একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সন্তান প্রসবের ১৮ ঘণ্টা পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এক কিশোরী। রবিবার(১৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। তার নাম বীথি আক্তার।বীথির বাড়ি ঘাটাইলের সানবান্ধা গ্রামে।
বীথি আক্তার উপজেলার মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব তাকে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর উপজেলার মোন্তাজনগর গ্রামের রানা হাসান নামের একজনের সঙ্গে বীথির বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি থেকে সে ২০১৯ সালে মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে।
করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসএসসি পরীক্ষা হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত না হওয়ার একপর্যায়ে বীথি আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বীথির প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল চারটায় স্বাভাবিকভাবে বীথি ছেলেসন্তানের মা হয়। হাসপাতাল থেকে রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে বীথিকে তার মা এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যান।
ওই শিক্ষকেরা জানান, সে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।
উপজেলার মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসে বলেন, মেয়েটি ভালো ছাত্রী। বিয়ের পর সে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অন্যান্য মেয়ের মতো নিয়মিত ক্লাস করেছে। সে দমে যায়নি। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব—এসব বাধা তাকে থামাতে পারেনি। বীথি প্রধান শিক্ষককে বলেছে, সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।
মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, সদ্য সন্তান প্রসবের কারণে বীথির পরিবার থেকে তাকে পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য বলা হলেও সে শোনেনি।
সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সচিব এমদাদুল হক মিয়া বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে আমি মেয়েটির খোঁজ নিয়েছি। সে খুব সাহসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই উপজেলায় দুই শতাধিক মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তিনি বীথিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, সখীপুর উপজেলায় এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। এর মধ্যে ২৪ জন মেয়ে ও ২১ জন ছেলে। এসএসসিতে অনুপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১১ জন মেয়ে। দাখিলে অনুপস্থিত ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন মেয়ে।
বাল্যবিবাহ হওয়ায় মেয়েরা এবং জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়ায় ছেলেরা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৩ উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ৫টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সখীপুর উপজেলায় এ ইউনিয়নে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে দুইটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হোসেন ১৪ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ পান ৬৮৭৫ ভোট।
বহেড়াতৈল ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৯ হাজার ৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম ফেরদৌস তিনি পান ৬ হাজার ১৪৭ ভোট।
যাদবপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী একেএম আতিকুর রহমান ১০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খন্দকার বজলুর রহমান বাবুল পান ৬ হাজার ১৫৮।
বহুরিয়া ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরকার মোহাম্মদ নূরে আলম মুক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পান ৮ হাজার ৭০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রাথী গোলাম কিবরিয়া সেলিম পান ৬ হাজার ২১৭ ভোট।
ধনবাড়ী উপজেলা: এ উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এবং ৩টিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও ১ টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। অপরদিকে মুশুদ্দি, বীরতারা এবং বলিভদ্র ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়।
ধোপাখালী ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৮ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী কামাল হোসেন তালুকদার পান ৪ হাজার ১৩৭ ভোট।
যদুনাথপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মীর ফিরোজ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১৬ হাজার ৩৩৪ জন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ পান ৭১৫ জন।
