একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১১নং আজগানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী মো:রফিকুল ইসলাম সিকদার শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুক্রবার (১০জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা বাজারে বিভিন্ন জায়গায় তিনি লিফলেট বিতরণ করছেন। স্থানীয় জনগন সাদরে তাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। প্রতিটি জনসংযোগে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা জানান-রফিক সিকদার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি অনেক ভালো লোক। তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ নির্মাণসহ অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে মোটরসাইকেল মার্কায় ভোট দিয়ে আবার তাকে নির্বাচিত করতে চান স্থানীয় ভোটাররা।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিক সিকদার বলেন, তাকে ভোট দিয়ে এই ইউনিয়নের জনগণ দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, তবে জনগণের ভালোবাসাও পেয়েছেন। এই ইউনিয়নের মানুষ হচ্ছে তার প্রাণ। এলাকার উন্নয়নে তিনি রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। জনগণ যদি আরেকবার সুযোগ দেয়, তিনি তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চান।
তিনি আরো বলেন, আজগানা ইউনিয়নের জনগণ দল-মত-নির্বিশেষে তার সাথে আছে। আগামী ১৫ জুনের নির্বাচনে জনগণ তার মোটরসাইকেল প্রতীক কে জয়যুক্ত করবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে”বিশ্বনবীর অপমান মানবে না মুসলমান” শ্লোগানে মিছিল ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১০ জুন) বাদ আছর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মুখে সভা শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
মিছিলটি মসজিদ চত্ত্বর থেকে বের হয়ে নিরালা মোড় হয়ে আবার মসজিদ চত্ত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতাকর্মীসহ প্রায় সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা অংশ গ্রহণ করেন।
সম্প্রতি ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ও উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. কে নিয়ে চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করায় ভারতীয় পণ্য বয়কট এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর দাবিতে এই মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা,অনতি বিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারীও দেন তারা।
সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মাদ আকবর আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ আঁখিনূর মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আকরাম আলী, যুগ্ম-সম্পাদক আলহাজ্ব আনিসুর রহমান সিল্টু, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক প্রভাষক রেজাউল করিম, সদস্য মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহিম, জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ।
একই দাবিতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা।
একতার কন্ঠ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর মা ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দিলে রুবেল (২৫) ও তার সহযোগী ওসমান গনিকে (৩৩) গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত রুবেল উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও তার সহযোগী ওসমান গনি একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। রুবেল এক সন্তানের জনক। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী।
জানা যায়, রুবেলের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় কলেজছাত্রীর। ফেসবুকে নিয়মিত চলত কথাবার্তা। পরে দেখা-সাক্ষাৎ করে তারা। এভাবেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে কলেজছাত্রী। এ সময়ে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে রুবেল। পরে সেই ভিডিও ফেসুবকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় রুবেল। পরে তার কথামতো কাউকে না জানিয়ে কলেজছাত্রী চলে যায় চট্টগ্রামে। পরে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় থাকত তারা।
এদিকে কলেজছাত্রী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানেন না পরিবার। পরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেন। গত ৩০ মে নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে ওই ছাত্রীর মা ৫ জুন ভূঞাপুর থানায় একটি জিডি করেন। তারপর রুবেলের মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযান চালায় ভূঞাপুর থানার পুলিশ।
অভিযান চালিয়ে গত বুধবার(৮ জুন) চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে গ্রেপ্তার করেন। সেইসঙ্গে কলেজছাত্রীকেও উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (৯জুন)রাতে রুবেলের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন ছাত্রীর মা।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ ( ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত যুবক কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখানেও ধর্ষণের শিকার হয় কলেজছাত্রী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বখাটে রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগীকে শুক্রবার(১০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার ফোনে ওই মেয়েটিসহ একাধিক মেয়েদের নানা ধরনের ছবি পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে। এছাড়া মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিভিন্ন মৌসুমী ফল সম্পর্কে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে ফল পরিচিতির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। (more…)
