একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার আনালিয়াবাড়ি এলাকায় বাসচাপায় নারীসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
রোববার (৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা স্বামী-স্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু সেতু পুর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে মোটরসাইকেলযোগে এক নারী ও পুরুষ উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পিছন থেকে একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের দুই জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা স্বামী-স্ত্রী। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা এলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের মধুপুরে কৃষি জমির মাটি লুট করে টাইলস কোম্পানিতে বিক্রি করার দায়ে এক ব্যবসায়ী, ট্রাকের দুই চালক ও এক ভ্যেকু চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দিয়েছেন।
শনিবার( ৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন।
বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মাটি ব্যবসায়ী মধুপুর উপজেলার বিপ্রবাড়ী গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. আলামিন (২৫), ভেকুর চালক ঘাটাইল উপজেলার চাঁনতারা গ্রামের খেজমত আলীর ছেলে মো. আহাম্মদ আলী (২৬), ট্রাকের ডাইভার ঘাটাইল উপজেলার উত্তর লক্ষীন্দর গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (২৯) ও মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের সরুজ আলী ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৩)। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রথম জনকে ৬ মাস, ২য় জনকে ১ মাস ও পরের জনকে ১৫ দিন করে জেল দিয়েছেন।
মধুুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা ইয়াসমীন জানান, কুড়াগাছা ইউনিয়নের এ বাইদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষি জমি নষ্ট করে টাইলস কোম্পানিতে মাটি বিক্রি করে আসছে। বারবার তাদের মাটিসহ ট্রাক, ভেকু আটক করে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,কৃষি জমি নষ্টের ব্যাপারে সর্তক করলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। ৫ নভেম্বর পিরোজপুরের বলাইদ বাইদ থেকে ভেকু দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি উত্তোলন করে ট্রাক ভর্তির সময় এক মাটি ব্যবসায়ী ৩ ড্রাইভার ও মাটি ভর্তি দু’টি ট্রাক আটক করা হয়। পরে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ধারায় অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিনাশ্রম জেল প্রদান করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় সেজাউল ইসলাম (৩০) নামে এক ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাত ১ টার দিকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়। সেজাউল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামের এরফান আলীর ছেলে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত ১ টার দিকে সেজাউল ইসলাম মিনি ট্রাক নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজ নামক স্থানে পৌঁছালে সামনে থাকা লোবেট গাড়ির পেছনে ধাক্কা মারে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণাধীন ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
দুই শিশু হলো গোড়াই সোহাগপুর এলাকার লাল চাদের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩) এবং একই এলাকার ফজলুল করিমের মেয়ে খাদিজা (৩)।
পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে চারটার দিকে পাশাপাশি বাড়ির ওই দুই শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই এলাকার খোরশেদ আলমের নির্মাণাধীন ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাদের দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটির সুরতহাল করা হয়েছে। গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এস এম মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
বরখাস্তকৃত ওই শিক্ষকের নাম গৌরাঙ্গ সরকার (৪৮)। তিনি উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (২ নভেম্বর)রাতে ওই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে সখীপুর থানার পুলিশ প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক। সেখানে তিনি মুঠোফোনে গান বাজিয়ে ছাত্রীকে নাচতে বলেন। ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম জানান, ‘যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার চিঠিটি ই–মেইলে একটু আগে পেয়েছি। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে আমার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হয়েছেন এক শিক্ষক।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযাগ সূত্রে জানা গেছে, ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি সুফিয়া ওমর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ৬ মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান দেওয়ান।
ঘটনাটি ওই ছাত্রী তার বাবা একই স্কুলের ধর্মবিষয়ক শিক্ষক লুৎফর রহমান শেখকে জানায়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বুধবার মোটরসাইকেলে করে মেয়েকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন শিক্ষক লুৎফর রহমান শেখ। হামলাকারী অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ও তার সঙ্গীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লুৎফর রহমান ও তার মেয়েকে নামিয়ে লাঠি ও জুতা দিয়ে বেদম মারধর করে।
দেলদুয়ার থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন মৃধা বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গর্ভবতী ফাতেমা আক্তার (৩৫) লাশ উদ্বার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। বুধবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সহবতপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজের ৬ দিন পর ঝুলন্ত অবস্থায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ফাতেমা আক্তার সহবতপুর গ্রামের মৃত সমাজ মিয়ার ৩য় কন্যা।
পবিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফাতেমার বিয়ের কয়েক বছর পর সন্তান সহ ১ম স্বামী আলীম, ফাতেমাকে তালাক দেয়। ফাতেমা সংসারের অভাবের তারনায় সৌদি পাড়ি দেন। টানা ৫ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরত আসে। পরে ফাতেমা ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরী নেন। চাকুরী সুবাদে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার মো. আরশেদ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া সাথে প্রথমে প্রেম পরে বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় ২ মাস পর রুবেলের ছোট ভাই শামীমের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে ফাতেমা। পরে রুবেলকে তালাক দিয়ে ছোট ভাই শামীমকে বিয়ে করে সাত মাস ধরে ঘর সংসার করে আসছিল। এরই মধ্যে চার মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে ফাতেমা।
