একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বুড়িগঙ্গা নদী পানি প্রবাহ বৃদ্ধি প্রকল্পে উত্তোলনকৃত সরকারি বালু রাতের আঁধারে বিক্রি করছে একটি চক্র।
সরকারি বিধি নিষেধ তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছাঁয়ায় ওই মহলটি সরকারি বালু বিক্রির এই হরিলুট চালাচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতার কারনে বর্তমানে বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও, চক্রটি আবার বালু বিক্রির জন্য তৎপর হয়ে উঠছে।
জানাগেছে, এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে স্থানীয় আশরাফ আলী, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ভুইয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা রাসেল ভুইয়া, দেলোয়ার হোসেন, অছিমুদ্দিন, ফজল হক, হারুন , জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, রিপন মিয়া, অমিত ও জাকির মিয়া খননকৃত বালু রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দেদারছে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে নিউ ধলেশ্বরী নদীর পাশে খননকৃত সরকারি বালু রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবার তৎপর হয়ে উঠে প্রভাবশালী এই চক্রটি। কোন ভাবেই সরকারি এই বালু বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমান আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করলে প্রশাসনের চোখকে অতি সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায়। তাই রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি করছে একটি চিহ্নিত চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।সারারাত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমসহ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।

এই অবৈধ বালু বিক্রি চক্রের হোতা আশরাফ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে দুদিন ধরে অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বালু বিক্রি শুরু হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাজমুল হোসাইন জানান, অবৈধভাবে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ধলাটেঙ্গর ও কুড়িঘুড়িয়া নামকস্থানে যদি অবৈধভাবে বালু বিক্রি করা হয়ে থাকে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। সরকারি উত্তোলনকৃত বালু রাতের আঁধারে বিক্রিকারীদের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনকে মামলা করতে বলা হয়েছে। আশাকরি, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের এমপি পদে মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী কোন কর্তৃত্ববলে বহাল আছেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও এমপি পদে মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী মো. বুরহান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৩১ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে মঙ্গলবার রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. বুরহান খান।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম জি সারোয়ার পায়েল, ইশিতা পারভীন ও আশিকুল হক।
টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর ২০১৭ সালে ওই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে খান সোহেল হাজারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন তিনি।
আইনজীবী মো. বুরহান খান জানান, হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতায় গড়মিল আছে উল্লেখ করে গত বছরের ২৫ জুলাই স্পিকার বরাবর মোখলেছুর রহমান চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বিতর্কের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। সেটি নিষ্পত্তি না করায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন। আবেদনে রিটটি নিষ্পত্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর ওই রিট খারিজ করেন হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ। এবার তার সংসদ সদস্য বাতিল চেয়ে আরও একটি রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আজ এ রুল জারি করেন আদালত।
রিটের বিষয়ে আইনজীবী মো. বুরহান খান জানান, এবার পিটিশনার সরাসরি কোয়ারেন্ট নিয়েছেন। আমরা যেটা বলি, তার এমপির যে পোস্ট, সেটা কোন অথরিটির বলে (কর্তৃত্ববলে), এটা চ্যালেঞ্জ করে কোয়ারেন্ট করা হয়। কোর্ট এনিয়ে রুল ইস্যু করেছেন।’
তিনি আরো জানান, ‘আদালতে রিট আবেদনটি করেছিলেন আমার চেম্বারের জুনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন। আর সিনিয়র কাউন্সিলর হিসেবে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।’
