আরমান কবীরঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, আমার বাড়ি ভেঙেছে আরও ভাঙুক। বঙ্গবন্ধুর ৩২-এর বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমার গাড়ি ভেঙেছিল। আরও ভেঙে যদি দেশে শান্তি স্থাপিত হয়, দেশের কল্যাণ হয়, আমি সব সময় রাজি আছি।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণির (জেলা সদর সড়ক) বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবেক সংসদ সদস্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
এর আগে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত একটার দিকে কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাসার কর্মচারীরা জানান, শনিবার রাতে কাদের সিদ্দিকী বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। রাত একটার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল বাসায় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা মই দিয়ে বাসার গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা এবং কয়েকজন হেলমেট পরা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত রাতে আমার বাড়িতে হামলা করেছে। কারা করেছে জানি না। ১০ থেকে ১২ জন লোক, তার মধ্যে বেশি বাচ্চা ছিল। ঢিল মেরেছে, গাড়ি ভেঙেছে। কোটাবিরোধী আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরে আমরা এই স্বৈরাচারী মনোভাব আশা করিনি। আওয়ামী লীগ যদি স্বৈরাচার হয়, তাহলে আজকের কর্মকাণ্ডকে আমরা কী বলে অভিহিত করব।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ২৬ বছর হয়েছে নতুন দল করেছি। রাত–দিন সংগ্রাম করেছি। আওয়ামী লীগ আমাদের বহু প্রোগ্রাম করতে দেয়নি। তারপরও যদি সবাইকে আওয়ামী লীগের দোসর বানানো হয়, তা হলে তো আমি মনে করব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য, ধ্বংস করার জন্য এটা কোনো ষড়যন্ত্র কি না! আমার কাছে মনে হয়, দেশটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য, জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ খুঁজছে। সেই সুযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিচ্ছে কি না আমি ঠিক বলতে পারব না। আমার মতো মানুষের, যাকে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব দিয়েছে, তার বাড়ি যদি নিরাপদ না থাকে, আমার সাধারণ গরিব–দুঃখী মানুষের বাড়ি নিরাপদ কীভাবে হয়।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, কয়েক দিন আগে মঞ্চ ৭১–এর সভায় আমাদের নেতা, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী আলোচক হিসেবে গিয়েছিলেন। তাঁদের সব আলোচককে গ্রেপ্তার করেছে। যাঁরা শ্রোতা হিসেবে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা মব সৃষ্টি করেছেন, যাঁরা বাধা দিয়েছেন, তাঁদের কিছু বলা হয়নি। এটা একটা ন্যায়নীতির ব্যত্যয়, আইনের ব্যত্যয়। এখান থেকে আমি সরকারকে সরে আসতে বলব। আমার বাড়ির ওপর হামলার মধ্য দিয়েই এই চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করা হোক। এটা সরকারের কাছে আমার নিবেদন। দেশবাসীর কাছে আমার নিবেদন যে আপনারা জাগ্রত হোন, রুখে দাঁড়ান। এ রকম অন্যায়কে সহ্য করলে পরবর্তী বংশধরদের জীবন–সম্পদ–সম্মান—সব হুমকির মধ্যে পড়বে।
এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী জানান, তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি মামলা করবেন। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রবিবার কাদের সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা বাসাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল কাদের সিদ্দিকীকে। কিন্তু ‘ছাত্র সমাজের’ ব্যানারে একই সময় একই স্থানে ছাত্রসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ অবস্থায় রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাসাইল শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তরা ঢিল ছুড়ে কাদের সিদ্দিকীর দুটি গাড়ি ও দোতালার চারটি জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডস্থ কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবন ‘সোনার বাংলায়’
এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাড়ির কেয়ার টেকার জানান, ১৫-২০ জনের একটি দল এসে বাহির থেকে প্রথমে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তারপর দুই-তিনজন মই দিয়ে গেট টপকে ভেতরে ঢুকে গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গেট টপকে পালিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী এই ঘটনা ঘটিয়েছি। বাসভবনের সামনে একটি গাড়ির গ্লাসসহ বাসভনের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,সারারাত বাসভবনে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়। পবিত্র ধর্ম ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জীবন ও কর্মের উপর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম ও পীরমাশায়েখরা আলোচনায় অংশ নেন। অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
হাজীবাগ দরবার শরীফের পীরে তরিকত আলহাজ্ব প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুস খসরুর সভাপতিত্বে দিবসের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করটিয়া আহমাদাবাদ শরীফের বিশিষ্ট খলিফা মোহাম্মদ শাহজালাল।
অন্যদের মধ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আলালপুর ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব শাহ সুফি মাওলানা আব্দুল ওহাব সিরাজি, করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. সাইফুল মালেক আনসারী, ঘাটাইলের আমুয়াবইদ মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মাহবুব আল হুসাইন, টাঙ্গাইল কাদেরিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জালালী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, টাঙ্গাইল জেলা তাহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যুব পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম মাসুদ।
এরআগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং তাবারক বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে দুই ঘণ্টা বসে থেকে বক্তব্য দেওয়ার কারণে কাদের সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জানান, কাদের সিদ্দিকী আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ আছেন। তাঁর রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মাপা হয়েছে। ইসিজি করা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
