/ হোম / অপরাধ
টাঙ্গাইলে নির্বাচন অফিসে হামলা-ভাঙচুর, কর্মকর্তাসহ আহত ৩ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নির্বাচন অফিসে হামলা-ভাঙচুর, কর্মকর্তাসহ আহত ৩

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর নির্বাচন অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ডেটা এন্টি অপারেটর আমজাদ হোসেন ও স্ক্যানিং অপারেটর সুমন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানা যায়, সোমবার সকালে হঠাৎ করে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে নির্বাচন কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন। পরে অফিসের আরো দুজন স্টাফকেও মারধর করা হয়। এ সময় নির্বাচন অফিস ভাঙচুর এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

গোপালপুর উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন অফিসারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। অফিসের কিছু দালাল চক্র সুবিধা করতে পারছিল না। এজন্য হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি অফিস ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তার শরীরে আঘাত করার কারণে একটি মামলা দায়ের করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজি লিয়াকত বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ভুক্তভোগীদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে গেলে তিনি চরম দুর্ব্যহার করেন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগটি মিথ্যা।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।সরকারি অফিস ভাঙচুর এবং কর্মকর্তাদের শরীরে আঘাত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. নভেম্বর ২০২৫ ০১:৪৫:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলের জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর আলী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মস্তমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) থাকাকালীনও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তার এই দুর্নীতির প্রতিবাদে ও তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোচিং করানোর নামে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করেন ওমর আলী। তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে তাকে অন্যত্র বদলি ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার সুপারিশ করেন যাহার স্বারক নাম্বার – উশিঅ/মির্জা/তদন্ত/৪২১। পরবর্তীতে ওমর আলীকে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাকে একই উপজেলার ওয়ারর্শী ইউনিয়নের মস্তমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।

পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন ওমর আলী বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রোমেজ উদ্দীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সুপারিশ ক্রমে মির্জাপুর থানায় ওমর আলীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন (যাহার নাম্বার -১৩২৯)।

এছাড়া মস্তমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বকালীন সময়ে ওমর আলী ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ১০ তারিখে সহকারী শিক্ষক ইকলিমা আক্তার, নুরুল ইসলাম, নৈশপোহরী আমিনুল ইসলামকে ফোন করে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে দেখতে পান প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বিদ্যালয়ের দৈনিক হাজিরা খাতার দুটি হাজিরা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। তারা এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলম তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা পেলে প্রধান শিক্ষক ওমর আলীসহ শিক্ষকদয়কে কৈফত তলব করেন। পরে ওমর আলী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তিন বছর ৫ মাস চলার পর বাদির আরজির বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। অর্থাৎ মামলায় ওমর আলী হেরে যান। এছাড়া ওমর আলীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ৩ লক্ষ্য ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পরপর দু’জন তদন্ত অফিসারের তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহাবুদ্দিন কর্তৃক বিভাগীয় মামলা দায়ের ও চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ( যাহার স্বারক নাম্বার -৩৮.০১.৯৩০০.০০০.২৭.০০১.২৫)।

জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান মনির, বর্তমান এডহক কমিটির সদস্য মো. খোকন মিয়া, স্থানীয় রায়হান মিয়া জানান, বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) ওমর আলী বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও অনিয়মের সাথে জড়িত। তার কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি ওমর আলীকে সাময়িক বরখাস্ত নয়, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হোক।

জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর আলী জানান, ইতিমধ্যে আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। আমি তদন্ত কমিটির কাছে যথাযথ প্রমাণ দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়।

জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. মুছা রাহিম জানান, দরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক ওমর আলীর দুর্নীতির শেষ নেই। এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি চাই উনি যেন এই বিদ্যালয়ে আর কোন দায়িত্ব পালন না করেন। তাকে যেখানে বদলী করা হয়, সেই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেই আবার অনিয়মের সাথে যুক্ত হয়। তাকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্তের দাবি জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাব উদ্দিন জানান, শিক্ষক ওমর আলীর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৫২:পিএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশনের সভাপতি লাবুর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশনের সভাপতি লাবুর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আরমান কবীরঃ কালচারাল রিফর্মেশন ফোরাম টাঙ্গাইলের সভাপতি ও জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও তাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে সংস্কৃতিক কর্মীরা।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আবুল কালাম মোস্তফা লাবুর উপর বর্বরোচিত হামলা একটি পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পতন হলে লাবু কালচারাল রিফর্মেশন ফোরাম ও হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসন নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ শুরু করেন। যা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান। টাঙ্গাইলে এখনো বিভিন্ন পদে আওয়ামী দোসররা ঘাপটি মেরে আছে। সঙ্গতঃ কারনে লাবুর উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা ও তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে দোষিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন, কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের সাধারন সম্পাদক অনিক রহমান বুলবুল, সহ-সভাপতি ফরহাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত রিয়াজুল রিজু, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সস্পাদক মহব্বত হোসেন, সংস্কৃতিক কর্মী সুলতানা বিলকিস লতা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথি প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. নভেম্বর ২০২৫ ০২:২১:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে শহরের ছয়আনী বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, টাঙ্গাইলের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে রং মেশানো মথ বীজ এনে মুগ ডাল বলে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে আসছেন। এ অভিযোগ পেয়ে শহরের ছয়আনী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছি। পরে যৌথভাবে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও যে ডাল বিক্রি করা হয়েছে, তা ফেরত এনে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিয়ে মেমো দেখাতে বলা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। অন্যথায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো, নকল ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এসময়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. নভেম্বর ২০২৫ ০২:১৯:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে যৌথবাহিনীর অভিযান,পরদিনই কান্দাপাড়ায় মাদকের রমরমা ব্যবসা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যৌথবাহিনীর অভিযান,পরদিনই কান্দাপাড়ায় মাদকের রমরমা ব্যবসা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড কান্দাপাড়া এলাকায় যৌথবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই আবারও আগের মতই শুরু হয়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের পর থেকেই পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের যোগসাজশেই চলছে এই অবাধ মাদকের ব্যবসা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কান্দাপাড়া এলাকার “সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস পৌর আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের” প্রধান ফটকের কাছে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এখানে মোছা. সীমা, অনিতা রবিদাস ও লতা রবিদাসসহ আরও অনেকেই নিষিদ্ধ মাদক হিরোইন ও ইয়াবা বিক্রি করছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবকেরা মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে এখান থেকে প্রকাশ্যেই মাদক ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এইসব নিষিদ্ধ মাদক।

পাশের লিটন রবিদাস, রুনিয়া রবিদাস, চুতিয়া রবিদাস, দিপালি রবিদাসের বাসায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ, বাংলা মদ, কেরু এন্ড কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। এখানে দেখা মিলছে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষদের। বিশেষ করে রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক, সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া শহরের উঠতি বয়সী বেশ কয়েকজন যুবকের মদ খেয়ে মাতলামি করতে দেখা গেল প্রকাশ্যেই।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও দিঘুলিয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাজী ওমর ফারুক, স্থানীয় বাসিন্দা হাজী বাদশা মিয়া, মো. কবির হোসেন, মজিবুর রহমান, ব্যবসায়ী ববিতা আক্তার জানান, এই এলাকায় ভোর ৪টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়। এছাড়া এসব মাদকসেবীরা এলাকার বিভিন্ন দোকানে দিন-রাত আড্ডা দেয়। ফলে আমাদের ছেলে সন্তান দিন দিন বিপথে চলে যাচ্ছে। এলাকার মহিলা, শিশু-কিশোরসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। এইসম মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী বারবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও কোন ভাবেই এই মাদক বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তারা আরও জানান, বিশেষ করে, একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি অত্যন্ত গহিত কাজ। আমরা এলাকাবাসী অবিলম্বে এই মাদকবিক্রি ও মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের জোর দাবি জানাচ্ছি। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত উচ্ছেদ না করা হলে স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছাবে।

টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. ছাইফুর রহমান জানান, যেখানে মাদক থাকবে সেখানেই অভিযান চলবে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩ হাজার লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ ও ১০ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস করা হয়। এসময় পাঁচ পুরিয়া হেরোইনও জব্দ করা হয়। মাদক রাখার দায়ে লাছিয়া রবিদাসকে গ্রেপ্তার ও টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍‍্যাব, পুলিশসহ যৌথবাহিনীর একটি দল মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এতে বিপুল পরিমাণ দেশিও চোলাই মদসহ ৬ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. নভেম্বর ২০২৫ ০৪:৪৫:পিএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি লাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলা  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি লাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলা 

