোস্টে দেখালে কাঠের ট্রাক পরীক্ষান্তে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। যার জন্য কাঠের মান ভেদে ১৭০০ থেকে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ প্রদান না করলে ছাড়পত্র দেয়া হয় না।
এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও সূত্রে থেকে জানা যায়।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ২ বন প্রহরীকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও জড়িত অন্য কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর সদস্যরা।
দুই বছর পলাতক থাকার পর সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে তাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করে র্যাব।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবা ও ছেলে হলেন মো. মজনু (৬১) ও ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩১)। তাদের বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে।
বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুপুরে র্যাব ১৪ এর ৩নং কোম্পানির অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রেপ্তারকৃত জহুরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে (২৭) যমুনা নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে তার লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। গৃহবধূকে হত্যা ও লাশ গুমে তাকে তার বাবা মজনু সহায়তা করে।
ঘটনার পর তাছলিমার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মজনু ও জহুরুলকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তারা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা যৌতুক না দেওয়ায় তাছলিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছিলেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মামলা চলাকালে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে তারা পলাতক হন।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন সাজা এড়াতে তারা উভয়ই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গোয়ালদি খান বাজার এলাকায় গরুর খামারে চাকরি নেন। সেখানে তারা পরিচয় গোপন করে থাকতেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব সোমবার ভোরে তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দুজনের নামে ভূঞাপুর থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বিকেলে তাদের ভূঞাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলন্ত ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লেগে মুকুল হোসেন (৪৫) নামে বাসের একজন হেলপার নিহত হয়েছেন।
রবিবার ( ৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার সাটিয়াচড়া নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুকুল হোসেন নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সিংড়া গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে।
গোড়াই হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহসড়কের ওই স্থানে ঢাকাগামী মালবাহী চলন্ত একটি ট্রাকের পেছনে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার নিহত এবং তিন যাত্রী আহত হয়। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহত তিন বাসযাত্রীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বাস ও ট্রাক দুটি জব্দ করেছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ট্রাফিক পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বাস ও ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ১০ বছর বয়সের ৪র্থ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনা গ্রাম্য শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে জুতা পেটায় মিমাংসা দেয়া হয়েছে। শনিবার ( ৩ ডিসেম্বর ) বিকালে শালিসটি অনুষ্ঠিত হয়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ্ বলাৎকারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
বলাৎকারের ঘটনাটি ঘটেছে দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বেতরাইল গ্রামের নূরে মদিনা নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক শালিসের মাধ্যমে এ মিমাংসা দেয়া হয়। উপজেলার দেওলী ইউনিয়নের বেতরাইল গ্রামে গ্রামবাসীর পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত বেতরাইল নূরে মদিনা নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ’র বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ তুলে ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসী একাধিক শালিসি বৈঠক করেন। সর্বশেষ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বৈঠক বসে। ওই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন দেওলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া।
বেতরাইল গ্রামের মাতব্বর মো. আলাল মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠান প্রধান হাফেজ মো. রাকিব ও গ্রাম্য মাতব্বরগণ উপস্থিত ছিলেন।
শালিসি বৈঠকে শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাকে দোষি সাব্যস্ত করে ২৫ঘা জুতাপেটা শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষকের অভিভাবকের মাধ্যমে উক্তরূপ শাস্তি দিয়ে শালিসের সমাপ্ত ঘোষনা করেন সভাপতি।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ্ জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো। সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনায় অমনযোগী থাকায় চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শারিরীক শাস্তি দেয়া হয়। পরে আমি জানতে পারি আমার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বলাৎকারের বিষয়টি সামাজিক ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের অভিভাবকদের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দিয়ে তাদের নিকট সোপর্দ করা হয়ছে।
মাদ্রাসা প্রধান হাফেজ মো. রাকিব জানান, যেহেতু একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। ঘটনার সত্য মিথ্যা যাই হোক অভিযুক্তকে শাস্তি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে দেওলী ইউপি চেয়াম্যান দেওয়ান তাহমিনা হক জানান, ঘটনাটি আমাকে জানানো হয়নি, পরে লোকমুখে জানতে পেরেছি। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বোরো হাইব্রিড বীজ, উফসী বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সদর উপজেলা প্রাঙনে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ৭ হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও দুটি ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কম্বাইন হার্ভেস্টার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে উপজেরার বয়ড়া গ্রামের মো. হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুলালে মামলা করেন। আর এর পর থেকেই আসামি পক্ষের লোকজন তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে শুরু করেছে।
