/ হোম / জাতীয়
বাসাইল উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি - Ekotar Kantho

বাসাইল উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি

একতার কণ্ঠঃ দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান গাউসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেই সঙ্গে দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মতিয়ার রহমানকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই চিঠি মতিয়ার রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মতিয়ার রহমান বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠির কপি দেখেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুল আলম জেলা নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর ‘নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তে’ মতিয়ার রহমান গাউসকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।

মতিয়ার রহমান জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতিয়ার রহমান গাউস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী অলিদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শামছুল আলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৫৫:পিএম ৫ বছর আগে
১৪ বছর পর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সাঈদ - Ekotar Kantho

১৪ বছর পর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সাঈদ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় আবু সাঈদ তালুকদারের (৪২) পাঁচ বছরের সাজা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হয়ে পালিয়ে থাকেন ১৪ বছর। অবশেষে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া গ্রেপ্তারের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

সাঈদ উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কদ্দুস তালুকদারের ছেলে। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি ১৪ বছর পলাতক অবস্থায় ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন বলে জানিয়েছে সখীপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরের কচুয়া সড়কে গাউজ ভাণ্ডারি কাগজ বিতান নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রবাসীদের ব্যাংক ড্রাফটের ব্যবসা করতেন আবু সাঈদ। ওই সময় তিনি সখীপুর বাজার বণিক সমিতির বিভিন্ন সদস্যদের কাছ থেকে মাসিক হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বাজারের বণিক সমিতির সদস্য মামুন মিয়া টাঙ্গাইল আদালতে তার বিরুদ্ধে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। সে বছর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ২০০৮ সালে সাঈদ তালুকদারের পাঁচ বছরের সাজা হয়।

সখীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সানিউল আলম জানান, গ্রেফতারের ভয়ে ২০০৭ সালে পালিয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া চলে যান সাঈদ। সেখানে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। ১৪ বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে খবর পেয়ে তাকে পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া জানান, সাজাপ্রাপ্ত আবু সাঈদের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তার সাজা হয়েছে। তিনি থানার তালিকায় পুরাতন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেফতার করতে তার মায়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবু সাঈদের ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। আবু সাঈদকে ধরতে থানার পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করেন। পরে সোমবার ভোরে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো বলেন,  গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এএসআই সানিউল আলম ও এএসআই এনামুলকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করা হবে বলেও জানান ওসি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:৪৮:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপিত

একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও কেককাটা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী, টাঙ্গাইল জেলা বাসকোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি ও দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা।

পরে অতিথিবৃন্দ কেক কেটে দেশরত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৩৭:এএম ৫ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন আজ - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন আজ

একতার কণ্ঠঃ সংকট, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৭৪ বছর অতিক্রম করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর ৭৫তম জন্মদিন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। চার দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন চতুর্থ দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কারও নেই।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। আজ বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় আজ বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি। পার্বত্য চুক্তি, ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান, একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়সহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে তাঁর সময়ে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে তিনি রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও ভৌত উন্নয়নের জন্য তিনি ১০০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ‘ডেলটা প্ল্যান’ বা ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত।

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন।

শৈশব, শিক্ষা, পরিবার ও ছাত্ররাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়। আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার সময় তিনি ১৯৬২ সালের হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন স্পষ্টভাষী, স্কুলে তিনি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও নেতৃত্ব দিতেন।

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের (সাবেক ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে) ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন শেখ হাসিনা। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬৭ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

বঙ্গবন্ধু ষাটের দশকে প্রায়ই কারান্তরীণ থাকতেন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনার বিয়ের সময়েও তিনি কারাগারে ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের তত্ত্বাবধানেই ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এখন প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।

সংকটময় পথে

শেখ হাসিনার জীবনে গভীরতম সংকট নেমে এসেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা ও সদস্য সপরিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তিনি তখন স্বামী-সন্তান, ছোট বোন শেখ রেহানাসহ অবস্থান করছিলেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। দেশে না থাকায় সেদিন তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। তবে শুরু হয় দুঃসহ এক জীবন। প্রথমে জার্মানি এবং পরে ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হন।

সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে এক ক্রান্তিকাল দেখা দেয়। জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করায় গভীর সংকট দেখা দেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দলের সেই বেসামাল পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আসে সেই দিন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে। সেদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দলের অগণিত নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁদের সভাপতি শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে।

