একতার কণ্ঠ ডেস্কঃবঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ি নামক স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার( ১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মহাসড়কের ৮ এবং ৯ নম্বর ব্রীজের মাঝখানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল ও দুইজনের মরদেহ পড়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে ,মোটরসাইকেলটিকে অজ্ঞাত কোন ট্রাক পিছন থেকে চাপা দিয়ে চলে গেছে। এ কারনেই হয়তো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পুর্ব থানায় রাখা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্ক ঃ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় শতাধিক ধান কাটা শ্রমিককে রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে কৃষি অফিসের অনুমতিপত্র নিয়ে ওই শ্রমিকরা দুটি ট্রাকে করে পাবনা থেকে হবিগঞ্জে ধান কাটতে যাচ্ছিলেন। তবে পুলিশের দাবি কঠোর বিধিনিষেধ মানাতেই শ্রমিকদের ট্রাক আটকে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, পাবনার আতাইকুলা এলাকা থেকে জীবিকার তাগিদে ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে হবিগঞ্জে যাচ্ছিলেন শতাধিক ব্যক্তি। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ তাদের বহন করা দুটি ট্রাক আটকে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
রবিউল ইসলাম নামে ৬৫ বছর বয়সী এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, এই বয়সে শুধুমাত্র পেটের দায়ে অন্য জেলায় ধান কাটতে যাচ্ছি। যদি আটকেই দেবে তবে এলাকাতেই আটকে দিত। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তো আমরা ধান কাটতে যাচ্ছি। এই বয়সে কয় বেলা না খেয়ে থাকা যায়? এখন জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলেই বাঁচি। সেখানেই না হয় পরিবারের সঙ্গে না খেয়ে মরবো।
শ্রমিকরা বলেন, পাবনা থেকে এলেঙ্গা পর্যরাত আসতে কোনো সমস্যা হয়নি। এলেঙ্গা আসার পর পুলিশ তাদের ট্রাক আটকে দেয়। এ সময় টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা দিতে না পারায় ট্রাক দুটি ফাঁড়ির সামনে নিয়ে যায়। রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। না খেয়ে রাত থেকে কষ্ট করতে হচ্ছে। পায়খানা-প্রসাবের জায়গা না থাকায় কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
তারা আরও বলেন, কাজ না থাকায় আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছিলাম। তাই আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসার ও চেয়ারম্যানের প্রত্যায়নপত্র নিয়ে ধান কাটতে হবিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের অনুমতিপত্র জব্দ করে রেখেছে।
ট্রাকচালক উজ্জল মিয়া বলেন, শুক্রবার বিকেলে পাবনা থেকে রওনা দিয়েছি। রাত ১১টার দিকে এলেঙ্গা আসলে পুলিশের এক অফিসার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ট্রাকের সব শ্রমিককে নামিয়ে দিতে বলেন। শ্রমিকদের বাসে যেতে বলেন। পরে অপর এক পুলিশ অফিসার এসে শ্রমিকসহ ট্রাক ফাঁড়িতে নিয়ে যান। গাড়ির কাগজপত্রও পুলিশ জব্দ করেছে।
পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান রশিদ হোসাইনী বলেন, তাদের অনুমতিপত্র দেওয়া আছে। তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি। পুলিশ হয়তো আইনগত ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিতে কাজটি তেমন ভালো হয়নি। আরেকটি বাসের ব্যবস্থা করে পুলিশ তাদের গন্তব্য পৌঁছাতে সহযোগিতা করতে পারত।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, টাকা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। একটি ট্রাকে ৪৮ ও অপর ট্রাকে ৭২ জন শ্রমিক ছিল। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তারা গন্তব্য যাচ্ছিলেন। এছাড়াও গতকাল মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সব কিছু মিলিয়ে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ পরিপন্থী কাজ করায় তাদের ট্রাক আটক করা হয়েছে। পরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে দু’টি বাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিকদের কোনো বাস ভাড়া দিতে হবে না। এছাড়া বাসটি যাতে কোথায় না আটকায় সেজন্য একটি প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার চর বাবলা নামক স্থানে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও দুইজন। শুক্রবার(১৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিক ভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গগামী একটি টিন বোঝাই ট্রাক চর বাবলা স্থানে দাড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রাককে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত দুইজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহত ও আহতদের কারো পরিচয় জানা যায়নি।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার(নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ এগার বছরেও শেষ না হওয়ায় প্রতি বছর স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যমুনায় প্রতিদিন ১ থেকে ২ সেণ্টিমিটার করে পানি বাড়ায় প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানাগেছে, বিগত ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার নিমিত্তে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়(মূল ডিপিপি অনুযায়ী) ধরে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয় বার সময় বর্ধিত করা হলেও প্রকল্পটি অসমাপ্ত থেকে যায়। বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ডিপিপিতে সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীর কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১৮১ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত বাড়িয়ে এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয় এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের(২০.৫ কি.মি.) নদী খননের কাজ ধলেশ্বরী ও পুংলি নদী এলাকার ১৪.৫ কিলোমিটারে ড্রেজারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এতে টাঙ্গাইল অংশের ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোপূর্বে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করা হলেও পরের বর্ষায় পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবার নদী খনন করে পলি সরাতে হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে জনভোগান্তির অবসান ঘটছেনা।
সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ এ প্রকল্প এলাকা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবীর বিন আনোয়ার, পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী(ডিজাইন) মো. হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকেীশলী মো. শাজাহান সিরাজ এবং পওর কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন সরকার সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরেজমিনে যমুনা, ধলেশ^রী ও পুংলি নদী তীরবর্তী বিয়ারামারুয়া, বেলটিয়া, হাট আলিপুর, ভৈরববাড়ি, আলিপুর, কুর্শাবেনু, বেনুকুর্শা, গোবিন্দপুর, জোকার চর, সল্লা, মীরহামজানী, আনালিয়াবাড়ী, হাতিয়া, ধলাডেঙ্গর ও এলেঙ্গা এলাকার লোকজন জানায়, পাউবো খননের নামে প্রতি বছর বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব চালাচ্ছে। পাউবো নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন দিনরাত অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। চলতি বছর পাউবো নদী খনন না করলেও বালু খেকোরা অবৈধ বাংলা ড্রেজার দিয়ে নদীতীরে খনন করছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা প্রবলতর হচ্ছে।
তারা জানায়, বর্তমানে যমুনায় ১-২ সেন্টিমিটার করে প্রতিদিন পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে যমুনার এ পানি বৃদ্ধি স্থায়ী নয়, চৈত্র-বৈশাখে আবার পানি কমবে। দ্রুত কাজ না করলে প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, পাউবো’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে যমুনায় স্পীডবোট নিয়ে ঘোরাফেরা করেন আর পানির গভীরতা পরিমাপ করেন। এলাকার মানুষের সাথে কোন কথা বলেন না। নদীতীরের মানুষই তাদের সুখ-দুঃখের কথা ভালো বুঝেন। এলাকার মানুষের সাথে কথা বললে তারা স্থানীয় মানুষের অভিব্যক্তি অনুভব করতে পারতেন।
টাঙ্গাইল পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। যমুনায় পানি একটু একটু বাড়লেও এটা স্থায়ী নয়, পানি আবার কমে যাবে।
পাউবো কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক(পিডি) আব্দুল মতিন সরকার বলেন, পাউবো’র কর্মকর্তাদের তদারকিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে গতিতে কাজ করছে তাতে চলতি বছরই বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। আগামি বর্ষা মৌসুম থেকে এর সুফল স্থানীয়রা পেতে শুরু করবে।
প্রকাশ, খনন কাজে টাঙ্গাইলের ২০.৫ কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী ও পুংলি নদীর কুর্শাবেনু, বেনুকুশা, গোবিন্দপুর, জোকার চর, মীরহামজানী, আনালিয়াবাড়ী, ধলাডেঙ্গর ও এলেঙ্গা এলাকার ১৪.৫ কিলোমিটারে ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত ১৬ লাখ ৬ হাজার ২০০ঘনমিটার ড্রেজড বালু টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কালোবাজারে বিক্রির সময় ৪৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চাল বিক্রির সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার(২৫ মার্চ) সকালে উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের আওলাতুল এলাকার ডিলার ইয়াসিন আলীর গোডাউন থেকে ওই চাল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নাগবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিন্নাহ মিয়ার বড় ভাইয়ের নামে ডিলারশীপ থাকলেও সবকিছু দেখভাল করেন তিনিই। জিন্নাহ মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেই ডিলারশীপ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এর আগেও কালো বাজারে চাল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাগবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান সিদ্দিকী মিল্টন বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রিকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
কালিহাতী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান জানান, সরকারি চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে ২টি অটো রিক্সায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। চালগুলো পাটের বস্তা থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় তোলা ছিল। পরে গুদাম কর্মকর্তা চালগুলো সরকারি এটা নিশ্চিত করেন।
কালিহাতী থানা অফিসার ইনচার্জ সওগাতুল আলম বলেন, অভিযান চালিয়ে ৪৮ বস্তা সরকারি চালসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে ডিলারকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিলা শারমিন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শনিবার(২০ মার্চ) সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৮জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৬-৭টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে কালিহাতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানাগেছে, সল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের জন্য আগামি ৩০ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আব্দুল আলীম ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কেরামত আলী তালুকদার প্রার্থী হয়েছেন। সেলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মন জয় করতে উঠে-পড়ে লেগেছেন, দিনরাত গণসংযোগ ও মিছিল-শোডাউন করছেন। এরই অংশ হিসেবে ২০ মার্চ(শনিবার) বিকালে দেউপুর পুরাতন বাজারে কেরামত আলী তালুকদারের পক্ষে সমাবেশ আহ্বান করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে একই স্থানে একই সময়ে অপর প্রার্থী আব্দুল আলীমের পক্ষেও সমাবেশ ডাকা হয়। উভয় গ্রুপ একই স্থান ও সময়ে সমাবেশ আহ্বান করায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার সকালে উভয় পক্ষই ওই স্থানের সমাবেশ বাতিল করে। ওইদিন সন্ধ্যায় কেরামত আলী তালুকদার ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি সাহানুজ্জামান তালুকদার রঞ্জুর নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন দেউপুর পুরাতন বাজারের দিকে যাওয়ার পথে ফটিক মন্ডলের মোড় পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত আব্দুল আলীমের কর্মী-সমর্থকরা শোডাউনে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় কেরামত আলী তালুকদারের কর্মী পারভেজ আহাম্মেদ ফরিদ, লাভলু মিয়া, রুহুল আমিন তালুকদার, বাবলু মিয়া, বাবর আলী, অনিক, হুমায়ুন, আব্দুল মজিদ সহ ১০-১২জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে পারভেজ আহাম্মেদ ফরিদ, লাভলু মিয়া, রুহুল আমিন তালুকদারকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পারভেজ আহাম্মেদ ফরিদকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি সাহানুজ্জামান তালুকদার রঞ্জু জানান, পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ স্থগিত করায় তারা সন্ধ্যায় একটি মোটরসাইকেল শোডাউন করছিলেন। শোডাউনটি দেউপুর ফটিক মন্ডলের মোড়ে পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত আব্দুল আলীমের কর্মী-সমর্থকরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করে।
এ বিষয়ে সল্লা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি প্রার্থী কেরামত আলী তালুকদার জানান, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবেই। তাই বলে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে হামলা চালানো মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল। তিনি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
অপর সভাপতি প্রার্থী ও সল্লা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, তিনি অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় রয়েছেন। তিনি জেনেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র-জুনিয়র গ্রুপের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে- এটা তেমন বড় কিছু নয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের শালিনা গ্রামে রোববার(২১ মার্চ) সকালে অভিযান চালিয়ে ৯৫পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো. ইয়ামিন হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব-১২)। গ্রেপ্তারকৃত মো. ইয়ামিন হোসেন(২০) কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের মো. আব্বাস আলীর ছেলে।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমান জানান, গোপনে সংবাদ পেয়ে র্যাবের একটি দল শালিনা গ্রামে পুংলী নদীর পাড়ে অভিযান চালিয়ে মো. ইয়ামিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৯৫পিস বিক্রি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট, দুইটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পূর্বক গ্রেপ্তারকৃত মো. ইয়ামিন হোসেনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সড়কে ঝড়ল আরো একটি প্রাণ। এবার প্রাণ গেল অলিম্পিক কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার মাহমুদুর রহমানের(৫০)।টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে কালিহাতী পৌরসভার বাগুটিয়া ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে রোববার(২১ মার্চ) সকালে ট্রাক চাপায় প্রান হারান তিনি । এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহত মাহমুদুর রহমান দিনাজপুর জেলার শ্রীবর্দীপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে এবং অলিম্পিক কোম্পানীর টাঙ্গাইলের আরএম।
কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মনজুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গার দিক থেকে মোটরসাইকেল যোগে অলিম্পিক কোম্পানীর আরএম মাহমুদুর রহমান কালিহাতীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাগুটিয়া ব্রিজ পাড় হওয়ার সাথে সাথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৭৪৩৪) ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। এ সময় ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে সোহান (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ভাবলা গ্রামের একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিহত সোহান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার আলমের ছেলে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন সম্প্রতি সোহান কালিহাতী উপজেলার ভাবলা গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে সোহান একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে এক পর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ “খেলাধুলায় বাড়ে বল মাদক ছেড়ে খেলতে চল” স্লোগানে মুজিব শতবর্ষ ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার(১২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুরে একুশে জাগরণ যুব সংঘ খেলাটির আয়োজন করে।
ফাইনালে টীম লায়নকে হারিয়ে টীম সোনার বাংলা বিজয়ী হয়। খেলায় মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। এদিকে খেলা উপলক্ষ্যে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক রতনের সভাপতিত্বে খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু। খেলাটির উদ্বোধন করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম শফি।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাপলা যুব সংঘের সভাপতি আব্দুল মান্নান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক চন্ডীচরণ তালুকদার, নারান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর আলী, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও শামসুল হক, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, নারান্দিয়া টিআরকেএন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নির্জন কুমার ভৌমিক, নারান্দিয়া নির্মাণ প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোজাম্মেল হাসান বাদল, ইব্রাহীম মিয়া, মাসুদ সরকার প্রমুখ। খেলা পরিচালনা করেন সরকারি শামসুল হক কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মাসুদ ভূইয়া। সার্বিক তত্বাবধায়নে ছিলেন- ক্লাবের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ, সদস্য সচিব ইয়ামীন মিয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন।