আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীতে সরকার ঘোষিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে লক্ষ্যে অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) সদর উপজেলার কাকুয়া ও মাহমুদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীতে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে। এসময় মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে প্রায় ১৩ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। অভিযানে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের ফেসবুকে পেইজে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া বাজারে এক স্বর্ণকারকে কুপিয়ে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্বর্ণকার বিপ্লব কর্মকার (৫০) দোকান থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় প্রাইভেটকার নিয়ে চারজন এসে হঠাৎ ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে জখম করে। হামলাকারীরা বিপ্লবের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়।
তারা জানায়, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য দুটি পটকা বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায়।
আহত বিপ্লবকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। করটিয়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, তারা ঘটনা তদন্ত করছেন এবং দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান চলছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র আয়োজনে এই কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাঘিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মো. হারুন-অর রশীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিএনপি ৩১ দফা উপস্থাপন করেছে- আগামী বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। ৩১ দফায় স্বাস্থ্য-শিক্ষা, যুবকদের কর্মসংস্থান, বেকার ভাতার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। প্রতিটি পরিবার এ ফ্যামিলি কার্ড পাবে। স্বাস্থ্য বীমার কথাও চিন্তা করছে বিএনপি। বিগত সময়ে বিএনপি জাতির সামনে যে ওয়াদা করেছে, তা পূরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চায়- আগে জাতীয় নির্বাচন হোক। পরবর্তীতে সরকার কি সিদ্ধান্ত দিবে এটি আমরা বলতে পারবো না। যেহেতু আমরা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করছি, বাংলাদেশের জনগণের সেই প্রত্যাশা এই সরকার পূরণ করবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, সহ-সভাপতি এডভোকেট রকিবুল ইসলাম, ৮নং বাঘিল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সারোয়ার প্রমুখ।
সাহান হাসানঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের আনুহলা উচ্চ বিদ্যালয়ে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সোহেল রানার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, মানুষের পাশে থেকেছেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জনগণ তার কর্ম, সততা ও ত্যাগে মুগ্ধ।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ধানের শীষের প্রকৃত সৈনিক হিসেবে টুকু ভাই জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী তার পাশে আছে, থাকবে — ইনশাআল্লাহ। টাঙ্গাইল সদরে এবারের নির্বাচনে মানুষের ভোটে বিজয়ের ধ্বনি উঠবে ধানের শীষের পক্ষে, টুকু ভাইয়ের নেতৃত্বে হবে গণতন্ত্রের পুনরুত্থান!
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক শাকিলুর রহমান শাওন , মীর নাইম, সদস্য সোহানুর রহমান সোহান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ-আহ্বায়ক নয়ন ইসলাম, মো. রাজু, ইয়ালিদ নাঈম প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ গত এক দশকে অনেক বেড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে শুরু করেছে যে ভবিষ্যতের দুনিয়ায় টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হচ্ছে প্রযুক্তি দক্ষতা। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা সাইবার সিকিউরিটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রোগ্রামিং অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, আগ্রহ বাড়লেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। শহরের কিছু শিক্ষার্থী সুযোগ পেলেও গ্রামের অধিকাংশ তরুণ এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলো প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের কোডিং শেখাচ্ছে। এস্তোনিয়া প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রোগ্রামিং শিক্ষা চালু করেছে। চীন শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিক্স ও এআই ভিত্তিক কারিকুলাম তৈরি করেছে। ভারত সরকার কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে কোডিং শেখানোর জাতীয় পরিকল্পনা নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এখনো প্রোগ্রামিংকে একটি মৌলিক দক্ষতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তরুণরা আগ্রহী হলেও সঠিক পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের বৈষম্যও এখানে বড় বাধা। ঢাকাসহ বড় শহরে কিছু আইটি ট্রেনিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ল্যাব কিংবা কো-ওয়ার্কিং স্পেস আছে। কিন্তু গ্রামের শিক্ষার্থীরা পুরনো কম্পিউটার, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং সীমিত শিক্ষকের উপর নির্ভর করছে। অনেকে ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিখতে চেষ্টা করে, কিন্তু ইংরেজি দুর্বলতা ও লজিক্যাল চিন্তার অভাবে বেশিরভাগই মাঝপথে থেমে যায়। এর ফলে শেখার আগ্রহ থাকলেও সেটি পূর্ণতা পায় না।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখনও সবার কাছে পৌঁছেনি। অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার নেই, আর যারা আছে তাদের ডিভাইসগুলো বেশিরভাগ সময় পুরনো এবং ধীরগতির। ফলে সফটওয়্যার ইন্সটল করা, কোড রান করা বা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার মতো মৌলিক কাজগুলো করতে গিয়েই তারা সমস্যায় পড়ে। একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতার অভাব, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের স্বল্পতা এই দ্বৈত সংকটে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের বিশাল একটি অংশ।
বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। তরুণরা বিশ্বাস করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত আয় করা সম্ভব, তাই তারা এই দিকেই ঝুঁকছে। নিঃসন্দেহে এতে আর্থিক উপার্জন হচ্ছে, অনেকেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। কিন্তু এর বাইরে গবেষণা, উদ্ভাবন কিংবা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। যখন ভারত, চীন কিংবা ভিয়েতনাম নিজেদের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে, তখন আমরা আউটসোর্সিংয়ের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছি।
তবে সম্ভাবনা কম নয়। বাংলাদেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়, তবে তরুণদের এই আগ্রহকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রোগ্রামিংকে আধুনিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃভাষায় মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে। গ্রাম পর্যন্ত দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে এবং সাশ্রয়ী দামে কম্পিউটার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা, স্টার্টআপ কালচার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, বাস্তবতার চ্যালেঞ্জও তেমনি বড়। যদি আমরা সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে বাংলাদেশ শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এটাই হতে পারে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী বড় অর্জন।
লেখক – সামির তালুকদার
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
সাহান হাসানঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী বাজারে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নয়ন ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সোহেল রানার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাকিলুর রহমান শাওন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, মানুষের পাশে থেকেছেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জনগণ তার কর্ম, সততা ও ত্যাগে মুগ্ধ।
বক্তার আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ধানের শীষের প্রকৃত সৈনিক হিসেবে টুকু ভাই জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী তার পাশে আছে, থাকবে — ইনশাআল্লাহ। টাঙ্গাইল সদরে এবারের নির্বাচনে মানুষের ভোটে বিজয়ের ধ্বনি উঠবে ধানের শীষের পক্ষে, টুকু ভাইয়ের নেতৃত্বে হবে গণতন্ত্রের পুনরুত্থান!
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক ইশতিয়াক আহমেদ ইমন, মীর নাইম, সদস্য সোহানুর রহমান সোহান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ-আহ্বায়ক আব্দুল আলীম, মো. রাজু, ইয়ালিদ নাঈম প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শিশু ছাত্রকে বলাৎকার করার দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে পাঁচ বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার(১৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ কামরুজ্জামান এই রায় দেন।
দন্ডিত ব্যক্তির নাম মোঃ হাফিজুল ইসলাম(৩৬)। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে। সে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ছিলেন।
মামলার রায়ে তাঁকে কারাদন্ড ছাড়াও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশে দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রাষ্ট পক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি খন্দকার মোঃ রোকনুজ্জামান জানান, দন্ডিত মোঃ হাফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২৩ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত তাঁর মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর এক আবাসিক ছাত্রকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করেন। এক পর্যায়ে ওই ছাত্র মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যায়। পরে বাবা মায়ের কাছে বলাৎকারের কথা খুলে বলেন। পরে ওই ছাত্রের বাবা বাদি হয়ে ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ মনির আহমেদ হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার আট জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে বুধবার আদালত রায় দেন।
তিনি আরও জানান,রায় ঘোষনার সময় হাফিজুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের পরেই হাফিজুল ইসলামকে পুলিশ গ্রপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মামালা দায়েরের পরেই তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১২ জন।