স্বজন হারানোর ছয় বছর পর শোকাচ্ছন্ন শেখ হাসিনা দেশের ভেজা মাটিতে পা রাখলেন। তিনি সমবেত জনতাকে বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলায়। এ দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছুই নেই।’ দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্তত ২২ বার হামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

সংগ্রামী পথচলা

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার সঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।

প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম সাফল্য ছিল ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছরের চুক্তি এবং পাহাড়ে সংঘাত নিরসনে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এ ছাড়া কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন তিনি।

বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০৬ সালে বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগ। নানা সংকটময় পরিস্থিতির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় ১৪-দলীয় মহাজোট। এই জোট ভোটে জয়লাভ করে।

শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এ ছাড়া তিনি তিন মেয়াদে সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নারীশিক্ষায় অগ্রগতি, বিভিন্ন ভাতা ও বৃত্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক জনগণের আর্থিক সুরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড, জিডিপির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিসহ জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:১০:পিএম ৫ বছর আগে
ই-কমার্সের প্রতারণা: গ্রাহকের ৩৪৪৪ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত - Ekotar Kantho

ই-কমার্সের প্রতারণা: গ্রাহকের ৩৪৪৪ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত

একতার কণ্ঠঃ ইভ্যালিসহ প্রতারিত ১২ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপও নিতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনও পাওনা আদায়ে কাজ করতে পারছে না। এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হচ্ছে দেওয়ানি আইনে। নিবন্ধন দেওয়ার পরও রেজিস্ট্রার অব জয়েনস্টক কোম্পানি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। ধারাটি জামিনযোগ্য। ফলে যে কোনো সময়ে গ্রেফতারকৃতরা বৈধভাবেই জামিনে বেরিয়ে আসতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহুল আলোচিত ইভ্যালি নিবন্ধন নিয়েছে রেজিস্ট্রার অব জয়েনস্টক কোম্পানি (আরজেসি) থেকে। কিন্তু ই-অরেঞ্জ, ধামাকা কোনো নিবন্ধন নেয়নি। এতদিন ব্যবসা পরিচালনা করছে শুধু একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে। বাকি প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা একই।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা চাপ সৃষ্টি করতে পারি ইভ্যালির ওপর। প্রকৃত অর্থে আমাদের আইনের কিছু দুর্বলতা আছে। এই আইনে আটকে আছি। তবে নতুনভাবে যাতে ই-কমার্স খাতে এ ধরনের প্রতারণা না হয় এজন্য এ বিষয়ে কাজ হচ্ছে। আইনমন্ত্রীকে বলা হয়েছে। তিনি কাজ করছেন। একটি আইন করে তার বিধিমালা করা হবে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সহায়তা লাগবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ইভ্যালি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪২০ ধারায়। এটি জামিনযোগ্য ধারা। তারা জামিনে বের হতে পারে।

প্রসঙ্গত নীতিমালা এবং আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ই-অরেঞ্জের গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের ১১০০ কোটি টাকা পকেটে ভরেছে। ইভ্যালিও নিয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। এছাড়া ধামাকা নিয়েছে ৮০৩ কোটি টাকা, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১৫০ কোটি টাকা, এহসান গ্রুপ ১১০ কোটি টাকা, নিরাপদডটকম ৮ কোটি টাকা, চলন্তিকা ৩১ কোটি টাকা, সুপম প্রডাক্টের ৫০ কোটি টাকা, নিউ নাভানার ৩০ কোটি টাকা এবং কিউ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ১৫ কোটি টাকা, সিরাজগঞ্জশপ ৪৭ কোটি, আলাদিনের প্রদীপ ১০০ কোটি টাকা নিয়েছে।

দেশে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারে যাতে কেউ অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য কাজ করছে বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশন। ইতোমধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি মামলা করছে। তবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি প্রতিযোগী কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান চলছে দেওয়ানি আইনের ওপর। এর অধীনে বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করার প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে তার বার্ষিক টার্ন ওভারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান আছে। প্রতিযোগিতা কমিশন কোনো ক্রিমিনাল আইনে পরিচালিত হয় না। তিনি আরও বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই রায় দেওয়া হবে।

টাকা ফেরত পাওয়া প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। এখন গ্রাহকদের টাকা ফেরত চেয়ে একটি আবেদন করে আদালতের নজরে আনতে হবে। আবেদনের পর হয়তো আদালত বিবেচনায় নেবে।

