একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, পৌর শহর, এমএম আলী কলেজ, সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের অর্থের বিনিময়ে নবগঠিত কমিটি ঘোষণার অভিযোগ এনে এবং এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার(৩১ মার্চ) বিকেলে শহরের ভাসানী হল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মো. আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-আহবায়ক নয়ন ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, কাব্য, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আমিনুর ইসলাম, এলেঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব রকি মোল্লা, মধুপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়ির যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ, ধনবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আব্দুল বাতেন, মধুপুর উপজেলা ছাত্রনেতা মানিক মিয়া প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মগড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলী হোসেন সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন মাহমুদ।
বিক্ষোভ সমাবেশে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, পৌর শহর, এমএম আলী কলেজ, সা’দত বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, মধুপুর-ধনবাড়ী ও কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা অংশ নেয়।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কতিপয় নেতা ও জেলা ছাত্রদলের কয়েক জন নেতার যোগসাজশে তৃণমূল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে এ কমিটিগুলো করা হয়। এই পকেট কমিটির অধীনে এবং ছাত্রলীগ নেতা দিয়ে কমিটির অধিনে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। অর্থের বিনিময়ে নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রদল। ছাত্রদলের মামলা হামলা খাওয়া ও ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করা হয়নি। এ কমিটিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
একতার কণ্ঠঃ উপহার বক্সে কাফনের কাপড় আর চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে মসজিদের ইমামকে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন নারান্দিয়া বাজার মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদ্রাসার সুপার ওসমান গণি (৫৮)। তিনি মধুপুর উপজেলার মেহাবী গ্রামের মৃত. আব্দুল কাদেরের ছেলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু
থানার জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নারান্দিয়া মাদ্রাসার সালমান (৬) নামের এক ছাত্রের কাছে জন্য একটি উপহার বক্স পাঠানো হয়। বক্সটি খুলে দেখা গেছে ভিতরে কাফনের কাপড় আর হত্যার হুমকি দেয়া একটি চিঠি। ঘটনাটি কয়েক দিন পরে জানাজানি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদ্রাসার সুপার ওসমান গণি জানান বক্সটি খুলে আমি দেখতে পাই ভিতরে কাফনের কাপড় আর হত্যার হুমকি দিয়ে লেখা একটি চিঠি। আমি কালিহাতী থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছি। এরপর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীন ভুগছেন।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৫ জনের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছন আদালত।
রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাউদ হাসান তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে। টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আসামিরা হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। রোববার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নে গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনে সহিংসতা, সরকারি কাজে বাঁধা, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব, পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ রাখা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য তাদের উদ্ধার করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলার তদন্ত শেষে ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০০-৩০০০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে ৪১ আসামীর মধ্যে ফলদা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আকবর হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ ৩৫ জন হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০০-৩০০০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। এরমধ্যে এজাহারনামীয় ৩৫ জন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করেন।
একতার কণ্ঠঃ আল-আমীন (৪০) ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক পাশ করেন। ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল খানের বড় ছেলে তিনি।
বিয়ে করেছিলেন একই উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে শিলাকে। সম্প্রতি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।
আশরাফুল নামে তাদের দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে। কিন্তু স্ত্রী শিলার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানকে কাছে রাখতে না পেরে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি।
এই হতাশা থেকে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন আল-আমীন। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ঘাটাইল থানা পুলিশ মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এর আগের দিন শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে আল-আমীন বিষপান করেন। প্রথমে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। একটি চিরকুট লিখে যান তার ছোট ভাই মাহমুদের কাছে। সেই চিরকুটে আত্মহত্যার কারণ লিখে যান আমীন।
