/ হোম / এক্সক্লুসিভ
টাঙ্গাইল শহরের মরণ ফাঁদ যুগনির স্লুইস গেট - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শহরের মরণ ফাঁদ যুগনির স্লুইস গেট

আরমান কবীর: ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিপর্যস্ত হয় পুরো দেশ। পরের বছর ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য প্রণীত হয় ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান ফ্যাপ-২০। এই পরিকল্পনার অন্যতম উপাদান ছিল কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট (সিপিপি) টাঙ্গাইল।

এর মূল লক্ষ্য ছিল টাঙ্গাইল জেলার যমুনা নদীর প্লাবনভূমিতে ছোট-বড় ‘কম্পার্টমেন্ট’ বা বন্যানিয়ন্ত্রণ বেষ্টনী তৈরি করে স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্য চাষের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের সাথে নির্মাণ করা হয় যুগনির স্লুইস গেট। কিন্তু ৩৬ বছর পর সেই স্লুইস গেটই আজ টাঙ্গাইল শহরের জন্য ‘গলার ফাঁ’স’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়ভাবে সিলিমপুর-করটিয়া বাঁধ নামে পরিচিত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ টাঙ্গাইল পৌরসভা এবং এর আশেপাশের এলাকাকে যমুনা, পুংলী, ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদীর ভাঙন এবং বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

এই বাঁধের ভেতরে বর্ষা ও বন্যার পানি প্রবেশের জন্য একমাত্র ইনলেট হিসেবে নির্মাণ করা হয় সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যুগনিতে লৌহজং নদীর উপর স্লুইস গেটটি।

তত্ত্ব অনুযায়ী, বর্ষায় গেট খুলে দিয়ে পানি প্রবেশ করানো এবং শুষ্ক মৌসুমে বন্ধ করে ভেতরের জমি রক্ষার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

দীর্ঘদিন স্লুইস গেটের ভুল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী না খোলার কারণে লৌহজং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উৎস মুখে পলি জমে, নাব্যতা হারিয়ে নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।

গেট বন্ধ থাকায় মাছের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জেলার বিল-ঝিলে মাছের উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি নদীর অববাহিকায় পলি জমে খাল-বিল ভরাট হয়ে জলাশয়গুলো নষ্ট হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় একসময়ের প্রমত্তা শ্যামা বাবুর খালকে ১৯৯৬ সালে ড্রেনে রূপান্তর করা হয়। ফলে নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষায় টাঙ্গাইল শহর ও আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যায়।

গেটের কারণে অভ্যন্তরীণ এলাকায় পানি জমে থাকায় রবি ফসলের আবাদ ব্যাহত হয়। আবার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদ ড. মোবাশ্বেরা বলেন, “একটি মাত্র গেট দিয়ে ২১ কিলোমিটার বাঁধের ভেতরের পানি ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এতে নদীর সাথে মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। ফ্যাপ-২০ এর ধারণা তখনকার বাস্তবতায় ভালো ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং নগরায়ণের কারণে সেই মডেল এখন অকার্যকর।”

তিনি প্রস্তাব করেন ,স্লুইস গেটের আধুনিকায়ন ও বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় গেট বসিয়ে জোয়ার ও বৃষ্টির সাথে সমন্বয় করে পরিচালনা করা। বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে আরও ২-৩টি স্লুইস বা কালভার্ট নির্মাণ করা। লৌহজং নদী ও শ্যামা বাবুর খাল খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। এবং গেট পরিচালনায় স্থানীয় পানি ব্যবহারকারী সমিতিকে যুক্ত করা।

স্থানীয় কাঠুয়া যুগনির বাসিন্দা রহিম শেখ ও কৃষক রইজ উদ্দিনের অভিযোগ, স্লুইস গেট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নেই। কখন খোলা হবে, কখন বন্ধ হবে তার কোনো নীতিমালা নেই। অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় বা ব্যক্তি স্বার্থে গেট খোলা-বন্ধ করা হয়। ফলে উপকৃত হওয়ার বদলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

টাঙ্গাইল জেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “৩৬ বছর আগের প্রকল্পটি বর্তমানে অকার্যকর। ভারত-বাংলাদেশের ৫৫টি অভিন্ন নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে সব নদীতে পানি প্রবাহ কমে গেছে। ফলে যুগনি স্লুইস গেট এখন আর প্রয়োজনীয় কোন বিষয় নয়। গেটটি যদি একান্তই রাখতে হয়, তাহলে এর আধুনিকায়ন করা জরুরি।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, “নদী, মানুষ ও শহর—তিনটিকেই বাঁচাতে হলে যুগনির স্লুইস গেটের বিষয়ে নতুন করে, বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। নইলে এই রক্ষা বাঁধই একদিন টাঙ্গাইল শহরের জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

