আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির(কাদের) অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানার পাশে ছয় আনি বাজার রোড অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা খানেক সেখানে খানেক অবস্থানের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। বর্তমানে ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করাহয়েছে।
শনিবার সকালে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল থেকে ৪৯ কেজি গাঁজাসহ একটি তুলা বহনকারী ট্রাক ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, ট্রাক চালক আমিনুল, হেলপার বাবু ও মোজাহিদ।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানিয়েছেন।
কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন হবিগঞ্জ থেকে তুলা বোঝাই একটি ট্রাক মাদক দ্রব্য নিয়ে যমুনা সেতুর দিকে আসছে। পরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ট্রাকের তুলার ভেতর লুকানো অবস্থায় ৪৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান,ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সদ্য নিয়োগ পাওয়া আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) বজলুর রহমান মিয়াকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আইনজীবীরা।
বজলুর রহমান জিপি পদে নিয়োগ পাওয়ায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই ক্ষোভ থেকে মূলত তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে পিপির দুটো কক্ষে তারা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে আইন সচিবের মাধ্যমে আইন উপদেষ্টা বরাবর আইনজীবী বজলুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করে অন্য কাউকে নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়।
অতিরিক্ত আইন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জিপি) মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে কক্ষে তালা দেয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পরে প্রশাসনকে অবগত করেছি। তালাবদ্ধ থাকায় আমি আমার কক্ষে প্রবেশ করতে পারিনি।’’
গত ৫ মার্চ আদালতের আইন কর্মকর্তা আব্দুল বাকী মিয়ার মৃত্যুর পর অতিরিক্ত আইন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১০ আগস্ট অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মিয়াকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবাদ স্বরূপ জিপির কক্ষে তালা দেয় বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
বিক্ষুব্ধ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ‘‘বজলুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক পোস্ট দিয়েছেন।
আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন, বজলুর রহমান ইতোপূর্বে দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করেননি।’’ আদালতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্য যে কোনো যোগ্য আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়ার দাবি করেন তারা।
জেলা বার সমিতির সভাপতি জহুর আজহার খান বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বজলুর রহমানকে দুই দিন অফিস না করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। তিনি না মেনে উল্টো বার সমিতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। বজলুর রহমান বলেছেন, লোকজন নিয়ে জিপির কক্ষে প্রবেশ করবেন।’’
সদ্য নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তা (জিপি) বজলুর রহমান মিয়া বলেন, ‘‘আমি কোনো দলের দোসর ছিলাম না। সদ্য জিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমি ফ্যাসিস্টদের দোসর হয়েছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি জিপি নিয়োগ পাওয়ায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’’
আরমান কবীরঃ ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুরের মেহনাজ আফরিন হুমায়রা ও মির্জাপুরের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদের কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হতেয়া কেরানিপাড়া এলাকায় হুমায়রার কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানঘাটির উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় হুমায়রার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
পরে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরিবারের সদস্যরা সখীপুরের বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানবাহিনীর ঘাঁটিটি হুমায়রার নামে করার দাবি জানান।
এরপর মির্জাপুরের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদের কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিমানবাহিনী সব সময় দেশ ও জনগণের পাশে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, আহতদের সব ধরনের সহযোগিতার জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। নিহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
হুমায়রার পরিবারের পক্ষে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হুমায়রা অনেক মেধাবী ছিল। বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। সখীপুরের বিমান ঘাটিটি হুমায়রার নামে করার দাবি করছি।’
আরমান কবীরঃ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারি জোনায়েদ সাকি বলেছেন,যিনি প্রধানমন্ত্রী হোন তার কাছে সব ক্ষমতা, আর সেই ক্ষমতা খাঁটিয়ে জনগণের প্রতি স্টিম রুলার চালিয়েছে।জনগণের সব অধিকার কেঁড়ে নিয়েছিলো।এছাড়া ভোটের অধিকারও কেঁড়ে নিয়েছিলো শেখ হাসিনা,এ জন্য ২০০৮ সালে তত্ববায়ধক সরকার গঠন করেছিলো কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে ২০১১ সালে বাতিল করে দেন।
রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল নিরালা মোড়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টাঙ্গাইল জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আয়োজনে জুলাই শহীদদের স্বরণে জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন,যদি আমরা একদম ফ্যাসিবাদ দূর করতে না পারি তাহলে এদেশ ঠিক হবেনা,গত ১৮ বছর যাবত দেশের মানুষ লড়াই করছে,বিগত সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাদের উপর অত্যাচার নিপিড়ন,গুম হত্যা সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেছে যার বর্ণনা দেওয়া যাবেনা। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো,জনগণ তখনো বুঝে উঠেনি কিন্তু এবার ২৪শে মানুষের স্ফুলিঙ্গ ফুটে উঠেছিলো। যার ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথি,গণসংহতি আন্দোলনের টাঙ্গাইল পৌর কমিটির সদস্য সচিব ফারজানা জেসমিন,জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বেগম প্রমূখ।
আরমান কবীরঃ ইনোভেটিভ বিল্ডার অফ দা ইয়ার এশিয়া-২০২৫ পুরস্কারে ভূষিত হলেন বাংলাদেশের জায়ান বিল্ডার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান।
জায়ান বিল্ডার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, আজকের এই অর্জন পুরো জায়ান বিল্ডার্স টিমের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ফসল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। আমরা টেকসই ও উদ্ভাবনী নগর জীবন গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতে আমাদের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।
শুক্রবার (২৭ জুন ) রাতে নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে অবস্থিত হোটেল ক্রিস্টাল পাশুপতিতে আয়োজিত এশিয়ান বিজনেস আইকনিক এওয়ার্ড সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় আমিনুর রহমানের হাতে।
এশিয়ান বিজনেস পার্টনার শিপের নির্বাহী পরিচালক মো.গোলাম মজনুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সামিটে প্রধান অতিথি ছিলেন নেপালের বন ও পরিবেশমন্ত্রী আইন বাহাদুর শাস্ত্রী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখরেল, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী কুন্তী কুমারী শাহী, ভৌত অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী কৃষ্ণ লাল ভদেল প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, এই অনুষ্ঠানে এশিয়ার ৮টি দেশের মোট ৩২জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করে।
জায়ান বিল্ডার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, আজকের এই অর্জন পুরো জায়ান বিল্ডার্স টিমের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ফসল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। আমরা টেকসই ও উদ্ভাবনী নগর জীবন গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতে আমাদের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।
অনুষ্ঠান শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গালা ডিনারের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৫টি দেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে। পরে ৮ টি দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার এই গালা ডিনারে পরিবেশন করা হয়।
আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, কীটনাশকের প্রচারণা দেখে এটি ভাল কিছু মনে হলেও এটি আসলে বিষ। বিষকে কিভাবে আমরা খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করি? এই বিষাক্ত কীটনাশক বন্ধ করতে প্রয়োজনে রাস্তায় নামবো।
শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের মেইন রোডে অবস্থিত বুরো বাংলাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে সবুজ পৃথিবী ও নয়াকৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত নিরাপদ খাদ্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিষ দিয়ে মাছও ধরা হচ্ছে। গরু ছাগল ঘাস খেতে পারছে না। সেখানে আগাছা নাশক ছিটিয়ে দিয়ে ঘাস মেরে ফেলে তা বিষাক্ত করা হচ্ছে। এ বিষাক্ত পরিবেশ থেকে আমাদের বের হতে হবে। বাংলাদেশ অনেক সুন্দর দেশ, সমৃদ্ধশালী দেশ। আমরা চাইলে এ দেশকে আরও সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য আরো রাখেন, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নইম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বুরো ময়মনসিংহ বিভাগের ব্যবস্থাপক ইশতিয়াক আহমেদ, আসপাডা পরিবেশ আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন এম এ রশিদ, উবিনিগেরর পরিচালক সীমা দাস সীমু, সবুজ পৃথিবীর সাধারণ সম্পাদক শহিদ মাহমুদ, কৃষক ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ওপরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ পৃথিবী ও নয়াকৃষি আন্দোলনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রয়াত সামসুল হকের স্মরণে শামসুল হক স্মৃতি মিনি ফ্লাট লাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে শামছুল হক স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সার্বিক সহযোগিতায় টুর্নামেন্টির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল ডিএফএ এর সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলি, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল-আমিন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, শামসুল হক স্মৃতি মিনি ফ্লাট লাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের আহবায়ক ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।
এই উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করেন, সুপ্রভাত রাইডার্স বনাম হেলিপ্যাড লায়ন’স ও ভাসানী ক্লাব বনাম টাইগার সুলতানা স্পোর্টিং ক্লাব।
