যমুনার দূর্গম চরে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পর শহীদ মিনার


০৮:০১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১
যমুনার দূর্গম চরে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পর শহীদ মিনার - Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পর নিজস্ব অর্থায়নে এ বছর নতুন শহীদ মিনার নির্মান করেছে ভূঞাপুরের চর গাবসারা দাখিল মাদ্রাসা। পাকা ও স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এবারই প্রথম ২১ শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন হয়েছে, এই আনন্দে আত্মহারা মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা। ১৯৮৪ সালে যমুনা নদীর দূর্গম চরে মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়।প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পর এই প্রথম শহীদ মিনার হওয়াতে এলাকাবাসিও আনন্দিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল শহর থেকে ৩১ কিলোমিটার দুরে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী নৌকা ঘাট। এরপর নৌকা যোগে প্রায় ২০ মিনিট যাবার পর যমুনা নদীর পুংলীপাড়া ঘাট। তারপর কমপক্ষে ১৫ মিনিট বালু চরে পায়ে হেঁটে মাদ্রাসাটির অবস্থান।

৭৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত মাদ্রাসাটির ইবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত বর্তমানে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪০২ জন। শিক্ষক কর্মচারীসহ স্টাফ ১৫ জন। চরাঞ্চলের অতি সাধারণ মানুষের সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম উপজেলা ব্যাপী থাকলেও ছিল না স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতি বছর কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ২১ শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করতো।

এমনকি টিন ও কাঠ দিয়ে ছোট্র করে শহীদ মিনার বানিয়ে সেটি বেঞ্জ বা চেয়ারের উপর রেখে ফুল দেওয়া হতো। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ছিল, একটি স্থায়ী নতুন শহীদ মিনারের।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির সাথে আমরাও অনুধাবন করি একটি স্থায়ী শহীদ মিনারের। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে আর্থিক অনুদান পেতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হই। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে, প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অর্থে ২০২০ সালের আগষ্টে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি। অনেক দূরের বাজার থেকে এখানে ইট, রড়, সিমেন্ট নিয়ে আসা যে কি কষ্টের বলে বোঝাতে পারবো না।

করোনা ও বন্যার মধ্যেই বাকি করে এটি বানিয়েছি। এখনও কিছুটা কাজ অসম্পূর্ণ আছে। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেছি।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম, আসিফ সরকার, নাদিয়ারা বলে, আমরা কলা গাছের শহীদ মিনার বানিয়ে ফুল দিতাম। অনেকবার স্যারদের বলেছি। আশেপাশেও ভাল কোন শহীদ মিনার নেই। এবার নিজের মাদ্রাসায় নতুন পাকা শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরেছি। সত্যি আমাদের খুব আনন্দ লাগছে।

এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম বলেন, জেলার ১২ টি উপজেলায় আমাদের ৯৮৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮৩ টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ৪০৬ টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। এবার মাত্র ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেবারে নতুন শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। যাতে এবারই ফুল দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট কবি বুলবুল খান মাহবুব বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা ও স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। সরকারি ভাবে দৃঢ় নীতিমালা করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা দরকার।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গণি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানাতে এবং সবাইকে চেতনায় উজ্জীবিত করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিত। জেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। করোনা প্রভাব দূর হলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর কর্তৃপক্ষকে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হবে। প্রয়োজনে আমরা আর্থিক সহযোগিতা করবো।


পাঠকের মতামত

-মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।