সংবাদ সূত্র – Jagonews24.com
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সোমবার (৩০ মে) বিকালে নিখোঁজ ভ্যান চালক হৃদয়ের (১৭) মরদেহ ছাতিহাটি সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে নিখোঁজের সাত দিন পর হৃদয়ের মরদেহ রোববার (২৯ মে) বিকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারোটিয়ার পুংলি নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট সোমবার দুপুরে হস্তান্তর করে সদর থানা পুলিশ।
হৃদয় কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (২২ মে) সন্ধ্যায় একটি ফোন পেয়ে সে ভ্যান নিয়ে সুরুজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এঘটনায় হৃদয়ের মা রাশেদা বেগম বুধবার (২৫মে) কালিহাতী থানায় একটি অভিযোগ করেন।
হৃদয়ের মা রাশেদা বেগম বলেন, একই এলাকার মৃত লালচাঁনের ছেলে রাজু ও নজরুলের ছেলে ইয়ামিন নতুন ভ্যানের জন্য ফোনে ডেকে নিয়ে হৃদয়কে মেরে সুরুজ নদীতে ফেলে দেয়। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
রাশেদা বেগম আরো বলেন, পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলো হৃদয়, ওর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি কষ্ট করে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে দুটি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি।অভাবের কারনে হৃদয়কে পড়াতে পারি নাই। দুই মাস আগে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে নতুন একটি ভ্যান কিনে দিয়েছি। ভ্যান চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতো হৃদয় ।
এবিষয়ে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, আমরা অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা ও তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খাদিজা আক্তার (২২) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৯ মে) সকালে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজার ২ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, কোকডহরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী আবু হানিফের সাথে প্রায় ৪ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী বলধী গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়। তার স্বামী আবু হানিফ দেশে ছুটি কাটিয়ে দু’মাস পূর্বে পুনরায় সৌদী চলে যান। তারপর থেকেই শশুর-শাশুড়ী খাদিজাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছিল বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। গত দু’দিন আগে শাশুড়ি ও খাদিজার সাথে শাশুড়ীর স্বর্ণের চেইন হারানো নিয়ে নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে রোববার সকালে স্টোক করেছে বলে খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার শশুর-শাশুড়ী। এসময় চিকিৎসক মৃত খাদিজার গলায় চিহ্ন দেখে শাশুড়ি হালিমনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ফাঁসি দিয়েছে।
নিহত খাদিজার ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, খাদিজাকে হত্যা করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে তার শাশুড়ি হালিমন আমাদের জানায় সে অসুস্থ্য। পরে জানতে পারি পুলিশ খাদিজার লাশ থানায় নিয়ে গেছে।
খাদিজার বাবা খালেক বলেন, আমার মেয়ে খাদিজাকে তার শশুর-শাশুড়ী হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
অন্যদিকে, শাশুড়ী হালিমনের দাবী গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে খাদিজা। তাকে বাঁচাতে ফাঁস থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ফাতেমা জানান, রাতের শিফটের ডাক্তার সকালেও ডিউটি করেছেন। খাদিজা নামে এক গৃহবধুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওটা ব্রড ডেড, হ্যাংগিং কেস চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেছে। পোস্টমর্টেমের পর মূল বিষয় জানা যাবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সংবাদ পাওয়ার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অজ্ঞাত বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার (২৯ মে) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজিম উদ্দিন (৩৭) নাটোর সদর উপজেলার বদিউর রহমানের ছেলে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নাজিম উদ্দিন সকালে ঢাকায় যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ থানায় রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা সল্লা সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুকান্ত কুমার সুত্রধরকে লাঞ্ছিত করেছে স্থানীয় বখাটে শিশির।এঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরে সল্লা সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বখাটে শিশিরের বিচারের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার সল্লায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালযের শিক্ষার্থীরা।