এই বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ নিঃসন্দেহে শহরকে নদী ভাঙন ও বন্যা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাঁধের ভেতরের পরিবেশ, কৃষি ও নদীকে বাঁচাতে পারেনি। যুগনির স্লুইসগেট এখন প্রমাণ করছে, একপাক্ষিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৯:এএম ৪ সপ্তাহ আগে
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু  - Ekotar Kantho

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু 

আরমান কবীর:জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “একটা গোষ্ঠী, ফ্যাসিস্ট এই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে। তারা গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছে। এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, নির্বিচারে গুলি করেছে। তারা আজ আবার বিভিন্ন কায়দায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”

তিনি বলেন, “তাদের এখনো বোধোদয় হয়নি, কী কারণে পালিয়ে গেল। তারা একবারও লজ্জিত হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছে না। এই ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশে কী রাজনীতি করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের এই দেশের জনগণ বিতাড়িত করেছে। জনগণই আপনাদের প্রতিহত করবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়।”

বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে ধ্বংস করেছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশনায়ক তারেক রহমান।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের দল বিএনপিকে এত সহজে ষড়যন্ত্র করে পার পাবেন—ভাবলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করা ছাড়া কিছুই না। জনগণ ভোটের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে যখনই কেউ ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণই তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।”

রাজপথে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজপথে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি, কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে এই দেশের ক্ষতি করতে না পারে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সজাগ থেকে একদিকে আমরা সাংগঠনিক কাজ করব, অন্যদিকে সরকারকে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করব। আর জনগণের উন্নয়নের জন্য সমান্তরালভাবে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।

এর আগে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শফিকুল রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক (ভিপি মনির), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন মালা, জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ।

এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৩:এএম ৪ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্যাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্যাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি 

আরমান কবীর:টাঙ্গাইলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগেজনসচেতনতামূলক র‍্যালি, আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ড্যাব টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় ড্যাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু কীটনাশক স্প্রে বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ঘরের ফুলের টব, ভাঙা টায়ার, ছাদ বাগান ও এয়ারকন্ডিশনারে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার যেমন—লেবুর শরবত, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও স্যুপ বেশি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা.আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল, প্রফেসর ডা.আবু হানিফ।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইস-প্রিন্সিপাল ডা.রফিকুল আলম তালুকদারসহ হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

ড্যাব নেতারা র‍্যালি শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১২:পিএম ১ মাস আগে
‘জনতার সংযোগ’: ফোন দিলে রিসিভ করে না কেউ - Ekotar Kantho

‘জনতার সংযোগ’: ফোন দিলে রিসিভ করে না কেউ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’র সাথে সদরের জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে জনতার সংযোগ টেলিফোন বুথ।

কিন্তু বাস্তবে সেই বুথগুলো এখন কার্যত অচল। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ সময় ফোন কল রিসিভ করা হয় না। কোথাও কোথাও বুথে টেলিফোন সেটই নেই।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের বুথে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট বুথে কোনো টেলিফোন সেট নেই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, টেলিফোন সেটটি চেয়ারম্যানের কক্ষে রাখা হয়েছে।

ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আরমিছ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিফোন সেটসহ সংযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এনে রাখা হয়েছে। যদি কেউ অভিযোগ করতে চায়, এখান থেকে সরাসরি ফোন করবে।

টেলিফোন স্থানান্তরের কোনো নোটিশ টানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সেই ধরনের কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে সংযোগ বিহীন টেলিফোন সেট দেখা যায়।

দাইন্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবু সাঈদ মিয়া জানান, প্রথমদিকে বেশ কিছু লোক টেলিফোনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছে। বর্তমান অবস্থা জানি না। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাব।

সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের অবস্থাও একই রকম। ইউনিয়নের পার বহুলির গোল চত্বর এলাকায় টেলিফোন বুথ স্থাপন করা হলেও, ভেতরে কোনো টেলিফোন সেট নেই।

স্থানীয় সিএনজি চালক জামাল উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি জরুরি প্রয়োজনে উক্ত লাইনে বহুবার ফোন দিয়েছি কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি।