তুহিন সিদ্দিকী আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে কাদের সিদ্দিকী বর্ধিত সভায় যোগ দেন। টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে তিনি দুই ঘণ্টা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে তাঁর বক্তব্য শুরু হয়। মিনিট দশেক তিনি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এরপর বসে পড়েন। বসে তিনি মাত্র এক মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি দুই কর্মীর সহায়তায় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে ওঠেন। এরপর তাঁকে সখীপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন জানান, কাদের সিদ্দিকী এখন অনেকটা সুস্থ অনুভব করছেন। দেশবাসীর কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আসিফ (১৮) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক জন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাগরদীঘি-ঘাটাইল আঞ্চলিক সড়কের সাগরদীঘি আসলাম মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসিফ উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের পাহাড়িয়াপাড়া এলাকার আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে এবং সাগরদীঘি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার বিকেলে দুই বন্ধু বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সাগরদীঘি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলটি সাগরদীঘি বাজারের পাশে আসলাম মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোগাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক আসিফ মাথা থেতলে নিহত হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী উজ্জলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেলের সাথে একটি অটোগাড়ির সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। গত সাত মাসে জেলায় সাপের কামড়ে ৫৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ জন রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ৪৬১ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ সময়ে সাপের কামড়ে জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, সর্প দংশনের প্রতিষেধক জেলায় ১৩টি হাসপাতালে ৩৪৫টি রয়েছে। আশা করছি এর সংকট হবে না।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত সাত মাসে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন, জেনারেল হাসপাতালে ১২২ জন, মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ৬৪ জন, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন, মিজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৮ জন, কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ জন এবং গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ জনকে স্থানান্তর করা হয়।
একই সময়ে সাপের ছোবলে আহত রোগীদের মধ্যে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৩ জন, জেনারেল হাসপাতালের ১২২ জন, কুমুদিনী হাসপাতালের ৬৪ জন, নাগরপুরে ১৬ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, বাসাইলে ৬ জন, মির্জাপুরে ২২ জন, সখীপুরে ৮১ জন, কালিহাতীতে ৪ জন, ঘাটাইলে ১০ জন, ভূঞাপুরে ১২ জন, গোপালপুরে ১৬ জন, মধুপুরে ২৯ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এ সময়ে সাপের ছোবলে আহত হয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুজন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন, নাগরপুর উপজেলার মন্টুর স্ত্রী আসমা খাতুন ও ভূঞাপুর উপজেলার আমিনুর রহমান। তাদের মধ্যে আমিনুর রহমানকে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি মারা যান।
সাপের ছোবলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আসমা খাতুনের মেয়ে হামিদা খাতুন বলেন, আমার মাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের ১১ জুন ভর্তি করি। ভর্তির পরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক ভ্যাকসিন ইনজেকশন দেওয়ার জন্য একটি কাগজে দ্রুত অ্যান্টিভেনম এনে দেওয়ার জন্য লিখে দেন। ভ্যাকসিন ইনজেকশনটি বাইরে থেকে কিনে এনে দিলে চিকিৎসক পুশ করে এবং তার মাকে স্যালাইন দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।
একই মাসে ভূঞাপুর উপজেলার আমিনুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করে দুই ঘণ্টা পর অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন পুশ করার প্রস্তুতির কালে তিনি মারা যান। আমিনুর রহমানের বোনের স্বামী পারভেজ বলেন, সাপের ছোবলে আহতাবস্থায় আমিনুর রহমানকে টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ২ ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা জানান সেখানে অ্যান্টিভেনম নেই। অ্যান্টিভেনম না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনতে পরামর্শ দেন। বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কিনে এনে দিলেও আমিনুর রহমানকে বাঁচানো যায়নি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন নিয়ে সিন্ডিকেটে জড়িত। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকলেও রোগীদের বাহির থেকে কিনে আনতে বলে। চিকিৎসক শাহরিয়া রহমান একটি কাগজে অ্যান্টিভেনম রোগী ভর্তির দুই ঘণ্টা পরে লিখে দিয়ে বলেন দ্রুত নিয়ে আসেন। যথারীতি ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে দেখতে পান একই হাসপাতালের চিকিৎসক আতিকুর রহমান। তার কাছ থেকে অ্যান্টিভেনম ১৪ হাজার টাকা দাম মিটায়। ২০০০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকি ১২ হাজার টাকা রেখে আসেন। ইনজেকশন নিয়ে আসার পর চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম মিকচার করে পুশ করা অবস্থায় রোগীকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক আতিকুর রহমান বলেন, আমার নিজের প্রয়োজনে ইনসেপ্টা কোম্পানির দুটি ইনজেকশন ফার্মেসিতে রেখে দিয়েছিলাম। কখন কার বিপদ আসে সেটাকে মোকাবেলা করাতে আমার রাখা।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুস কদ্দুছ বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম রয়েছে। এছাড়াও অ্যান্টিভেনম নিয়ে কোনো চিকিৎসক রোগীকে বিভ্রান্ত করার কথা নয়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, সর্প দংশনের প্রতিষেধক জেলায় ১৩টি হাসপাতালে ৩৪৫টি রয়েছে। আশা করছি এর সংকট হবে না।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখোঁজের একদিন পর আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ বাড়ীর পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর)সকালে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম উত্তর পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ নবগ্রাম উত্তরপাড়ার হাবিবুর রহমানের একমাত্র ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে নানীকে খুঁজতে গিয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, শিশু আব্দুল্লাহকে নানা আজাদের কাছে গ্রামে রেখে জীবিকার অন্বেষণে তার পিতা হাবিবুর রহমান সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন। আজাদের স্ত্রী রোজ সকালে হাঁসের খাবার শামুক আনতে বাড়ীর পাশে ডোবায় যায়। মাঝে মাঝে আব্দুল্লাহ নানীর সাথে ডোবার পাড়ে গিয়ে বসে থাকে। মঙ্গলবার নানী তার নাতীনকে রেখে একাই শামুক খুঁজতে বের হয়। সকালে নানীকে না পেয়ে আব্দুল্লাহ সবার অগোচরে ডোবার পাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