এসময় মহাসড়কের দুইপাশে ১৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কালিহাতী থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থীরা সকল প্রকার ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শিশিরকে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।
জান যায়, বিদ্যালয়ের ইংরেজি সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার সূত্রধর ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বৃহস্পতিবার সকালে বখাটে শিশির স্কুল প্রাঙনে প্রবেশ করে তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে পালিয়ে যায়। শিশির সল্লা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবু নাসিরের ছেলে। এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পরলে তারা একত্রিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার সময় মাঝে মধ্যেই এই বখাটে শিশির ছাত্রীদের উত্যক্ত করে।তিনি শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বখাটে শিশিরের শাস্তির আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে চলে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাদেক আলী মোল্লা জানান, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বখাটে শিশিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, শিক্ষক অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নাগবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ মিয়ার বিরুদ্ধে।বুধবার (১১ মে) উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের মরিচা পাইকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতন চলাকালে ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ এসে ওই গৃহবধূকে কাঁঠাল গাছে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। নির্যাতিত গৃহবধূ ওই গ্রামের প্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য মোশারফ সম্পর্কে আমার মামা হয়েও তাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মোশারফ ভয়ভীতি ও বাড়ি থেকে জোরপূর্বক একাধিকবার উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি রমজান মাসে সেহরি রান্না করার সময় মোশারফ ও তার এক বন্ধুকে নিয়ে এসে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন চিৎকারে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করলে মোশারফ ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়।
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য মোশারফ মিয়া এলাকায় অনেক প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেয়া নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠকও হয়েছিল। আজকে যেভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোশারফ মিয়া বলেন, আমার পরিবারের ওপর হামলা করায় তাকে গাছে বেঁধে রাখা হয়। তবে তিনি কু-প্রস্তাবের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনা মাত্রই আমাদের অফিসার ও ফোর্সরা তাকে উদ্ধার করেন। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের ঝাটিবাড়ী গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে তিন দিন আগে ঝাটিবাড়ী গ্রামের আঃ করিম ও একই গ্রামের স্বপেনের ছেলে ইকবাল ও মিলনের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (২ মে) রাত ৮টার দিকে স্বপেন ও তার ছেলেরা পার্শ্ববর্তী ধুনাইল গ্রামের শাজাহানের নেতৃত্বে ঝাটিবাড়ী গ্রামের আঃ করিমের বাড়ীতে হামলা চালায়। হামলায় আঃ করিম, তাজিম উদ্দিন,কাজিম উদ্দিন, ফজলুল হক,রুস্তম, শাজাহান ও দেলোয়ার সহ উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৫ জনকে ভর্তি করে এবং রুস্তম ও শাজাহানকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে মঙ্গলবার (৩ মে) রাত সাড়ে ৭ টায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুস্তমের মৃত্যু হয়।
কালিহাতী থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, এঘটনায় সোমবার রাতেই থানায় মামলা হয়েছে । নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত করার পর স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গোসল করার সময় বজ্রপাতে তিন কিশোর নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে নদীর পাড়ে থাকা আরও দুজন। মঙ্গলবার (৩ মে) সকালে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া এলাকায় নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মালেক ভুইয়া।
