একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে রকি (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল-নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের সদর উপজেলার অলোয়া তারিনী বটতলা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত রকি টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বায়োজিদ মিঞার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রকি ও তার বন্ধু সোলায়মান মোটরসাইকেল যোগে টাঙ্গাইল থেকে নাগরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের মোটরসাইকেলটি টাঙ্গাইল-নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের অলোয়া তারিনী বটতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা উভয় মোটরসাইকেলের তিনজনকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নবীন জানান, দুর্ঘটনায় রকি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীসহ দুইজন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছে আরো একজন। বুধবার(২৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা এবং সদর উপজেলার তারটিয়া এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে খালেদ হাসান (২৫)। সে মির্জাপুর কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিল। অপরজন নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলাউদ্দিন আহমেদের ছেলে রবিউল ইসলাম (২১)।
মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আজিজুল হক জানান, বুধবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা এলাকায় রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় ঢাকাগামী সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়।
অপরদিকে, সকালে মহাসড়কের সদর উপজেলার তারটিয়া এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মোটরসাইল আরোহী খালেদ হাসান নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই বিপ্লব খান (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই নবীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন না মঞ্জুর হয়েছে।সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি শেষে এমন আদেশ দিলেন আদালত।এ নিয়ে মোট ১৬ বার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হল।
সহিদুর টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ভাই এবং ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান এমপি আতাউর রহমান খানের ছেলে। প্রায় ১১ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মুক্তির আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করেছিলেন। সোমবার (২৫ অক্টোবর) এই আবেদনের শুনানিতে তারা যে কোনো শর্তে সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক মাসুদ পারভেজ তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর গত ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তারপর থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারা হেফাজতে আছেন।
গত ১৮ আগস্ট সহিদুর রহমান খান মুক্তি কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে তাকে আবার টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজ পাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে এ দু’জনের দেওয়া স্বাীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পন করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাদের অন্য দুই ভাই এখনও পলাতক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছে। এতে বাবা ও বড় ছেলে আহত হয়েছে।শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা রেলক্রসিং এ ওই দুর্ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হতাহতরা হলেন, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ময়থা উত্তরপাড়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী সানসিয়া সুলতানা সারা (২৫) ও তার ছোট ছেলে রাইয়ান ( আড়াই বছর)। আহত হয়েছে নিহতের স্বামী আজগর আলী (৩০) ও বড় ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (৫)।
সানসিয়া সুলতানা সারার ভাই জামিলুর রহমান বলেন, হাতিলা গ্রামে আজগর আলী তার মামার বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হাতিলা রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় তারা ছিটকে পড়ে যায়। এতে মা ও ছেলের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। আহত বাবা ও বড় ছেলেকে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজিব পাল চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে দুইজনকে আনা হয়। তবে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘারিন্দা রেল স্টেশন মাস্টার সোহেল রানা জানান, আজগর আলী স্ত্রী ও দুই সন্তানকে মোটরসাইকেলে নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার মোটরসাইকেল পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চনের ২৮ তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার(২২অক্টোবর) বিকেলে নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার উদ্যোগে টাঙ্গাইল পৌরসভার মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর। নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এলেন মল্লিক। নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ঝান্ডা চাকলাদারের সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সহ-সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু ও সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশ প্রমুখ।
আলোচনা শেষে জাহানারা কাঞ্চনের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখা অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলে বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়েছে। শুক্রবার(২২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহমুদ হাসান। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়।
দিবসটি উপলক্ষে ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব পাল, বিআরটিএ টাঙ্গাইল সার্কেল সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন, মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, নিরাপদ সড়ক চাই টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ঝান্ডা চাকলাদার প্রমুখ।