বানিয়াজান ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রাথী রফিকুল ইসলাম তালুকদার ফটিক ৯ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাসুদ আলম পান ১ হাজার ১৯ ভোট।
পাইস্কা ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া) জাহাঙ্গীর আলম ৭ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আরশেদ আলী পান ২ হাজার ৩৬৫ ভোট।
এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন- বলিভদ্র ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, মুশুদ্দিতে আবু কায়সার ও বীরতারাতে আমহেদ আল-ফরিদ। এরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন।
দেলদুয়ার উপজেলা: এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৫টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ডুবাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াস মিয়া, ফাজিলহাটী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত আলী, দেলদুয়ার সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ উজ্জামান খান, পাথরাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাম প্রসাদ ও দেউলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রার্থী দেওয়ান তাহমিনা হক বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া লাউহাটী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন মোহাম্মদ খান ও এলাসিন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মানিক রতন বিজয়ী হয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ডাবল রেল লাইন করা হবে খুব দ্রুতই। বঙ্গবন্ধু রেল সেতু কাজ শেষ হবার আগেই ওই কাজ শুরু করা হবে।’
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেল স্টেশনের প্লাটফর্ম কাজের উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘২০২৪সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা থেকে উত্তর বঙ্গের সব রেল লাইন ডবল করা হবে। যাতে করে দুই লাইনে রেল চলাচল করতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন রেলের প্রতি বেশি আগ্রহী। যাতে করে রেলে বেশি যাতায়াত করে সেই দিকে নজর দেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও রেল মন্ত্রনালয়ের সচিব সেলিম রেজা, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল থেকে ২০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে মানুষ। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর আগে নিরালা সুপার বাসে ১৬০ টাকা দিয়ে মহাখালী যাওয়া গেলেও এখন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এছাড়া এ রুটে চলাচলকারী বিলাস বহুল সকাল সন্ধ্যা ও সোনিয়া গাড়িতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে বাসস্টান্ড এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।
বাস চালকরা জানান, ডিজেলের দাম হঠাৎ করে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তারপর থেকে পরিবহন ধর্মঘটে নামে বাস ও ট্রাক চালকরা। বাস ভাড়া সমন্বয় করার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে টাঙ্গাইল থেকে মহাখালী পর্যন্ত ধলেশ্বরী বাসে ১৩০ টাকার পরিবর্তে ১৬০ টাকা, নিরালা সুপার ১৬০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও এসি বাসে টাঙ্গাইল থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত সোনিয়া ও সকাল সন্ধ্যা বসে ৩০০ টাকা পরিবর্তে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকামুখী তোরাব আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে টাঙ্গাইল থেকে মহাখালীর ভাড়া ছিলো ১৬০ টাকা। আজকে ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলাম। যা কিছুর দামই বৃদ্ধি পায়, সব কিছু জনগনের উপর দিয়ে যায়। আমাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
অপর যাত্রী রাজ্জাক আলী বলেন, সরকার ডিজেল চালিত বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। তবে কোন বাসটি ডিজেল ও কোন বাসটি গ্যাসে চলে সেটা আমরা শনাক্ত করতে পারছি না। যে কারণে গ্যাসের বাস গুলোও আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
শওকত আলী বলেন, জ্বালানী তেলের দাম বাড়ায় বাস মালিক ও চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। কিন্তু যাত্রীদের কোন বেতন ভাড়া বাড়েনি এটা দুঃখ জনক।
