সাহান হাসান (বার্তা-সম্পাদক)

টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী ও সতীন আটক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী ও সতীন আটক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের লোকদেও গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী, সতীন হাসনা ও তার সন্তান হাসান সহ বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শেফালি বেগম (৪৫) ওই গ্রামের গোলাপ হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা যায়, গোলাপ হোসেনের দুই স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জেরে গত এক সপ্তাহ পূর্বে প্রথম স্ত্রী হাসনাকে তালাক দেন গোপাল হোসেন। পরে স্থানীয় লোকজন শালিসী বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রথম স্ত্রীর সকল পাওয়া-দেওনা পরিশোধ করতে হবে গোলাপ হোসেনকে।

এক পর্যায়ে প্রথম স্ত্রী একটি ঘর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। ঘরটি পাঁচ হাজার টাকা দাম করে দ্বিতীয় স্ত্রী রেখে দিতে চাইলেও তাতে দ্বিমত পোষণ করেন হাসনা। সোমবার(২৭ জুন) সন্ধ্যায় তাদের দুই সতীনের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে দেখে নেয়ার হুশিয়ারি দেয় দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তান বাড়ি থেকে চলে গিয়ে এক প্রতিবেশির বাড়িতে রাত্রীযাপন করেন।

মঙ্গলবার সকালে প্রথম স্ত্রীর সন্তান তার বাবাকে বাড়িতে ডাকতে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রী ক্ষতবিক্ষত লাশের পাশে গোলাপ হোসেনকে দেখতে পায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

এ প্রসঙ্গে গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবলু জানান, বিষয়টি তিনি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারিকভাবে দাফন করা হবে।

মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হাসান জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী-সতীনসহ বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. জুন ২০২২ ০৮:৫৮:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে বৃদ্ধার মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে বৃদ্ধার মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পুকুরে গোসল করার সময় বজ্রপাতে হামিদা বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুন) বিকেলে গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের বেড়া ডাকুড়ী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত বৃদ্ধা ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে নুরুল ইসলাম ও স্ত্রী হামিদা বেগম বাড়ি ফেরেন। বিকেলে বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে যান হামিদা। এসময় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। হামিদা বেগম পুকুর থেকে পাড়ে ওঠার আগেই বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে পুকুর পাড়ে গিয়ে পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। তারা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়।

গোপালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন ভূঞা বজ্রপাতে বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. জুন ২০২২ ০৫:৩৫:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে সন্ধ্যানপুর ইউনিয়নের গারো চালাগ্রামের ডোবা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- ইউনিয়নের গারো চালাগ্রামের  শাহজাহান আলী (৬০) ও তার ভাই নূরুল ইসলাম (৫৭)। তারা বিয়েও করেছেন আপন দুইবোনকে। দু’জনই কৃষক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া জানান, সকালের নাস্তা করে তারা দুই ভাই জমির আইল ছাঁটতে যান। দুপুর হলেও তারা বাড়ি ফিরে আসেননি। দুপুর থেকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশেই ছোট ডোবায় শাহজাহানের মরদেহ ভাসতে দেখেন তার স্ত্রী জায়েদা বেগম (৫০)। পরে নূরুল ইসলামেরও মরদেহ উদ্ধার করা হয় ওই ডোবা থেকেই।

পরিবারের সদস্যদের জানান দুই ভাইয়ের মধ্যে কেউ সাঁতার জানতেন না।

সন্ধানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে সাঁতার না জানার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার  জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোনো আপত্তি না থাকে তবে লাশ দাফন করার জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জুন ২০২২ ০৭:২৪:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছাগল চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাগল চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অনিল চন্দ্র দাস (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছাগল চুরির সন্দেহে গোড়াই দক্ষিণ নাজিরপাড়া গ্রামের শাহিনুরের ছেলে রাফি (১৮) ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহত অনিল চন্দ্র দাস কালিহাতী উপজেলার আগচারান গ্রামের রাজেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে। তারা গোড়াই নাজিরপাড়া এলাকার মেছের আলীর বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। স্ত্রী আন্নারানী দাস গোড়াই সাউথ ইস্ট ফেব্রিকস কারখানায় চাকরি করেন। অনিল রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, দক্ষিণ নাজিরপাড়া গ্রামের শাহিনুরের একটি ছাগল চুরি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে শাহিনুরের ছেলে রাফি লাঠি হাতে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে দক্ষিণ নাজিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আলম মিয়াকে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে হুমকি দেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তারা চলে আসেন। পথে আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন ফালু মিয়ার বাড়ির পাশে মসজিদের সামনে অনিল চন্দ্র দাসকে ছাগল চুরির অপবাদ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে রাফি ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই অনিল মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোড়াই এলাকার রংধনু নামের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ক্লিনিকের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ভ্যানের ওপর মরদেহ রেখে স্থানীয়রা চলে যান।

খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে  প্রেরণ করে।

অনিলের স্ত্রী আন্নারানী দাস বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্বামী অনিল চন্দ্র দাসকে ঘুমন্ত রেখে তিনি কারখানায় যান। দুপুর ২টার দিকে বাসায় ফেরার পথে ভ্যানের ওপর স্বামীর মরদেহ দেখে বাড়ির মালিককে জানান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

গোড়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আদিল খান জানান, রাফি তার সহযোগীদের নিয়ে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে অনিল চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রাফি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে রাফির বাবা শাহিনুরের মোবাইলে কল দিলে নিলুফা বেগম নামের এক নারী তার ফুপু পরিচয় দিয়ে বলেন, ‌‘রাফি ও তার বাবা বাড়িতে নেই। পুলিশ এসে বাড়ি তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে ভাইয়ের মোটরসাইলে নিয়ে গেছে।’

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব খান জানান, গোড়াই দক্ষিণ নাজিরপাড়া গ্রামের শাহিনুরের ছেলে রাফি ও তার কয়েকজন সহযোগী অনীল চন্দ্র দাসকে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে বলে লোকমুখে জানতে পেরেছি। পুলিশ রাফিসহ তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জুন ২০২২ ০৭:০৭:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শ্যুটিং করতে এসে বখাটেদের হামলার শিকার প্রযোজক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শ্যুটিং করতে এসে বখাটেদের হামলার শিকার প্রযোজক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) নাটকের শ্যুটিং করতে এসে বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন এক্সিকিউটিভ প্রযোজক সৌরভ ইশতিয়াক।

অভিনেতা মুশফিক ফারহান ও অভিনেত্রী তানজিন তিশা অভিনীত নাটকের শ্যুটিং ১১ জুন থেকে ১৩ জুন মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, মুক্তমঞ্চসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শ্যুটিং হয়। তবে শ্যুটিংয়ের শেষ মুহূর্তে বহিরাগত কিছু বখাটেদের সাথে বাগবিতণ্ডার জেরে আক্রমণ ও মারধরের শিকার হন সৌরভ।

এ বিষয়ে প্রডিউসার সৌরভ মুঠোফোনে জানান, ১০/১২ জন যুবককে শ্যুটিং স্থান থেকে সরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে খারাপ ব্যবহার করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. জুন ২০২২ ১০:২৫:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ৩ জনের ফাঁসি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ৩ জনের ফাঁসি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গণধষর্ণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন। একই মামলায় আরেক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার গোপালপুর উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামের মৃত নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী কৃষ্ণ দাস, ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিঞ্জাপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে সৌরভ আহমেদ হৃদয় ও একই গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান। এছাড়া একই গ্রামের মেহেদী হাসান টিটুকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ জানান, ওই স্কুলছাত্রী ২০২১ সালের ২ আগস্ট বাড়ি থেকে নানির বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে কোথাও না পেয়ে ৪ আগস্ট গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান বাবা। পরে থানা থেকে তাকে জানানো হয়, মেয়ের একটি ছবি নিয়ে আসতে হবে। এ কথা শুনে ছবি আনতে বাড়ি চলে যান তিনি। ওইদিন ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর যমুনা নদীর পাড়ে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের পর নিহতের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় ওই দিনই বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উপজেলার ছাব্বিশা কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছবি দেখে স্বজনরা উদ্ধার হওয়া মরদেহটি স্কুলছাত্রীর বলে শনাক্ত করে পরিবারের লোকজন। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৬ আগস্ট ভূঞাপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। পরে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গণধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত শ্রী কৃষ্ণ দাস, সৌরভ আহমেদ হৃদয়, মিজানুর রহমান ও মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে তিনজনের ফাঁসি ও একজনকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার পর আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. জুন ২০২২ ১০:২০:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বর্ধিত সভায় লাঞ্ছিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাশেম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বর্ধিত সভায় লাঞ্ছিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাশেম

