একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পারিবারিক কলহের জেরে মিনারা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধুকে খুন করে স্বামীর আত্মসমর্পনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাবনদত্ত পন্ডিত কাছড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
ঘাতক স্বামী ওই গ্রামের শামছুলের ছেলে।ঘটনার পর স্বামী আমিনুল ইসলাম (২৮) কে আটক করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
স্থানিয় ইউপি সদস্য আঃ ছালাম জানান, গৃহবধু মিনারা বেগম(২২কে) স্বামী আমিনুল গলাটিপে হত্যা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী আমিনুল ইসলাম নিজেই থানায় ফোন করে জানায় আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আপনারা এসে আমাকে নিয়ে যান। পরে আমিসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক আমিনুলকে আটক করি। সে প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার(২১ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ ইনিংসের ১৪তম ওভারের বিরতি তখন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বল মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেবেন, এমন অবস্থায় দর্শকের হইচই শোনা যাচ্ছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারি থেকে। সেখানে এক দর্শক গ্যালারির দোতলা থেকে লাফিয়ে নিচে নেমে এসেছিলেন। এরপর চোখের পলকে নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাঁটাতার পাড়ি দিয়ে লাফিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।
বেশ কয়েকজন মাঠকর্মী এই সময় সেই দর্শককে ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মাঠের অন্য পাশ থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা ছুটে আসার আগেই এক দৌড়ে তিনি মূল মাঠে প্রবেশ করেন। মোস্তাফিজের পায়ের কাছে এসে মাটিতে মাথা ছুঁইয়ে সেজদার ভঙ্গি করেন। একটু এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। এরপর তাঁকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার কক্ষের পাশের প্রবেশদ্বার দিয়ে বের করা হয়।
সে ওভারে প্রথম বল করেই মোস্তাফিজ মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে গেছেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সিরিজের খেলা চলছে জৈব সুরক্ষাবলয়ে। এই সিরিজ দিয়ে দর্শক মাঠে ফিরলেও করোনা নীতির অংশ হিসেবে গ্যালারির নিচতলা পুরোপুরি দর্শকশূন্য। নিচতলায় কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিল না সে কারণেই। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে বলয় ভেঙে মাঠে প্রবেশ করেছেন সেই দর্শক।

মিরপুর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। এর আগেও গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কিন্তু করোনাকালে দর্শক ফেরার সিরিজে এমন ঘটনাটি মিরপুরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়াবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে বিসিবির নিরাপত্তা প্রধান মেজর হাসিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি।
শনিবার (২০ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরে সোনার বাংলা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আয়োজনে ওই গণ-অনশন অনুষ্ঠিত হয়। গণ-অনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামীল শাহীনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, কাজী শফিকুল ইসলাম লিটন, দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, অমল ব্যানার্জী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকন্দ, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মনির, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ঝলক, মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব আবদুল বাতেন প্রমুখ।
এ সময় বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একাতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নির্বাচনের ৮দিন পর একটি বিদ্যালয়ের ছাদে সিল মারা ৫২৭ টি ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়েছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে সিল মারা তালগাছ প্রতীকের ওই ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তালগাছ প্রতীকের নারী সদস্য পদের প্রার্থী বিউটি আক্তার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। নির্বাচনের ৮ দিন পর সকালে এ ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলতে গিয়ে ব্যালট পেপারগুলো দেখতে পায়। তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়। পরে শিক্ষকরা স্থানীয়দের অবগত করলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তালগাছ প্রতীকের প্রার্থী বিউটি আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসেন। ব্যালট পেপার দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে মাইক প্রতীকের প্রার্থী রাশেদা বেগম ১৮শ’ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। নির্বাচনে আমাকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ৮দিন পর আমার নিজ কেন্দ্রের বিদ্যালয়ের ছাদে তালগাছ প্রতীকের সিল মারা ৫২৭টি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এই ব্যালট পেপারগুলো একত্রিত করলে আমি দুই শতাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। নির্বাচনে ফেল করাতেই আমার প্রতীকের সিল মারা ব্যালট পেপার বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে দেয়। পরে ভোট গণনা করে আমাকে ফেল দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে আইনগত ব্যবস্থায় যাবো। ব্যালট পেপারগুলো আমার কাছে এনে রেখেছি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে মোবাইলে শুনেছি। প্রার্থী ট্রাইবুনালে অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা চাইতে পারেন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন কে বা কারা ব্যালট পেপারগুলো বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে গেছেন, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। নির্বাচন শেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিলগালা করে ফলাফল ঘোষণা করে এসেছেন। তখন কোন প্রার্থীর অভিযোগ ছিল না।
