একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, তৃণমূলের কর্মীরা দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। সামাজিক সম্মানটুকু ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা তারা পান না। কাজেই, তৃণমূলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে, প্রার্থী মনোনয়ন করা হবে। আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খলিত একটি রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনের আগে জেলার সম্মেলন শেষ করতে হবে। ।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ওই সব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করা হবে। দলকে সুশৃংখল এবং ঐক্যবদ্ধ করে নতুন ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে নেতৃত্বে আনা হবে। শিক্ষিত মানুষ দ্বারা দলকে পরিচালনা করতে হবে। তারা র্নিমোহ জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করবে। শুধু ধর্ম নিরপেক্ষতা বললেই মানবতাবাদী হবে না। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতিকে মানবিক চেতনায় উদ্ধুদ্ব করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে বিএনপি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করতে চাইবে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেই প্রতিহত করার জন্য নেতাকর্মীদের মোকাবেলা করার প্রস্তুত থাকতে হবে। অতীতেও আমরা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও বিএনপি জামাতের আন্দোলন প্রতিহত করতে হবে। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ কোনদিন চোরাগলি পথে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ সবসময় সহজ-সরল পথে হেঁটে, গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার গঠন করেছে, দেশ পরিচালনা করেছে এবং এখনও করছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখনো তৎপর। তারা এখনো নানান ষড়যন্ত্র করছে। তারা এখনো এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আজও পর্দার অন্তরাল থেকে নীল কুটির, লাল কুটির ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপিসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের চার জন আশ্রয়হীনকে টিনশেড ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার( ২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন,টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষায়ক সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মইনুল হোসেন লিন্টু, ,সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান,শহর আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকশনা সম্পাদক কাজী শফিকুল মওলা দোয়েল, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুর রফিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য,‘‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” শ্লোগানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) কর্মসূচি এর আওতায়,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনে টাঙ্গাইলে আশ্রয়হীনদের মাঝে টিনশেড ঘর প্রদান প্রকল্পের আওতায় ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি টিনশেড ঘরে আছে দুটি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচাগার।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সদরে অবস্থিত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন সংলগ্ন আমতলা থেকে রাশেদুল ইসলাম ফকির (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, নিহত রাশেদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের মিস্ত্রিগাতি এলাকার রওশন আলী ফকিরের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় রিকশা চালাতেন।
পুলিশ জানায়, রাশেদুলের মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ পাশ থেকে একটি রক্তমাখা হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় ছিনতাইকারী চক্র তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় এবং মুখে আঘাত করে হত্যা করেছে।
টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক আরিফ ফয়সাল জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় টাঙ্গাইলে দুটি ক্লিনিককে সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া আরো দুটি ক্লিনিককে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন। এ সময় তার সঙ্গে সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তাসহ আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন বলেন, ‘লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় শহরের শামসুল হক ক্লিনিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সোনার বাংলা ক্লিনিকের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লিনিক দুটি সিলগালা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ছাড়াও ফাতেমা ক্লিনিক ও রোকেয়া আইকেয়ার সেন্টারকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করে বৈধ কাগজ পত্র করার জন্য সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার( ২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আবার নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এ নিয়ে ১৫ বারের মতো তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেন আদালত।
