আরমান কবীরঃ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম রূপকার ও স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সোমবার (১৪ জুলাই) দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ কলেজের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল- কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজে স্থাপিত শাজাহান সিরাজের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণ সভা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ইত্যাদি।
আলোচনা সভায় কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল হক বুলবুলের সভাপতিত্বে অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক মাইন উদ্দিন মিয়া ও শিক্ষক প্রতিনিধি রশিদুল ইসলাম রতনসহ কলেজের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।
এ উপলক্ষে ঢাকা ও তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, শাজাহান সিরাজ ৬৬-এর ছয় দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে নতুন রাজনৈতিক দল জাসদ (সিরাজ) গঠন করেন এবং পরে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জাসদ বিলুপ্ত করে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন।
তিনি জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শাজাহান সিরাজ ১৯৯১ সালে বিএনপির শাসনামলে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মৃদুল হাসানকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই ) এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা চলাকালে জেলার কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজ কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
আটক মৃদুল হাসানের বাড়ি কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া গ্রামে। তিনি শাজাহান সিরাজ কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন আমি আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করি। পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটের ভেতরে তাকে ঢুকতে দেখে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আটক করতে নির্দেশ দিই। তার কাছে নকলের কাগজপত্র পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, মৃদুল হাসান আমাদের হেফাজতে আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো বলেন, কালিহাতীতে দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে বিএনপি তার দায় নেবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছেলেকে ইতোমধ্যে জেলা ছাত্রদল থেকে শোকজ করা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার নাগবাড়ীতে বাসের ছাদ থেকে পড়ে আরও একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ইন্নিবাড়ী এলাকায় ট্রেনে ও উপজেলার নাগবাড়ী এলাকায় বাসের ছাদ থেকে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
বাসের ছাদ থেকে পড়ে নিহত যুবকের নাম রানা ইসলাম। সে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার দাড়িয়া কয়ড়াপাড়া গামের মোতালেবের ছেলে। রানা ইসলাম ঢাকা থেকে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন বলে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রেনের ছাদে ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি ফিরছিল। ট্রেনটি এলেঙ্গা পৌরসভার ইন্নিবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় ট্রেন থামেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
একই উপজেলার নাগবাড়ী এলাকায় পাবনাগামী বাসের ছাদ থেকে পড়ে রানা নামে এক যাত্রী মারা যায়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, বাসটি সখীপুর হয়ে কালিহাতী দিয়ে পাবনায় যাচ্ছিল। পথে সোহেল রানার শরীর খারাপ লাগলে বাসের ছাদে উঠে বসেন তিনি। সেখান থেকে পড়ে গিয়ে তিনি মারা যান।
তিনি আরও জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে যাচ্ছে। এতে বাসে বা ট্রেনে স্থান সংকুলন না হওয়ায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বাসের বা ট্রেনের ছাদে চড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর (এলেঙ্গা) হাইওয়ে থানা পুলিশের আয়োজনে মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে ওপেন হাউস ডে এবং কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ মে) সকাল ১১ টায় এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরিফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাফি খান।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুব রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, এলেঙ্গা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, এলেঙ্গা পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আল আমীন মিয়া, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মো. আমিনুর ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক শরিফ মোল্লা প্রমূখ।
সভায় বক্তারা সড়কে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে হাইওয়ে থানা পুলিশকে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে বাসের ২ জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় আহত হয়েছে আরও ১০ জন।
শুক্রবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মুলিয়া নামক স্থানে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- জেলার ঘাটাইল উপজেলার গুসাইবাড়ি এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুস সালাম ও মির্জাপুর উপজেলার ছাটিয়াচুরা এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এস এম আলম।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, টাঙ্গাইল থেকে ময়মনসিংহগামী প্রান্তিক বাস উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মুলিয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। এছাড়া এই সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন আহত হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তিন মাসের মাথায় আবারও যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীরও ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার (২১ মে) ভোর ৫টা পর্যন্ত রংপুরগামী বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতদল লুটপাট চালায় বলে জানান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যাত্রী টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে আল ইমরান পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে মহাসড়কের বিভিন্নস্থান থেকে যাত্রী সেজে ডাকাতরা বাসে ওঠেন। সুযোগ বুঝে তারা বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।
বাসের সুপারভাইজার ও যাত্রীরা জানান, রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কিছু যাত্রী উঠে। প্রায় ৯ থেকে ১০ জন নারীসহ ৩৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।
যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীবেশী আট থেকে ১০ জন ডাকাত ছুরি, চাপাতিসহ দেশিও অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় ডাকাতরা বাসটি নিয়ে বেশ কয়েকবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়ায় যাওয়া-আসা করে।
পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের শিবপুর এলাকায় বাসটি রেখে ডাকাতদল চলে যায় বলে জানান যাত্রীরা।
বাস চালকের সহকারী ২১ বছর বয়সি আতিকুর রহমান রাঙ্গা বলেন, ডাকাতরা যাত্রীদের ও বাসের চালকসহ সকলের চোখ, মুখ বেঁধে ফেলে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলতে থাকে।
এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, টাকা, সোনারগহনা এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়। রাতভর কয়েকবার বাসটি নিয়ে ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়। বাসটি নিয়ে ডাকাতরা চার থেকে পাঁচ বার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া সড়কে যাওয়া-আসা করে।
ভোরে ডাকাতদল বাসটি ছেড়ে দিলে যাত্রীদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করা হয় বলে জানান এই বাস চালকের সহকারী।
বাসের যাত্রী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ৫২ বছর বয়সি আফাজ উদ্দিন বলেন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নারী যাত্রীদের তল্লাশীর সময় তাদের শ্লীলতাহানী করা হয়। আমার চোখমুখ বাঁধা ছিল। তবে ঘটনার সময় নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ডাকাতদের ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক লেয়ার মুরগির ফার্মের কর্মচারীর জবাই করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা-রামপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে বলদকুড়া নামক স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কালিহাতী থানা পুলিশ।
নিহত কর্মচারীর নাম আখতারুল হক ওরফে আখতার হোসেন (৪৫)। সে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, রবিবার সকালে উপজেলার বদলকুড়ায় ফার্মের পিছনের ড্রেনে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে ফার্মের মালিককে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে মালিক ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশের ধারণা, শুক্রবার কিংবা শনিবার রাতের যেকোন সময় ফার্মে চুরি করতে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে জবাই করে ওই ফার্মের পিছনে ড্রেনের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।
ফার্ম মালিক মোরশেদ আলম জানান, প্রায় ১০ মাস আগে এক লোকের মাধ্যমে তার ফার্মে কাজ নেন আখতারুল হক। তিনি একাই ওই ফার্মে থেকে কাজ করতেন। রবিবার সকালে খবর পান তার ফার্মের পিছনে মরদেহ পড়ে আছে। তিনি এসে দেখেন তার কর্মচারি। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গোহালিয়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতোয়ার রহমানের স্ত্রী খোদেজা বেগমের (৫৮) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার নিজ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতোয়ার রহমানের স্ত্রী খোদেজা বেগম বাড়িতে একা বসবাস করতেন। গত দু-দিন যাবত পরিবারের কোন সদস্যের ফোন না ধরায় তার ছেলে আসাদুল শনিবার সকাল ১১ টার দিকে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন এবং ঘরের সিঁধ কাটা দেখতে পান।
পরবর্তীতে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলে মায়ের হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পান তিনি। ঘরের মধ্যে কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, গোহালিয়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতাউর রহমানের বাড়িতে সিধ কেটে অজ্ঞাত নামা লোক ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে হাত-পা বেধে তার স্ত্রী খোদেজা বেগমকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরের মধ্যে কাপড়চোপড় এলোমেলো ছিল।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীর: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “আওয়ামী লীগ কচুর পাতার পানি নয়”।সেটা সিদ্ধ হবে, না নিষিদ্ধ হবে; রায় দেয়ার মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা জিনিস বুঝতে হবে শেখ হাসিনার দল, মাওলানা ভাসানীর তৈরি করা দল, বঙ্গবন্ধুর লালন পালন করা দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনেছে; সেটা সিদ্ধ হবে, না নিষিদ্ধ হবে; রায় দেয়ার মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ।’’
রবিবার (১১ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতীহাটি গ্রামে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘‘কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলেই নিষিদ্ধ হয়ে যায় না; জনগণ যদি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অনুমোদন দিলেও সেই দল দাঁড়াতে পারে না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিচার হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু কোনো পরিষদ সিদ্ধান্ত নিলেই সেটা কার্যকর হবে বা সেটাই শুদ্ধ, সেটা ঠিক না।’’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ, কালিহাতী উপজেলা যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম নাজমুল আলম ফিরোজ, বল্লা ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি মোস্তফা আনসারী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রায়হান (২৮) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর তিনটার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম ইব্রাহিম (৩৫)। সে কালিহাতী উপজেলার রামপুর হাটিপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।
ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার ২নং আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাতে কালিহাতী উপজেলার রামপুর কুকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে রায়হানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় ইব্রাহিম ও তার সহযোগীরা। নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রাব্বি (১৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী৷
মঙ্গলবার (৬ মে ) বেলা ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল-শালগ্রামপুর আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কাজিবাড়ী গোরস্থান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে। সে দেশের বাহিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, মোটরসাইকেল আরোহী একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে ইফাত (২০) ও ইমান আলীর ছেলে জাহিদ (১৫)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেল যোগে কাজিবাড়ী থেকে রামপুর যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীন সময় রাব্বি মৃত্যুবরণ করে। আহত অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।
নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’
নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।