জানা গেছে, সিআইডি মোট ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে। বেশিরভাগ গ্রাহককে পণ্য বা টাকা ফেরত না দেওয়া সংক্রান্ত। বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় এনে এর বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। কারণ এ আইনে ই-কমার্স খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মানি লন্ডারিং আইনটি সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদি এটি শেষ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।

জানা গেছে, বর্তমান অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় নাম পাওয়া গেছে এক হাজার প্রতিষ্ঠানের।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চলিত আইন সংশোধনের মাধ্যমে যথাযথ প্রয়োগ করে প্রতারণামূলক ই-কমার্স ব্যবসাগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এছাড়া দক্ষ জনবল বৃদ্ধিও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন তারা আরও সতর্কভাবে ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে পারে এবং প্রতারণামূলক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান থাকতে পারে।

সংবাদ সূত্র-যুগান্তর আনলাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৪৮:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যমুনা ও ধলেশ্বরীর ভাঙন পরিদর্শনে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যমুনা ও ধলেশ্বরীর ভাঙন পরিদর্শনে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব

একতার কণ্ঠঃ যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে  নাগরপুরের বিভিন্ন ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় প্রকল্প গ্রহনে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব কবির-বিন-আনোয়ার। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর তিনি স্পিডবোর্ড যোগে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের জাতীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটুকে সাথে নিয়ে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

দুপুরে তিনি  উপজেলার খাষঘুনিপাড়া এলাকার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলেন। এসময় ভাঙনরোধে পাউবোর চলমান প্রকল্পেরও খোজ খবর নেন। এদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব পরিদর্শনে এসেছেন এমন খবর  ছড়িয়ে পড়লে নদী পাড়ের হাজারো অসহায় পরিবার সেখানে  উপস্থিত হয়। তারা ভাঙন কবলিত এলাকায় তীর সংরক্ষন বাঁধ নির্মানে ব্যবস্থা গ্রহনে জোর দাবি জানায় ।

পরে সাংবাদিকদের সিনিয়র সচিব কবির-বিন-আনোয়ার জানান, যমুনার পশ্চিম পাড় মোটামুটি বাঁধের আওতায় আসলেও পূর্ব পাড়ের বেশিরভাগ অঞ্চল এখনও অরক্ষিত রয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান হাতে নিয়েছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে নদীর এ পাড়ও বাঁধের আওতায় আসবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ, টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমদাদুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, সোলাইমান ভূইয়া, আবু ইউসুফ, নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:৫৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পরকীয়ার সন্দেহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার স্বামী আবদুল লতিফ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার(২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘাটাইলের রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর তেঁতুলতলা গর্জনাপাড় গ্রামে  ওই ঘটনা ঘটে। স্ত্রী  পরকীয়ার সন্দেহের বহির্প্রকাশে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে ।

নিহতের নাম সবুরা বেগম (৪৫) বেগম। তিনি রসুলপুর তেঁতুলতলা গর্জনা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই কায়ছার হামিদ বাদী হয়ে রবিবার( ২৬ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল থানায়  হত্যা  মামলা দায়ের করেছেন,

মামলার বাদী কায়ছার হামিদ বলেন, তার বোনজামাই কাতার প্রবাসী। তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। ফেরার পর থেকে মিথ্যা অপবাদে তার বোনের সঙ্গে ঝগড়া করত। তাকে ভয় দেখিয়ে বলত— ‘আমি যদি আজকে তোকে মেরে ফেলি তবে আজকেই বিদেশ চলে যাব’-এ রকম ভাবে বকাবকি ও  নির্যাতন করত।

তিনি আরো বলেন,  শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার ভাগ্নে সাব্বির স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় যায়। সেখান থেকে দুপুর ১২টার  বাড়ি ফিরে ঘরের ভেতরে দেখতে পায় তার বোনের মুখে টেপ পেঁচানো অবস্থায় একখাটে আর  বোনজামাই বিষপান করে অন্য খাটে পড়ে রয়েছে।পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার বোনের মুখে টেপ পেঁচানো লাশ দেখতে পাই। আর তার বোনস জামাইকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে তিনি দাবি করেন।

ঘাটাইল থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার  জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী বিষপানে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান,  ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:১৯:এএম ৫ বছর আগে
মেধাবী তরুণদের আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে..কৃষিমন্ত্রী - Ekotar Kantho