একতার কণ্ঠঃ জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভায় লাঞ্ছিত ও ধারালো অস্ত্রাঘাতের শিকার হয়েছেন পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেম। বুধবার (৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত জেলা জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভাস্থলে প্রবেশ মুখে ঘটনাটি ঘটে।

এ হামলার অভিযোগ উঠেছে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকের সমর্থক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার টাঙ্গাইল শহরস্থ ঢাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদশী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দলের পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়ার মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেমের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকের অবস্থান আর পেশি শক্তি প্রকাশে সমর্থক নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি। ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তারা আমার সমর্থক বা দলের নেতাকর্মী নয়, হতে পারে বহিরাগতা। আমার সমর্থক নেতাকর্মীদের গায়ে আমার ছবি আর নামসহ গেঞ্জি ছিল। ফুটেজ দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা জানান তিনি।

জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসী চিন্তা থেকে ঘটানো হয়েছে। হামলাকারীরা ছবিসহ গেঞ্জি পড়া ছিল।এরা আমাদের দলের নেতাকর্মী নয়। তারা আমাকে সভাস্থলে প্রবেশের সময় ধাক্কা মেরেছিল।

চিকিৎসারত পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেম বলেন, এই সংসদীয় আসনের প্রার্থী হতে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত আর তিনি ক্ষমতাবান সেটি প্রচার করতেই ঘটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু জানান, আমার সামনেই হামলার এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাটি খুবই খারাপ হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠণসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দলের মাঝে যারা এই সমস্ত গুন্ডামী মাস্তানি করবেন তাদের দলে জায়গা নেই। আমার সামনে ঘটনাটি ঘটানো কোন শুভনীয় কাজ হয়নি। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন তাদের ভবিষ্যত ভালো হবে না। কেননা জাতীয় পার্টি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করে না।

বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। বিশিষ অতিথি ছিলেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও অতিরিক্ত মহাসচিব (ঢাকা বিভাগ) লিয়াকত হোসেন খোকা, প্রেসিডিয়াম মেম্বার মো. জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নাজিম উদ্দিন। বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কাশেম।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুন ২০২২ ১১:২৫:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতার গোপনাঙ্গ কাটলেন দুই শ্যালকের স্ত্রী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতার গোপনাঙ্গ কাটলেন দুই শ্যালকের স্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির এক নেতার গোপনাঙ্গ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনৈতিক সম্পর্কের জেরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বড় বেলতা গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমানের গোপনাঙ্গ কেটে দিয়েছেন দুই শ্যালকের স্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৬ জুন) গভীর রাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন বজলুর রহমান।

বজলুর রহমানের চাচাতো ভাই স্থানীয় মেম্বার পোলু জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই শ্যালকের স্ত্রীর সাথে বজলুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। সে বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়িতে আর্থিক সহায়তা করতো। তার আর্থিক সহায়তায় দুই শ্যালক সৌদি যায়। তার এনজিও থেকে ঋণও দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে নিয়মিত কিস্তির টাকার জন্য যাতায়াত ছিলো। গত সোমবার (৬ জুন) রাতে ওই দুই নারী কৌশলে তাকে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ব্লেড দিয়ে গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। ঘটনাটি যেহেতু আত্মীয়ের মধ্যে ঘটেছে তাই মামলা হয়নি, দুই পক্ষ থেকে মীমাংসা করার আলোচনা চলছে।

অভিযুক্ত দুই প্রবাসীর স্ত্রী জানান, বজলুর রহমান নিয়মিত তাদের নির্যাতন করতো। সোমবার গভীর রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে দুইজনের সাথে মেলামেশা করার চেষ্টা করে। পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাতের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে বজলুর রহমানের গোপনাঙ্গ কেটে দেয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাজেদ জানান, পরিবারের অভিযোগ নেই। তারা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করছেন বলে উভয়ের অভিভাবক জানিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুন ২০২২ ১০:৩৯:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মাদ্রাসাশিক্ষকের ওপর হামলা, জড়িতদের বিচার দাবি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদ্রাসাশিক্ষকের ওপর হামলা, জড়িতদের বিচার দাবি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার ( ৭ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার সিরাজকান্দি দাখিল মাদ্রাসার সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্তে বাধা ও প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের বহিরাগত যেসব বখাটেরা লাঞ্ছিত ও মাধধর করে আহত করেছে তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ইভটিজিংকারী বখাটে অভিযুক্ত দুইজন গ্রেফতার হলেও বাকিদের গ্রেফতারে গড়িমসি করছে পুলিশ। তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কদ্দুস, সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি দেয় জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দুইজনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে আসে শিক্ষকরা।পরে জাহিদকে তার এক বড়ভাই ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

