আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ লাভলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাগর আহমেদ লাভলু বাঁশতৈল ইউনিয়নের গাইরাবেতিল গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
গত ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে হিমেলের দুই চোখ অন্ধ হয়।
এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর টাঙ্গাইল আদালতে ১০০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন হিমেলের মা নাসিমা বেগম। ওই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সংবাদ সম্মেলন করে ষড়যন্ত্রকারীর বিচার দাবি করলেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে তিনি এ দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্য আজগর আলী বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের সাবেক অধিনায়ক এবং আন্তজার্তিক কাবাডি রেফারি, সৌখিন মৎস্য শিকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, আনাহলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি, গয়রা গাছা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি, দুলবাড়ী রাশেদ হাসান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসতেছি। আমি রাজনৈতিক ভাবেও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।
এছাড়াও আমি অত্যান্ত সুনামের সহিত হুগড়া ইউনিয়নের দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। আমি দীর্ঘদিন যাবত টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসতেছি। বিগত হাসিনা বিরোদী আন্দোলনে সম্মুখ ভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। যাহার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ তিন মাসেরও অধিক সময় কারাবরণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমি টাঙ্গাইলের শতাব্দী ক্লাবের সদস্য হওয়ার সুবাদে ক্লাবের পিয়ন বকেয়া চাঁদার জন্য আমাকে ফোন করলে আমি ক্লাবের বকেয়া চাঁদা পরিশোধের জন্য সেখানে উপস্থিত হইলে যৌথবাহিনীর কিছু সদস্য শতাব্দী ক্লাবের ভিতর ডুকে পড়ে আমাকে কোন কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করেন। যা আমার ব্যাক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। যাহার কারণে আমার অর্জিত সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি ঘটনায় ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বিচার প্রার্থণা করছি।
এসময় জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল হক খান নিক্সন, সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, সদর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাদল, কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ওমর ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক সোলায়মান হায়দার টুটুল, ঘারিন্দা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সৈয়দ শাহীন, পোড়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আমিনুল সরকার, বাঘিল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হক, দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, কাতুলী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন, মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান, হুগড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামরুল মোল্লাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ দিকে যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে শহরের শতাব্দী ক্লাব, নর্থ সাউথ ক্লাব, ভিক্টোরিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নর্থ সাউথ ক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। তিনি বলেন, শহরের আরও বিভিন্ন ক্লাব রয়েছে। সেখানে অভিযান না করে এই তিনটি ক্লাবে যৌথ বাহিনী যে অভিযান চালিয়েছে, ষড়যন্ত্রমূলক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শতাব্দী ক্লাবের সভাপতি অমল ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক আকিবুর রহমান ইকবাল, ভিক্টোরিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েম রেজা বাবু, কার্যকরি সদস্য ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাতে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত শতাব্দী ক্লাবে জুয়া খেলার সময় আজগর আলীসহ ৩৪ জনকে আটক করে যৌথবাহিনী। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ এক লাখ ৪৯ হাজার ৪১০ টাকা, জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জমান ও দুইটি খালি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, দু’টি খালি মদের বোতলসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলীও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ফুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শতাব্দী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী (৫০), কালিবাড়ি এলাকার বিধুণ ভুষনের ছেলে রক্ষিত বিশ্বজিৎ (৫৫), সবুর খান বীর বিক্রমের ছেলে মো. শাহ আলম খান মিঠু (৫৫), দিঘুলিয়ার জসিম উদ্দিন (৫৭), বাঘিলের গোলাম মাওলা (৪৮), থানাপাড়ার শাহিন আহমেদ (৫০), আবু জাফর খান (৪৪), বিশ্বাস বেতকার মো. আব্দুর রশিদ (৫৫), আকুর টাকুর পাড়ার মঈন খান (৬০), করটিয়ার ইসমাইলের ছেলে মোস্তফা কামাল (৫৮), সাবালিয়ার বিশ্বনাথ ঘোষ (৫৪), একে এম মাসুদ (৫৫), বেতকার শিপন (৫৮), আকুর টাকুর পাড়ার দেওয়ান শফিকুল ইসলাম (৬০), বেপারী পাড়ার এস এম ফরিদ আমিন (৫৫), কবির হোসেন (৫০), আদালত পাড়ার মোশারফ উদ্দিন (৫০), ঘারিন্দা এলাকার হাবিল উদ্দিন (৪০), বেতকার মহব্বত আলী (৫৫), আকুর টাকুর পাড়ার জাহিদ (৪৪), থানা পাড়ার প্রিন্স খান (৬৫), সৈয়দ শামসুদ্দোহা (৪৫), আদালত পাড়ার রফিকুল (৫৫), বিশ্বজিৎ (৪৫), পাড় দিঘুলিয়ার সাদেকুর, কাজিপুরের সেলিম (৪৫), আদালত পাড়ার হাসান আলী (৫০), বিশ্বাস বেতকার রফিক, আদালত পাড়ার শাহ আলম (৫৫), সিরাজুল (৪৫), বিশ্বাস বেতকার আশিকুর রহমান (৪৬), আদি টাঙ্গাইলের শফিক (৫২), বিশ্বাস বেতকার আখতারুজ্জামান (৪৩), আশেকপুর এলাকার আরমান (৪৩) ও শহরের ছয়আনি পুকুরপাড় এলাকার শামসুল হক (৫৬)।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ফুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শতাব্দী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও ২’দুটি খালি মদের বোতলসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে আমানুরের তিন ভাই, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) রয়েছেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ২৩ জুলাই এ আদেশ দেন। আদালত ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার নথিও তলবের আদেশ দিয়েছেন।