চিরকুটটির হুবহু তুলে ধরা হলো: ‘ভাই আমার জীবন আর চালাই নিতে পারছিনারে ভাই। প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার। মাহমুদ, অনেক ভালোবাসি ভাই তোকে। আমাকে মাফ করে দিস। আমার সংসারটা শিলার বাবা, মা আর ওর ভাই নাহিদ নষ্ট করে দিছে। আমার কলিজা টুকরাকেও নিয়ে গেছে ওরা। ভাই, প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা কষ্ট থেকে এটা ছাড়া উপায় ছিলনা। ভাই আমার অসহায়ত্ব আর চোখের পানিও ওদের কাছে হাসি তামাশার মনে হয়েছে। ভাই বাবুকে দেখে রাখিস। আর পারলাম না ভাই। একটু একটু করে মরার চেয়ে একেবারেই মরে যাওয়া ভালো। তাও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমার আব্বা মাকে মাফ করে দিতে বইলো ভাই। আল-আমীন ১৭/২/২২’।
আল-আমীনের হাতে লেখা চিরকুট
আর সেই সুইসাইড নোটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে পোস্ট করেছেন মাহমুদ।
মাহমুদের চাচা আবুল খায়ের খান বলেন, আল-আমীনের বিবাহ বিচ্ছেদের সময় ছেলে আশরাফুলকে স্ত্রী (শিলা) নিয়ে যাওয়ার কারণে আমিন মানুষিকভাবে ভেঙে পড়ে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর নবজাতক শিশু হত্যা মামলায় মা-মেয়ে কে গ্রেপ্তার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ।রবিবার(৩০ জানুয়ারি) দিনভর অভিযান চালিয়ে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ওই গ্রামের ছনির মোল্লার স্ত্রী হাফিজা (৩৮) ও মেয়ে সোনিয়া (১৮)। তাদের বিরুদ্ধে নাগরপুর থানায় শিশু হত্যা মামলা রুজু করে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সের ড্রেন থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধারের পর সোনিয়াসহ তার পরিবারের লোকজনদের নবজাত শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মা-মেয়ে ঘটনার সত্যতা শিকার করায় তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দিয়ে টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের বেকড়া উত্তরপাড়া গ্রামের ছনির মোল্লার কুমারী মেয়ে (১৮)। শনিবার রাত সাড়ে দশটায় দিকে পেট ব্যাথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। ভোর রাতে ওই মেয়ে ও তার মা কমপ্লেক্সে টয়লেটে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে একটি কন্যা সন্তান জম্ম দেন। এ সময় হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীরা টয়লেটে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রায় দুই ঘন্টা পর মা ও মেয়ে বের হয়ে সিটে আসে। রবিবার সকালে ডাক্তার নিয়মিত রোগী পরিদর্শন শেষে ওই মেয়েকে ছাড়পত্র দেন ডা.কাজল পোদ্দার।
একই দিন সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে দুজন পথ শিশু হাসপাতালের ড্রেনে নবজাতক শিশুটি দেখে লোকজন ডাকে। পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষসহ আশ পাশের লোকজন জড়ো হয়ে নাগরপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ নবজাত শিশুটির লাশ উদ্বার করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় ১২০ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৩৩২ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ১২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শতকরা ৩৬ দশমিক ১৪ ভাগ ।রবিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানান,আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৭০ জন, দেলদুয়ারে ৬ জন, সখিপুরে ৮ জন, মির্জাপুরে ১১ জন, ঘাটাইলে ১০ জন, কালিহাতীতে ৭ জন, মধুপুরে ১ জন, গোপালপুরে ২ জন, বাসাইলে ২ জন, ধনবাড়ীতে ৩ জন নিয়ে মোট ১২০ জন।
তিনি আরো জানান, এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৪০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৫ জন। জেলায় সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, করোনা প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবিতে ডেভেলপমেণ্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র (ডরপ)- এর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ডরপ টাঙ্গাইলের ফ্যাসিলিটেটর গুলজার হোসেন, যুব ফোরামের সদস্য নূর পলাশ, সাব্বির হোসেন, বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের জীবন সাহা প্রমুখ।
এসময় বিড়ি শ্রমিক, যুব গ্রুপ এবং সুশীল সমাজের সদস্যবৃন্দ, ডেভেলপমেণ্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র (ডরপ) এর কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি ৬টি সংশোধনীর দাবি করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়ায় অবস্থিত নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ৬০ কর্মী ও ২০ স্বেচ্ছাসেবক দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার(১৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, কারখানার বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর মালামাল ও যন্ত্রাংশ আগুনে ছাই হয়ে গেছে। হিসাব না করে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানানো যাচ্ছেনা। তবে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা সূত্রে জানাগেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে কারখানার দোতলা ভবনের নিচতলার ফিনিশড গুডস ওয়্যারহাউসের (তৈরি মালামাল প্যাকেট করে রাখার স্থান) উত্তর-পূর্ব কোণায় অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ আগুন লাগে। এ সময় দ্বিতীয় তলায় প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন দেখে তারা দৌঁড়ে নিচে নামেন। তাড়াহুড়া করে দৌঁড়ে নামতে গিয়ে কয়েক শ্রমিক সামান্য আহত হন। এর মধ্যে কাদের মিয়া নামে এক শ্রমিককে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই কারখানার শ্রমিক জয়নুল আবেদীন ও কালাম জানান, বুধবার রাতে তারা ওই ভবনের পাশের মাঠে ভলিবল খেলছিলেন। রাত ১১টার দিকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনে তারা দৌঁড়ে ভেতরে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কারখানার ভেতরে রাখা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুত আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর তারা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, এলেঙ্গা, ঘাটাইল, সখীপুর, বাসাইল ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ৬০ কর্মী ও ২০ স্বেচ্ছাসেবক অক্লান্ত পরিশ্রম করে বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কারখানায় দাহ্যবস্তু হিসেবে ম্যাটেরিয়ালস, প্যাকিং বক্স থাকায় ও গোডাউনটি কয়েক লাখ স্কয়ার ফুটের হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। কেন- কী কারণে আগুন লেগেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেন নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের একমাত্র ছেলে ও দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিবিসিআই’র পরিচালক। ফজলুর রহমান খান ফারুক আওয়ামীলীগের পক্ষে এই আসনে ১৯৭১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাহিদুল নবী চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম কামরুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়েও মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের খান আহমেদ শুভ ছাড়াও জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ বৈরাবরি পার্টি থেকে পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে খান আহমেদ শুভ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। চায়ের দোকান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাব, হাটবাজারে নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচিত হতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনা করছেন। সরকার দলীয় প্রার্থী বর্তমান সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরছেন ভোটারদের মাঝে।
স্থানীয় ভোটার রাশেদ হাসান বলেন, যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে ও যাকে বিপদে পাশে পাওয়া যাবে এমন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। অপর ভোটার সফল বনিক বলেন, মির্জাপুরের অদূরে রাজধানী। যিনি মির্জাপুরকে রাজধানীর আদলে সাজাতে পারবেন, তাকে দলমত নির্বিশেষে ভোট দেবেন।
খান আহমেদ শুভ বলেন, ‘জনগণের সেবা ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নৌকাকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামীলীগ থেকে তাকে মনোনীত করায় খান আহমেদ শুভ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ নভেম্বর এই আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩০ নভেম্বর এই আসন শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ ডিসেম্বর। আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত জেলা শ্রমিক লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা(৩৮) বুধবার(২৪ নভেম্বর) বিকেলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সজিব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রেজা শহরের দেওলা এলাকার মো. আজাদ আলমগীরের ছেলে। শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে আসার পূর্বে রেজা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার(২১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় রেজাউল ইসলামের উপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা রেজাউলের হাত, পা, মেরুদন্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারে অবস্থিত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তার অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
রেজাউলের মৃত্যুর খবরে তার এলাকায় শোকের পবিবেশ বিরাজ করছে।
রেজাউলের খালাতো ভাই জুয়েল রানা বলেন, রাতে লাশ টাঙ্গাইলে আনা হবে। বৃহস্পতিবার দাফন ও আইনগত ব্যবস্থায় যাবেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ মামলা করে নি। তবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে ।

রেজাউলের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা তার খুনিকে অবিলম্বে আইনের আওয়াতায় এনে বিচারের দাবী জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণাধীন একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় একটি রিমোট কন্ট্রোল বোমা রেখে খামে ভরে একটি চিঠি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সাথে ১০ টাকার একটি নোটও দেয়া হয়েছে। বুধবার(২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নন্দনপুর এলাকার প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বাসায় ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই চিঠি দেয়া হয়। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম প্রথম চিঠিটি দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটি ঘিরে রেখেছে।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, এক লাখ টাকা নিয়ে রাস্তায় হেঁটে কিছু দূর গিয়ে একটি চালতা গাছের নিচে চিপসের হলুদ প্যাকেটে রাত দশটার মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। তা না হলে রাত সাড়ে দশটায় ভবনে রাখা রিমোট কন্ট্রোল বোমাটি ফাটিয়ে দেয়া হবে।
চিঠিতে আরো লেখা রয়েছে রিমোট কন্ট্রোল বোমাটিতে হাত না দিতে এবং পুলিশকে না জানাতে। পুলিশকে জানালে তার ছেলে এবং মেয়ে কে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোমা সাদৃশ্য একটি বস্তু দেখেছি। বাড়িটি পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট আসলে বোমার মতো সাদৃশ্য বস্তুটি আসলে কি তা বলতে পারা যাবে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পারিবারিক কলহের জেরে মিনারা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধুকে খুন করে স্বামীর আত্মসমর্পনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাবনদত্ত পন্ডিত কাছড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
ঘাতক স্বামী ওই গ্রামের শামছুলের ছেলে।ঘটনার পর স্বামী আমিনুল ইসলাম (২৮) কে আটক করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
স্থানিয় ইউপি সদস্য আঃ ছালাম জানান, গৃহবধু মিনারা বেগম(২২কে) স্বামী আমিনুল গলাটিপে হত্যা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী আমিনুল ইসলাম নিজেই থানায় ফোন করে জানায় আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আপনারা এসে আমাকে নিয়ে যান। পরে আমিসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক আমিনুলকে আটক করি। সে প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার(২১ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।