নিহতরা হলো- উপজেলার হাতিয়া এলাকার রবিউলের ছেলে আরিফ (১৫) ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রফিক (১৪) এবং দশকিয়া পূর্ব পাড়া গ্রামের জুলহাসের ছেলে ফয়সাল (১৬)।
দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মালেক ভুইয়া জানান, ঈদের নামাজ পড়ার আগে সকালে তারা নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। এ সময় সেখানে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। এ সময় আরও চারজন আহত হয়। আহত রফিক ও ফয়সালকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। নিহতদের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, যে দুইজন আহত হয়েছিল, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাস্তা পার হতে গিয়ে মায়ের কোলে যাওয়ার সময় পিকআপের চাপায় তোয়া মনি (৫) নামে এক শিশু নিহতহ হয়েছে।
রবিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পুংলী-বালিয়াটা আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
তোয়া মনি উপজেলার সহেদেবপুর ইউনিয়নের বানিয়াফৈর গ্রামের খালপাড় এলাকার শহিদুল ইসলাম মেয়ে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাস্তার পাশেই শিশুটির বাড়ি। শিশুটি মা রাস্তার ওপারে কাজ করছিল। পথিমধ্যে শিশুটি দৌঁড়ে রাস্তার উপর দিয়ে তার মায়ের কোলে যাচ্ছিল।
এসময় শিশুটি যখন তার মায়ের কাছে পৌঁছবে তখনি হঠাৎ বেপরোয়া দ্রুত গতির একটি পিকআপের নিচে চাপায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ বিষয়টি কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার আলী নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ পবিত্র রমজান মাসের ইফতারির রকমারি উপাদানের মধ্যে মুড়ি অত্যাবশকীয়। মুড়ির চাহিদা সারাবছর ব্যাপী থাকলেও রোজার সময় উৎপাদন এবং বিক্রি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই মুড়ি ব্যবসায়ীরা বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকেন রমজান মাসের জন্য। আবার অনেকে সিজনাল ব্যবসা হিসেবে এই মাসে মুড়ি উৎপাদন এবং বিক্রি করে থাকেন। এখন মুড়ি তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুসরত নেই।
টাঙ্গাইলসহ দেশের কমপক্ষে ৫ জেলায় মুড়ি সরবরাহ হয় জেলার কালিহাতীর নারান্দিয়া থেকে। এখানকার উৎপাদিত মুড়ির সুনাম বিভিন্নস্থানে। মুড়ি উৎপাদনের সাথে নারান্দিয়ার মানুষ অনেক পূর্বে থেকেই জড়িত। এখানে দুইভাবে মুড়ি উৎপাদিত হয়, হাতে ভেজে ও মেশিনের সাহায্যে। মুড়ি উৎপাদনকারি এলাকাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় নারান্দিয়া শীর্ষে।
আরো পড়ুনঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে এবার যানজট হওয়ার আশঙ্কা নেই’
মেশিনের সাহায্যে বিপুল পরিমান মুড়ি প্রতিনিয়ত উৎপাদিত হলেও হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। একশ্রেণির মানুষ সর্বদাই হাতেভাজা মুড়ি খেয়ে থাকেন। হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বহু পরিবার। বিশেষ করে মোদক সম্প্রদায়।
কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া, মাইস্তা, নগরবাড়ী, দৌলতপুর, লুহুরিয়া ও সিংহটিয়াসহ প্রায় পনেরটি গ্রামের কয়েক’শ পরিবার হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি করে থাকে। মোদকরা বংশ পরম্পরায় মুড়ি ভাজার কাজ করেন। একজন ব্যক্তি ১ দিনে এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারেন। প্রতি মণ চালে ২২ থেকে ২৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি পাইকারি ৭৫/৮০ টাকা এবং খুচরা ৮৫ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মূলত গ্রামের মহিলারাই হাতে ভেজে গুণগত মানসম্মত মুড়ি তৈরি করেন।
দৌলতপুর গ্রামের কনিকা বর্মন বলেন খড়ি ২০০ টাকা মণ, ধান ১২০০ টাকা মণ। ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকানোর পর মেশিনে মাড়াই করে মুড়ি ভাজার জন্যে চাল তৈরি করা হয়। সেই চাল দিয়ে লবণ জলের মিশ্রণে আগুনে তাপ সহ্য করে বিশুদ্ধ মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয়। কিন্তু লাভ টিকে না।
হাসি বেগম বলেন আমাদের পরিশ্রমের দাম উঠে না। গরিব মানুষ এই কাজ কইরা অনেক দিন ধরে খাই। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।
