একতার কণ্ঠঃ সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও শনিবার(২৫জুন) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে।
সকালে পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের মুক্তমঞ্চে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিটিভির মাধ্যমে বড় পর্দায় সম্প্রচার করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীদের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা প্রশাসক ডঃ মোঃ আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সকল পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিশেষ দোয়া, মোনাজাত, প্রার্থনা, অসহায় মানুষের মাঝে উন্নত মানের খাদ্য পরিবেশনসহ আরো নানা আয়োজন।
এছাড়াও জেলার সকল উপজেলায় দিনব্যাপী বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে সামিয়া (১৩) নামের এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।সামিয়া বাসাইল রফিক রাজু ক্যাডেট স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্রী।
সামিয়া বাসাইল এস আর পাড়ার ছানোয়ার হোসেনের বড় মেয়ে।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুন (শুক্রবার) সকালের নাস্তা শেষ করে সামিয়া পাশের বাড়িতে খেলতে যায়। অনেকক্ষণ বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোজাখুজির একপর্যায়ে প্বার্শবর্তী মন্দির সংলগ্ন পুকুরে সামিয়াকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পুকুর থেকে উদ্ধার করে তাকে বেলা ১১ টায় বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ খান তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
ডা. নাহিদ খান বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই সামিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে একই দিন ভোরে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের পাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. আরিফুজ্জামান পলাশ (৩৫), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. কামরুজ্জামান শান্ত (২৪)।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ) মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস ও এক হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘জব্দকৃত আইসের বাজার মূল্য ২৫ লাখ টাকা। ইয়াবার বাজার মূল্য তিন লাখ টাকা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মির্জাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর উপরে ধসে পড়া নির্মাণাধীন সেতুটি ঠিকাদারকে নিজ খরচে পুরোটা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে ধসে পড়া সেতু পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক একেএম রশিদ আহম্মদসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জানায়,ধসে পড়া সেতুর ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় কয়েক ধাপে ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তবে সেতুটি পুনরায় সম্পন্ন শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ৮ মিটার প্রশস্ত ও ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ দশমিক ৩৩ টাকা। ঢাকার ব্রিক্সস এন্ড ব্রিজ লিমিটেড এবং দি নির্মিতি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে স্থানীয় ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়ে নেন। পরে তারা এটি বাস্তবায়ন শুরু করেন।
সেতু নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রকৌশলীরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা যেমন মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে নেন, ঠিক তেমনিভাবে সেতু নির্মাণ কাজেও ছিল অনেক অবহেলা। তাদের মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেননি। নির্মাণের বিভিন্ন স্তরে দরপত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা মোতাবেক কাজ না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করেন।
ব্রিক্সস এন্ড ব্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোস্তফা মুহাম্মদ মাসুদ জানান, তারা এবার নিজেদের তত্ত্বাবধানে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করবেন। তাদের সঙ্গে টাঙ্গাইলের ঠিকাদাররাও থাকবে। তবে সব কিছু তিনি দেখাশোনা করবেন।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ শুরু করা হবে। কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামা চান তাহলে তাই দেওয়া হবে। আর সেতুটি পুনরায় নির্মাণ কাজ করার সময় দরপত্রে উল্লেখিত সকল শর্ত মেনে কাজ করা হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ধসে পড়া সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তবে সেতুটি ভেঙে ফেলতে সকল ব্যয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে। সব নির্দেশনা মেনে সেতুটি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করে, সেজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তেলবাহী একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হয়ে খাদে পড়ে গেছে।
সোমবার (২০ জুন) বিকেলে মির্জাপুর রেল স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ট্রেনটি উদ্ধার করা হয়নি। তবে এই রেল লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে একটি তেলবাহী ট্রেন ২৪টি বগি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রেনটি মির্জাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছালে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়।
মহেড়া রেল স্টেশন মাস্টার মো. শাহীন জানান, ৯৮১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন ও একটি তেলের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ট্রেনটি মেইন লাইনে লাইনচ্যুত হয়নি, এ জন্য রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মির্জাপুর রেল স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান জানান, তেলবাহী ট্রেনটি সম্ভবত ব্রেক সমস্যার কারণে লাইনচ্যুত হয়েছে। মেইন লাইন সচল থাকায় রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরো জানান,বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এখনো ট্রেনটি উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পর্ণোগ্রাফীসংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে জয় সরকার(২২) এবং ফেনসিডিল সরবরাহের অভিযোগ মো. আব্দুর রাজ্জাক(৬০) নামে এক বিক্রেতাকে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করেছে র্যাব।