দেলদুয়ার থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন অফিসিয়ালি অভিযোগ বা কোন নির্দেশনা পেলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো।
একতার কণ্ঠঃ পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে। পাকিস্তানী সেনা বাহিনী বাঙালী নিধনের উৎসবে মেতেছিল। তাদের পরিচালিত সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ডের স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সারা বাংলাদেশে। সেই সব বধ্যভূমির সবগুলো এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের সকল জেলায় ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’ শিরোনামে নাটক নির্মাণ করছে।
এবছর বাঙ্গালী জাতির গৌরবের বছর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে লাখো শহীদের শবের পলিতে উর্বর জনপদ এই বাংলায় মহান স্বাধীনতার সুবর্ণবর্ষ পালন করার প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে। এসব কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির বীর সন্তানদের যে ত্যাগ তার মহিমাকে নতুন প্রজন্মের সামনে বিভিন্ন প্রযোজনার মাধ্যমে তুলে ধরা এবং বাঙ্গালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শিল্পের আলোয় নতুনভাবে পাঠ ও সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উপস্থাপনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করা। আর সেই লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের বধ্যভূমি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে না খুলি।
“খুলি” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বলি হওয়া মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত নাটক। নাটকটি লিখেছেন ড. তানভীর আহদে সিডনী, নির্দেশনা দিয়েছেন প্রফেসর ড. মীর মেহবুব আলম নাহিদ। সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. এরশাদ হাসান।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ডক্টর মোঃ আতাউল গনির সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটকটির রচয়িতা ডক্টর তানভীর আহমেদ সিডনী ও সহযোগী নির্দেশক শামীম সাগর ও জেলা কালচারাল অফিসার এরশাদ হাসান নাটকটির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
বক্তরা জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টাঙ্গাইল পানির ট্যাংক বধ্যভূমি এলাকায় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী বীর বাঙ্গালীর উপর নির্মম অত্যাচারের সঠিক চিত্র নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। শনিবার (২০ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে নাটকটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও সমন্বয়কারী মো. এরশাদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে এই বিশাল কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করছি। আগামি ২০ নভেম্বর পানির ট্যাংক বধ্যভূমিকে উন্মুক্ত মঞ্চ করে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। সকলের উপস্থিতি কামনা করছি।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল সার্টিক হাউসে অবস্থান নিয়ে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় টাঙ্গাইল শহর আর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে আনতো এই সার্কিট হাউসে। নির্যাতন চালানোর পর এই পানির ট্যাংকি এলাকায় নিয়ে তাদের হত্যা করে ফেলে রাখা হতো।
একতার কণ্ঠঃ মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে হামলার শিকার হওয়ার পৌনে তিন ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় টাঙ্গাইল ছেড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
এই দীর্ঘ সময় কাগমারি পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি হেফাজতে থাকার পর বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তারা তাদের সফরসঙ্গী ও দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে বের হন।
এর আগে ডা. জাফরুল্লাহ একই মাজারে ফুল দিয়ে ভিপি নুরের সঙ্গে দেখা করতে এসে একত্রে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বের হন। পরে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইল সদর থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা ড. রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে তারা ঢাকার দিকে রওনা হন।
এদিকে হামলার পর মাজার ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমার সহযোদ্ধারা আমাকে নিরাপত্তা দিয়ে মাজারের পাশে থাকা একটি পুলিশভ্যানে তোলেন। এরপরও মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিশোটা নিয়ে পুলিশের সামনেই পুনরায় হামলা করে।’
নুর বলেন, ‘একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ আমাদের সেখান থেকে টাঙ্গাইলের কাগমারি পুলিশ ফাঁড়িতে হেফাজতে নেয়। আর ড. রেজা কিবরিয়াকে টাঙ্গাইল সদর থানায় নেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় আমাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিবির পাল বলেন, ‘ড. রেজা ও ভিপি নুর সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল। এসময় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের ওপর হামলা করে। এতে ছাত্রলীগের চার সদস্য আহত হয়েছেন।’