মিনতি রানী মোদক ও সুশীল মোদকসহ অনেকে বলেন আমরা বংশ পরম্পরায় এই মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সাথে জড়িত। সব কিছুর দাম বেশি। মুড়ির দাম বাড়ে নাই। দিন শেষে লাভ থাকে না বললেই চলে। সরকার থেকে যদি আমাদের সুদমুক্ত ঋণ দিতো তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারতাম।
তারা আরো বলেন লাভ বেশির ভাগই চলে যায় মধ্যসত্বভোগীদের পকেটে। রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা পিকআপ, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে বস্তা ভর্তি মুড়ি কিনে টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি করেন। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে নারান্দিয়ার মুড়ি সরবারহ হয়।
এদিকে নারান্দিয়া ইউনিয়নের নগরবাড়ীতে ২টি, দৌলতপুরে ২টি মোট ৪টি মিলে ৫টি মেশিনের সাহায্যে মুড়ি ভাজা হয়। সততা মুড়ির মিলের স্বত্বাধিকারী শংকর চন্দ্র মোদক কালের কণ্ঠকে বলেন, ৫০ কেজি চালের বস্তায় ৪২/৪৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি আমরা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করি। পাইকাররা আবার সেই মুড়ি প্রতি কেজি কমপক্ষে ৬৫-৭৫ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন ৫টি মিলে ১৫০ বস্তারও বেশি চালের মুড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ৪ লাখ টাকার মেশিনে ভাজা মুড়ি প্রতিদিন কেনাবেচা হয় এই এলাকায়। কিন্তু খরচ বাদে লাভ বেশি টিকে না।
রমজানে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মুড়ি প্রতিদিন মেশিনে ও হাতে ভেজে তৈরি হলেও বছরের অন্য সময়ে অর্ধেকে নেমে আসে। শতাধিক শ্রমিক এবং কয়েক শ পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ও বিপুল সংখ্যক মানুষ পরোক্ষভাবে মুড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে রমজানে কাজের চাপে দম ফেলার সময়টুকু পায়না মুড়ি উৎপাদনকারীরা।
হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা দিনদিন এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছেন এবং অনেকেই চলে গেছেন। এই পেশাকেই টিকিয়ে রাখতে উৎপাদনকারী এবং ব্যবসায়ীরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
কালিহাতীর বাসিন্দা এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবু নাসের বলেন, টাঙ্গাইল তথা বাংলাদেশের মধ্যে মুড়ি উৎপাদনের অন্যতম স্থান কালিহাতীর নারান্দিয়া। এখানকার উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার মুড়ি সারাদেশে সরবরাহ হচ্ছে। এটি এক প্রকার কুটিরশিল্প। মানুষের চাহিদা পূরণে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে হাতেভাজা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
প্রান্তিক পর্যায়ের মুড়ির কারিগররা এ মুড়ি কেনাবেচার একটি নির্দিষ্ট বাজার স্থাপন এবং সরকার থেকে হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারী ব্যক্তি এবং পরিবারগুলোকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ভুয়া ডিবি পুলিশ সেজে ৬ লাখ টাকা লুট কাণ্ডে চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
এদের মধ্যে রবিউল করিম সুলভ (৩০) ও মাসুম বিল্লা ওরফে মুন্না (২৮) কে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ইউসুব কাজী (৭০) ও জাকির হোসেন বাবু (৩৩) কে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানা এলাকা থেকে এবং নাটোর জেলার লালপুর থানা এলাকা থেকে সেলিম মিয়া (৩৬) কে আটক করা হয়।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, গত ১০ এপ্রিল কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শামছুল হক কলেজের সামনে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চক্রটি বিকাশ এর ডিএসও পদে চাকরিরত রাসেল মিয়ার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে তুলে এলোপাথাড়ি মারধর করে তার কাছে থাকা নগদ ৬ লাখ টাকা লুট করে নেয়। পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা বাইপাস এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় তারা। পরে রাসেল গত ১৯ এপ্রিল কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় কালিহাতী থানা পুলিশ ও টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডিবি পুলিশ চক্রের ৫ সদস্যকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়। এসময় নগদ দুই লাখ টাকা, দুই সেট ডিবি পুলিশের পোশাক, এক জোড়া হ্যান্ডক্যাপ, একটি সিগন্যাল লাইট, একটি ওয়্যারলেস সেট ও বিভিন্ন ব্যান্ডের তিনটি মোবাইল জব্দ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে চারজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে দোষ স্বীকার করে বৃহস্পতিবার( ২১ এপ্রিল) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দিয়েছে।