জেলার কালিহাতী উপজেলার বল্লা বাজার এবং শহরের অশেকপুর বাইপাসে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। র্যাব-১২ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে সংবাদ পেয়ে সোমবার(২০ জুন) সকালে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল র্যাব কালিহাতী উপজেলার বল্লা বাজারে অভিযান চালায়।
অভিযানে ফ্রেন্ডস মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ পর্ণোগ্রাফী, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও কী-বোর্ড সহ জয় সরকারকে আটক করে। আটককৃত জয় সরকার বল্লা গ্রামের সুনীল চন্দ্র সরকারের ছেলে।
অপরদিকে, সোমবার(২০ জুন) ভোরে র্যাবের একটি দল বঙ্গবন্ধু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইল শহরের আশেকপুর বাইপাসে অভিযান চালায়। এ অভিযানে ৯৭ বোতল বিক্রি নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিল সহ মো. আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে।

আটককৃত আব্দুর রাজ্জাক কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের মৃত মোনাছ মালিতার ছেলে।
আটককৃতদের নামে কালিহাতী এবং টাঙ্গাইল সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অভিন্ন নীতিমালায় ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
রোববার (১৯ জুন) সকালে ঘন্টা ব্যাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের আহবানে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণ ও কর্মকর্তা নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়ন সংক্রান্ত ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মাভাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক ড. ইকবাল বাহার বিদ্যুৎ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজাদ সোবহানী আল ভাসানীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তাগণ বলেন, কর্মকর্তাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত অভিন্ন নীতিমালায় বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের দেয়া ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা তা মেনে নেবে না। কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অভিন্ন নীতিমালায় এই ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত না করলে ভবিষ্যতে কর্মকর্তারা আরও কঠোর কর্মসুচি গ্রহণ করবে বলেও জানান তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও বাসাইল উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে কমপক্ষে ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই দুই উপজেলার সঙ্গে সড়ক পথে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।
রোববার (১৯ জুন) কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকায় বাঁধ ও বাসাইল উপজেলার আন্ধিরাপাড়া-বালিনা সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দুই দিন ধরে বাসাইল উপজেলার আন্ধিরাপাড়া-বালিনা সড়কের বালিনা উত্তরপাড়ার অংশেঊ ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে সড়কটি ভেঙে যায়। রোববার সকালে আন্ধিরাপাড়ায় তিনটি স্থানে সড়ক ভেঙে যায়। দুই দিনে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে উপজেলার বালিনা, আন্ধিরাপাড়া, আদাজান, কাঞ্চনপুর ও কোদালিয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বিকল্প হিসেবে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে।
উপজেলার বালিনা দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান জানান, এ সড়কের চার জায়গায় ভেঙে গেছে। এ কারণে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জানান সড়কের চার জায়গায় ভেঙে গেছে। সড়ক দিয়ে পানি প্রবেশ করে বালিনা, আদাজান, ভোরপাড়া, আন্ধিরাপাড়া, কাঞ্চনপুরসহ ৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এখন নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকার বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে এ বাঁধ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।
সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে। এ কারণে উপজেলার আনালিয়াবাড়ী, ভাওয়াল, নরদৈ, গড়িয়া, হাবলা, দেওলাবাড়ীসহ ১০ থেকে ১২টি গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখানে গত বছরও ভেঙে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, জেলার যমুনা, ধলেশ্বরী, ঝিনাই, বংশাই, লৌহজংসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার ১২টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবুল(২৮) ও ছোটন(১৮) নামে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে র্যাব। রোববার (১৯ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া গ্রামের রনির ছেলে বাবুল (২৮), একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ছোটন (১৮)।
রোববার দুপুরে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দুইটি অত্যাধুনিক ছুরি, দুইটি মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ডসহ উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়,তাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ১৮৬০ সালের ৩৯৩ও ৩৯৮ (পেনাল কোড) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৭ জুন) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বড় কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রাইসুল ইসলাম(২৮), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙ্গা চিতেশ্বরী গ্রামের মো. বাছেদ খানের ছেলে মো. উজ্জল খান (৩৩) ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্যাসী ভিটা গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. নয়ন হোসেন(২০)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. দেলোয়ার হোসেন শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ডিবি দক্ষিণের একটি দল এস আই রাইজ উদ্দিন এর নেতৃত্বে সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি মাইক্রোবাসসহ ওই তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত গাঁজার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে শনিবার(১৮ জুন) সখীপুর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এ ছাড়াও সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির পাট, আউশ ধান, তিল, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় যমুনাসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহি করটিয়া হাটে ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিবছর হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে করে চরম ক্ষতির মূখে পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারাও।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এ কারণে সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে কয়েক হাত ঘুরে একটি ভিটির দাম পড়ে কয়েক লাখ টাকা।
