টাঙ্গাইলে আলোচিত তিন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন


৩১ অক্টোবর ২০২১ | ১২১৯ বার পঠিত
Ekotar Kantho
হত্যাকান্ড নিয়ে টাঙ্গাইলের নবাগত পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের প্রেস ব্রিফিং

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের খামারপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বাড়ি থেকে শনিবার(৩০ অক্টোবর) দুই নারীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

তাৎক্ষণিক তদন্ত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শনিবার বিকালে টাঙ্গাইলের নবাগত পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আমরা রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি আক্তার ও তার শাশুড়ি জমেলা বেগমকে হত্যার পর পরকীয়া প্রেমিক শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।’

ওই সময় কাশতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বসতঘর থেকে তার স্ত্রী সুমি আক্তার(২৫), জয়েন উদ্দিনের মা জমেলা বেগম(৫৫) এবং পরকীয়া প্রেমিক শাহজালাল ইসলাম সোহাগের(৩০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

মুমূর্ষু অবস্থায় জয়েন উদ্দিনের চার বছরের ছেলে সাফিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুমি আক্তারের পরকীয়া প্রেমিক শাহ জালালের বাড়ি কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া এলাকায়। তিনি সাতুটিয়ার সোহরাব আলীর ছেলে।

গৃহবধূ সুমি আক্তার ঘাটাইলের কাশতলা দক্ষিণ পাড়া সুতার বাড়ির জিন্নত আলীর মেয়ে। সুমি ও শাহ জালালের লাশ প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বসত ঘরের বিছানার ওপর এবং জমেলা বেগমের লাশটি ঘরের মেঝেতে পড়েছিল। তিন জনের লাশ উদ্ধার হওয়া বসত ঘরের দেয়ালে নিহতদের রক্ত দিয়ে বার্তা লেখা ছিল- ‘এমনটা হত না যদি আমার সুমী আমার কাছে থাকত, এই সবকিছুর জন্য সুমীর বাবা দায়ী’।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে সুমি ও শাহজালাল পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। প্রায় পাঁচ মাস তারা ঘর-সংসার করে। এরপর সুমির বাবা জিন্নত আলী তাদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে সুমিকে বাড়িতে রেখে দেয়। ওই সময় সুমি অন্তঃসত্তা ছিল।

পরে তার গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করার শর্তে সুমির আগের স্বামী জয়েন উদ্দিন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সুমিকে আবার তার কাছে ফেরত নেন। এর কিছুদিন পর জয়েন উদ্দিন আবার বিদেশে চলে যান। সন্তান নষ্ট করায় সুমির সাবেক স্বামী অর্থাৎ পরকীয়া প্রেমিক শাহজালাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’

তিনি বলেন, ‘সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিন বাড়িতে না থাকায় শাহজালাল মাঝে মধ্যেই সুমির শশুরবাড়িতে আসত। ঘরের বারান্দার লোহার গ্রিলের চাবিও ছিল শাহজালালের কাছে। পরে শুক্রবার(২৯ অক্টোবর) দিনগত রাতে শাহজালাল সুমির ঘরে প্রবেশ করে।

একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে তার সাবেক স্ত্রী সুমি ও সুমির শাশুড়িকে হত্যা করে। এসময় সুমির শিশু সন্তানকে সাফিকেও হত্যার চেষ্টা করে। এরপর শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করে।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ছুরি সহ বিভিন্ন আলামত ঘেটে আমরা বিষয়টির রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছি। তারপরও ঘটনাটির অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


ফেসবুকে আমরা...

কপিরাইট © ২০২১ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।