একই অভিযোগ স্থানীয় বৃদ্ধ রহিজ উদ্দিনের। তিনি জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি স্থাপিত টেলিফোনের কোনো সংযোগ পাননি।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ও পৌর এলাকার দায়িত্বে থাকা মাহমুদুল হক সানু জানান, পৌর এলাকার কাজীপুর (১০ নং ওয়ার্ড), সন্তোষ (৭ নং ওয়ার্ড) ও বৈল্লা (২ নং) ওয়ার্ডে তিনটি টেলিফোন দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফোনগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিকল্প উপায় হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হট লাইন নাম্বার পোস্টার আকারে টানিয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই টেলিফোন বুথের ভেতরের লোহার বক্স কেটে কয়েকবার ফোন গুলো চুরি হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক জায়গায় এই ফোন থেকে ব্যক্তিগত ফোন করে ফোনের কার্ডের টাকা ফুরিয়ে ফেলে। এ ছাড়াও যান্ত্রিক সমস্যা তো আছেই, ফলে কিছু কিছু বুথে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এটা সত্যি। যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে, যেন এই আসনের জনগণের সাথে মাননীয় সংসদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়। তবে এই ফোন বুথ রক্ষায় জনগণের দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন আছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইটালীতে সরকারি সফরে থাকায় তার পার্সোনাল সেক্রেটারি সৈয়দ টিটোর সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, এই বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। এখন পেলাম, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনগণ ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতু হিসেবে ‘জনতার সংযোগ’ প্রকল্পের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বুথগুলোতে টেলিফোন না থাকা, সংযোগ না থাকা এবং ফোন রিসিভ না করার কারণে প্রকল্পটি তার লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অনেকের মতে, বুথগুলো জনসম্মুখে না রেখে ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে অভিযোগ জানানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার নোটিশ না থাকায় অনেকে বুথের অবস্থান সম্পর্কেও জানেন না।

স্থানীয়দের দাবি, ‘জনতার সংযোগ’ নাম সার্থক করতে হলে বুথগুলোতে দ্রুত টেলিফোন সেট স্থাপন, সংযোগ সচল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিসিভ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে জনতার সংযোগ ফোন বুথ উদ্বোধন করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নে চারাবাড়ি ঘাটে ফোন বুথ উদ্বোধন করেন আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উদ্যোগে টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ৩০টি ফোন বুথ স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ১২টি বুথ এবং পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ১৮টি বুথ থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০১:এএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে সুরমান রেজা(৩৮) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত সুরমান রেজা সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে।

তিনি গালা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের ভাই হালিম রেজা জানান, সুরমান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইউপি সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কী কারণে বা কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

তিনি আরও জানান, ‘কী থেকে কী হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ এ ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য জানা যাবে।হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪২:এএম ১ মাস আগে
আপনারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছেন: ডাঃ শফিকুর রহমান - Ekotar Kantho

আপনারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছেন: ডাঃ শফিকুর রহমান

আরমান কবীর:‘আপনারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। জ্বালানির চরম সংকটে মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে, বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান।

শনিবার(১৯ সেপ্টেম্বর)সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের পথসভার বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে ।

জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে।

জনতার যৌক্তিক দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, তুষার আহমেদ সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।

উল্লেখ্য,শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। পরে সড়ক পথে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে লং মার্চ।

পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামাত ইসলামের আমির ডাঃ সফিকুর রহমান

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৪:পিএম ১ মাস আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদল - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদল

আরমান কবীর:টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং ও থার্ড সেক্রেটারি শিয়া ডাওজিং। শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের শুরুতে চীনা প্রতিনিধিদল মাওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার ও ভাসানী জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং মাওলানা ভাসানীর জীবন, দর্শন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। সম্ভাব্য শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা এবং চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়।

চীনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদল ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন। তারা বিভাগের শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, সেমিনার লাইব্রেরি ও গ্যালারি রুম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ ছাড়া চীনা প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ডরমিটরিও পরিদর্শন করেন। শিক্ষা ও গবেষণায় সম্ভাব্য সহযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক বিনিময় কার্যক্রমের সুযোগ নিয়েও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের এ সফরের মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির সঙ্গে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০২:এএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৫০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া সদরের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।’

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও শিক্ষামুখী ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’

১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।

অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। BUET ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৯:এএম ১ মাস আগে
সতীনকে ‘মা’ ডাকায় কোলের শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ - Ekotar Kantho

সতীনকে ‘মা’ ডাকায় কোলের শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের সখীপুরে আশরাফুল (৩) নামে এক শিশুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে।

