আরমান কবীরঃ দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান হওয়ায় এবং সড়ক, নদীপথ ও রেলপথের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকায় মাদক চোরা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে এই জেলাকে। ফলে জেলায় প্রতিনিয়ত নদী, রেল ও সড়ক পথে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এই জেলায় জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী। এইসব নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাদকের হট-স্পট।
জেলার নাগরপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নদী সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, রাবনা বাইপাস ও আশেকুর বাইপাসকে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। সুযোগ বুঝে মাদক পাচারের জন্য সড়ক পথকে ব্যবহার করছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই জেলাকে ব্যবহারের কারণে জেলায় বেড়েছে ব্যাপক মাদকের সরবরাহ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য। শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে মাদক ঢুকছে টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও আশেকুর এলাকায়। এরপর এই স্থান গুলো থেকেই ঢাকা, গাজীপুরসহ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পরছে । শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় হচ্ছে সর্বনাশা এইসব মাদক। আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে হাতেহাতে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।
বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া, বেড়াডোমা, কাগমারা, সাহাপাড়া, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মাঝিপাড়া, হাজেরাঘাট, দক্ষিণ কলেজপাড়া (মহিষ খোলা), ধুলেরচর, বইল্লা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কেনা-বেচা চলে বলে জানা গেছে। এইসব এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।
জানা গেছে, মাদকদ্রব্য পরিবহনে নিরাপদ রুট হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা হয়ে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র, চর সলিমাবাদ, আটাপাড়া, শাহাজানি চরাঞ্চল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি, কাকুয়া, হুগড়া, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি যমুনা নদীর চরাঞ্চল মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব পৃথকভাবে কাজ করছে। গত সাত মাসে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ২’শত ৮ কেজি গাঁজা, ৫৭ হাজার ২’শত ৬৫ পিস ইয়াবা, ৭২৫.১০ গ্রাম হেরোইন, ১০৮৫.৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ ও ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এসব মাদকের বেশিরভাগ বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ৪৭৩ জন মাদক কারবারির নামে ৩৩৮ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা পুলিশ ।
অপরদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাসে ৩৮ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৭’শত ৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪১.২৫ লিটার মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ৩ হাজার ৪ শত ৮৮ টি ট্যাবলেট, ১০ হাজার লিটার ওয়াশ জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে।অভিযানে মাদক কারবারিদের থেকে নগদ ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকাসহ উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ১৯৭ জন মাদক কারবারির নামে ১৯৬ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এদিকে র্যাব ১৪, সিপিসি- ৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে ৮২ কেজি গাঁজা, ৪৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৬৭ গ্রাম হেরোইন, ৯৮ লিটার দেশি মদ ও ৪৩১ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উদ্ধার অভিযানে এই সাত মাসে ৭ জন মাদক কারবারির নামে ৩ টি মামলা রজ্জু করতে সহায়তা করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ত্রিমুখী অভিযানে বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটকের পরেও থামছেনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা। আইনের ফাঁকফোকড়ে আবারো বেরিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। আবার নতুন উদ্যেমে ভিন্নতর কৌশলে শুরু করছে মাদক ব্যবসা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলবাসীর জন-জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা পুলিশ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ-মন্দিরে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । আবার তাদেরকে সুযোগও দিতে হবে সুপথে ফেরার। মাদক ব্যবসায়ির তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মাদক নির্মূল হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তরা ঢিল ছুড়ে কাদের সিদ্দিকীর দুটি গাড়ি ও দোতালার চারটি জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডস্থ কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবন ‘সোনার বাংলায়’
এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাড়ির কেয়ার টেকার জানান, ১৫-২০ জনের একটি দল এসে বাহির থেকে প্রথমে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তারপর দুই-তিনজন মই দিয়ে গেট টপকে ভেতরে ঢুকে গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গেট টপকে পালিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী এই ঘটনা ঘটিয়েছি। বাসভবনের সামনে একটি গাড়ির গ্লাসসহ বাসভনের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,সারারাত বাসভবনে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামুন মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম এ দণ্ডাদেশ দেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন মিয়া (৩০) উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় তিনটি ও দেলদুয়ার থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুইটি সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে প্রশাসন উৎপেতে ছিল। এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এসময় তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে বাসাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী মামুনকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পরে সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির(কাদের) অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানার পাশে ছয় আনি বাজার রোড অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা খানেক সেখানে খানেক অবস্থানের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। বর্তমানে ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করাহয়েছে।