মেধাবী তরুণদের আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে..কৃষিমন্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, তৃণমূলের কর্মীরা দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। সামাজিক সম্মানটুকু ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা তারা পান না। কাজেই, তৃণমূলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে, প্রার্থী মনোনয়ন করা হবে। আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খলিত একটি রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনের আগে জেলার সম্মেলন শেষ করতে হবে। ।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে  জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ওই সব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করা হবে। দলকে সুশৃংখল এবং ঐক্যবদ্ধ করে নতুন ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে নেতৃত্বে আনা হবে। শিক্ষিত মানুষ দ্বারা দলকে পরিচালনা করতে হবে। তারা র্নিমোহ জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করবে। শুধু ধর্ম নিরপেক্ষতা বললেই মানবতাবাদী হবে না। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতিকে মানবিক চেতনায় উদ্ধুদ্ব করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে বিএনপি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করতে চাইবে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেই প্রতিহত করার জন্য নেতাকর্মীদের মোকাবেলা করার প্রস্তুত থাকতে হবে। অতীতেও আমরা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও বিএনপি জামাতের আন্দোলন প্রতিহত করতে হবে। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ কোনদিন চোরাগলি পথে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ সবসময় সহজ-সরল পথে হেঁটে, গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার গঠন করেছে, দেশ পরিচালনা করেছে এবং এখনও করছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখনো তৎপর। তারা এখনো নানান ষড়যন্ত্র করছে। তারা এখনো এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আজও পর্দার অন্তরাল থেকে নীল কুটির, লাল কুটির ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপিসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:১৩:এএম ৫ বছর আগে
আলেশা মার্টসহ ৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু - Ekotar Kantho

আলেশা মার্টসহ ৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

একতার কণ্ঠঃ আলেশা মার্ট ও ই-অরেঞ্জসহ নয়টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-ধামাকা, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, কিউকুম, নিড ডটকম ডটবিডি। এসব প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা, মোট দায় এবং প্রতিষ্ঠানের চলতি ও স্থায়ী মূলধনের তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদন চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এর বাইরে আরও কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

এদিকে প্রতারণা ঠেকাতে ই-কমার্সের বিজ্ঞাপনের নিচে ‘অনলাইনে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে সাবধান’-এমন সর্তকবাণী লিপিবদ্ধ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটি নিশ্চিত করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টম্বর) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে বিদ্যমান আইনের সংশোধনীর কাজ শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার ই-কমার্স সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, ইভ্যালির মতো আর কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যেন প্রতারণার সুযোগ না পায়, সেজন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে আলেশা মার্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে। এখন সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। প্রলোভনে পড়া যাবে না।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ই-কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান জানান, মানুষকে সচেতন করতে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দিলে সেখানে নিচে একটি সতর্কবাণী লেখা বাধ্যতামূলক থাকবে। সেটি হচ্ছে অনলাইনে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে সাবধান। এটি নিশ্চিত করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কোম্পানিগুলোর আয়-ব্যয়, দায় ও সম্পদের পরিমাণ তদন্ত করা হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টম্বর)  রাজধানীর প্রেস ক্লাব-মৎস্য ভবন-এসব এলাকায় ই-অরেঞ্জের প্রতারিত ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের আগেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তের তালিকায় রয়েছে ধামাকা। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ধামাকা নামে লোভনীয় অফার ও ভার্চুয়াল সিগনেচার কার্ড বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছিল। মানুষের কাছ থেকে তারা ৮০৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়, যার একটি অংশ পাচার করা হয়। এজন্য ৯ সেপ্টেম্বর ৫ জনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এছাড়া ই-মানি আকারের ৪৭ কোটি ৪৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৬৩ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জ শপ। নগদের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ ডটকমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সিরাজগঞ্জ ডটকমের মালিক জুয়েল রানার ফোন বন্ধ। চট্টগ্রামের বাসিন্দা এস জামাল চৌধুরী জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন আদিয়ান মার্ট অন লাইনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘গত ৫ এপ্রিল ২টা ইনভয়েসের (চালান) বিপরীতে এডিম-০৪০৪২৩১৮৫৪২৫, এডিম-০৪০৫১৩০৫২৮৩৭) ৪টা রাইস কুকার এবং একটি ওয়ালটন ৪৩” স্মার্ট টিভি অর্ডার করেন। ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিলেও এখন পর্যন্ত সব পণ্য দেওয়া হয়নি।’ তিনি যোগাযোগ করার পর মাত্র ৩টি রাইস কুকার পেয়েছেন; কিন্তু ১টি রাইস কুকার ও টিভি বুঝে পাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষবর্ষের শিক্ষার্থী মালিক মেহেদী হাসান মুন। কম সময়ে অধিক টাকা আয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন অনলাইন ব্যবসা। কিন্তু অসৎ উপায়ে। ‘আলাদিনের প্রদীপ’ নামে অনলাইন কোম্পানি খুলে চটকদার বিজ্ঞাপনে অল্প সময়ে অসংখ্য ক্রেতা জুটিয়েছেন। মাত্র সাত মাসে হাতিয়ে নিয়েছেন ১০০ কোটি টাকারও বেশি। লক্ষাধিক ক্রেতার অর্ডার নিয়ে এখন আর পণ্য দিচ্ছেন না। এমনকি বন্ধ করে দিয়েছেন অফিসও। কল সেন্টারও বন্ধ, ফোন ধরছেন না কেউ। কোম্পানির মালিক মেহেদী হাসান মুন পলাতক। আর আর্তনাদ করছেন অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্যের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতারা।