এ সময় তাঁর আরেক মেয়ে সিদরাতুলকে (৮) ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আকলিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে আকলিমাকে হেফাজতে নিয়েছে সখীপুর থানা-পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারের সন্তান না হওয়ায় তিনি চার বছরের এক মেয়েসহ আকলিমাকে বিয়ে করেন। পরে আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়। শিশুটির বয়স ৪০ দিন হওয়ার পর আকলিমা তাঁকে প্রথম স্ত্রী নাসিমার কাছে রেখে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতে যান। এরপর নাসিমার কাছেই বড় হয় আশরাফুল।

স্থানীয়রা জানান, আশরাফুল নাসিমাকে ‘বড় মা’ এবং আকলিমাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাতে আকলিমা তাঁর ছেলে আশরাফুল ও মেয়ে সিদরাতুলকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে আশরাফুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সিদরাতুলও গুরুতর আহত হয়েছে।

ঘটনার পর আকলিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাঁকে বাড়ির উঠানে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। সকালে পুলিশ গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

শিশুটির বাবা শাহিন মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, ‘ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তার মরদেহ সেখানেই রয়েছে। নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১০:পিএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় দেন।

এছাড়াও আসামীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দন্ডিত আসামী মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে রশিদ মিয়া (৫৫)।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে আরো উল্লেখ করেন, আসামীর কাছ থেকে অর্থদন্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামী যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে।

ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দন্ডিত আসামীর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পতি নিলামে বিক্রি করে অর্থদন্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, ধর্ষনের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতা ধর্ষক রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকার ঘোষনা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাস্ট্র গ্রহন করবে।

শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমান নির্ধারন পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করতে হবে।

টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়।

এসময় প্রতিবেশী সম্পর্কে দাদা দন্ডিত আসামী রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

এসময় এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা পরিবর্তন হলে শিশু তার মার কাছে ধর্ষনের কথা বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার পিতার বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

তিনি আরও জানান,পরে ভিকটিম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। পরে আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দন্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৯:এএম ১ মাস আগে
টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সার কাজের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এবং নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগেও প্রথম দরপত্র আহ্বানের সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই দরপত্রটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও এবারও একই কায়দায় প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় একটি প্যাকেজে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর ই-জিপিতে দরপত্রটি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই প্রাক্কলন ফাঁস হওয়ায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও পৌরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত টাকার তথ্য জানিয়ে দেন। এর ফলে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কম দর দেখিয়ে কাজটি লুফে নেয় মেসার্স কাওছার আকবার। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের মেয়াদ শেষ না হতেই অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো ধরনের পরিদর্শন ছাড়াই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করেন সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ২৫ মে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হলে সে সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে তা বাতিল করে চলতি বছর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু এবারও প্রাক্কলনটি ফাঁস হয়ে যায়। প্রথমবার দরপত্র বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না দেখিয়েই দ্বিতীয়বার তা আহ্বান করা হয়। বর্তমান অনলাইন ই-জিপিতে লাইভে থাকা এই প্রকল্পের দাফতরিক প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রাক্কলন ফাঁসের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসায় গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়নি।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডিসি লেকের সংস্কার, রাস্তার বাতি স্থাপন এবং হাঁটার পথ (অ্যাম্ফিথিয়েটার ও প্লাজা) নির্মাণে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬০১ টাকা ৬৮ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ঢাল সুরক্ষা ও হাঁটার পথ নির্মাণে ১ কোটি ৩০ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯৭ পয়সা এবং একই স্থানে সীমানা প্রাচীর, প্রধান প্রবেশদ্বার ও টিকিট কাউন্টার নির্মাণে ৪৮ লাখ ২১ হাজার ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ই-জিপি (ওটিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌর কর্মকর্তা দাবি করেন, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সদ্য বিদায়ী পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেই দরপত্র আহ্বানের পরপরই প্রাক্কলন ফাঁস করেন। গত বছরও একই কারণে দরপত্র বাতিল করতে হয়েছিল।

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সদ্য বিদায়ী প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ উল্লেখিত কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দমতো ঠিকাদারকে কাজ দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রাক্কলন ফাঁস করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মোবাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে সরাসরি অফিসে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান।

নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ই-জিপির পাসওয়ার্ড কেবল তার কাছে নয়, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের কাছেও রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনিযুক্ত প্রশাসক সুমাইয়া মোমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮:এএম ১ মাস আগে
মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীর: দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আটপুকুর পার এলাকায় অবস্থিত সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যবীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি খামারগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরে খামারের ব্রুড মাছের পুকুরে মাছ পর্যবেক্ষণ এবং খামার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪২:এএম ১ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।