একতার কণ্ঠঃ কাঙ্খিত হুইলচেয়ার পেল মো. জাহের আলী (৬০) ও ফিরোজা বেগম (৫০) দম্পতি। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এক অনারম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কাছে এই হুইলচেয়ারটি হস্তান্তর করা হয়।
হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে শারীরিক ভাবে পঙ্গু ও মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজা বেগম। সে ওই মুহূর্তে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে ফিরোজা বেগমের ভাঙ্গা ও ব্যবহার অযোগ্য হুইলচেয়ারটি পরিবর্তন করে নতুনভাবে জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন পেল এই দম্পতি। জয় হলো আবারও মানবতার।
মানবিক আবেদনে সারা দিয়ে হুইলচেয়ারটি প্রদান করেন শারীরিকভাবে পঙ্গুদের নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন সেন্টার ফর রুরাল ডিজেবল ডেভলপমেন্ট (সিআরডিডি) টাঙ্গাইল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিআরডিডির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবরার এইচ.কে ইউসুফ জাই, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিফাত মোহাম্মদ আরেফিন, জনতা ব্যাংক লিমিটেড টাঙ্গাইল শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের জেলা প্রতিনিধি ও একতার কণ্ঠের সম্পাদক মো. আরমান কবীর (সৈকত), টাঙ্গাইল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জাহিদ রানা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক সাইদুল ইসলাম মিন্টু, একতার কণ্ঠের বার্তা-সম্পাদক সাহান হাসান প্রমূখ।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের বড়টিয়া গ্রামের ভিক্ষুক দম্পতি জাহের ও ফিরোজার একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করেন দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি ও একতার কণ্ঠের সম্পাদক মো. আরমান কবীর (সৈকত)। পরে রবিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজের আইডিতে পোষ্ট করেন। ফেসবুকের সেই পোষ্ট দেখে টাঙ্গাইল জেলা ও জেলার বাহিরের অনেক হৃদয়বান ব্যক্তি তাদের কাঙ্খিত হুইলচেয়ার দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে জনতা ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে সামাজিক সংগঠন সেন্টার ফর রুরাল ডিজেবল ডেভলপমেন্ট (সিআরডিডি) টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি আবরার এইচ.কে ইউসুফ জাই একটি স্টেনলেস স্টিল হুইলচেয়ার এই দম্পতিকে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেহেদী হাসান নামের এক যুবক এই দম্পতির সাথে যোগাযোগ করে তাদের ঠিকানা জোগাড় করে দেয়। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে এই দম্পতিকে তাদের কাঙ্খিত হুইলচেয়ারটি হস্তান্তর করা হয়।