টাঙ্গাইলের অতিরক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরোয়ার হোসেন জানান, ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মওলানা ভাসানীর মাজারে কাছাকাছি পৌঁছার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ড. কিবরিয়া ও ভিপি নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পুলিশি নিরাপত্তায় ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা চলে গেছেন।’
একতার কণ্ঠঃ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার গড়মিলের অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যে মো. হাছান ইমাম খাঁনের বৈধতা নিয়ে করা রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৬ নভেম্বর) বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান।
হাছান খাঁনের হলফনমায় শিক্ষাগত যোগ্যতায় গড়মিল আছে উল্লেখ করে তিনি ২৫ জুলাই স্পিকার বরাবরে চিঠি দেন। চিঠিতে বিতর্কের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।
কিন্তু সেটি না হওয়ায় তিনি ওই চিঠি নিষ্পতিতে চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
একতার কণ্ঠঃ আজ বুধবার(১৭ নভেম্বর) আফ্রো-এশিয়া-লাতিন আমেরিকার মেহনতি মানুষের মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী । ১৯৭৬ সালের এইদিনে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটের প্রতিটি ক্ষণে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল এবং রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনার সভার আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
এদিন রাজধানী ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত, অনুরাগীরা মজলুম জননেতা ভাসানীর সন্তোষের মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাগপা, ন্যাপ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পণ করবে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব শিথিল হলেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কর্মসূচি পালন করা হবে।
মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন,এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
মৃত একাব্বর হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন জানান, তার স্বামী (একাব্বর হোসেন) দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ১৬ অক্টোবর তিনি ব্রেনস্ট্রোক করেন। পরে তাকে সিএমএইচএ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান। বুধবার (১৭ নভেম্বর) বাদ জোহর মির্জাপুর এসকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
একাব্বর হোসেন এমপির মৃত্যুতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার অব অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি লি: এর সভাপতি খান আহমেদ শুভ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশ, ১৯৫৬ সালের ১২ জুলাই মির্জাপুর উপজেলার পোষ্টাকামুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন একাব্বর হোসেন। তার বাবার নাম ওয়াজউদ্দিন এবং মায়ের রোজিনা বেগম। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বিএসএস সন্মান এবং ১৯৭৮ সালে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। ১৯৭৩ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে ঢাবির মহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৮ সালে একই হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একতার কণ্ঠঃ নামাজ পড়তে গিয়ে অজু করার সময় হাত ও পকেট থেকে মোবাইল ফোন পানিতে পড়ে গিয়ে নষ্ট হলে সার্ভিসিং ফ্রি।এমনি এক সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে ও দোকানের সামনে। এমন সাইনবোর্ড পথচারীসহ সকল মানুষকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করছে। মহৎ এ উদ্যোগের মাধ্যমে নজির স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী বাজারের আব্দুর রহমান টেলিকম অ্যান্ড মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালক মেকানিক সোহেল রানা।
তার এমন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা জানিয়েছেন, আগে থেকেই আমার মনের মাঝে একটা স্বপ্ন পোষণ করতাম কিভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ করা যায়। আর সেই স্বপ্ন প্রতিফলনের মাধ্যমে এমনই উদ্যোগ নিয়েছি। আমার এমন উদ্যোগে মানুষের কাছ থেকে বেশ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এমনিতেই কাজকর্ম ভালো থাকে। তবে অজু করতে গিয়ে নষ্ট হওয়া মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করার পর থেকে কাজকর্ম অনেক বেড়ে গেছে। আর আমার কাজটা হবে নামাজ পড়তে যাওয়া মানুষদের জন্য। বিনা পয়সায় কাজটা করে দিলে তারা আমার জন্য দোয়া কবরে। এছাড়া আমার এমন উদ্যোগ দেখে অন্যরাও এমন মহৎ কাজে উৎসাহিত হবে।
নষ্ট হওয়া মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করে হাতে পাওয়ার পর মো. হাসমত আলী নামে এক মুসুল্লি বলেন, গত কয়েক দিন আগে আসরের নামাজের সময় অজু করতে গিয়ে আমার মোবাইলটা পকেট থেকে পানিতে পড়ে যায়। টাকার অভাবে মেরামত করতে পারছিলাম না। হঠাৎ এক লোক বললেন, গোবিন্দাসী বাজারের আব্দুর রহমান টেলিকম অ্যান্ড মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালক সোহেল রহমান নামাজ পড়া মুসল্লিদের অজু করতে গিয়ে মোবাইল নষ্ট হলে সেই মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করে দেন। প্রথমে আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে সেখানে গেলে আমার নষ্ট মোবাইল বিনা পয়সায় তিনি মেরামত করে দেন।
গোবিন্দাসী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. ছরোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, সোহেল রহমান মুসুল্লিদের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। এমন একটা ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাজার সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই এবং তার সাফল্য কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৪ আসনের মো. হাসান ইমাম খানের সংসদ সদস্যপদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগে স্থানীয় ভোটার মো. মোখলেছুর রহমান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত বলেন, রিট আবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