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব। বুধবার (০৮ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মোঃ এরশাদুর রহমান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপর অভিযান পরিচালনা করে র্যাব । এসময় ১৬ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো, ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে শাহীন আলম (৩৪), উত্তর হুগড়া গ্রামের আয়নালের ছেলে কালাচান (২৭), চর হুগড়ার মকতেল মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (২৪), রফিকুল ইসলামের ছেলে খোরশেদ আলম(২৩) ও সাতানি হুগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে হাসান আলী (১৮)।
এ ব্যাপারে , র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, আটককৃত আসামীগণ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার কার করে তারা মাদকদ্রব্য গাঁজা অবৈধভাবে জেলার সদর উপজেলার সহ বিভিন্ন উপজেলায় মাদক সেবীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করে আসছিলো তারা।
তিনি আরো বলেন, আটককৃত আসামী ও পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় টাঙ্গাইলের ৩ জন বিশিষ্ট সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
বুধবার (০৮ জুন) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।
জেলা প্রশাসক আতাউল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সংবর্ধিত অতিথি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দুর্লভ বিশ্বাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ৩ জন সংবাদিককে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করায় দৈনিক সমকালের মির্জাপুর প্রতিনিধি দুর্লভ বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতায় দৈনিক ইত্তেফাকের নিজস্ব প্রতিবেদক জয়নাল আবেদীন এবং মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাধিকতায় বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি আতাউর রহমান আজাদকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রথম বারের মতো টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা দেয়া হলো।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের এ ধরনের সংবর্ধনা দেয়া অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা যেমন খুশি, তেমনি গর্বিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান ভূইয়াকে হত্যার দায়ে একজনকে আমৃত্যু ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রেজা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামানের ভায়রা। তিনি দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের শামছু মিয়ার ছেলে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো—রেজাউলের স্ত্রী আলো বেগম, বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া, যশিহাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রেজভী ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের আবু বক্কর ভূইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। তিন দিন পর পার্শ্ববর্তী মহেশখালী গ্রামের জমির আইল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর ভূইয়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে মনিরুজ্জামানের ভায়রা রেজাউল ও শ্যালিকা আলো বেগমসহ দণ্ডিতদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাসাইল থানার তৎকালীন উপ-রিদর্শক (এসআই) শ্যামল দত্ত ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিদের মধ্যে আলমগীর, আলো বেগম ও লাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউল ও রেজভী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে মৌসুমী ফলের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুন) বাদ আসর এ মৌসুমী ফলের উৎসবে মওলানা ভাসানীর অনুসারী, ভক্ত ও মুরিদানগণ অংশগ্রহণ করেন।

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তাঁর জীবদ্দশায় ভক্ত-মুরিদানদের নিয়ে প্রতি বছরই এ মৌসুমী ফল উৎসবের আয়োজন করতেন বলে জানা যায়।

অনুষ্ঠানে ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব আজাদ খান ভাসানীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কলেজ ছাত্রী সুনিকা খাতুনের হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুন ) দুপুরে উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
এতে কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, নিহত সুনিকার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মনববন্ধনে হেমনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম, প্রভাষক সোহেল রানা, আজমত হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব হাসান টুটুল, কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাকিল আহমেদ, ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাবেক সম্পাদক সবুজ আহমেদ, সুনিকার বাবা দুলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা সুনিকার হত্যাকারী তার স্বামী সুমনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল হেমনগর ডিগ্রি কলেজর শিক্ষার্থী সুনিকার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। সুনিকা সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তাদের সংসার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত ২১ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নতুন শিমলা পাড়া গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রী সুনিকা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তার স্বামী সুমন (৩১)। ঘটনার পর সুনিকার বাবা গোপালপুর থানায় মেয়ের স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ে করেন। এরপরই পুলিশ সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বুড়িগঙ্গা নদী পানি প্রবাহ বৃদ্ধি প্রকল্পে উত্তোলনকৃত সরকারি বালু রাতের আঁধারে বিক্রি করছে একটি চক্র।
সরকারি বিধি নিষেধ তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছাঁয়ায় ওই মহলটি সরকারি বালু বিক্রির এই হরিলুট চালাচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতার কারনে বর্তমানে বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও, চক্রটি আবার বালু বিক্রির জন্য তৎপর হয়ে উঠছে।
জানাগেছে, এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে স্থানীয় আশরাফ আলী, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ভুইয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা রাসেল ভুইয়া, দেলোয়ার হোসেন, অছিমুদ্দিন, ফজল হক, হারুন , জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, রিপন মিয়া, অমিত ও জাকির মিয়া খননকৃত বালু রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দেদারছে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে নিউ ধলেশ্বরী নদীর পাশে খননকৃত সরকারি বালু রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবার তৎপর হয়ে উঠে প্রভাবশালী এই চক্রটি। কোন ভাবেই সরকারি এই বালু বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমান আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করলে প্রশাসনের চোখকে অতি সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায়। তাই রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি করছে একটি চিহ্নিত চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।সারারাত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমসহ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।

এই অবৈধ বালু বিক্রি চক্রের হোতা আশরাফ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে দুদিন ধরে অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বালু বিক্রি শুরু হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাজমুল হোসাইন জানান, অবৈধভাবে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ধলাটেঙ্গর ও কুড়িঘুড়িয়া নামকস্থানে যদি অবৈধভাবে বালু বিক্রি করা হয়ে থাকে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। সরকারি উত্তোলনকৃত বালু রাতের আঁধারে বিক্রিকারীদের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনকে মামলা করতে বলা হয়েছে। আশাকরি, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী’র আদ্য শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সোমবার (৬ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠান নাগরপুর উপজেলা সদর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় অবস্থিত প্রয়াতের নিজ বাড়িতে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে। এসময় প্রয়াতের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও আত্মীয়-স্বজন সহ শুভানূধ্যায়ীরা উপস্থিত থেকে পরলোকের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটি সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপ-কমিটি সদস্য তারেক শামস খান হিমু শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রয়াত এই কেন্দ্রীয় নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি আহ্বায়ক আহমেদ আযম খান, সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, যুগ্ম আহ্বায়ক এড. ফরহাদ ইকবাল, সদস্য আলী ইমাম তপন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু, নাগরপুর উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান হবি, সদস্য শরিফ উদ্দিন আরজু, সহবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ মোল্লা সহ জেলা-উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা তার আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এড. গৌতম চক্রবর্তী গত ২৭ মে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। গৌতম চক্রবর্তী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১, ২০০৬ মেয়াদ কালে তিনি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। দীর্ঘ সংসার জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান সহ অসংখ্য রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামবৃদ্ধিসহ নানা কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।
শীঘ্রই চালের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এ বছরও পর্যাপ্ত চাল উৎপাদন হয়েছে। দেশে খাদ্য নিয়ে কোনো হাহাকার হবে না, খাদ্যের কোনো সংকট থাকবে না।
সোমবার (৬ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের গণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আজকের আওয়ামী লীগ যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক সুসংহত, শক্তিশালী ও সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। দলের এই অবস্থাকে ধরে রাখতে হবে। সেজন্য যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, তাদেরকে দলের নেতৃত্বে আনা যাবে না। দলের বিপদে-আপদে সব আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থাকবে তাদেরকে নেতা নির্বাচন করতে হবে, দলে জায়গা দিতে হবে।
তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে আজকের দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আমলে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। কোনো মানুষ না খেয়ে থাকার কষ্ট করেনি। আমাদের যে সম্পদ রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ রয়েছে, তাতে যেকোনো পরিস্থিতি আমরা মোকাবিলা করতে পারব।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ওরফে লেবুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি প্রমুখ।