সহিদুর রহমান সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খানের ভাই ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আতাউর রহমান খানের ছেলে। ৯ মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। গত ১৮ আগস্ট সকালে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে জেলা কারাগার থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান জানান, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বৃহস্পতিবার ছিল ফারুক হত্যা মামলার ধার্য তারিখ। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার সাক্ষী পুলিশের কনস্টেবল হারুন অর রশিদকে হাজির করে। কিন্তু মামলার অন্যতম আসামি সহিদুর রহমান হাসপাতালে থাকায় তাঁকে হাজির করা হয়নি। তাই সাক্ষ্য গ্রহণও হয়নি।
সহিদুরের আইনজীবীরা তাঁর জামিন আবেদন করেছিলেন। তাঁরা যেকোনো শর্তে সহিদুরের জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ আবেদন নামঞ্জুর করেন। আগামী ১১ অক্টোবর এই মামলার সাক্ষী গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুকের ব্যথা নিয়ে সহিদুর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁর হৃদ্যন্ত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে থাইরয়েড ও কিডনিতে কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। হাসপাতালে থাকতেই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিন দিন আগে তিনি করোনামুক্ত হন। কোমরে ব্যথার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থেকে গত ২ ডিসেম্বর সহিদুর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মুক্তি। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তার পর থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারা হেফাজতে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অগ্রগতি ও পর্যালোচনামূলক উন্মুক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ডেমক্রেসিওয়াচ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুন, ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন ও শামীমা আক্তার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী মোশরাত জাহান। দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাভলু মিয়ার লাভুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর মো. জিয়াউল করিম, ডেমক্রেসিওয়াচের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. লুৎফর রহমান।
উন্মুক্ত সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুই শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়। এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। এ ছাড়াও ভবিষ্যতে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী সৈয়দ আমেনা পিংকিকে হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে টাঙ্গাইল থানায় মামলা করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন মামলা করার বিষয় নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর জন্য বৃহস্পতিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে আবেদন করা হবে।
মোর্শেদকে পুলিশ গত ১৯ আগস্ট একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরে ওই দিনই তার বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলায় বর্তমানে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।
মোর্শেদ ছাড়াও হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সোমা ওরফে মনা, মুন্সি তারেক পটন ও তার স্ত্রী লিনা, পারভেজ খান রনি, সোহেল ওরফে বাবু, অনন্ত সুত্রধর, রাফসান ও আয়নাল মিয়া। এরা সবাই শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা। মামলায় এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও তিন চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রী সৈয়দ আমেনা পিংকির বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বাদি হযে গত ২৪ আগস্ট টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে সৈয়দ আমেনাকে মোর্শেদ অপহরণ করে বিয়ে করেন। তাদের ছয় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারে মাঝে মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকার এক বাসায় দাওয়াতের কথা বলে মোর্শেদ আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় মোর্শেদ তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মোর্শেদের ভয়ে তিনি মামলা করতে সাহস পাননি। পরে মোর্শেদ ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত এ হত্যার বিষয়ে থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল কিনা তার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কোন মামলা বা জিডি হয়নি বলে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলা করার জন্য টাঙ্গাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিতেন। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদের বিরুদ্ধে করা ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
একতার কণ্ঠঃকেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশিদ বলেছেন, আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বিএনপি লম্ফজম্ফ করছে। তারা ডিসেম্বর থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করবে। নেত্রী হুকুম দিলে সামনের ডিসেম্বর কেন, কোন ডিসেম্বরেই বিএনপি মাঠে নামতে পারবে না। তাদের জ্বালাও পোড়াও নাশকতা প্রতিরোধে যুবলীগই যথেষ্ট। তারা কোন দিনই রাজপথে বের হতে পারবে না। বুধবার(২২ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি ওই কথা বলেন।
জেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউর রহমান চঞ্চলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন খসরু, সহসম্পাদক হিমেলুর রহমান হিমেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেরুল হাসান সোহেল, সদস্য মাহমুদুল হাসান, মনিরুল ইসলাম কবির ও জহিরুল হক জাকির প্রমুখ