হাইকোর্টের এ আদেশ রবিবার (১০ আগস্ট) ডাকযোগে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পৌঁছায়। তবে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি জানা যায়। উভয় আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান গত ২ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার রায় দেন। আদালত মোহাম্মদ আলী ও কবির হোসেন নামের দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মোহাম্মদ আলী ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফারুক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে এই হত্যার সঙ্গে আমানুর রহমান ও তাঁর ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি পলাতক। অপর দণ্ডিত কবির হোসেন ২০১৪ সাল থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আমানুররা চার ভাই ছাড়া অন্যরা হলেন সানোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন, বাবু, ফরিদ হোসেন, মাসুদুর রহমান, আলমগীর হোসেন। মামলা চলাকালে দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মারা যান।
নিহত ফারুক আহমেদের ছেলে আহমেদ সুমন মজিদ মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আমি নিজে উচ্চ আদালতে আপিলের উদ্যোগ নিই। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটরি অনুবিভাগ আমাকে গত ২৬ জুন নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল দায়ের করি।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আহমেদ সুমন মজিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ জুলফিকার আলম শিমুল এবং বাদীপক্ষে ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুরদের চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার হোসেনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
শনিবার (৯ আগষ্ট ) রাতে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেন সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ নামক প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের এক ছাত্রকে (১৩) জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন। বৃহস্পতিবার( ৭ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ১০ টায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শুক্রবার (৮ আগষ্ট) সকালে পরিবারকে বিষয়টি জানালে শনিবার রাতে তারা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে ড্রাগন ফল খাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মাদ্রাসার ভিতর ডেকে নেয় ও তার সাথে রাত্রিযাপন করতে বলে। রুমের বাতি বন্ধ করে তার হাত পা টিপে দিতে বলে। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলৎকার করে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। এ বিষয়ে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনে মামলা রজ্জু করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয় কুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ণমালা শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশন কর্তৃক এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সেবা এনজিওর আশুলিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম।
বর্ণমালা শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও দৈনিক যুগধারা পত্রিকার সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথা সাহিত্যিক ও কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক হামিদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষানুরাগী নাজিমউদ্দীন তালুকদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, জয়নাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকসহ সমাজের অশুভ কাজ থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব বলে মনে করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে নাটোর শহরের কানাইখালী মিনি স্টেডিয়ামসহ দেশের ১৪টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নবনির্মিত স্টেডিয়ামগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়া উপদেস্টা বলেন, মাঠগুলোতে ক্রীড়াবিদরা যেনো নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারেন। উপজেলা পর্যায়ে মাঠগুলো ব্যবহার হলে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মানের খেলোয়ার পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যেসব মাঠ নির্মাণাধীন রয়েছে, সেগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে। পাশাপাশি দেশের যেসব উপজেলায় স্টেডিয়াম নেই, সেই উপজেলা গুলোতে স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে।