এই টুর্নামেন্টে চারটি গ্রুপে মোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করছে। আগামী ৮ জুলাই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হচ্ছে, গ্রুপ-ক : শতায়ু অঙ্গন ক্লাব, সোনালী সকাল ক্রীড়া সংঘ, আরামবাগ ক্লাব, শুভ সকাল ক্লাব।
গ্রুপ-খ : সুপ্রভাত রাইডার্স, হেলিপ্যাড লায়ন্স, হেলিপ্যাড টাইগার’স, ফতেপুর পল্লীমা সংস্কৃতিক সংসদ।
গ্রুপ-গ: দেহঘড়ি শরীর চর্চা ক্লাব, নুরা পরিবার ক্লাব, সু-প্রভাত জুনিয়র, পার্ক বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড।
গ্রুপ-ঘ : ভাসানী ক্লাব, টাইগার সুলতানা স্পোর্টিং ক্লাব, সৈয়দ জালাল ক্লাব, সুপ্রভাত কিংস, অফিসার্স ক্লাব টাঙ্গাইল।
উল্লেখ্য, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জামাতা শামসুল হক টাঙ্গাইল পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল ও ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মরহুম সামসুল হক টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুর পিতা।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজের (ভিএফসি) ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) রাতে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভিএফসির চেয়ারম্যান ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সিনিয়র- যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ হাসান মালা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই ফুটবল টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণকারী সকল দলের জার্সি উন্মোচন করা হয়। একই সাথে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
পরে বিবেকানন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী, টাঙ্গাইল ক্লাব রোড ব্যান্ড ও জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ সঙ্গীত পরিবেশন করে।
এই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে পৌর উদ্যানকে মুখরিত করে তোলে।
আরমান কবীরঃ যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আযহা’র জেলার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭জুন)সকাল আটটায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মুফতি সোলাইমান, নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যান কামনা ও বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়।
ঈদ জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলা-কুলি ও কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো: শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আব্দুল্যাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহবুব হাসান, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
এ ছাড়াও জেলার এই প্রধান ঈদ জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নানা শ্রেণী পেশার সহস্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত,টাঙ্গাইল জেলার এবার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৩২টি ঈদগাঁ মাঠে শনিবার (৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে কালিহাতী উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৪২টি এবং ধনবাড়ী উপজেলায় সর্বনিম্ন ১৬টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ হিসাবের বাইরেও গ্রাম-পাড়া-মহল্লার অনেক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরমান কবীরঃ আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদুল আজহা’। এই উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কোরবানীর পশু ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন হাটে হাটে দোড়ঝাপ শুরু করেছেন। অন্যদিকে, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বানাতে ও কিনতে ছুটছেন কামারের দোকান গুলোতে। তবে কামাররা জানান, এখনো আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না দোকান গুলোতে।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের কামারের দোকান গুলো ঘুরে দেখা যায়, দা, বটি, চাপাতি, ছুরি, দেশি কুড়াল,চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন কামাররা।
ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও জমে উঠেনি আগের মতো কামারিদের দোকানগুলো। কামার শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২’শ থেকে ৩’শ টাকা, দা ৬’শ থেকে ৯’শ টাকা, বটি ৯’শ থেকে হাজারেরও উপরে, পশু জবাই ছুরি ৮’শ থেকে দেড় হাজার টাকা, চাইনিজ কুড়াল ৮’শ, দেশিও কুড়াল ৬’শ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা।
তাদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, তাদের সকলেরই পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া এ পেশা। তাই তারা ঐতিহ্য হিসাবে ধরে রাখছেন এ পেশাকে।
কামার সত্যরঞ্জন দাস ও উদয় সরকারের সাথে কথা হয়। তাঁরা ৪০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত।
তারা জানান, আগের মত আর তেমন কাজ নেই। এখন আমাদের এ পেশায় নুন আনতে পানতা ফুরানোর মত অবস্থা। সারা বছর কাজ না থাকায় মুসলমানদের ধর্মীয় এ উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। তাতে কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠা যায়। বাপ-দাদার পেশা, এ পেশাই জীবন বাঁচাই, ছাড়তেও পারি না। তারপরেও কয়লার দাম বেশী হওয়ায় আমাদের হিমশিম খেতে হয়। এর সাথে কাজ করা লোক ও এখন আর পাওয়া যায় না, পরিশ্রম বেশি তাই এ পেশা থেকে লোক সরে যাচ্ছে । আগে কয়লা ও লোহার দাম কম ছিল তাই খাটা খাটনি করে ভালো দাম পাওয়া যেত। এখন তেমন টা হয় না।
তারা আরও বলেন, বাপ দাদার পৈত্তিক এই পেশায় জীবন বাঁচানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সরকার। তাই পেটের দায়ে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই এখন অন্য পেশায় ঝুকছেন।
টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে কথা হয় জেলা সদর থেকে আসা ক্রেতা আব্দুর রহমানের সাথে তিনি জানান, গরু কোরবানীর জন্য দা, ছুরি ও চাপাতির অর্ডার দিয়েছি। ঈদ আসলে দাম একটু বাড়ে। তবুও আমাদের বানাতে হয়। কোরবানীর পশু কেনার যে সময় লাগে এখন তার চেয়ে বেশী সময় লাগে সরঞ্জামাদি বানাতে ।
তিনি আরও বলেন, তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম একটু কম বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া এবার কামারের দোকান গুলোতে ভীড়ও কম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৭৪টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি পশু। তবে জেলায় কত পরিবার কামার পেশার সাথে যুক্ত আছেন সে তথ্য জানাতে পারেননি সরকারের সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান দপ্তর।
আরমান কবীরঃ শতাব্দি প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের বর্তমানে বেহাল দশা। শহরের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়ক গুলোর সাথে সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রতিবছর শহরে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা পৌরবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটির বেহাল দশা। শহরের যানজট নিরসনে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পরেও দীর্ঘদিনধরে কোন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে ট্রাক-বাসসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে এই সড়কে।
শহরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্লাব রোড। এই সড়কটি মূলত একটি লিংক রোড। যা শহরের ব্যস্ততম জেলা সদর রোড ও ভিক্টোরিয়া রোডকে যুক্ত করেছে। পৌর ভবন থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। এছাড়া এই সড়কটিতে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সারাবছর এই সড়কের একটি অংশ পচা ড্রেনের পানিতে ডুবে থাকে।
শহরের মালঞ্চ সিনেমা হল-সাহাপাড়া-বাজিতপুর সড়কটি বৃষ্টি হলেই পানির নিচে ডুবে যায়। যে কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এছাড়া জমে থাকা ড্রেনের পানি গিয়ে ঢুকে পড়ে বসত বাড়িতে। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এইসব এলাকায় বেশি দেখা যায়।
এছাড়া শহরের জেলা সদর হয়ে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটির খুবই বেহাল দশা। নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট এড়াতে অনেকেই এই সড়কটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই সড়কে কোন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে চায়না। ফলে শহরের ১ ও ২ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ জেলার উত্তর অংশের মানুষদের শহরে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । এই সড়কটি জেলা গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন।
এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ থেকে মেসের মার্কেট পর্যন্ত সড়কটি ভেঙেচুরে বর্তমানে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিকল্প সড়ক হিসেবে হাউজিং এস্টেটের সড়ক ব্যবহার করে অনেকটা ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের দিঘুলিয়া নিজাম উদ্দিন সড়কের শাহ্ আলমের বাড়ি থেকে কাজীবাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা। সড়কটিতে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এরফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী জহির সুমন বলেন, এই সড়ক ব্যাবহার করে দুটি প্রাইমারি স্কুল ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি ডুবে যাওয়ার ফলে, তাদের বিদ্যালয় যেতে চরম সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা এই সড়কটি ব্যবহার করে, শহরে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের শহরে আসার একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়কটির দ্রুত উন্নয়নের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
টাঙ্গাইল কোর্টের আইনজীবি জসীমউদ্দীন বলেন, আদালত প্রাঙ্গনের রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে রাস্তাটির সলিং উঠে গিয়ে রড বেড় হয়ে গেছে। বের হয়ে থাকা এইসব রডের সাথে বেজে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া এই সড়কে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তা মেরামতের সাথে সাথে রাস্তার ড্রেন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া এলাকার নিক্সন খান বলেন, বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, পৌর শহরের অধিকাংশ সড়ক বর্তমানে ব্যাবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহরে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতার তৈরি হয়। টাঙ্গাইল শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই সরকারি আমলা। তাদের জনসম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। ফলে তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত এমন প্রশাসক নিয়োগ দিলে শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাকরি।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, জেলা সদর থেকে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটি গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের বাজেট না থাকায় টাঙ্গাইল পৌরসভাকে রাস্তাটি মেরামতের অনুরোধ করা হয়েছে। শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মেরামতের বাজেট টাঙ্গাইল পৌরসভা মন্থনালয়ে প্রেরণ করেছে। আশাকরি অতিদ্রুতই রাস্তাটির মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল ও পৌরসভার প্রশাসক শিহাব রায়হান বলেন, রাস্তাগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। পর্যায়ক্রমে দ্রুত রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নতকরন করা হবে।