একতার কণ্ঠঃ বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে মওলানা ভাসানীর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষে তার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক সংগঠন সহ সর্বস্তরের জনগণ।

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী নির্বাচন ৫৪ ও ৭০ মতো না হলে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। আমরা যে চিন্তা নিয়ে, যে ভালবাসা নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম আজকে তার কিছুই নাই। মানুষের স্বাধীনতা এটাকে বলে না। শুধু কথা ও যা কিছু তা বলতে পারলেই স্বাধীনতা নয়। মানুষের স্বাধীনতা হচ্ছে মানুষের মর্যাদাবোধ, মানবিকবোধ ভালবাসা। সবার কাছে আহ্বান জানাবো মানুষকে ভালবাসতে ও সম্মান জানাতে হবে। নাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মান দিতে পারবো না। খুব কষ্ট হয়, যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তখন জাতির পিতা বঙ্গন্ধু, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতির পিতা জিয়াউর রহমান, আবার কখনও জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে জাতির পিতা হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদও হতে পারে। আমাদের চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
এসময় আগামী ১০ ডিসেম্বর সম্মেলন কে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সাংবাদিকদের বলেন, আগামী যে সব সমাবেশ হবে তারই সর্বশেষ হচ্ছে ঢাকার সমাবেশ। এই সমাবেশ অন্যান সমাবেশের মতোই একটি বিষ্ময়কর সমাবেশ হিসাবে আমরা চিহ্নিত করবো সেই প্রচেষ্টা আছে। যেগুলো বাকী আছে সেগুলো শেষ করার পরে, ভাবার কোন কারণ নেই সরকার,যার নিয়ত ঠিক নাই, চোরের মন পুলিশ পুলিশ, সে আগে থেকেই খারাপ কিছু ভাবনা মাথার ভিতরে নিয়ে দেশ বাসীকে বিভ্রান্তি করছে,প্রশাসনকে বিভ্রান্তি কার চেষ্টা করছে,সেই হিসাবে ১০ তারিখ হচ্ছে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ গণসমাবেশ,ইতিহাসের বিরল একটি সমাবেশ হিসাবে আমরা সেটা অনুষ্ঠিত করতে চাই।
এসময় সরকারের সমালোচনা করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত একটা অসম্মান জনক অবস্থা, যখন বিদেশীরা বলেন,এ দেশে রাতের বেলা ব্যালট বক্স পুলিশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তারা ব্যালট ভর্তি করে ফেলে। এইটা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে শুনেন নাই,বাংলাদেশে এটা শুনেছে। এটা কী আমরা অস্বীকার করতে পারি, জাপানের রাষ্ট্রদূত যা শুনেছেন এটা আমরা কেউ শুনি নাই অথবা দেখি নাই? আমরা যারা নির্বাচন করেছি আমরা এটা দেখেছি আমরা শুনেছি যে বাংলাদেশে কিভাবে ২০১৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা সেই নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে প্রায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ৫০ ভাগের কাছাকাছি কোথাও কোথাও বেশি ব্যালট স্টাফিন করে বাক্সে ভরে রাখা হয়েছিলো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে পরীক্ষায় দায়িত্বপালনরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজামালের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের মনিরুজ্জামান বিএম কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ভুঞাপুর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসির হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মনিরুজ্জামান বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজামালসহ সেখানে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক ও শিক্ষকরা অফিস রুমে বসে ছিলাম। এমন সময় ওই শিক্ষা কর্মকর্তা হঠাৎ উঠে গিয়ে নিজেই মাথায় পানি দেন। এরপর তিনি মূর্ছা যান। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আর্জেন্টিনার পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে তানভীর হাসান তন্ময় (১৩) নামের এক স্কুলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার(১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর এলাকার সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের ভাই ভাই সিনেমা হলের সামনে ( ৩ নম্বর ওয়ার্ড) এই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্ময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জার্মান প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে।
সে স্থানীয় সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভঃ স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সমর্থক তানভীর হাসান তন্ময় কাঁচা বাঁশে পতাকা টানাতে গিয়ে বাসার ৫ তলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়। পরে তাক আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আয়েশা জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম তন্ময়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় রুমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহিনী একসঙ্গে তিন সন্তান প্রসব করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১০টায় ঢাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি তিন সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
বর্তমানে তিন সন্তান ও তাদের মা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন পরিবার।
রুমা আক্তার উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের প্রবাসী শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে দিগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন ফারুক হোসেন ফনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি সন্তানের জন্ম দেন রুমা আক্তার। বর্তমানে বাচ্চাসহ মা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত রয়েছে। দেশবাসীর কাছে সন্তানদের জন্য দোয়া চেয়েছেন। একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় বাবা-মা, দাদা-দাদিসহ আত্মীয়স্বজনরাও খুশি। তবে নবজাতক তিন শিশুর এখনও কোন নাম রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে নবজাতকদের বাবা প্রবাসী শরিফ উদ্দিন জানান, আল্লাহ আমাকে তিনটি সন্তান এক সাথে দান করেছেন। আশা করি, দুই ছেলে এক মেয়ে এই তিন সন্তান লালন-পালনে কোনো সমস্যা হবে না। আল্লাহ সুস্থ রাখলে পরিবারের সবাই মিলে লালন-পালন করতে পারবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ি গ্রামে ওয়াজ মাহফিলের খিচুড়ি খেয়ে শিশুসহ দুইশতাধিক গ্রামবাসী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে রাহেলা বেগম (৯৪) নামে এক বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছে । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মো.আশরাফুল আলম ।