জুমের মাধ্যমে টাঙ্গাইল সদর প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্যাহ আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা আক্তার , সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মকবুল হোসেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ, দাইন্যা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় আবুল হোসেন (৫৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হাতিয়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল হোসেন কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মালেকের ছেলে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি যমুনা সেতু পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এসময় হাতিয়া রেলক্রসিংয়ে পৌঁছলে ট্রেনের সাথে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেল ও চালককে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মোটরসাইকেল আরোহী আবুল হোসেনের।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হারুন অর রশিদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল ও চালককে পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে তার বাড়িতে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাইব্রেরীতে সাত শিক্ষার্থীর গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে বেসরকারি লিটন একাডেমির ওই সাত শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি ভর্তি করাসহ প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে ওই সাত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেওয়াসহ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িত শিক্ষকদের বদলী ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ সুধীজনেরা।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পাড়দিঘুলিয়া মৌজায় স্থাপিত হয় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা-৭৯০। এর মধ্যে বালক-৪০৬ আর বালিক ৩৮৪। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা-২১০। এর মধ্যে বালক-১২৪ আর বালিকা-৮৪। ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন তসলিমা জাহান।
নিয়ম বর্হিঃভুত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, আরাধ্যা শীল, খন্দকার আফসানা হেরা, জাকিয়া তাবাসুম বুশরা, সাবিহা বিনতে শামীম, সৈয়দ আনানূর, আয়শা সিদ্দিকা মুন, রনিত বসাক অর্পণ ও কুঞ্জ রায়।
বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মন্ত্রণালয় নির্দেশিত ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাই করা হচ্ছিল বলে শিক্ষকরা দাবি করলেও শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাইয়ের কোন খাতা দেখাতে পারেননি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও লিটন একাডেমির ৫ম শ্রেণীর উপস্থিতি খাতায় বিদ্যালয়ের গোপন ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়মানুযায়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বশেষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ থাকলেও এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সম্প্রতি ওই সাত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
সরেজমিনে অভিভাবকদের তোলা অবৈধভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চলমান ওই পরীক্ষার ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন এই সংবাদের প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।
কোচিং শিক্ষার্থীদের গোপনে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় অভিভাবক ও সংবাদকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ দরজা বন্ধ করে দেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। কৌশলে পরীক্ষার খাতা সরিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের গল্পের বই পরতে দেন তারা।
গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার সর্বশেষ তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হলেও প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রথম সাময়িক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে অধ্যায়নরত ৫ম শ্রেণীর ৪০ভাগ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে বলে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২১,২২,২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃত্তি প্রাপ্তির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কোচিং সেন্টারে অধ্যায়নরত ওই সাত শিক্ষার্থীকে গোপনে ভর্তি করানোসহ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরী কক্ষে গোপনে মে মাসে শেষ হওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইন। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার, লায়লা সিদ্দিকী আর স্বপন কুমারকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
টানা পনের বছর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতি বছরই অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে আর বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে বেসরকারি কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তসলিমা জাহান বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগি অভিভাবকরা।
গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ না হলে এবারও বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত বেশ কিছু শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। এখনও কেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গানো হয়নি এমন প্রশ্ন তোলাসহ গোপনে পরীক্ষা নেওয়া কোচিং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত শিক্ষার্থী তালিকায় তোলার শঙ্কা দেখছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করা সকল শিক্ষকের অন্যত্র বদলীসহ জড়িত সকলের কঠোর বিচার দাবি করেছেন তারা।

