একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, রক্ত দিয়ে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, সেই বাংলাদেশকে পাকিস্তান হতে দেওয়া যাবেনা। বিএনপি’র কাছে বাংলাদেশ ভালো না পাকিস্তান ভালো লাগে। বিএনপি’র, মির্জা ফখরুল বলেছে পাকিস্তান ভালো, তাই মনে করি পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত। যদি পাকিস্তান ভালো লাগে তাহলে মির্জা ফখরুল পাকিস্তান চলে যান।
বুধবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী ও শোক সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, যদি শেখ হাসিনা আরো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকে থাকুক তাও পাকিস্তান সমর্থক কারী বিএনপিকে চাই না, এই বাংলাদেশকে আর পাকিস্তান বানাতে দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নেত্রীর সাথে কথা হয়েছে, তিনি নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে, তার সাথে চারিদিকে যারা থাকে তাদের চাইলেই লাথি দিয়ে ফেলে দিতে পারে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রধান সহায়তাকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান, যদি সেনাবাহিনীদেরকে জিয়াউর রহমান আশ্রয় না দিতেন তাহলে এই সাহস পেতো না।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সদস্য এ এইচ এম আব্দুল হাই’র সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন , সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী (কায়সার চৌধুরী), কেন্দ্রীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীর প্রতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, সদস্য শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, বাসাইল পৌরসভার মেয়র রাহাত হাসান টিপু প্রমুখ।
এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি।
বুধবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে দেশব্যাপী র্কমূচির অংশ হিসেবে শহরের বেপারীপাড়া এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের শান্তিকুঞ্জমোড়ে পৌছালে পুলিশি বাঁধার মুখে পরে দলটির নেতা কর্মীরা। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রৌফ, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শাহ আলম প্রমুখ।
এছাড়া মৌন মিছিলে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ঘাটাইলের আনেহলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার আনেহলা থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ থেকে ৮ মাস আগের একটি নাশকতার মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি তিনি।
তিনি আরও জানান, বুধবার (৩০ আগস্ট) তাকে কোর্টে চালান করে দেয়া হবে। আব্দুর রহিমের সাথে আরো কয়েকজন ছিলেন। অভিযানের সময় টের পেয়ে তারা পালিয়ে যান।
জামায়াতে ইসালামী টাঙ্গাইল জেলা শাখার আমীর আহসান হাবীব মাসুদ জানান, আব্দুর রহিম একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি স্কুলে তার অফিসে কাজ করছিলেন। শুধুমাত্র হয়রানী করার উদ্দেশে বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে গোপালপুর উপজেলা পরিষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সূতী ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সমাবেশে মিলিত হয়৷
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শামছুল আলম, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তােতা, জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ।
সমাবেশে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলো জিয়াউর রহমান। গ্রেনেড হামলারও পরিকল্পনাকারী ছিলো জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান৷ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য এ হামলা করা হয়। আজকে টাঙ্গাইলসহ দেশবাসী জেগে উঠেছে সেই ৭৫ সালের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়ার রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবিতে৷ একই সাথে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি করছি৷ বিএনপি আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে৷ আমরা এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো৷
এ সময় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কমীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অস্বাভাবিক মূল্যে ডাব বিক্রি করায় শহরের চারটি ডাবের দোকানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
শাহীনুর আলম জানান, শহরের বটতলা, পাঁচআনি ও জেনারেল হাসপাতালের সামনে ডাবের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর মধ্যে বটতলা বাজারে ডাব বিক্রির মূল্যতালিকা না থাকা ও বেচাকেনার রশিদ সংরক্ষণ না করায় অনিক ফল ভাণ্ডারকে দুই হাজার টাকা, পাঁচআনি বাজারে সোহরাবের ডাবের দোকানকে তিন হাজার টাকা, জেনারেল হাসপাতালের সামনের রাসেল ফল ভাণ্ডারকে ৫০০ টাকা ও ফরিদ ডাব ঘরকে ৫০০ টাকা মোট ছয় হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়।