মৃত রাহেলা বেগম দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত বিষা চৌধুরীর স্ত্রী।
এতে বুধবার(১৬ নভেম্বর) ভোরে এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় আক্কাস মিঞার বাড়িতে এক ওয়াজ মাহফিলে আয়োজন করা হয়। ওয়াজ মাহফিল শেষে তোবারক হিসেবে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাবুর্চি আব্দুল গণির রান্না করা খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গজিয়াবাড়ী গ্রামের শিশুসহ দুুশতাধিক নারী পুরুষ। খবর পেয়ে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম গজিয়াবাড়ি গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।এছাড়া স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করে আক্রান্তদেন দ্রুত চিকিৎসকদের জন্য ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিকের বাড়িতে আসতে বলা হচ্ছে।
আলেয়া নামের এক নারী জানান, ওয়াজ মাহফিলের খিচুড়ি খেয়ে তিনদিন ধরে গ্রামের শিশু, নারী-পুরুষ ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার ভোরে অবস্থা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। অনেকেই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, রবিবার রাতে খিচুড়ি খাওয়ার পর এখন পর্যন্ত গ্রামের শিশুসহ দুই শতাধিক নারী পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাহেলা বেগম নামে গজিয়াবাড়ি গ্রামের এক বৃদ্ধার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
ডা: মো আশরাফুল আলম জানান, আক্রান্তদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেলদুয়ার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রাহেলা বেগম নামে এক বৃদ্ধা মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুবরণ করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের কাগমারীপাড়া শিয়ালকোল এলাকার গৃহবধু জহুরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মেয়ে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভূঞাপুর থানা) আমলী আদালতে তার মেয়ে মো. সেলিনা বেগম (৪১) বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
মামলায় নিহত গৃহবধুর স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন তালুকদার, তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া বেগম ও ছেলের শ্বশুড় মো. আনছার আলী মন্ডলকে (৬৫) আসামী করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বেল্লাহ হোসেন তালুকদারের জমি-জমা লিখে দেয়ার জন্য তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া খাতুন চাপ দিতেন। এক পর্যায়ে বেল্লাল হোসেন তালুকদার জমি লিখে দিতে চাইলে তার স্ত্রী বাঁধা দেয়।
পরে তার ছেলের স্ত্রী ও শ্বশুড় হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে জহুরা বেগমকে মারধর করে আসামীরা। এক পর্যায়ে জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।
মেয়ে খবর
মার মৃত্যুর খবর পেয়ে মামলার বাদী তার মেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে ৯৯৯ ফোন করে। পুলিশ গিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে আসামীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মওলানা ভাসানীর চেতনা ও বিশ্বাস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) সকালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুস্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডক্টর মো. আক্তারুজ্জামান।
মওলানা ভাসানী রিসার্স সেণ্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর মো. আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী স্টাডিজের কোর্স টিচার সৈয়দ ইরফানুল বারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডক্টর মোহা. তৌহিদুল ইসলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেমিনার আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ডক্টর মো. ইশতিয়াক আহমেদ তালুকদার।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর মো. মাহবুবুল হক, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর মো. আনিসুর রহমান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোছা. নুরজাহান খাতুন প্রমুখ।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামেরই ফজলুর রহমান খানের ছেলে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জাহাঙ্গীর কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফেরার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তিনি নিজের ঘরেই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন জানান, ‘মরদেহটির সুরতহাল তদন্তে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তারপরও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত সোহরাব মিয়ার লাশ নিয়ে সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। তারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নাগরপুরের বেকড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বেকড়া গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব মিয়া (৫০) প্রতিপক্ষের হামলায় গত ৯ নভেম্বর আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২ নভেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকায় ময়না তদন্ত শেষে রোববার (১৩ নভেম্বর) রাতে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। দাফনের