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোট ও কালচারাল রিফর্মেশন ফোরাম টাঙ্গাইলের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু(৬০)।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের হোটেল আপ্যায়নের সামনে ভিক্টোরিয়া রোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বুধবার রাতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের শোকসভা থেকে ফেরার পথে ব্যবসায়ী লাবুর ওপর ছয়জন সন্ত্রাসী রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

আত্মরক্ষার জন্য হাতে থাকা ছাতা ব্যবহার করলেও তিনি হামলা থেকে রক্ষা পাননি। হামলাকারীদের কোপে তার ডান হাতে কবজির নিচে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। রাম দায়ের কোপের আঘাতে তার ডান হাতের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গুরুতর আহত আবুল কালাম মোস্তফা লাবু জানান, তাকে পূর্ব থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছিল। ঘটনার সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল ফলে রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল এই সুযোগে ৬ জন সন্ত্রাসী তার উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। তার হাতে থাকা ছাতা দিয়ে তিনি হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পরে তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। এই বিষয়ে তিনি সুস্থ হলে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, এই ঘটনায় কেউ থানায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫৩:পিএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ছাত্রদল নেতা শহীদ রউফের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও গণভোজ অনুষ্ঠিত  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাত্রদল নেতা শহীদ রউফের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও গণভোজ অনুষ্ঠিত 

আরমান কবীরঃ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ আব্দুর রউফের ২১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল,স্মরণসভা ও গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ২৮ অক্টোবর) রাতে শহীদ আব্দুর রউফ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পার দিঘুলিয়ায় শহীদ রৌফের বাসভবনের সামনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সাবেক ছাত্রদল নেতা আকিবুর রহমান ইকবালের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, শহর বিএনপির সদস্য নুরুল ইসলাম ভিপি প্রমুখ।

এর পূর্বে দুপুরে শহীদ রউফের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পার দিঘুলিয়া শহীদ রউফের বাসায় সামনে দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।

এই দোয়া মাহফিল ও গণভোজে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সদর উপজেলার বিএনপি’র সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল , শহর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহিন আকন্দ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভিপি মনির প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. অক্টোবর ২০২৫ ০১:১৮:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে প্রেমের দায়ে যুবক কারাগারে,মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রেমের দায়ে যুবক কারাগারে,মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নামদার কুমিল্লি গ্রামের যুবক সোহাগ প্রেমের দায়ে ৪ মাস যাবত কারাভোগের শিকার।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নামদার কুমুল্লি বাজারে সোহাগের মুক্তির দাবিতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।

মানবন্ধন বক্তব্য রাখেন-গ্রামের হৈতষী মাতাব্বর হাফিজ উদ্দিন ভুইয়া,খলিলুর রহমান,আশরাফ আলী মিঞা, মজিবর রহমান মিঞা,আবুল কালাম আজাদ,মো. জাহিদ মিয়া ও ফরিদ মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কুমিল্লি গ্রামের মো. লোমান মিয়ার মেয়ে নাফিজা আক্তার লুবনার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে একই গ্রামের সোহাগের সাথে। সেই সুবাদে লুবনা প্রেমিক সোহাগদের বাড়িতে গত দুই বছরে চারবার উঠে পড়েন। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় মাতাব্বরগন লুবনাকে বুঝিয়ে তার বাবার কাছে রেখে আসেন। সম্প্রতি ফের লুবনা সোহাগের কাছে চলে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লুবনার পিতা লোমান মিয়া সোহাগকে আসামী করে অপহরণের মামলা দায়ের করেন। যাহার নাম্বার নারী শিশু ১৫৭/২৫ । ওই মামলায় গত ৪ মাস যাবত সোহাগ টাঙ্গাইল জেল হাজতে আটক আছেন।

তারা আরও বলেন, মেয়ের বাবা ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও তৃতীয় পক্ষের যোগসাজসে প্রেম গঠিত বিষয় গোপন রেখে সোহাগের নামে অপহরণ মামলা দিয়েছে। সেই মামলায় সোহাগের মুক্তি দাবি করছি। মুক্তি না দিলে পুনরায় কঠোর কর্মসুচির দেওয়া হবে বলে মানববন্ধ থেকে বক্তারা জানায়।