নিরালা সুপারের টিকেট মাস্টার শরিফ মিয়া বলেন, মালিক সমিতির নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে খুব বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। মাত্র ৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সোনিয়া কাউন্টারের টিকিট মাস্টার সুধীপন সাহা ও সকাল সন্ধ্যা কাউন্টারের টিকেট মাস্টার রিয়াদ মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল থেকে কল্যাণপুরের ভাড়া ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ৫০ টাকা করে বেশি আদায় করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, সরকার ৫২ সিটের বাস ভাড়া যে হারে বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেই হারেই আদায় করা হচ্ছে। তবে গেট লক ৪০ সিটের বাসের ভাড়া কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ দেশের বৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে যানবাহন থেকে টোল আদায়ের হার। এর আগে ১৯৯৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০১১ সালে টোল বৃদ্ধি করা হয়। মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বৃদ্ধি নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের এর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ওই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন জারি হলেও বুধবার ৩ (নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু সেতুতে পারাপার হওয়া যানবাহন থেকে পূর্বে ধার্যকৃত রেটে টোল আদায় করছে কর্তৃপক্ষ। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই চালকদের অবহিত করতে তাদের হাতে টোল বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বিলি করছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সেতু বিভাগের আওতাধীন বঙ্গবন্ধু সেতুর জন্য অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেনীবিন্যাস এবং টোল হার ধরা হয়েছে যথাক্রমে মোটরসাইকেল ৫০ টাকা, হাল্কা যানবাহনের মধ্যে কার/জিপ ৫৫০, মাইক্রো, পিকআপ ৬০০, ছোট বাস (৩১ আসন বা এর কম) ৭৫০, বড় বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) ১০০০, ছোট ট্রাক (৫ টন) ১০০০, মাঝারি ট্রাক (৫ টন থেকে ৮ টন) ১২৫০, মাঝারি ট্রাক (৮ টন থেকে ১১ টন) ১৬০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল) ২০০০, ট্রেইলার (৪ এক্সেল) ৩০০০, ট্রেইলার (৪ এক্সেলের অধিক) ৪০০০ টাকা এবং সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রতিবছর ১ কোটি টাকা টোল আদায় করা হবে।
বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, টোল বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। অতিদ্রুতই নতুন রেটে সেতুতে টোল আদায় শুরু হবে। টোল বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন চালকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ব্যাপক প্রচারের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে এই সংক্রান্ত লিফলেট ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেতু টোল বৃদ্ধি নিয়ে চালকদের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বুধবার(৩ নভেম্বর) সকালে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন এমপি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হোসেন ছোট মনির এমপি, সহ-সভাপতি শামসুল হক ও আনিসুর রহমান আনিস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা ও জামিলুর রহমান মিরন, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
পরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।
এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা হত্যা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ছেলেবেলার ভুল লোকে আমলে নেয় না। বরং আদরের ছলে পিঠ চাপড়ে বলে, ‘ছোট মানুষ, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু ঠিক কত বড় হলে ‘সেসব’ ঠিক হয়ে যায়, সে বিষয়ে কেউ নিদান দেয় না। ধরে নেওয়া হয়, পূর্ণবয়স্ক হলে ঠিক হয়ে যাবে।
লোকসমাজের এই প্রথা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেও বেশ মানানসই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করতে পারছে না? হতাশ হবেন না। বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরুন।
সান্ত্বনাবাণী কিংবা সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’র নাদের আলীর মতো কবিতাসর্বস্ব প্রতিশ্রুতি নয়। মরাবাড়িতে আসা প্রতিবেশীদের বাস্তব পরামর্শের মতো নিতে পারেন কথাটা।
সেই প্রার্থনার ভাষা অনেকটাই জেমসের এই গানের কথার মতো—‘সবুজ ঘাসে/একা একা/শুধু পথচলা/সারারাত তারা দেখে/নির্ঘুম ডানা মেলা/বৃষ্টির আঁধারে/অবিরাম ভিজে চলা/সব ভুলে চিৎকারে/এসো হোক প্রার্থনা/বড় হও, দীর্ঘ হও, শুধু বেড়ে ওঠো, শুধু বেড়ে…।
একটা উদাহরণ দিই। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আজ ৯ ওভারের মধ্যে ৩৬ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে ‘নস্টালজিক পারফরম্যান্স’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সর্বশেষ কোনো ম্যাচে ৯ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছিল প্রথম সংস্করণে—২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
সে ম্যাচে ৯ ওভারের মধ্যে ৪৮ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে অলআউট। এই ১৪ বছর পেরিয়ে আজ বাড়ল ১ রান—মানে ৮৪ রানে অলআউট।