শনিবার সকালে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ছেলে জামিলের (২০) বিরুদ্ধে বাবা রাশিদুল হক খান সুমনকে (৪৭) অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জামিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রাতে উপজেলার চকপাড়া গ্রামে বাবা সুমন ও তার ছেলে জামিল একই ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ওই সময় অসুস্থ বাবাকে ওষুধ দেওয়ার অজুহাতে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে দেন জামিল। এতে মৃত্যু নিশ্চিত হয় সুমনের।
পরদিন সকালে জামিল প্রতিবেশিদের জানায়, তার বাবার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে। স্থানীয়রা মরদেহ দেখে সন্দেহ প্রকাশ করলেও সেদিনই সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ ঘটনার তিন দিন আগে জামিল বাড়ির পেছনে একটি গর্ত খুঁড়ে খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সুমনের মরদেহ গুম করার জন্যই এই পরিকল্পনা ছিল। তবে সাহস করে মরদেহ গোপন করতে না পেরে সে হার্ট অ্যাটাকের গল্প সাজায়। কিন্তু ৭ দিন পর গর্তের বিষয়টি প্রতিবেশিদের নজরে আসে। একই সঙ্গে সুমনের মরদেহের অবস্থাও সন্দেহ তৈরি করে। এতে স্থানীয়রা জামিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, সে তার বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেছে এবং গর্ত খুঁড়ে মরদেহ গোপনের চেষ্টাও করেছিল। হত্যাকারি জামিলের স্বীকারোক্তি শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। ঘাটাইল থানা পুলিশ জামিলকে গ্রেপ্তার করে।
নিহতের বাবা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খান জানান, ‘সুমন আমার ছেলে, আর জামিল আমার নাতি। কেন আমার নাতি নিজের বাবাকে হত্যা করল, তা বুঝতে পারছি না। সুমন গ্রামের পাশেই ধলাপাড়া বাজারে ওষুধের ফার্মেসি ব্যবসা করতো। সুমনের স্ত্রীর (জামিলের মা) সঙ্গে বছর চারেক আগে বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকেই সংসারে অশান্তি চলছিল। আমি এই নৃশংস হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সুমনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে গত বুধবার রাতে নিহতের বাবা থানায় মামলা করে। সেই মামলায় বুধবার পিতা হত্যার দায়ে জামিলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা বড়বাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার (২৪ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা এলাকার মোহাম্মদ আলী মাস্টারের দুই ছেলে মফিজুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাই মফিজুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তাদের নিজ বাড়ি বল্লা বড়বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রবিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল থেকে ৪৯ কেজি গাঁজাসহ একটি তুলা বহনকারী ট্রাক ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, ট্রাক চালক আমিনুল, হেলপার বাবু ও মোজাহিদ।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানিয়েছেন।
কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন হবিগঞ্জ থেকে তুলা বোঝাই একটি ট্রাক মাদক দ্রব্য নিয়ে যমুনা সেতুর দিকে আসছে। পরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ট্রাকের তুলার ভেতর লুকানো অবস্থায় ৪৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান,ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সদ্য নিয়োগ পাওয়া আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) বজলুর রহমান মিয়াকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আইনজীবীরা।
বজলুর রহমান জিপি পদে নিয়োগ পাওয়ায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই ক্ষোভ থেকে মূলত তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে পিপির দুটো কক্ষে তারা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে আইন সচিবের মাধ্যমে আইন উপদেষ্টা বরাবর আইনজীবী বজলুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করে অন্য কাউকে নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়।
অতিরিক্ত আইন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জিপি) মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে কক্ষে তালা দেয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পরে প্রশাসনকে অবগত করেছি। তালাবদ্ধ থাকায় আমি আমার কক্ষে প্রবেশ করতে পারিনি।’’
গত ৫ মার্চ আদালতের আইন কর্মকর্তা আব্দুল বাকী মিয়ার মৃত্যুর পর অতিরিক্ত আইন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১০ আগস্ট অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মিয়াকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবাদ স্বরূপ জিপির কক্ষে তালা দেয় বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
বিক্ষুব্ধ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ‘‘বজলুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক পোস্ট দিয়েছেন।
আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন, বজলুর রহমান ইতোপূর্বে দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করেননি।’’ আদালতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্য যে কোনো যোগ্য আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়ার দাবি করেন তারা।
জেলা বার সমিতির সভাপতি জহুর আজহার খান বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বজলুর রহমানকে দুই দিন অফিস না করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। তিনি না মেনে উল্টো বার সমিতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। বজলুর রহমান বলেছেন, লোকজন নিয়ে জিপির কক্ষে প্রবেশ করবেন।’’