এদিকে ই-কমার্সের আদলে বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধ করতে মানি লন্ডারিং আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা  জানান, বর্তমান মানি লন্ডারিং আইনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে কাভার করছে না। ফলে এই আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে করা মামলা আদালতে টিকবে না। এখন আইনটি সংশোধন করে সেখানে ই-কমার্স বসাতে হবে।

সূত্রমতে, বর্তমান এক হাজার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর কোনোটিরই নিবন্ধন নেই। অনেক ই-কমার্স চলছে পুরোপুরি নিজস্ব নীতিতে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ৪ জুলাই ই-কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এরপর থেকে এ খাতে নৈরাজ্য ধীরে ধীরে কমছে। এর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, নীতিমালা প্রণয়নের আগে ইভ্যালিতে ৬ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আর নীতিমালা প্রণয়নের ৪ মাসে সেখানে লেনদেন হয়েছে ৪শ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২শ কোটি টাকা পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা অনেকটা ফিরে আসছে।

সংবাদ সূত্র-যুগান্তর আনলাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:২২:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শুরু হল শাকিব-পূজার ‘গলুই’ চলচ্চিত্রের শুটিং - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শুরু হল শাকিব-পূজার ‘গলুই’ চলচ্চিত্রের শুটিং

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে সরকারি অনুদান পাওয়া চলচ্চিত্রের ‘গলুই’ এর শুটিং। বৃহস্পতিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা জমিরদারবাড়িতে একঝাঁক থিয়েটারকর্মী নিয়ে শুটিং শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ছবিটির পরিচালক এস এ হক অলিক।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গলুই’ এর ক্যামেরা ওপেন হলো, প্রথম দিনে একঝাক থিয়েটারকর্মী ও সিনিয়র কয়েকজন অভিনেতা শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও বিস্তীর্ণ এক জনপদের মানুষের জীবন উপজীব্য করে নির্মিত হচ্ছে ‘গলুই’ সিনেমা। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করবেন শাকিব খান। তার বিপরীতে রয়েছেন পূজা চেরি। কিন্তু শুটিং শুরুর প্রথম দিন তারা অংশ গ্রহণ করেননি।

পূজা আগামীকাল শুক্রবার এবং শাকিব খান ২৮ তারিখে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

পরিচালক জানান, নৌকার সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা মিলিয়ে একটা জীবন ধারা। এরমধ্যে রয়েছে প্রেম, টানাপোড়েন, বন্ধন। পুরো সিনেমায় থাকবে এটাই। সেজন্যই ছবির নাম ‘গলুই’। শুটিং শুরু হলেও শাকিব-পূজা প্রথম কয়েক দিন থাকছেন না। থাকবেন ২৮ তারিখ থেকে।

পরিচালক আরও জানান যমুনার চরে শুটিং শুরু হলেও পরে অনেকটা দুর্গম এলাকায় শুটিং হবে। যে অঞ্চলে আগে কখনই কোনো সিনেমার শুটিং হয়নি। একেবারে ‘র’ লোকেশনে আমরা শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিনেমাটির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে নৌকা বাইচ। টানা শুটিংয়ের মাধ্যমে কাজ শেষের ইচ্ছে আছে।

সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। মিউজিক করছেন কুমার বিশ্বজিৎ, হাবিব, শাহ আলম সরকার, ইমন সাহা প্রমুখ।