অভিভাবক কানিজের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির অপচেষ্টায় বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরতদের বাদ দিয়ে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। ওই সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন তারা। তাদের যোগসাজসে প্রতিবছরই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে কোচিংয়ের সাত শিক্ষার্থীর গোপনে মে মাসে শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আমিসহ সাংবাদিকরা পরীক্ষা চলাকালীন লাইব্রেরী কক্ষে প্রবেশ করি। শিক্ষার্থী আমাদের কাছে পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দায়িত্বরত সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। তারা আমাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ও লাইব্রেরী কক্ষ বন্ধ করে দেন। আমার মেয়েও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী, তাদের এই অনৈতিক চেষ্টায় আমার মেয়েটি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে কি? এ নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নষ্টকারী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী।
লিটন একাডেমির পরিচালক লিটন রাহা বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাই। কোন শিক্ষার্থী কোন স্কুলে ভর্তি আছে বা হবে সেটি আমার কাজ না।
বুধবার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোপনে নেওয়া পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের নাম আপনার পঞ্চম শ্রেণীর উপস্থিতি তালিকায় কিভাবে আসলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এক নামে একাধিক জন থাকতেই পারে। মডেলের গোপন পরীক্ষার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার একাডেমির খ্যাতি দেখে আমার বিরুদ্ধে এখন অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে বলেও জানান তিনি।
মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিম জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রীর অভিভাবক কানিজ বৃত্তি তালিকায় তার মেয়ের নাম দেওয়া হবেনা এমন শঙ্কা থেকে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন।
শ্রেণী কক্ষ থাকতে কেন লাইব্রেরীতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কারণে লাইব্রেরী কক্ষে নিয়ে ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাইয়ের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক লায়লা। কানিজ সেটিকে ওই শিক্ষার্থীদের গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রচার করছে। সাংবাদিকদের দেখে কেন ওই শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই পরীক্ষার খাতা সরিয়ে গল্পের বই পরতে দেওয়া হয় এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থীদের শিখন যাচাইয়ের খাতা দেখতে চাওয়া হলে সেটি দেখাতে পারেননি তিনি। এবার বিদ্যালয় থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের ফোন পেয়ে তিনি এসেছেন। পরীক্ষার বিষয়টি জানতেন না তিনি। তবে বিতর্কিত ওই সাত শিক্ষার্থীর নাম বৃত্তি তালিকায় যাবেনা বলে আমাকে কথা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান।
বুধবার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয়নি বলে জানান সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আলমগীর হোসাইন। তাহলে কর্মস্থল ছেড়ে বিদ্যালয়ে কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ফোন দিয়ে বিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা এসেছে বলে জানানোর কারণেই তার আসা। অভিযোগের বিষয় যাচাই বাছাই করার আশ্বাস দেন তিনি।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো.শামসুজ্জামান বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখতে বলা হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আরমান কবীরঃ গাজীপুরে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বিরুপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এতে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাংবাদিক কাজী তাজউদ্দিন রিপন, মামুনুর রহমান মামুন, শামিম আল মামুন মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক তুহিনকে যেভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা একটি স্বাধীন দেশে কল্পনাও করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যৌথবাহিনীর অভিযানে দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের ১৬ হাজার ৫’শত টাকা অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌধুরী মালঞ্চ গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে মো. মাসুদ রানা (২৭), টাঙ্গাইল পৌরসভার ভালুককান্দি এলাকার সোনাউল্লার ছেলে মো. খোকোন হোসেন (২৫), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গালা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২২), কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের সল্লা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২৩), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. আনিস মিয়া (২২)।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের সদস্যরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছিল। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরো জানান, এসময় দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে ১৬ হাজার ৫’শত টাকা অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড অন্য প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪-ইবি ব্যাটেলিয়নের ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ফারুকের নেতৃত্বে একটি টহল দলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলাসপুর বটতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হচ্ছেন, মোটরসাইকেল আরোহী জামালপুরের মো. আল-আমীন (৩০), ও স্বপন মিয়া (৩৫)।
ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। আহত পিকআপ চালক ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মারা যান।
গুরুতর আহত মোটরসাইকেলের অপর এক আরোহী মো. সানীকে (২০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।