এবার একটি হিসেব কষা যাক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বয়স ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সংস্করণটির দৈর্ঘ্য বিচারে টগবগে ‘যুবক’ বলাই যায়। তো, এই যুবক শৈশবে থাকতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট হারানোকে কেউ ব্যর্থতার চোখে দেখেনি। ছোট মানুষ, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে—ভেবেছেন সবাই।
দুর্ভাগ্য, সব ভাবনা বাস্তবতার আলো দেখে না। উদাহরণ রয়েছে আমাদের আশপাশেই।
এই তো আমাদের লোকসমাজেই এমন অনেক মানুষ আছেন—যাদের বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেও মাথাটা আর বাড়ে না। নাবালকই থেকে যায়। সমাজে তাঁরা যেমন মশকরার পাত্র তেমনি দীর্ঘশ্বাসও ফেলা হয়।
তেমনি বাংলাদেশ দলও এই সংস্করণে ১৫ বছর পার করেও শৈশব (প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি) ধরে রাখায় মশকরা করবেন না দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন, তা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে বাস্তবতাকে এড়িয়ে চলার সুযোগ তো নেই। এই ম্যাচের বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশ দলের বয়স কমছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে ৪০ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অনেক জল গড়িয়েছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়, বাংলাদেশ দল বড় হয়ে ওঠার বেগ বাড়াতে খেলোয়াড় পাল্টিয়েছে এন্তার, কিন্তু চাইলেই তো সব হয় না। তাহলে পৃথিবীতে ‘বুড়ো খোকা’ শব্দটা থাকত না। (সমর্থকদের) প্রার্থনায় কাজ হতো।
কিছু বিষয় তো ভাগ্যের হাতে—ঠিক যেভাবে বাবা-মায়ের শত প্রার্থনার পরও গায়ে-গতরে বেড়ে ওঠা সন্তানের বুদ্ধি-সামর্থ্য হয় না। অভিজ্ঞতার যূপকাষ্ঠে পুড়ে অঙ্গার হওয়া মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে তা কে ভালো বুঝবে!
২০০৭ বিশ্বকাপের সে ম্যাচের দল থেকে শুধু তিনজন খেলোয়াড় এখনো টিকে আছেন টি-টোয়েন্টি দলে। এদের একজন চোটে পড়ে বিদায় নিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপ থেকে। বাকি নাম দুটো না বললেও চলছে। শুধু তাঁদের বুদ্ধিমানের মতো কাজগুলো দেখুন।
প্রতি ম্যাচ হারের পর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সব রকম কথার অন্তর্নিহিত বার্তা একটাই—‘চেষ্টা তো করছি কিন্তু হচ্ছে না।’ অর্থাৎ, ভাগ্য—সেই বুড়ো খোকার ভাগ্য! শরীর ও বয়স বাড়লেও মনের তো বুদ্ধি কমছে। মুশফিক নিজে তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না বলেই হয়তো বুদ্ধি খাঁটিয়ে আয়নায় সবাইকে দেখে নিতে বলেছেন।
তেমন এক নস্টালজিক আয়নাতেই ধরা পড়ল সত্যটা—১৪ বছর আগের সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে ৪০ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৪ বছর পর তেমনই এক ম্যাচে সেই ৮.১ ওভারেই বাংলাদেশের অর্জন ৫ উইকেটে ৩৪। সামর্থ্যের ‘বয়স’টা তাহলে বাড়ল না কমল?
মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা যেহেতু সরাসরি বলতে পারছেন না, আনুষ্ঠানিক কথার ভাঁজে ‘গোপন বার্তা’ রেখে বোঝাতে হচ্ছে—দায়িত্বটা তাই কাঁধে তুলে নিয়েছে কচি-কাঁচার দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে রান তোলার তাড়া সইতে না পেরে রানআউট হয়েছিলেন নাদিফ চৌধুরী। তখন তিনি দলের ‘নতুন কুঁড়ি’দের একজন, টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা হয়েছে।
১৪ বছর পর আজকের ম্যাচে সেই একই পরিস্থিতিতে দলের মনের বয়সটা যে একই জায়গায় আছে, সেটাও বুঝিয়েছেন আরেক ‘নতুন কুঁড়ি’—আফিফ হোসেন।
ম্যাচ পরিস্থিতি কোনো বিষয় না, অনেকটাই বয়ঃসন্ধি কালের রোমাঞ্চের জ্বালা-পোড়া সইতে না পেরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির ‘ভবিষ্যৎ’ প্রথম বলেই হাঁকিয়ে মারতে গিয়ে আউট।
কিন্তু এ কথাও সত্য, কেউ তো ইচ্ছে করে আউট হয় না। সমাজে যে লোকটা বুড়ো বয়সে কম বুদ্ধি-সামর্থ্যের বলি হয়ে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইছে, খোঁটা শুনছে —সে কী আর ইচ্ছে করে এসব করবে! মোটেও না। হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, আজ আবুধাবির উইকেট—দক্ষিণ আফ্রিকা টস জেতার পর সবুজাভ উইকেট দেখে বোলিং নেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। বোঝাই যাচ্ছিল, সবুজ উইকেটের পূর্ণ সদ্ব্যবহারে প্রস্তুত দুই পেসার কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নর্কিয়া।
প্রস্তুত ছিলেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহও। রাবাদা ও নর্কিয়ার লেংথ থেকে তোলা বলগুলো খেলতে দুজনের ঘাম ছুটলেও চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু ওই যে দুর্ভাগ্য, ব্যাটে খেলতে গিয়েও বলের ছল-চাতুরীর শিকার! ছুঁয়ে দিয়ে ‘আপন’ করেছে ফিল্ডারকে!