এদিকে দিনভর স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ হারানো বিজ্ঞপ্তি দেন। পরদিন সকালে বাড়ীর পাশে একটি ডোবায় শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের লোকজন লাশটি উদ্ধার করে সনাক্ত করেন।
গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মামুন ভূঞা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়িই দেশে ফিরবেন। তার আসার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বাংলাদেশের আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেদিন দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশে আসবেন। সেদিন সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই টেলিভিশনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রেডিওসহ সব মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি।
দেশের আইন-শৃঙ্খালা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যারা চায় না, যারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়। এর পেছনে তাদের হাত রয়েছে।
আমি মনে করি, আমরা সব রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনমুখী হই, তাহলে সবার সহযোগিতায় নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।’
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এই দিনে শহিদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের সমৃদ্ধির জন্য, দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। তাই আজকের এই দিনে বলতে চাই নির্বাচন গণতন্ত্রের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। মানবাধিকারের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। মানুষের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। তাই নির্বাচনের বিকল্প শুধুই নির্বাচন।’
পরে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরনবী, আবু হায়াত খান নবু, পৌর বিএনপির সভাপতি আকতারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাশেদা সুলতানা রুবি প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির ব্যানারে ঘন্টা ব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে টাঙ্গাইল শহরের মাঝখান দিয়ে এককালে প্রবাহিত শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার, ভাসানী হল ও ব্রাহ্ম সমাজের মন্দিরসহ হারিয়ে যাওয়া ও দখল হওয়া সকল ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়াও মানববন্ধন থেকে—সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, কবি ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, নাগরিক অধিকার সুরক্ষার সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রাজ্য, সদস্য ফরহাদ হোসেন, এবং পরিবেশবিদ ফজলে সানি প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তালুকদারেরর প্রথম ও দ্বিতীয় নামাজের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার(২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে ও বাদ জোহর ভিয়াইল মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি সোমবার(১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভিয়াইল গ্রামে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে শোক এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
শফিকুল ইসলাম তালুকদার মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছে। মঙ্গরবার দুপুরের পর তার নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
জানাজা শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে দলীয় পতাকা দিয়ে তার কফিন ঢেকে দেওয়া হয়।
জানাজার পূর্বে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাখেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো,উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মজনু মিয়া ও কৃষক দলের সাধারন সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো।
পরে দাফন শেষে মরহুম শফিকুল ইসলাম তালুকদারের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান ঢাকা বিভাগীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলা বাসীর বহুল প্রতিক্ষিত জরুরী বিভাগে সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল হতে জরুরী বিভাগে সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে জরুরী বিভাগের সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা শুরু হওয়ায় জেলাবাসীর মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: আব্দুল কুদ্দুছ।
তিনি জানান,হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, কনসালটেন্ট, আরপি-আরএস, সহকারী সার্জন, নার্সিং সুপারভাইজার, বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আউটসোর্সিং সুপারভাইজারদের অবগতির জন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জরুরী বিভাগে সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবার নির্দশনার কথা জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহে সাত দিন জরুরী বিভাগে সকল প্রকার রোগীদের সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।
চিকিৎসা সেবা পাওয়া রোগী ও স্বজনরা জানান, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি কয়েক বছর আগের চালু হলেও এখানে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা পাওয়া যেত না। সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: আব্দুল কদ্দুস বলেন, আমাদের চিকিৎসক সংকটসহ জনবল সংকট রয়েছে। তারপরেও জনস্বার্থে জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করার চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব শিগগিরই জরুরী বিভাগে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামুন মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম এ দণ্ডাদেশ দেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন মিয়া (৩০) উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় তিনটি ও দেলদুয়ার থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুইটি সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে প্রশাসন উৎপেতে ছিল। এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এসময় তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে বাসাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী মামুনকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পরে সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’