পরিচালক এস এ হক অলিক বলেন, অনেকটা দুর্গম এলাকায় শুটিং হবে। ওই অঞ্চলে আগে কখনই কোনো সিনেমার শুটিং হয়নি। একেবারে ‘র’ লোকেশনে আমরা শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিনেমাটির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে নৌকা বাইচ।
সিনেমাতে নায়ককে এমন লুকে হাজির করা হবে যা তার ক্যারিয়ারে আগে কখনই দেখা যায়নি। সবমিলিয়ে চেষ্টা করছি অসাধারণ কিছু দর্শকদের উপহার দেয়ার বলে জানান তিনি।

সরকারি অনুদানের সিনেমা হলেও আয়োজনে কোনো কমতি রাখছেন না প্রযোজক খসরু। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় গ্রামাঞ্চলে উৎসব বিরাজ করেন, সেসব কিছু তুলে আনা হবে গলুইতে – বলেন এস এ হক অলিক।

তিনি বলেন, ‘গলুই’ মানে নৌকার গলুই। নৌকার সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা মিলিয়ে একটা জীবন ধারা। এরমধ্যে প্রেম, টানাপোড়েন, বন্ধন – পুরো সিনেমার মধ্যে থাকবে। সেজন্যই এর নাম ‘গলুই’।

এস এ হক অলিক বলেন, নৌকার একপ্রান্তে থাকে মাঝির আসন, অন্যপ্রান্তের নিশানা যদি ঠিক না থাকে – তাহলে নৌকা কিন্তু এদিক সেদিক করবে। জীবনটাও কিন্তু তাই। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে একজন যদি একটু এদিক সেদিক হয়, তাহলে সংসারটা কিন্তু ঠিকঠাক চলে না। এদিক সেদিক হয়ে যায়। গলুইয়ের দার্শনিক জায়গাটা কিন্তু এটা।

সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। তিনি জানিয়েছেন, গলুই হবে ভিন্নধারার বাণিজ্যিক সিনেমা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:২৫:এএম ৫ বছর আগে
সঞ্চয়পত্র: মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার - Ekotar Kantho

সঞ্চয়পত্র: মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশে পাঁচ ধরণের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার(২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর তথ্য দিয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এই হার কার্যকর হবে। আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুনঃবিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্য নতুন এই মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকলেও, মেয়াদী হিসাবের মুনাফার হার কমেছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র:

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। নতুন নিয়মে যাদের এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক:

তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। সেটি এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। আর এই সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ৯ শতাংশ হারে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র

অবসরভোগীদের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে এতদিন ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যেত। এখন এই সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এই হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

পরিবার সঞ্চয়পত্র:

পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৯ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় পত্রঃ

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর মেয়াদী হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হবে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে বর্তমানে মুনাফার সাড়ে ৭ শতাংশ, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এই হার কার্যকর হবে। আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুনঃবিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্য নতুন এই মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।

সংবাদ সূত্র- বিবিসি বাংলা

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:১৯:পিএম ৫ বছর আগে
আদালতের নির্দেশে কাউন্সিলর মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী পিংকি হত্যা মামলা রেকর্ড - Ekotar Kantho

আদালতের নির্দেশে কাউন্সিলর মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী পিংকি হত্যা মামলা রেকর্ড

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী সৈয়দ আমেনা পিংকিকে হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে টাঙ্গাইল থানায় মামলা করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন মামলা করার বিষয় নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর জন্য বৃহস্পতিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে আবেদন করা হবে।

মোর্শেদকে পুলিশ গত ১৯ আগস্ট একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরে ওই দিনই তার বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলায় বর্তমানে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।

মোর্শেদ ছাড়াও হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সোমা ওরফে মনা, মুন্সি তারেক পটন ও তার স্ত্রী লিনা, পারভেজ খান রনি, সোহেল ওরফে বাবু, অনন্ত সুত্রধর, রাফসান ও আয়নাল মিয়া। এরা সবাই শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা। মামলায় এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও তিন চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রী সৈয়দ আমেনা পিংকির বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বাদি হযে গত ২৪ আগস্ট টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে সৈয়দ আমেনাকে মোর্শেদ অপহরণ করে বিয়ে করেন। তাদের ছয় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারে মাঝে মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকার এক বাসায় দাওয়াতের কথা বলে মোর্শেদ আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় মোর্শেদ তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মোর্শেদের ভয়ে তিনি মামলা করতে সাহস পাননি। পরে মোর্শেদ ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালত এ হত্যার বিষয়ে থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল কিনা তার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কোন মামলা বা জিডি হয়নি বলে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলা করার জন্য টাঙ্গাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিতেন। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদের বিরুদ্ধে করা ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:০৫:পিএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।