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড় ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও যখন এমন বল সামলাতে পারেন না, তখন ছোটদের কথা না তোলাই ভালো।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, কেউ তো আর ইচ্ছে করে খারাপ খেলে না, ক্যাচ ছাড়ে না, আউট হয় না। সবই অনিচ্ছাকৃত ভুল। হয়ে যায়। ব্যাপারটা এমনই ‘প্রাকৃতিক’—আর কে না জানে প্রকৃতির খেয়াল-খুশির ওপর কারও হাত নেই। এই কথাটা খেলোয়াড়েরা বুঝলেও অবুঝের মতো আচরণ করছেন শুধু সমর্থকেরা।
সব ম্যাচেই শুধু চাই, চাই আর চাই। আরে ভাই, বিধিলিপি বলেও তো কিছু আছে! সেই ‘লিপি’র তোয়াক্কা না করে খেলোয়াড়দের এন্তার সমালোচনার হেতু কি? মাহমুদউল্লাহই বলেছেন,খেলোয়াড়েরাও তো মানুষ! আর মানুষ মাত্রই ভাগ্যের শৃঙ্খল-বন্দী।
বোকা সমর্থকেরা তা না বুঝেই প্রতি হারের পর মা-বাবা যেমন সন্তানদের শাসন করেন, খেলোয়াড়দের সেভাবে ‘শাসন’ করে আবার প্রার্থনায় বসেন পরের ম্যাচের জন্য।
সেই প্রার্থনার ভাষা অনেকটাই জেমসের এই গানের কথার মতো—‘সবুজ ঘাসে/একা একা/শুধু পথচলা/সারারাত তারা দেখে/নির্ঘুম ডানা মেলা/বৃষ্টির আঁধারে/অবিরাম ভিজে চলা/সব ভুলে চিৎকারে/এসো হোক প্রার্থনা/বড় হও, দীর্ঘ হও, শুধু বেড়ে ওঠো, শুধু বেড়ে…।
হ্যাঁ, শুধুই বেড়ে ওঠা। আর কিছু না!
সংবাদ সূত্রঃ প্রথম আলো অনলাইন
ছবিঃ রাইজিং বিডি
একতার কন্ঠঃ রবিবার(৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার আমতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে ২নং বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকা মার্কার পথসভা চলছিল। পথসভায় সভাপতিত্ব করছিলেন ওই এলাকারই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক (মেলেটারী)।সভাপতির নির্ধারিত বক্তব্য দিচ্ছিলেন আবদুল মালেক। বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলেই তিনি বসে পড়লেন। ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে।
ওই পথসভায় উপস্থিত একাধিক কর্মী সমর্থক জানান, বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক দ্রুত বসে পড়েন।বসে পড়ার পাঁঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। পরে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকও তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেকের এমন মৃত্যুতে পরিবার, এলাকা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের ছেলে কাদের হাসান জানান, বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আজন্ম বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ছিলেন তিনি।জয় বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুর স্লোগান দিতে দিতেই তাঁর মৃত্যু হলো।
আবেগে আপ্লুত কাদের হাসান আরও বলেন, স্বপ্নেও ভাবিনি বাবার মুখে এটাই ছিলো আমাদের শোনানোর মতো শেষ কথা!