এ সময় জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ, বিআরটিএ ও নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সহ-সভাপতি,অর্থ সম্পাদক,প্রচার সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার(২১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরিফুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ, এনজিও ফোরামের প্রতিনিধি শামীম আল মামুন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার শিমু সাহা, মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আর্দশ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইবনে মায়াজ প্রামানিক।
একতার কণ্ঠঃ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে টাঙ্গাইলের যমুনা নদী থেকে ‘মা’ ইলিশ ধরার অপরাধে মো. আ. খালেক নামে এক জেলেকে ৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া আরও দুই জেলেকে ২০০ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।এসময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলীসহ নৌ পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে সরকার। সেই সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যমুনা নদী থেকে ইলিশ ধরার অপরাধে সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের চক গোপাল গ্রামের আজিম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে মো. আ. খালেককে ৫ দিনের কারাদণ্ড এবং আরো দুই যুবককে ২০০ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এছাড়াও প্রায় ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৭ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাউদ হাসানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন হাফিজুর রহমান। বিচারক সেই আবেদন নামঞ্জুর করে হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান। গত ৫ জুন হাফিজুর রহমান শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় একটি জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে ওই জমির মালিকের জামাতার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি তাকে বলেন ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও মানি না।’ এ সময় তিনি অশালীন মন্তব্যও করেন। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ বাদি হয়ে কাউন্সিলর স্বপনের বিরুদ্ধে ৯ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এছাড়াও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় শহরের আকুর টাকুর পাড়ার প্রয়াত আশরাফ চৌধুরীর জামাতা মফিজুর রহমান টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকে হাফিজুর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালতে গিয়ে আট সপ্তাহের জামিন লাভ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরে তার জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেন।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শন তানভীর আহমেদ জানান, কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের পর হাফিজুর রহমানকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র পদ থেকেও অব্যহতি দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার গালা গ্রামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার গালা গ্রামের এক পুকুর থেকে পারুল বেগম (৪০) নামের নারীর অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে সদর ফাঁড়ি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর যাবত এই নারীকে গালা বাজারসহ আশেপাশে ঘুরতে দেখছেন সবাই। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। পারুলের মৃগী রোগ থাকায় গালা গ্রামের কবর স্থান সংলগ্ন পুকুরে তিনি পড়ে যেতে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারনা।
টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ আরিফ ফয়সাল জানান, সকালে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাকে মোবাইলে জানিয়েছেন, গালা গ্রামে একটি পুকুরে লাশ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পারুল নামের ওই মানসিক রোগীর লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পাই।
তিনি আরো জানান,মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের কান্দিলা বাজারের তিন তারা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেণ্টের সামনে মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে ২৩০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. মঞ্জু মিয়া(৩১) ও সাবালিয়া এলাকার মো. ফজল মিয়ার ছেলে ছদরুলর আলম সবুজ ওরফে নাদিম(২৩)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে একদল র্যাব কান্দিলা বাজারে অভিযান চালায়।
অভিযানে ২৩০ পিস ইয়াবা, দুইটি মোবাইল সেট ও সিমকার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ১০০ টাকা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ আজ ১২ অক্টোবর(মঙ্গলবার) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা আর গবেষণার বদৌলতে মানুষ আজ অনেক অজানাকে জেনেছে, অসাধ্যকে সাধন করেছে এবং পৌছেছে উন্নতির স্বর্ণশিখরে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব আজ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত ও অনস্বীকার্য।
বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তােলার লক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে গবেষণায় বাংলাদেশে ২য় অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কসহ বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলােতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এটি বর্তমানে দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পছন্দের অন্যতম তালিকায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী সন্তোষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘােষণা দেন।