সভায় জেলার যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়কগুলো ব্যানার, ফেসটুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীতের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ ওয়ালটন গ্রুপের উদ্যোগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কনভেনশন সেন্টারের উন্নয়নে চারটি ( চার টনের) এসি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলে প্রেস ক্লাবে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে এসিগুলো হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর অহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, ওয়ালটন সিএসআর কমিটির সদস্য সচিব এবং ওয়ালটন সিএসআর এন্ড ওয়েলফেয়ার সেকশন ইনচার্জ মো. সাফায়েত হুদা, পিন্সিপাল অফিসার ফেন্সী ইসলাম, ওয়ালটন টাঙ্গাইল প্লাজার ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ জানান, ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের জন্য নানাভাবে সহয়োগিতা করে আসছে। এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে ওয়ালটন আন্তঃউপজেলা প্রেসক্লাব ক্রিকেট টুনামেন্টসহ অভ্যন্তরীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করে থাকে। ওয়ালটনের এই ধারাবাহিক সহাযোগিতার কারণে ওয়ালটন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নূরুল আলম রেজভীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়া (মুচিপট্টি) এলাকায় সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযান চালিয়ে ১০০ লিটার চোলাই মদ সহ দুই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া (মুচিপট্টি) এলাকার মৃত শিবু রবি দাসের ছেলে লিটন রবি দাস (৩০) ও একই এলাকার মৃত দুলাল রবি দাসের স্ত্রী বীনা রবি দাস (৪২)।
র্যাব-১২ জানায়, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল র্যাব গোপনে খবর পেয়ে মুচিপট্টিতে অভিযান চালায়। এ সময় ১০০ লিটার চোলাই মদ সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইল শহরের রেজিষ্ট্রিপাড়া ও বাস টার্মিনাল এলাকায় রোববার(১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আলাদা অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সহ ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব-১২)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুরপাড়ার স্বর্গীয় হরিদাস সরকারের ছেলে গোবিন্দ সরকার(৪২), সদর উপজেলার আগবেথৈর গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন(৪৫), ভূঞাপুর উপজেলার পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে মো. রাশেদুল ইসলাম(৩১), রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার মহদীপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রাজিব আহাম্মেদ(৩১), একই জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গ্রামের মৃত শাজাহান আলীর ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ(৩৫) ও একই এলাকার মৃত এলাহী বক্সের ছেলে মো. মানিকুল ইসলাম(৪৫)।
র্যাব-১২ প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন(জি)বিএন এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল টাঙ্গাইল শহরের রেজিস্ট্রি পাড়াস্থ ভিক্টোরিয়া রোডে স্যামসাং শো-রুমের পাশে অভিযান চালায়। এ সময় ৬ ক্যান বিয়ার, ৬ বোতল দেশি মদ, পাঁচটি মোবাইল ও পাঁচটি সিম কার্ড এবং নগদ দুই হাজার ১০০ টাকা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১২ জানায়, একই দিন সকালে বাসটার্মিনালে সোনিয়া নার্সিং হোমের পাশে অভিযান চালিয়ে ৫০ গ্রাম হোরোইন, দুইটি মোবাইল ফোন ও দুইটি সিমকার্ড এবং নগদ তিন হাজার ১৭০টাকা সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শীর্ষ সন্ত্রাসী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান ওরফে কোয়ার্টার রনিকে গ্রেপ্তারের পর এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একটি ছিনতাই মামলায় রবিবার(১৯ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শনিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁকে ঢাকার মোহম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আতিকুর রহমান টাঙ্গাইল শহরের দেওলা মিল্ক ভিটা সড়কের সি অ্যান্ড বি কলোনির বাসিন্দা। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। টাঙ্গাইলের অপরাধ জগতে তিনি কোয়ার্টার রনি নামে পরিচিত। গত সেপ্টেম্বরে পুলিশ তালিকাভুক্ত অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পৌরসভার কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর রনি আত্মগোপনে চলে যান।
রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকার মোহম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনিকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, চারটি অস্ত্র মামলাসহ নয়টি মামলা আছে। শহরের তালিকাভুক্ত অন্যান্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, সদর থানার একটি ছিনতাই মামলায় আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে রবিবার টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক ফারজানা হাসানাত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে কোয়াটার রনি ও তার সহযোগীরা টাঙ্গাইলের পিচুরিয়া এলাকা থেকে শামীম ও মামুন নামের দুইজনকে অপহরণের পর খুন করে লাশ গুম করার ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় রনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। কোয়াটার রনির বিরুদ্ধে দুইটি খুন, ৪টি অস্ত্র মামলাসহ আরো তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও সে সদর থানায় দায়ের হওয়া ছিনতাই মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী।