টাঙ্গাইলে করোনায় অর্থাভাবে শিশু বিক্রি করলেন বাবা-মা


১৭ জুলাই ২০২১ | ৪৬৬ বার পঠিত
Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে অর্থাভাবে ৪৫ হাজার টাকায় তিন মাস বয়সী নিজের সন্তানকে বিক্রি করার ঘটনা ঘটেছে। এ খবর পেয়ে শিশুটি বিক্রি করার ১৬দিন পর স্থানীয় প্রশাসন শুক্রবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে।

জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের দিন মজুর শাহ আলম ও রাবেয়া দম্পতির তিন পুত্র সন্তান রয়েছে। দিন মজুর শাহ আলমের উপার্জনে পাঁচজনের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে করোনায় কয়েক মাস ধরে শাহ আলম বেকার। বেকার অবস্থায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদাররা প্রতিদিনই টাকার জন্য তাগিদ দিচ্ছিল। হতাশায় তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

শিশুর মা রাবেয়া জানান, তার স্বামী শাহ আলম পাওনা টাকা পরিশোধ ও সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তিন মাস বয়সী শিশু আলহাজকে বাইশকাইল গৈজারপাড়া গ্রামের সবুজ মিয়া ও স্বপ্না দম্পতির কাছে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, সবুজ ও স্বপ্না দম্পতি নিঃসন্তান। তারা শাহ আলম-রাবেয়া দম্পতির অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে শিশুটি কিনে নেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে দত্তক নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তারা তা করেননি। এ কারণে প্রশাসন সবুজ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশু আলহাজকে উদ্ধার করে মা রাবেয়া বেগমের কোলে তুলে দেয়। মানবিক দিক বিবেচনায় থানায় কোন মামলা নেওয়া হয়নি।

গোপালপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পারভেজ মল্লিক জানান, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দারিদ্রতা। পরিবারটিকে সার্বিকভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাবেয়া বেগমকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আয়া পদে চাকুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি জানান, প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত ওই শিশুর যাবতীয় ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার দায়িত্ব প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।


ফেসবুকে আমরা...

কপিরাইট © ২০২১ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।