পরের দিন সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুনর্বাসনের কাছে পৌঁছলে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে তাদের মারার জন্য পথ আটকায়। একপর্যায়ে বখাটেরা রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে। পরে স্থানীয় ও শিক্ষকরা তাদের উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন

ঘটনার একদিন পর আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে ভূঞাপুর থানায় মামলা করলে টাঙ্গাইল র্যা ব-১২ সিপিসি ৩ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গত বুধবার সাগর ও স্বপনকে গ্রেফতার করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে র্যা ব।পরে বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠায় ভূঞাপুর থানা পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুন ২০২২ ০৬:৫৫:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সহপাঠী সুমাইয়া হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শামসুল হক কলেজ মোড় এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও শামসুল হক কলেজ, লুৎফর রহমান মতিন কলেজ, এলেঙ্গা বিএম কলেজ, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়াইহাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এসময় বক্তব্য দেন- এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর, লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, এলেঙ্গা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম তালুকদার, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা ও নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।

ekotar kantho

একাধিক ছাত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়া তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরদিকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, ইভটিজিং মুক্ত শিক্ষাঙ্গন এবং রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।

নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া জানান, এ হত্যাকাণ্ড একা ঘটানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করেছিল। আমরা মামলা করার পরও তাদের আদালতে পাঠায়নি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরও বিচার দাবি করছি। আমরা ধারণা করছি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত।

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, এলেঙ্গা ক্লাব থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সৃষ্টি। এ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সুমাইয়াকে হত্যা করেছে। কিশোর গ্যাং তৈরিতে যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাই। যে ছুরি দিয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে সেই ছুরি হাতে নিয়ে ৭২ ঘণ্টা আগে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মনির টিকটক করেছে। ভিডিওটি প্রশাসনের সব গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আছে। এছাড়াও ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। এলেঙ্গা শিক্ষা নগরীকে যারা অরক্ষিত বানাতে চায়, সেই হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করছি। এই ফাঁসির মধ্য দিয়ে এলেঙ্গা আবার শান্তির নগরীতে পরিণত হবে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মনির ছাড়া হত্যাকাণ্ডে কিংবা পরিকল্পনায় আর কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবর সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার কলেজ পাড়া এলাকার খোকনের নির্মাণাধীন বাড়ির নীচতলার সিঁড়িকোঠা থেকে সুমাইয়ার মরদেহ ও আহত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমাইয়া কালিহাতী পালিমা গ্রামের ফেরদৌস আলমের মেয়ে। পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মনিরের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ফেরদৌস আলম বাদী হয়ে মনিরকে আসামি থানায় মামলা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২২ ১১:১৭:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সূত্রহীন  (ক্লু-লেস) ২য় শ্রেনির ছাত্রী তিশা (৯) কে গনধর্ষণসহ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল। গনধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার(৬ জুন) সকালে এ তথ্য প্রকাশ করে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, শিশু তিশার প্রতি বিকৃত যৌন লালসা গ্রেফতারকৃত আসামিরা মনে পোষণ করে। সেই জেরে তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যা করার জন্য ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় আসামীরা।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলো- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), একই এলাকার আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। আসামীরা শিশু তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পিবিআই এর কাছে স্বীকার করেছে।

টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায়, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বন্দে ভাটপাড়া গ্রামের মো: আবু ভূইয়ার কন্যা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শেনির ছাত্রী তিশা আক্তার (৯) কে বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই এর একটি চৌকস ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পিবিআই টিম জানতে পারে ঘটনার দিন সকালে মো: আবু ভূইয়ার স্ত্রী সম্পা বেগম তার ছেলে ৫ম শ্রেনির ছাত্র মো: শুভ ভূইয়া (১২) ও ২য় শ্রেনির ছাত্রী মেয়ে তিশা আক্তারকে (৯) স্থানীয় শহীধ ক্যাডেট একাডেমিতে নিয়ে যায়।

দুপুরে স্কুল ও কোচিং শেষ হলে তিশা বাড়িতে চলে আসে। ছেলে শুভ সময় মত বাড়িতে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হয়। এসময় তিশা বাড়িতে একাই ছিলো। পরে শুভকে এলাকার ফজলুর দোকানে বসে থাকতে দেখে। এসময় শুভকে জুস কিনে দেয় এবং পাশের অমত মেম্বারের দোকান হতে বিস্কুট কিনেন ও দোকানদারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