ওই পথসভায় উপস্থিত উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবু বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও তিনি যে বক্তব্য রেখে গেছেন, তা অবশ্যই আমাদের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ( ১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক মেলেটারীর লাশ দাফন করা হবে।
৬০০
একতার কণ্ঠঃ পণ্য কিনতে গিয়ে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে গত ২১ অক্টোবর ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) পক্ষে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিকাশ, নগদ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়।
এই রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে পণ্য কিনতে গিয়ে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সাত প্রতিষ্ঠানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় সিসিএস।
প্রসঙ্গত, ই-কমার্সে কোনো গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দিলে তার টাকা বর্তমানে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকে। পণ্য ডেলিভারি হওয়ার পর প্রমাণ জমা দিয়ে সেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান টাকা ছাড় পান।
গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে এক নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু গ্রাহক পণ্য না পেলেও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া টাকা ফেরত পান না। ফলে গ্রাহকের টাকা আটকে থাকছে।
এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে গ্রাহকের কয়েকশ’ কোটি টাকা গেটওয়েগুলোতে আটকে আছে।
সূত্রঃ সময় নিউজ টিভি
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের খামারপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বাড়ি থেকে শনিবার(৩০ অক্টোবর) দুই নারীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
তাৎক্ষণিক তদন্ত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শনিবার বিকালে টাঙ্গাইলের নবাগত পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আমরা রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি আক্তার ও তার শাশুড়ি জমেলা বেগমকে হত্যার পর পরকীয়া প্রেমিক শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।’
ওই সময় কাশতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বসতঘর থেকে তার স্ত্রী সুমি আক্তার(২৫), জয়েন উদ্দিনের মা জমেলা বেগম(৫৫) এবং পরকীয়া প্রেমিক শাহজালাল ইসলাম সোহাগের(৩০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মুমূর্ষু অবস্থায় জয়েন উদ্দিনের চার বছরের ছেলে সাফিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুমি আক্তারের পরকীয়া প্রেমিক শাহ জালালের বাড়ি কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া এলাকায়। তিনি সাতুটিয়ার সোহরাব আলীর ছেলে।
গৃহবধূ সুমি আক্তার ঘাটাইলের কাশতলা দক্ষিণ পাড়া সুতার বাড়ির জিন্নত আলীর মেয়ে। সুমি ও শাহ জালালের লাশ প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বসত ঘরের বিছানার ওপর এবং জমেলা বেগমের লাশটি ঘরের মেঝেতে পড়েছিল। তিন জনের লাশ উদ্ধার হওয়া বসত ঘরের দেয়ালে নিহতদের রক্ত দিয়ে বার্তা লেখা ছিল- ‘এমনটা হত না যদি আমার সুমী আমার কাছে থাকত, এই সবকিছুর জন্য সুমীর বাবা দায়ী’।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে সুমি ও শাহজালাল পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। প্রায় পাঁচ মাস তারা ঘর-সংসার করে। এরপর সুমির বাবা জিন্নত আলী তাদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে সুমিকে বাড়িতে রেখে দেয়। ওই সময় সুমি অন্তঃসত্তা ছিল।
পরে তার গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করার শর্তে সুমির আগের স্বামী জয়েন উদ্দিন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সুমিকে আবার তার কাছে ফেরত নেন। এর কিছুদিন পর জয়েন উদ্দিন আবার বিদেশে চলে যান। সন্তান নষ্ট করায় সুমির সাবেক স্বামী অর্থাৎ পরকীয়া প্রেমিক শাহজালাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’