মানববন্ধনে সোহাগের পিতা সহিদুল ইসলাম ও মাতা সুর্য ভানু কান্না বিজরিত কণ্ঠে ছেলের মুক্তির দাবি জানায়।

মানবন্ধন শেষে নামদার কুমুল্লি বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৭:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ বুলবুলকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয়ের ২নং শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক বুলবুল তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজের কাছে ডেকে প্রথমে তার হাত ধরেন এবং পরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রীটি প্রথমে ভয় ও লজ্জার কারণে বিষয়টি গোপন রাখলেও বাড়ি ফিরে তার ফুফু ও চাচীর কাছে সব খুলে বলে।

ঘটনার পর গত ৯ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ ১০৮ জন স্বাক্ষর করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য।

এঘটনায় স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, আমি প্রথমে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি তাতেই সন্তুষ্ট ছিলাম। তবে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি। তিনি পরে ২২ অক্টোবর রাতে কালিহাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এবিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার পর স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ বুলবুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. অক্টোবর ২০২৫ ০২:২০:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

আরমান কবীরঃ দইয়ের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, বেশ কিছু পরিমাণ পচে যাওয়া দই উদ্ধার এবং মিষ্টান্ন তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল পাওয়ার দায়ে টাঙ্গাইলের বিখ্যাত গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পার্ক বাজার সংলগ্ন গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।

তিনি জানান, দোকানে থাকা দইয়ের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, বেশ কিছু পরিমাণ পচে যাওয়া দই দোকানে সংরক্ষণ করা এবং মিষ্টান্ন তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল পাওয়ার দায়ে টাঙ্গাইলের গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে, আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবেন।

অভিযানে পৌর স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী স্বপ্নন কুমার ঘোষ জানান, সাধারণত তিনি খুচরা ভাবে দধি বিক্রি করে থাকেন। ফলে তৈরিকৃত দধিতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে এখন থেকে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত পচে যাওয়া দধিগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। এছাড়া যে মিষ্টি তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল হাওয়া গেছে, সেটি বর্তমানে মিষ্টি তৈরীর কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে না। আমরা সবসময় চেষ্টাকরি গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানের দধি ও মিষ্টান্ন সরবরাহ করার।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫৩:পিএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারকে কুপিয়ে স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারকে কুপিয়ে স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া বাজারে এক স্বর্ণকারকে কুপিয়ে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্বর্ণকার বিপ্লব কর্মকার (৫০) দোকান থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় প্রাইভেটকার নিয়ে চারজন এসে হঠাৎ ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে জখম করে। হামলাকারীরা বিপ্লবের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়।

তারা জানায়, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য দুটি পটকা বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায়।

আহত বিপ্লবকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। করটিয়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, তারা ঘটনা তদন্ত করছেন এবং দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. অক্টোবর ২০২৫ ০২:১২:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বলাৎকারের দায়ে  মাদ্রাসা শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বলাৎকারের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শিশু ছাত্রকে বলাৎকার করার দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে পাঁচ বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার(১৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ কামরুজ্জামান এই রায় দেন।

দন্ডিত ব্যক্তির নাম মোঃ হাফিজুল ইসলাম(৩৬)। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে। সে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ছিলেন।

মামলার রায়ে তাঁকে কারাদন্ড ছাড়াও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশে দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার রাষ্ট পক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি খন্দকার মোঃ রোকনুজ্জামান জানান, দন্ডিত মোঃ হাফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২৩ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত তাঁর মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর এক আবাসিক ছাত্রকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করেন। এক পর্যায়ে ওই ছাত্র মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যায়। পরে বাবা মায়ের কাছে বলাৎকারের কথা খুলে বলেন। পরে ওই ছাত্রের বাবা বাদি হয়ে ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ মনির আহমেদ হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার আট জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে বুধবার আদালত রায় দেন।

তিনি আরও জানান,রায় ঘোষনার সময় হাফিজুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের পরেই হাফিজুল ইসলামকে পুলিশ গ্রপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মামালা দায়েরের পরেই তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. অক্টোবর ২০২৫ ০১:৪৭:এএম ৭ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।