টাঙ্গাইলে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রেদওয়ানা ইসলামের জানাযা সম্পন্ন


০৭:২৭ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২১
টাঙ্গাইলে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রেদওয়ানা ইসলামের জানাযা সম্পন্ন - Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  রবিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মাঠে টাঙ্গাইলে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এলেন মল্লিকসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম খুনের মামলার প্রধান আসামী স্বামী মিজানুর রহমান মিজানকে (৪৫) গ্রেপ্তারে পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের ধারণা, পরিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকা- হয়েছে। নিহতের ভাই খন্দকার আসাদুল ইসলাম আবিদ বাদী হয়ে শনিবার(১৭ মার্চ) রাতে মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম রংপুরের রোমানতলা এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সেখানেই লাশ দাফন করা হবে। তার পলাতক স্বামী সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ী পাবনায়।

মামলার বাদী নিহতের ভাই খন্দকার আসাদুল ইসলাম আবিদ বলেন, ২০১৯ সালে আমার বোনের সাথে ব্যাংকার মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে জানতে পারি ও আরেকটি বিয়ে করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আমার বোনের সাথে মিজানের ঝগড়া বিবাদ হতো। মিজান বোনকে খুন করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। হাসপাতালে আমার বোনকে মিজানই খুন করেছে। আমরা দ্রুত খুনীর গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, চোখের সামনে আর কারো যেন অকালে তার বোনের লাশ দেখতে না হয়।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই শাহ্জাহান খান বলেন, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ছিল। বিরোধ মিমাংসা করতে জেলা কর্মকর্তারা একটি উদ্যোগও নিয়েছিলেন। সেই কলহের জের ধরেই এ হত্যাকা- ঘটে থাকতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। আসামী মিজানুর রহমানকে ধরতে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি অতি দ্রুতই ধরা পরবে।

এ মর্মান্তিক হত্যাকা-ে জেলায় ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে। জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীনের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী করছি। যাতে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে আর কেউ সাহস না পায়।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইলে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের একটি ভিআইপি কক্ষ থেকে খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মির্জাপুর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ জানান, রেদওয়ানা প্রসব ব্যাথা নিয়ে গত ২২ মার্চ মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই তিনি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এরপর থেকে কন্যা সন্তানকে আইসিও’তে রাখা হয়। গত চারদিন আগে রেদওয়ানা ইসলামকে চিকিৎসকরা ছুটি দিয়ে দেন। কিন্তু জন্ম নেওয়া মেয়ে হাসপাতালে থাকার কারনে রেদওয়ানা হাসপাতালেই থেকে যান। শনিবার সকালে তার স্বামী মিজানুর রহমান আসেন হাসপাতালে রেদওয়ানার সাথে দেখা করতে। বিকেলে হাসপাতালের নার্স রেদওয়ানার কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কক্ষের বিকল্প চাবি দিয়ে তালা খুলে ভেতরে রেদওয়ানার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে দেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।


পাঠকের মতামত

-মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।