তিনি বলেন, ‘সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিন বাড়িতে না থাকায় শাহজালাল মাঝে মধ্যেই সুমির শশুরবাড়িতে আসত। ঘরের বারান্দার লোহার গ্রিলের চাবিও ছিল শাহজালালের কাছে। পরে শুক্রবার(২৯ অক্টোবর) দিনগত রাতে শাহজালাল সুমির ঘরে প্রবেশ করে।
একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে তার সাবেক স্ত্রী সুমি ও সুমির শাশুড়িকে হত্যা করে। এসময় সুমির শিশু সন্তানকে সাফিকেও হত্যার চেষ্টা করে। এরপর শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করে।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ছুরি সহ বিভিন্ন আলামত ঘেটে আমরা বিষয়টির রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছি। তারপরও ঘটনাটির অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পরকীয়ার জেরে তিন খুন হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে র্যাব। এ ছাড়া তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার কারণ হিসেবে পুরোনো প্রেমকে দায়ী করছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা।
টাঙ্গাইলের র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জমেলা, সুমি ও শাহজালাল নামের তিনজনের লাশ বসতঘর থেকে পাওয়া গেছে। এসময় সুমির শিশু সন্তানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের পাশে ছুরি ও হাতুড়ি পাওয়া গেছে। এছাড়া যে ঘরে লাশ পাওয়া গেছে তার দেওয়ালে লেখা আছে, ‘এমনটা হতো না যদি আমার সুমি আমার কাছে থাকতো। এই সব কিছুর জন্য সুমির বাবা দায়ী।’ তাই পরকীয়ার জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, স্কুলজীবন থেকে শাহজালালের সঙ্গে সুমির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ৫ বছর আগে সুমির সঙ্গে জয়েনুদ্দিনের বিয়ে হয়। কিছুদিন সংসার করার পর জয়েনুদ্দিন বিদেশ চলে যায়। এ সুযোগে সুমি আবার শাহজালালের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করে। গত ৬ মাস আগে শাহজালালের সঙ্গে সুমি চলে যায়। শাহজালালের সঙ্গে প্রায় দুই মাসের মতো সংসার করে। পরে জয়নুদ্দিন প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফিরলে সুমিকে নিয়ে পুনরায় সংসার শুরু করে। আড়াই মাস আগে জয়েনুদ্দিন সৌদি চলে যায়। গতরাতে আবার শাহজালাল সুমির সঙ্গে দেখা করতে আসে। সকালে শুনি জয়নুদ্দিনের ঘরে তিন জনের লাশ পরে আছে।
দিঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন জানান, ‘শাহজালালের সঙ্গে সুমি অবৈধ সম্পর্ক ছিল। প্রায় ৬ মাস আগে শাহজালালের সঙ্গে সুমি পালিয়ে গিয়েছিল। শুনেছি তারা বিয়েও করেছিল। পরে সুমির স্বামী বিদেশ থেকে ফিরে আবার তাকে বাড়িতে এনেছিল।’
উল্লেখ্য, শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার দিঘর ইউনিয়নের কাশতলার খামারপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে
মৃত হয়রত আলী স্ত্রী জমেলা বেগম (৬৫), তার প্রবাসী ছেলে জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি বেগম (২৬) ও কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া পূর্বপাড়া এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে শাহজালাল ইসলাম সোহাগের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি বাসা থেকে দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার( ৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দিঘর ইউনিয়নের কাশতলার খামারপাড়া এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলো- ওই গ্রামের জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি বেগম (৩০) জয়েনের মা জমেলা বেগম (৬৫) এবং কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া বাজার এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে শাহজালাল (২৫)।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, হামিদপুরের খামারপাড়া গ্রামে সৌদি আরব প্রবাসী জয়েনের বাড়ি থেকে তার মা, স্ত্রী ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের ভেতরে লাশগুলো পরে ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক শিশুকে (৫) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। শিশুটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটা এখনো পুলিশ নিশ্চিত নয়। তদন্ত করে এর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।