তিনি জানান, বাজার তদারকিমূলক ওই অভিযানে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সহায়তা করে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার শুভল্যা এলাকা থেকে গত ২২ আগষ্ট ছিনতাই চক্রের চার জন সদস্য র্যাব পরিচয় দিয়ে ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার ২০০ টাকা ছিনতাই হওয়ার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার নারায়নপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে সফর উদ্দিন মুন্না (২২) ও কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দরিগাও গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ সবুজ (৩৩)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীসহ ৪ ডাকাত দল গত ২২ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শুভুল্যা নামক এলাকা থেকে র্যাব পরিচয়ে বিনিময় বাসে উঠে। বাসে থাকা ভিক্টিম হেলাল মোল্লাকে বাস থেকে নামিয়ে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়ায়। পরে তার সাথে থাকা ১৯ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। কিছু দুরে গিয়ে হেলাল মোল্লাকে মহাসড়কের একটি স্থানে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরদিন ২৩ আগষ্ট হেলাল মোল্লা মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ডিবি ও মির্জাপুর থানা পুলিশের একটি টিম একজনকে ময়মনসিংহ ও অপরজনকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃতদের সাথে থাকা একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৭৫০৭০), ক্যাপ, চশমা, বাঁশের লাঠি, গামছা, মোবাইল, ছিনতাইকৃত টাকায় কেনা একটি মোটরসাইকেল ও ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে আসামীদের ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: তারেক মিয়া (২৮) নামে এক টিউবয়েল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার দেবরাজ এলাকায় মোটরের কাজ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তারেক ওই এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, নষ্ট হওয়া মোটরের পাইপ তুলতে গিয়ে বিদ্যুতের ঝুলন্ত তারের সাথে ওই পাইপের সংস্পর্শ ঘটে। স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রেজাউল করিম জানান, কোনো পক্ষের অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলায় বেড়েই চলছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৬৬ জন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৮০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৪৩৯ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪১ জন রোগী। জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৮ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: মিনহাজ উদ্দিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ২২ জন, নাগরপুরে ১৭ জন, মির্জাপুরে ৯ জন, মধুপুরে ৮ জন, গোপালপুরে ৬ জন ও ধনবাড়ী উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: মিনহাজ উদ্দিন মিয়া জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন রাখতে হবে। জমানো পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে করে ডেঙ্গু বিস্তার করতে না পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক নারী। তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ওই নারীর দাবি, জেলার ছাত্রলীগ নেতা সোহেল খান ফাহাদ তার স্বামী। তিন বছর আগে তাকে বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে তিনি ফাহাদের বাসায় গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তিনি সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
সোহেল খান ফাহাদ সখীপুর শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও পৌর শহরের হুমায়ুন খানের ছেলে। তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করেছেন বলে অভিযোগ ওই নারীর।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, চার বছর আগে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তিনি নার্সের চাকরি করতেন। ফাহাদ ওই সময় তার এক আত্মীয়কে সিজার করাতে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফাহাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। ফাহাদ সরকারি চাকরি করবেন, তাই বিষয়টি কাউকে না জানাতে ওই নারীকে অনুরোধ করেন।
বিয়ের পর তারা মির্জাপুরের গোড়াই ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় খবির উদ্দিন ও আলম সিকদারের বাসায় ভাড়া থাকতেন। ফাহাদ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন। দুই মাস আগে তারা খবির উদ্দিনের বাসা থেকে চলে যান। পরে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি ফাহাদের মাকে জানালে তিনি ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলেন। সন্তান নষ্ট না করায় ফাহাদের মা বিষয়টি মেনে নেননি।
পরবর্তী সময়ে ফাহাদও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। শনিবার (২৬ আগস্ট) ফাহাদের বাড়িতে গেলে ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করেন ফাহাদের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তিনি সখীপুর থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকেও জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, আদালতে বিয়ের সময় ফাহাদ তার নাম পুরোপুরি লেখেননি। এছাড়া তার বাবার নাম ভুল দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কাগজটি ঠিক করলেও তিনি তার কাছে জমা দেননি।
হাঁটুভাঙা এলাকার বাসার মালিক খবির উদ্দিন বলেন, তারা প্রায় পাঁচ মাস আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। দুই মাস আগে তারা চলে যান। এরপর থেকে আমার সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল খান ফাহাদ বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সখীপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শেখ মোহাম্মদ লিটন বলেন, ঘটনা সত্য। মেয়েটি খুবই অসহায়। মেয়ে ও তার সন্তানের অধিকার আদায়ের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাজারের কালিবাড়ী সড়কে মহামায়া মার্কেটের শায়মা জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ আগস্ট) দিনগত রাতে চোরের দল দোকানের শার্টারের লক ও কলাপসিবল গেইটের এঙ্গেলবার কেটে প্রায় ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ওই চুরির ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে মার্কেটের স্বর্ণের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এসএম মনসুর মোসা, টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশ, বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকীসহ ব্যবসায়ী নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