১৯৭০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর সন্তোষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী “আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শিরোনামে একটি লিখিত বক্তব্য (নিবন্ধন) এর মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী তার প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) এর চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করেন।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫টি মূলনীতি ছিল ? ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্যে যে কোন একটি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকবে। খ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার দৈহিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। গ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে তার ধর্মের মূলশিক্ষা বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে দান করা হবে এবং তা অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। ঘ. কেরােসিন তৈল ও লবণ ছাড়া বাকী সবকিছু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎপাদন করে নিতে হবে । ঙ. প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবর্ষগুলির মধ্যে চার-পাঁচ সপ্তাহ কাল প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবা শিল্প এলাকায় হাতে কলমে কাজ করতে হবে।
নানা প্রতিবন্ধকতার পর ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০০১ সালের ১২ জুলাই এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর। যা টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
৫৭.৯৫ একর (২৩.৩২ অধিগ্রহণকৃত) আয়তনের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ১৮ টি বিভাগ চালু রয়েছে। সম্প্রতি ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ খোলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৩৩ জন (ছাত্র: ৩১০৩ জন ও ছাত্রী: ২২৩০ জন) শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে ৪৩২৬ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৯৬৮ জন, পিএইচডিতে ১৫ জন ও পিজিডি-ইন-আইসিটি ২৪ জন অধ্যয়নরত। সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ২৪৩ জন (পুরুষ: ১৮১ জন ও নারী: ৬২ জন)। যার মধ্যে অধ্যাপক ৩০ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৭৭, সহকারী অধ্যাপক ৯৬ জন, প্রভাষক ৪০ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রীধারী ৬০ জন। এছাড়া ২৪৯ জন কর্মকর্তা ও ৩৬৬ জন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা আব্দুল মান্নান হল, আলেমা খাতুন ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল, শেখ রাসেল হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নামে ৭ টি হল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ ১৪২৯ জন, বিএসসি (অনার্স) এ ২৬৩৪ জন, বিবিএ তে ২৭৯ জন, বিএসএস (অনার্স) এ ১৮৩ জন, বি ফার্ম এ ২৭ জন, এমএস/এমএসসি তে ১২৯৬ জন, এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)/এম ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০৫ জন, এমএসএস এ ২৮ জন, এমবিএ তে ১০৮ জন, পিজিডি-ইন-আইসিটিতে ২৮৭ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ২০০০০ টি বই, ৯৪১ টি জার্নাল এবং সাময়িকী ও প্রায় ৩০০০০ টি ই-বুক রয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাথে চীনের স্বনামধন্য ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্নারক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোঃ China Three Georges University, Hubei University PR China, Chengdu Textile College (CTC) China, University of Electronics Science & Technology China ও Shenyang University of Chemical Technology (SUCT) China
বর্তমান বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও বাংলাদেশের ‘রূপকল্প’ এবং ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১’ বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩শ ৪৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রায় সমাপ্তির পথে।বিশ্ববিদ্যালয়টি ২২ বছরে পদার্পণ করলেও ২০০৮ সাল পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকারের সময়ে এসে এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে এর উন্নয়ন চিত্র চোখে পড়ার মতো হয়েছে।
বর্ণিত প্রকল্পে ভৌত অবকাঠামোগত সকল কম্পোনেন্টের ই-জিপি তে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ও কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুমোদিত প্রকল্পটির আওতায় বাস্তবায়নাধীন ১২.৭৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, ১২-তলা বিশিষ্ট একাডেমিক-কাম-রিসার্চ ভবন নির্মাণ, ১০-তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক অ্যানেক্স উত্তর ভবন নির্মাণ, ২৫০ ছাত্রের জন্য নির্মাণাধীন জননেতা আব্দুল মান্নান হলের অবশিষ্ঠ ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ, ৭০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ”শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল” নির্মাণ, ৫৫০ ছাত্রের জন্য ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত ”শেখ রাসেল হল” নির্মাণ, ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণ।
এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন, মাটি ভরাটসহ অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ড্রেইন এবং ঢাকনাযুক্ত ডাষ্টবিন নির্মাণ, নতুন স্থাপনাসমূহে গ্যাস লাইন সংযোগ, প্রস্তাবিত ভবনসমূহের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি/ল্যাব যন্ত্রপাতি, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়, অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বই ও সাময়িকি ক্রয়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ০২ টি বাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ০১টি মিনিবাস ও ০১টি মাইক্রোবাস ক্রয় কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন কাজ বর্তমানে সমাপ্তির পথে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হলে শিক্ষা, প্রশাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে যা দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে সহায়ক হবে।