রিটকারীর আইনজীবী মো. বুরহান খান বলেন, এর আগে হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতায় গরমিল আছে উল্লেখ করে গত ২৫ জুলাই স্পিকার বরাবরে মোখলেছুর রহমান চিঠি দেন। চিঠিতে বিতর্কের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ করেন।কিন্তু সেটি নিষ্পত্তি না করায় এবার তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিট আবেদনে ওই আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাসান ইমাম খান টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য। এ আসনের সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করায় ২০১৪ সালে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হন ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করার পর উপ-নির্বাচনে হাসান ইমাম খান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি নির্বাচিত হন।
সংবাদ সূত্র- জাগো নিউজ, আমাদের সময়.কম
একতার কণ্ঠঃ দুইবারের ইউপি সদস্য হয়েও ৩০ বছর যাবৎ জুতা ছাড়াই চলছেন জয়নাল আবেদীন (৬৬)। কলেজে চাকুরি, দুই দফায় পরিষদের ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালনসহ ব্যক্তি জীবন যাপনের পাশাপাশি জুতা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সামাজিক নানা কর্মকান্ড।
এলাকায় তিনি জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবেই পরিচিত। জয়নাল আবেদীন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান মহানন্দাপুর বাশার চালা গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন পোল্ট্রি খাবার বিক্রেতা।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩০ বছর যাবৎ জুতা ছাড়াই চলাফেরা করছেন জয়নাল মেম্বার। শীত, বর্ষা কোন সময়ই তিনি জুতা পড়েন না। নিজ বাড়ি, অফিস আদালত, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির থেকে শুরু করে সর্বত্রই জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন তিনি। এরপরও কখন শুনেনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবে তিনি উপজেলা জুড়ে ব্যাপক পরিচিত বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সত্তর উর্দ্ধো আব্দুর রহিম জানান, জয়নাল মেম্বার খুবই ভালো মানুষ। বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর একটা ভালো গুণ। এ কারণে এলাকার মানুষ তাকে দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছেন।
স্থানীয় মুসুল্লি আতোয়ার রহমান জানান, জয়নাল আবেদীন মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে জুতা ছাড়াই চলাচল করতে দেখছি। ব্যক্তি হিসেবে ভালো ও জনপ্রিয় হওয়ায় ইতোমধ্যে তিনি দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সংগঠনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, আমরা শুনেছি তিনি পীর ধরা। পীরের নির্দেশেই তিনি জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন।
জয়নাল আবেদীন জানান, ১৯৬৯ সালে কালিহাতী উপজেলার বর্তমান আউলিয়াবাদ কলেজে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন তিনি। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসরের যান তিনি। চাকুরিরত অবস্থায় কালিহাতীর ডা. আজহারুল ইসলাম পীরের মুরিদ হন তিনি। জুতা ছাড়া চলাফেরা করার নির্দেশ দেন পীর সাহেব। সেই নির্দেশ অনুসারেই ৩০ বছর যাবৎ জুতা ছাড়া চলাফেরা করছি। জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে স্বাছন্দ বোধ করি। এ কারণে আমি এলাকায় জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
তিনি জানান, চাকুরি অবসরের পর নিজ এলাকায় পোল্ট্রির খাবার বিক্রির ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি ৬৬ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন এলাকার মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী হন। বিগত ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২ এবং বিগত ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত কাকড়াজান ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হই। এছাড়াও আমি কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি জানান, ব্যক্তি জীবনে আমি তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। ইতোমধ্যেই তিন মেয়ে জোহরা আক্তার, জয়নব আক্তার ও শিরিন আক্তারকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে সিয়াম আহমেদ এখন ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। পরিবারের সদস্যরাসহ সকলেই আমার এই ব্যতিক্রম জীবনযাপন মেনে নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তার কোন সমস্যা হয় না। পিচের তৈরী পাকা সড়ক কিংবা কাঁচা সড়কে খালি পায়ে চলে তার পায়ে কখনও ব্যথা পাননি। জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তিনি স্বাছন্দ বোধ করেন ও অনেক উপকারও পেয়েছেন। জুতা ছাড়া চলাফেরা করার কারণে বড় ধরনের কোন রোগ্যব্যাধি হয়নি, কমেনি চোখের জ্যোতিও। এবারের নির্বাচনে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও আজীবন তিনি জনগণের সেবা করা প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন জানান, গুরুধরা মানুষ জয়নাল আবেদীন। গুরুর আদেশ মান্য করতেই তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ জুতা ছাড়া চলাফেরা করছেন। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হিসেবে চিনি। এছাড়াও তিনি দুইবার কাকড়াজান ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য ছিলেন বলেও জানান তিনি।