বুধবার(১৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলার বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হতাহতরা সবাই বাসযাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নামের যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সেটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় পৌছালে ঢাকাগামী একটি ট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় ঢাকাগামী রড ভর্তি অন্য একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে বাসের এক নারী যাত্রী নিহত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ১৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও ২ জনকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘নিহত ওই তিন বাসযাত্রীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
আরমান কবীরঃ লন্ডনে মালয়েশিয়া বিএনপিসভাপতির আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা ও বিএনপি’র নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের বার্কিং রোডের অ্যারোমা এসপ্রেসো রেস্তোরায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রুপিং বাদ একই মঞ্চে বসে রাজনৈতিক সহাবস্থান রাজনীতির জন্য প্রাণ ফিরে আসে। বিগত সময়ে লন্ডনের রাজপথে আমরা হাসিনা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।প্রত্যেকটা মিছিল মিটিং এর অংশগ্রহণ করেছি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার একটি সময় এসেছে। আমরা দ্বিধা চাই না,বিভেদ চাইনা। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। পরিশেষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া ৩১ দফা বাস্তবায়নে দেশ ও দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাজ্যের সভাপতি আবু ইউসুফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়া বিএনপি’র সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান বাদল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সহ-সভাপতি আবেদ রাজা। এতে ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সবুর তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি আজম মৃধা, সহ- প্রচার সম্পাদক শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান সহ উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যদের মধ্য থেকে অ্যাডভোকেট মীর নাজমুল করিম মুক্তা, শাহজাহান আলী, ছাইদুল হক রাঙ্গা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভায় প্রকৌশলী বাদলের দীর্ঘ সময় প্রবাসে থেকে বিএনপির জন্য অবদান শীর্ষক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয় ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র পক্ষে মনোনয়ন প্রাপ্তদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন উপস্থিত ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবনার প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
এতে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ছয় কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা মহাসড়কের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর অংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করে।
তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।
আন্দোলনকারীরা বলেন, টাঙ্গাইল নিয়ে টানাহেঁচড়া চলবে না। টাঙ্গাইল যদি ঢাকা বিভাগে না থাকে, তাহলে একে স্বাধীন বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।
অবরোধের কারণে ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গগামী শত শত যানবাহন ঘণ্টাব্যাপী আটকে পড়ে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আলোচনা শেষে দেড় ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে প্রস্তাবনার বিষয়টি আমরা লিখিত কোনো চিঠি বা এধরনের কোন তথ্য আমরা সরকারিভাবে পাইনি। আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি গুলো লিখিতভাবে জমার আহ্বান করা হয়েছে। তাদের লিখিত দাবি গুলোর বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহকে দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ঘোষণার সময়ই টাঙ্গাইলকে ওই বিভাগে যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। সে সময়ও টাঙ্গাইলের মানুষ গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করেন।
বর্তমানে প্রস্তাবের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং টাঙ্গাইলের প্রশাসনিক অবস্থান অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানাচ্ছেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে জেলা সদর বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় জেলা সদর বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় জেলা সদর বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মমিনুল হক খান নিকছনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সমর্থনে এক ব্যতিক্রমী বাইসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের কাগমারী সরকারি এম এম আলী কলেজের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এতে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমসহ জেলা ও শহর বিএনপি’র বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় ফরহাদ ইকবাল বলেন, টাঙ্গাইলের চরবাসীর পক্ষ থেকে এই বাইসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। বিগত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। চরাঞ্চলের মানুষের ভালোবাসাই আমার প্রেরণা।
আশা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর সে নির্বাচনে বিএনপি জনগণের বিশ্বাস অর্জন করবে।
এই বাইসাইকেল শোভা যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।