এমনটা হওয়ার কারণে ব্যবসার আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়ে গিয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রেতাদের ওপরে, বেড়ে যায় পণ্যের দাম। সরকারিভাবে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে হাটে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও কম মূল্যে তাদের চাহিদামত পণ্য ক্রয় করতে পারতেন।
ফলে হাটের সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারাও ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ ঐহিত্যবাহী করটিয়া হাট থেকে অনেক সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের ভিটি ভাড়া বা অন্য কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু যারা প্রকৃত ভিটির মালিক তাদের মধ্যে অনেকেই হাটে কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তারা সবাই রাজনৈতিক নেতা, নইলে জনপ্রতিনিধি অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন। তাদের এ সিন্ডিকেটের কারণে ভিটিগুলো বিক্রি হয় দেড়, দুই এমনকি পাঁচ লাখ টাকাতেও। অথচ এসব ভিটির বাৎসরিক সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকা।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) করটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা পণ্য কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বগুড়া থেকে আসা সোলায়মান মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তারপরেও ব্যবসা ও ক্রেতার চাহিদার কারণে বেশি দাম দিয়েই কাপড় কিনতে হচ্ছে।
করটিয়া এলাকার শাকের আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাটের কিছু জায়গা দখল করে ব্যবসা করেন তিনি। কিন্তু এবার বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে নিজের নামে না দেওয়ায় তার মেয়ে ও ভাই এবং ভাতিজার নামে ভিটি বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এগুলোর একটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন এবং বাকি তিনটি ভাড়া দিয়েছেন।
শুধু প্রভাবশালী নয়, এ হাটে ভিটি আছে সরকারি চাকরিজিবীদেরও। তবে এসব জমি তারা নিজের নামে না করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের নামে।
এমনই একজন হচ্ছেন করটিয়া এলাকার কালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফ। এ হাটে তার তিন বোন, মা, মামা, মামাতো ভাইয়ের নামে নিয়েছেন আটটি ভিটি। পরে ওই ভিটিগুলো আবার একই এলাকার চাচাতো ভাই মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে এক বছরের জন্য ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন।
ইসমাইল হোসেন জানান, আরিফের কাছ থেকে আটটি ভিটি লিজ নিয়ে তিনিও সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় আরিফ এগুলো তার বোন, মা, মামা ও মামাতো ভাইয়ের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন।
জানা গেছে, হাটে ভিটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া করে জেলা প্রশাসন। এ কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে তাদের জানানো হয় হাটে নতুন করে কোনো ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যারা ইতোমধ্যেই হাটের জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের মধ্যেই ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় এলাকার প্রল্লাদ দাস, হেলাল উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ছানু ও আনিসুর রহমান বিরু দীর্ঘদিন ধরেই করটিয়া হাট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আর তাদের মাধ্যমেই পুরো হাটে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের প্রত্যেকের নামে একটিসহ বিভিন্ন স্বজনদের নামে একাধিক ভিটি নেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর ৪০-৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ভিটিগুলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে এ হাটে ব্যবসা করছেন। ৪-৫ বার তিনি ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেও পাননি। তাই বাধ্য হয়ে ভিটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যদি প্রকৃতভাবে সরকারি মূল্য অনুযায়ী ভিটি বরাদ্দ পেতেন তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য নিতেন না।
শুধু তিনি নন, এরকম প্রায় সব ব্যবসায়ীরাই প্রতিবছরে মোটা অংকের ভাড়ার টাকা আদায়ের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য রেখে থাকেন।
করটিয়া হাটের হোটেল ব্যবসায়ী প্রল্লাদ দাস জানান, তিনি ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি গত ৩-৪ বছর আগে আনিসুর রহমান বিরুর কাছ থেকে একটি ভিটি কিনে হোটেল ব্যবসা করছেন।
আনিসুর রহমান বিরু জানান, বর্তমানে তার কাছে কোনো ভিটি খালি নেই। তবে যেগুলো ছিল, সেগুলো সব ভাড়া দিয়েছেন। ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী ও প্রল্লাদ দাস দেখেন। তারাই ঠিক করেন, কার ভাগে কয়টি ভিটি পড়বে বলেও জানান তিনি।
ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, এবার যাদের ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা আগে থেকেই সেখানে দখলে ছিলেন। আর একজন ব্যবসায়ী একটি মাত্র ভিটি পাবেন। তবে তার পরিবার বড় হওয়ায় তিনি ও তার স্বজনরা মিলে ১০-১২টি ভিটি বরাদ্দ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, করটিয়া হাটে আগে থেকেই যারা ভিটি দখল করে ছিলেন তাদের মাঝেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।