ইতোপূর্বে ”মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন”-শীর্ষক প্রকল্প (জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৭ মেয়াদে) ৫১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা (সংশোধিত ৫৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা) ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি গত ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ছিল: ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন নির্মাণ, জননেতা আব্দুল মান্নান হল নির্মাণ, আলেমা খাতুন ভাসানী হল নির্মাণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরী নির্মাণ (২০ ইউনিট), নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গ্যাস লাইন, জেনারেটর যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ক্রয়, ১টি মাইক্রোবাস ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় ইত্যাদি।
এছাড়াও “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন”-শীর্ষক গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই ২০০৮ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত মেয়াদে মোট ৩৭ কোটি ০৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৫-তলা লাইব্রেরী কাম ক্যাফেটেরিয়া ভবন নির্মাণ, ৪০০ আসনের ছাত্র হল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হল নির্মাণ, ৫-তলা ৩০ ইউনিটের শিক্ষক কর্মকর্তা ডরমিটরী নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ৪-তলা ভিতে ২-তলা একাডেমিক ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিস্তম্ভ ও এর চত্ত্বর নির্মাণ, মুক্তমঞ্চের উন্নয়ন, বিজয় অঙ্গন চত্ত্বর নির্মাণ, ঢাকাস্ত গেস্ট হাউজ ক্রয় (শ্যামলীতে দু’টি ফ্লাট), লাইব্রেরীতে ”মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার” স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় ৪০০ পুস্তক ক্রয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ”প্রত্যয় ৭১” এর সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আইপি ক্যামেরা-এর আওতায় আনয়ন।
একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে লাইব্রেরী অটোমেশন, ই-বুক, ই-জার্নাল, আইসিটি সেল স্থাপন, ইনিস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) স্থাপন, রিসার্স সেল-এর মাধ্যমে শিক্ষকগণের গবেষণা পরিচালনা, বিডিরেন কতৃক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেনসমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) বাস্তবায়ন।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে বলে বর্ণিত আছে। মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে এ ক্যাম্পাসে ৪৯.১৫ একর জমির মধ্যে ১২.৯০ একর জমিতে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে একাধিক সরকারী (দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি), স্বায়ত্ব শাসিত বা সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত (শিশু হােস্টেল, মাদ্রাসা, ভাসানী হুজুর এর দরবার হল, মুসাফির খানা, মাজার, মসজিদ ইত্যাদি), বেসরকারীভাবে পরিচালিত (ভােকেশনাল হাইস্কুল, সাধারণ হাই স্কুল, টেকনিক্যাল কলেজ, এদের আবাসিক ছাত্র/ছাত্রী হল), মন্দির, পুরাতন ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে এবং অত্র ক্যাম্পাসে ১৫.৪০ একর জমিতে ১টি দিঘীসহ বড় বড় ৪টি পুকুর রয়েছে। অবশিষ্ট মাত্র ২০.৮৫ একর জমিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে পার্শ্বস্ত এলাকার জনসাধারণ অবাধে চলাচল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুলক প্রকল্প নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে যার মধ্যে-কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, ছাত্র হল, ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম, জিম্নেসিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন, শিক্ষক ক্লাব, কর্মকর্তা ক্লাব নির্মাণ ইত্যাদি থাকবে। তাছাড়া ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
করোনাকালীন পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা সেশনজট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী সম্পন্ন করতে লাগছে ৫ থেকে ৬ বছর এবং স্নাতকোত্তরে লাগছে ১.৫ থেকে ২ বছর। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ৭ থেকে ৮ বছর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক শীল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বেশিই ভালবাসে এ কারণে ছাড়তে চায় না, আমাদেরও যেতে ইচ্ছা করে না। অভিমান-ক্ষোভ যতই থাক, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ছাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তালিকায় উঠে আসুক সেই প্রত্যাশা রাখি, এগিয়ে যাক সামনের দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরে আলম মাসুম বলেন, প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা মনে পরলেই নস্টালজিয়ায় ভুগি। সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলাম বলে ক্যাম্পাসে ঘটনাবহুল সময় পার করেছি আমি। যৌবন এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কাটিয়েছি সন্তোষের প্রতিটি অলি গলিতে। মাভাবিপ্রবি আমার পরিচয়, আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমগ্র বিশ্বে গবেষণা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নাম হয়ে উঠুক মাভাবিপ্রবি। ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আমার প্রত্যাশা।
২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সকল কর্মসূচি পালন করা হবে।
দিনটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, ১০ টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরালে ও মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১০ টা ২০ মিনিটে পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা, কেককাটা এবং বাদ যোহর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।