আগে এলাকাবাসী এই হত্যার বিচারের দাবিতে বেকড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, বেকড়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নিহত সোহরাবদের পরিবারের সঙ্গে রহিম ও রৌফ মিয়ার পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত বুধবার (৯ নভেম্বর) সোহরাবদের বাড়িতে প্রতিপক্ষ হামলা করে। এতে সোহরাব ছাড়াও তার অপর তিন ভাই চান মিয়া (৫২), জহিরুল ইসলাম (৪৫), ফরিদ মিয়া (৩০), এবং দুই ভাইয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৫০) ও নাজমা বেগম (৪০) আহত হন। তাদের মধ্যে সোহরাবসহ চার ভাইকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোহরাবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই হামলার পর সোহরাবের ভাই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এখন ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই মামলায় হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ ‘সব দোষ আমার। আমার জন্যই সে বিদেশে গিয়েছিল। বিদেশে না গেলে আজ হয়তো এভাবে তার মৃত্যু হতো না। আমি অসুস্থ মানুষ, আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার স্ত্রীর লাশটা দেখতে চাই। তার লাশটা নিজ হাতে কবর দিতে চাই। টাকা চাই না, আমার স্ত্রীর লাশটা চাই।’
কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে মারা যাওয়া আছিয়া বেগমের (৫০) স্বামী ইসমাইল হোসেন। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার কুমারগাতা এলাকার বাসিন্দা জরিপ আলীর মেয়ে আছিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ইসমাইল হোসেনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর ইসমাইল অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামী অসুস্থ ও চার ছেলেমেয়ে ছোট থাকায় পরিবারের হাল ধরতে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন আছিয়া বেগম।
২০১০ সালে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। তার স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু এর আগেই মালদ্বীপে আগুনে তিনি পুড়ে মারা যান। গত ১০ নভেম্বর সকাল ১০টায় হঠাৎ বড় মেয়ে নুর নাহারের মোবাইল ফোনে কল আসে মালদ্বীপ থেকে। সে সময় তার মায়ের মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। এই খবরে মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আছিয়া বেগমের মেয়ে নুর নাহার বলেন, ‘আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমরা চার ভাই-বোনও ছোট ছিলাম। পরিবারে অভাব-অনটন থাকায় সংসারের হাল ধরতে মা মালদ্বীপে পাড়ি জমান। মা চেয়েছিল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে। কিন্তু তার ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না। এখন আমার মায়ের লাশটা ফেরত চাই। আমার মায়ের লাশটা দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বড় ছেলে আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মা বিদেশে যায়। আমি রিকশা চালাই, ছোট ভাই ইটভাটা শ্রমিক। আমাদের রোজগারের টাকা মাকে খাওয়াতে পারলাম না। শেষবারের মতো মায়ের লাশটা দেখতে চাই। মায়ের লাশটা ফেরত দেন।’
আছিয়া বেগমের ছোট ভাই তাজমল হোসেন বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ থাকায় সংসারের হাল ধরতে আমার বোন বিদেশে পাড়ি জমায়। তার ইচ্ছা ছিল স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারে অভাব-অনটন দূর করার। বাড়িতে ভালো ঘর করার। কিন্তু তার ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মালদ্বীপে মারা যাওয়া আছিয়ার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার পরিবার খুবই দরিদ্র। তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তার জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে বাংলাদেশিসহ ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মালের মাফান্নু এলাকার ওই বাড়িতে থাকতেন তারা। যেখানে আগুন লেগেছিল, এটি ঘনবসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় রহিম বাদশা (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর)সকালে উপজেলার সাগরদীঘি-গারোবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুরাইদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রহিম বাদশা মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের টিক্কার বাজার এলাকার ময়েজ আলীর ছেলে। তিনি ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সানবান্ধা এলাকার ইকো ফ্রেন্ডস গ্রিন ব্রিকস কম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে সাগরদীঘি-গারোবাজার সড়কের মুরাইদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহি ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান জানান, ট্রাকটিকে আটক করা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একমাত্র মেয়ের মৃত্যুশোকে হেক্সিসল পান করে বাসন্তী বণিক (৫১) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগর ভাতগ্রাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বাসন্তী বণিক নগর ভাতগ্রাম গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ বণিকের স্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
শুক্রবার দুপুরে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাসন্তী ও প্রাণকৃষ্ণ দম্পত্তির একমাত্র সন্তান পূজা বণিক (১৮) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর)সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পূজার মত্যু হয়।
শুক্রবার ভোরে একমাত্র সন্তানের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে বাসন্তী শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন। মেয়ের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে সবার অজান্তে বাথরুমে ঢুকে হেক্সিসল পান করেন তিনি। পরে অসুস্থ অবস্থায় মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। পরিবার আবেদন করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।