সদ্য নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তা (জিপি) বজলুর রহমান মিয়া বলেন, ‘‘আমি কোনো দলের দোসর ছিলাম না। সদ্য জিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমি ফ্যাসিস্টদের দোসর হয়েছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি জিপি নিয়োগ পাওয়ায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী লতিফ মিয়া।
সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম রোজী বেগম। তিনি একই ইউনিয়নের মুচির চালা গ্রামের হাসমত আলীর মেয়ে বলে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিবারের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব না হলেও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবত মনোমালিন্য চলছিলো। এর জেরে রোজী বেগম গত ৩ দিন আগে বাবার বাড়ি চলে যায়। রবিবার বিষয়টির মিমাংসা হওয়ার পর স্বামীর বাড়িতে আসে রোজী বেগম। এরপর সোমবার দুপুরেই এই ঘটনা ঘটে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগে পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, দু’টি খালি মদের বোতলসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলীও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ফুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শতাব্দী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী (৫০), কালিবাড়ি এলাকার বিধুণ ভুষনের ছেলে রক্ষিত বিশ্বজিৎ (৫৫), সবুর খান বীর বিক্রমের ছেলে মো. শাহ আলম খান মিঠু (৫৫), দিঘুলিয়ার জসিম উদ্দিন (৫৭), বাঘিলের গোলাম মাওলা (৪৮), থানাপাড়ার শাহিন আহমেদ (৫০), আবু জাফর খান (৪৪), বিশ্বাস বেতকার মো. আব্দুর রশিদ (৫৫), আকুর টাকুর পাড়ার মঈন খান (৬০), করটিয়ার ইসমাইলের ছেলে মোস্তফা কামাল (৫৮), সাবালিয়ার বিশ্বনাথ ঘোষ (৫৪), একে এম মাসুদ (৫৫), বেতকার শিপন (৫৮), আকুর টাকুর পাড়ার দেওয়ান শফিকুল ইসলাম (৬০), বেপারী পাড়ার এস এম ফরিদ আমিন (৫৫), কবির হোসেন (৫০), আদালত পাড়ার মোশারফ উদ্দিন (৫০), ঘারিন্দা এলাকার হাবিল উদ্দিন (৪০), বেতকার মহব্বত আলী (৫৫), আকুর টাকুর পাড়ার জাহিদ (৪৪), থানা পাড়ার প্রিন্স খান (৬৫), সৈয়দ শামসুদ্দোহা (৪৫), আদালত পাড়ার রফিকুল (৫৫), বিশ্বজিৎ (৪৫), পাড় দিঘুলিয়ার সাদেকুর, কাজিপুরের সেলিম (৪৫), আদালত পাড়ার হাসান আলী (৫০), বিশ্বাস বেতকার রফিক, আদালত পাড়ার শাহ আলম (৫৫), সিরাজুল (৪৫), বিশ্বাস বেতকার আশিকুর রহমান (৪৬), আদি টাঙ্গাইলের শফিক (৫২), বিশ্বাস বেতকার আখতারুজ্জামান (৪৩), আশেকপুর এলাকার আরমান (৪৩) ও শহরের ছয়আনি পুকুরপাড় এলাকার শামসুল হক (৫৬)।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ফুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শতাব্দী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও ২’দুটি খালি মদের বোতলসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে আমানুরের তিন ভাই, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) রয়েছেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ২৩ জুলাই এ আদেশ দেন। আদালত ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার নথিও তলবের আদেশ দিয়েছেন।
হাইকোর্টের এ আদেশ রবিবার (১০ আগস্ট) ডাকযোগে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পৌঁছায়। তবে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি জানা যায়। উভয় আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান গত ২ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার রায় দেন। আদালত মোহাম্মদ আলী ও কবির হোসেন নামের দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মোহাম্মদ আলী ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফারুক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে এই হত্যার সঙ্গে আমানুর রহমান ও তাঁর ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি পলাতক। অপর দণ্ডিত কবির হোসেন ২০১৪ সাল থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আমানুররা চার ভাই ছাড়া অন্যরা হলেন সানোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন, বাবু, ফরিদ হোসেন, মাসুদুর রহমান, আলমগীর হোসেন। মামলা চলাকালে দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মারা যান।
নিহত ফারুক আহমেদের ছেলে আহমেদ সুমন মজিদ মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আমি নিজে উচ্চ আদালতে আপিলের উদ্যোগ নিই। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটরি অনুবিভাগ আমাকে গত ২৬ জুন নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল দায়ের করি।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আহমেদ সুমন মজিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ জুলফিকার আলম শিমুল এবং বাদীপক্ষে ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুরদের চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার হোসেনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
শনিবার (৯ আগষ্ট ) রাতে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেন সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ নামক প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের এক ছাত্রকে (১৩) জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন। বৃহস্পতিবার( ৭ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ১০ টায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শুক্রবার (৮ আগষ্ট) সকালে পরিবারকে বিষয়টি জানালে শনিবার রাতে তারা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে ড্রাগন ফল খাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মাদ্রাসার ভিতর ডেকে নেয় ও তার সাথে রাত্রিযাপন করতে বলে। রুমের বাতি বন্ধ করে তার হাত পা টিপে দিতে বলে। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলৎকার করে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। এ বিষয়ে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনে মামলা রজ্জু করা হয়েছে।