এদিকে মামলার পরপরই বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে অভিযুক্ত হাসেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে হাসেম মিয়া বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান। আর এ ঘটনায় হাসেম আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার পরপরই হাসেম ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় চিৎকারে করলে হাসেম গৃহবধূর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত ২২ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ বাদী হয়ে হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী বলেন, মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা গরিব ও অসহায় হওয়ায় আসামির স্বজনরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। সাক্ষীদেরকেও নানা ভয় দেখানো হচ্ছে। মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে আমাদের এবং সাক্ষীদের নামে আদালতে মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করেছেন অভিযুক্তের স্বজনরা।
তারা আরও জানান, আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য চেষ্টা করি। ব্যর্থ হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রউফ মিয়া বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও আসামি পক্ষ পরবর্তীতে আমাদের কাছে আর আসেনি।
থানায় মামলা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার থানায় মামলা করতে কেউ আসেননি। পরে আদালত থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। এরপর আমরা আসামি হাসেমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে দেই।’
একতার কণ্ঠঃ ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানের মুখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত ২ সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশের দায়েরকৃত ১০টি মামলায় প্রায় ২ শতাধিক বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ৬৮ নেতাকর্মীকে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, দায়েরকৃত মামলাগুলো ‘গায়েবি’ এবং নেতাকর্মীদের ঢাকার সমাবেশে যেতে বাধা সৃষ্টি করতেই সরকারের নির্দেশে এসব ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
তবে বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা পুলিশ। তাদের দাবি, নাশকতা সৃষ্টির প্রস্তুতিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এসব মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার ( ৩০ নভেম্বর) রাতে সখীপুর উপজেলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৮৮ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী। সেদিন রাতেই উপজেলা বিএনপি, কৃষক দল এবং যুবদলের ৪ সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম জানান, বুধবার রাতে সখীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫টি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং এক বস্তা পাথর জব্দ করে। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সাজু অবশ্য দাবি করেছেন, সেখানে আসলে কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাই ঘটেনি। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় নেতাকর্মীরা স্থানীয় একটি ক্লাবে বসে টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেত জানান, এটি একটি গায়েবি মামলা। মামলার এজাহারে রাত ১০টা ২ মিনিটে ককটেল বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এর এক ঘণ্টা আগে রাত ৯টায় ওই ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরো জানান, এ ছাড়া, নাশকতা ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় ঘাটাইল উপজেলার ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সে মামলায় এ পর্যন্ত ১০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘাটাইলের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ জানান, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় জনসভাকে সফল করতে ২২ নভেম্বর দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা বিটিপাড়া এলাকায় কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ গুলি ছুঁড়েছে। নেতাকর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। অন্য বাড়ি থেকে বালতি এনে পুলিশ ককটেল রেখে গতানুগতিকভাবে নাটক সাজিয়েছে।
ঘাটাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে নাশকতার উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়েছিলেন। সেখান থেকে কয়েকটি ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিএনপি নেতার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আরও জানান, ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে ঘটেছে।
অন্যান্য উপজেলায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগগুলোও প্রায় একইরকম বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় হোড় শুভ জানান, ইতোমধ্যে ওয়ারেন্ট ছাড়াই ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পরে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। নেতাদের খুঁজতে রাতে বাসায় বাসায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তবে এসব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মহাসমাবেশে যোগ দিতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযানের পরও ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পরিবহন সংকটসহ নানা সমস্যা মাথায় রেখে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকেই ঢাকায় যাত্রা শুরু করবেন নেতাকর্মীরা।
তিনি আরো জানান, টাঙ্গাইল জেলা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করছি ।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযান সম্পর্কে জানতে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সারের ফোন নম্বরে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরিফুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন অবস্থায় মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।
সংবাদ সূত্র – দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৪৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ (দক্ষিণ)।
এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আলী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার উত্তর চৌধুরীবাড়ি গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোহাম্মদ আলী নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরো জানান, এসময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।