এতে প্রায় ঘন্টাখানিক সময় দেরি হয় তাদের বাড়িতে ফিরতে। বাড়িতে ফিরে মা ও ভাই দেখতে পায় বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে তিশা খাটের উপর ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে। এসময় মা ও ভাই তিশাকে বাঁচানোর জন্য ফাঁসের ওড়না খুলে দেয়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তিশাকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে বাসাইল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এসময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তিশাকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু তিশার অবস্থা ভালো না থাকায় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। মেয়ের মা সম্পা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়। এতে শিশু তিশার অবস্থা আরো থারাপ হতে থাকে। ফলে মেয়েকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে বিকেলে শিশু তিশা মারা যায়। বাসাইল থানা পুলিশ তিশার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ময়না তদন্ত শেষে ২৯ মে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পিবিআই টাঙ্গাইল তাদের ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় ২৯ মে বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

পরবর্তীতে ৪ জুন তিশার ময়না তদন্ত রির্পোটে গনধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওইদিনই তিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল গনধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি:) খন্দকার আশরাফুল কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌখস দল অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী গোবিন্দ মন্ডল পেশায় একজন পিকআট ড্রাইভার, বিজয় সরকার তার সহযোগী ও চঞ্চল একজন অটো মেকানিক। এদের মধ্যে একজনকে বাসাইল পৌরসভার কাঁচাবাজার এলাকায় ও অপর দুই আসামীকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তারা জানায়, তিশা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও পুজায় চমৎকার নাচ করতো। তার নাচের প্রতিভায় সবাই মুগ্ধ ছিল।

পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আসামিরা সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতো। তখন থেকে আসামিরা শিশু তিশার প্রতি বিকৃত লালসা তাদের মনে মনে পোষণ করে এবং বিভিন্ন ভাবে তিশাকে উতক্ত্য করতো। পরে তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। একদিন আসামিরা জানতে পারে তিশার মা তিশাকে বাড়িতে একা রেখে ছেলেকে আনতে যায়। এই সুযোগে ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকায় তিশার রুমে প্রবেশ করে তার হাত, মুখ, পা চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের ফলে তিশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন আসামিরা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিশার গলায় তার মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরো জানায়, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত শিশু তিশার বড় ভাই শিশু শুভ কান্না জড়িত কন্ঠে ছোট্ট বোনটির হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে বলে, আমি সব সময় বাড়িতে আমার ছোট বোনকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ওকে কোথাও পাই না। তখন আমার অনেক কষ্ঠ লাগে। আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

শিশু তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার ওই ছোট্ট মেযেটিকে কখনো ফুলের টোকাও দেয়নি। ওরা আমার অবুঝ মেয়েকে যে অমানবিক নির্যাতন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাদের একই রকমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হোক। আমি এর বিচার চাই।

শিশু তিশার বাবা মো: আবু ভূইয়া বলেন, যারা আমার মেয়ের সাথে এ ধরনে কাজ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই। বিচার বিভাগের মাধ্যমে এমন একটি শাস্তি চাই যা দেখে আর কেউ যেন এমন করার সাহস না পায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২২ ০৪:০৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সাপের দংশনে সাপুড়ের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সাপের দংশনে সাপুড়ের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাপের দংশনে হায়দার আলী মণ্ডল (৬৫) নামের এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ( ৪ জুন) বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহতের জামাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাফিজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হায়দার আলী মণ্ডল মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত তহর মণ্ডলের ছেলে। ছোটবেলা থেকে সাপ ধরা, সাপ নিয়ে খেলা ছিল তার প্রধান শখ। খবর শুনলেই ছুটে যেতেন সাপ ধরতে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শোলাকুড়ি দীঘির পশ্চিমপাড়ের ভাসানী মোড় এলাকা থেকে ধরা বিষধর সাপ শনিবার  সকালে হায়দার আলী মণ্ডলকে দংশন করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে টোটকা চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে কালক্ষেপণে আরও খারাপ অবস্থার দিকে আগাতে থাকে। বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে হায়দার আলীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. শামসুল হক জানান, প্রতিটি হাসপাতালেই এখন এন্টিভেনম (সেরাম)  থাকার কথা। অবৈজ্ঞানিক টোটকা চিকিৎসা আর অবহেলায় বিলম্ব না করে হাসপাতালে নিয়ে আসলেই এ পরিণতি নাও হতে

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২২ ০৭:৩৩:পিএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।