গত (২৭ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার স্বামীসহ ফাতেমা তার বাবার বাড়ী সহবতপুর আসেন। পরের দিন সকালে স্বামী শামীম ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রী ফাতেমাকে আর খোঁজে পান না। ফাতেমার বাড়ীর লোকজন স্বামী শামীমকে চাপ সৃষ্টি করলে শামীম কোন কিছু উত্তর না দিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়। নিহত ফাতেমার বাড়ীর লোকজন শামীমের মোবাইল ফোনে যোগযোগ করলে শামীম নানা রকম কথা বার্তা বলে। নিখোঁজের ৬ দিন পর বাড়ির পাশ থেকে মাটি আনতে গিয়ে ঝোপের মধ্যে ফাতেমার ঝুলান্ত লাশ দেখতে পান চাচাতো ভাবি পারুল।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (তদন্ত) হাসান সরকার জাহিদ বলেন, সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্ত জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দ্রুত গতির বাস চাপায় ঘোড়ার গাড়ির দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুই জন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা- টাঙ্গাইল – বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া ১২ নম্বর সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মালিহাটা গ্রামের বাবলু পোদ্দার (৬৫) ও শাহজানপুর উপজেলার পোয়ালগাথা গ্রামের ইউনুস আলী (৫৫)। নিহতরা জামালপুর থেকে ঘোড়া কিনে বগুড়ায় ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হতাহতরা জামালপুরের একটি হাট থেকে ঘোড়া কিনে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের হাতিয়া এলাকার ১২ নম্বর সেতু পাড় হওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের বহনকারী ঘোড়ার গাড়িকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত দুইজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘নিহতদের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যাত্রীবাহী বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ট্রাকের পেছনে চলন্ত মাইক্রোবাসের ধাক্কায় দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মধুপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন, জামালপুর সদরের নারায়নপুর পুলিশ ফাড়ির সদস্য নুরুল ইসলাম ও সোহেল রানা। অপর নিহত হলেন ধর্ষণ মামলার আসামি লালন (২৪)। লালন জামালপুর সদরের গজারহাটা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মাজহারুল আমিন জানান, ধর্ষণ মামলার আসামিকে মেডিকেল পরীক্ষা শেষে মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ফেরার পথে গোলাবাড়ি এলাকায় একটি ট্রাকের পিছনে মাইক্রোবাসটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ সদস্য এবং ধর্ষণ মামলার আসামির মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সকালে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ সদস্যদের মরদেহ তাদের ইউনিটে পাঠানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাহাবুব আলম মহিন (৪২) নামে ব্যাটারিচালিত এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আছিমতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহাবুব আলম মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী পূর্বপাড়া গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মাহাবুব প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মির্জাপুর বাজারে অটোরিকশা চালাতেন। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সন্ধ্যায় তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় স্কচটেপ পেঁচানো এবং মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মরদেহ দেখে পরিচয় শনাক্ত করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিনিময় ও শিবু পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬ টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের উপজেলার মোঘলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের একটি বাস ও শেরপুরগামী শিবু পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস সকাল সাড়ে ৬টায় ওই স্থানে পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের ১০-১২ জন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে বাস দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়।
ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তানিয়া নামে এক কলেজছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ায় সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছেন।বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সিংজুরী গ্রামে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
তানিয়া সিংজুরী গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে এবং মির্জাপুর মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, একই ইউনিয়নের বুড়িহাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সুজন (২৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে তানিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। গোপনে তা ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তানিয়ার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া কলেজে যাওয়া আসার পথে আরও টাকার জন্য তাকে মারধর করাসহ নানাভাবে ভয় ও হয়রানি করত তানিয়াকে। গত পনের দিন আগে ওই ভিডিওটি ‘লোকাল সাফি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়লে তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে বুধবার বিকালে তিনি সুইসাইড় নোট লেখে তাদের বসত ঘরে গলায় উড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সুজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তানিয়ার বাবা হারুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত পনের দিন আগে তার মেয়ে কলেজ থেকে ফেরার পথে সিংজুরী ব্রিজের কাছে তানিয়াকে আটকিয়ে মারপিট করে সুজন। পরে খবর পেয়ে আমরা সুজনকে আটকে রাখি। ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বাদশা এসে সুজনকে সর্তক করে তার বাবা-মার কাছে দিয়ে দেন। কিন্ত তারপরও সুজন তানিয়াকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে।
জাহাঙ্গীর আলম বাদশা মেম্বারের সঙ্গে কথা হলে তিনি এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তানিয়ার বড় ভাই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, ভিডিও ছাড়ার আগে হিলারি নামে তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ফুফাতো বোনের কাছে সুজন হুমকি দিয়ে এসএমএস পাঠায়। তাতে সে লেখে ‘তানি এখন বেশি বুঝল, ওর মরণ আছে’। এরপর ‘লোকাল সাফি’ আইডি থেকে ওই ডিডিও ছেড়ে দিলে তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ গিয়ে তানিয়ার মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
সুইসাইড় নোট: ‘আমারে তুমরা সবাই মাফ কইরা দিও, আমার জন্য তুমাগো অনেক মান সম্মান নষ্ট হইছে, আমি চাই না তুমাগো আরো মান সম্মান নষ্ট হক। তোমরা জানো না ঐতি কি কি করছে আমার সাথে। আমের জোর কইরা ধর্ষণ করছে। তারপর আমার ছবি তুইলা সেই ছবি দিয়া আমার কাছে থাইক দেড় লাখ টাকার জিনিস নিছে।’
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, তানিয়া নামে ওই কলেজ ছাত্রী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। একটি সুইসাইড় নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আত্মহত্যার কারণ উদঘাটন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।