দোকান মালিক দুলাল মিয়া জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও প্রয়োজন থাকায় বিকালে দোকানে এসে সামান্য কিছু কাজ সেরে বাড়ি চলে যান। রবিবার সকালে একই মার্কেটের ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কর্মকার মার্কেটের দোকান খুলতে গিয়ে ওই দোকানের কলাপসিবল গেইটের এঙ্গেলবার কাটা দেখতে পেয়ে তাকে ফোনে বিষয়টি জানান।
পরে মার্কেটে এসে দোকানে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। চোরের দল দোকানে ঢুকে শোকেসে সাজানো প্রায় ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। দোকানের ভেতরের তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা গামছা, টিস্যু ও কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। তবে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায় লাল রংয়ের মাস্ক পড়া একজন লোক দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং লুঙ্গি পড়া অপরজন বাইরে দাড়িয়ে আছে। এ ঘটনায় শায়মা জুয়েলারীর মালিক দুলাল মিয়া রবিবার মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, দোকান মালিক লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
একতার কণ্ঠঃ ১৯৭৪ সালের ১০মে বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে নিয়ে আসা হয় টাঙ্গাইলে। উদ্যোক্তা ছিলেন বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। কাদেররিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকীর গাড়ির বহরের সাথে এম্বুলেন্সে এ কবি আসেন টাঙ্গাইল শহরে। পুরো প্রোটোকলের দায়িত্ব পালন করেন বঙ্গবীর।

এটাই সম্ভবত ঢাকার বাহিরে কোন জেলা শহরে কবির প্রথম আগমন। কবির সাথী হয়ে এসেছিলেন নাতনি ছোট বয়সী খিলখিল কাজী। প্রথমে কবিকে নিয়ে আসা হয় তৎকালীন পুলিশ প্যারেড ময়দানে। এখন যেটিকে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান বলা হয়।
টাঙ্গাইলের অন্যতম বৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন নজরুল সেনার পক্ষ থেকে কবিকে গার্ড অব অনার দেয়া হয় সেখানে। কবিকে এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিয়ে আসা হয় ময়দানে। বৃষ্টির মধ্যে কয়েকশত নজরুল সেনা সদস্য সাদা পোশাক পরে গার্ড অব অনার দেন কবিকে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কবির মাথায় পরম মমতা আর শ্রদ্ধায় ছাতা ধরে থাকেন।
এই অনন্য ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন নজরুল সেনার প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট ফজলুল হক খান সাথী। যিনি হাইকোর্টের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। প্যারেড পর্ব পরিচালনা করেন প্যারেড টিমের প্রধান মরহুম সাংবাদিক কামরুল হাসান চৌধুরী। প্যারেড পরিচালনায় তাকে সহযোগিতায় ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মরহুম হাফিজুর রহমান, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, নারীদের মধ্যে ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন লিপি খন্দকার রানু, গ্রুপ ক্যাপ্টেন ওয়াহিদা রহমান নতুন।
নজরুল সেনার ব্যান্ড দলে ছিলেন এম,এ মতিন, শাহীন তালুকদার ও বতর্মানে আমেরিকা প্রবাসী শিবলী সাদিক।
জাতীয় কবির টাঙ্গাইলে আগমনের এই আলোকিত স্মরণীয় করে রাখতে নজরুল প্রেমী ফজলুল হক সাথী ভাই টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানের পাশেই ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নজরুল সেনা স্কুল।

তাকে সেসময় অর্থদানসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেন মরহুম সামসুর রহমান খান শাহজাহান, মরহুম শওকত আলী তালুকদার, খন্দকার জাহিদ মাহমুদ, মরহুম সাংবাদিক কামরুল হাসান চৌধুরী, নুরুল আমীন, প্রয়াত কামাক্ষা নাথ সেন প্রমুখ।
জাতীয় কবির টাঙ্গাইলে আগমনের এই আলোকিত দিনকে স্মরণীয় রাখতে কবি নজরুলের স্মৃতিধন্য তৎকালীন পুলিশ প্যারেড ময়দানের সামনের রাস্তাটিকে অর্থাৎ নিরালা মোড় থেকে জেলা সদর রাস্তাকে কবির প্রতি সন্মান জানিয়ে কবি নজরুল স্মরণী বলা হয়ে থাকে। (ঈষৎ সংশোধিত)
লেখক: প্রফেসর ড.জি.এম.শফিউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্র: আল রুহী, আতাউর রহমান আজাদ, এবিএম সালাউদ্দিন আহমেদ।
একতার কণ্ঠঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তির জামিন আবেদন খারিজের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ হত্যা মামলা ৬ মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সর্ব্বোচ আদালত।
রবিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।
এর আগে গত ১৯ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তির জামিন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তথ্য গোপন করে জামিন আবেদন করায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।
বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে এই হত্যায় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় আমানুর ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছেন।