একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি’র পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও ৬ টি ককটেল উদ্ধার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাতে গোপালপুর পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোহাম্মদ রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আব্দুল লতিফ ডান্ডু এবং মোহাম্মদ লতিফ। এরা সবাই ধোপাকান্দি ও ঝাওয়াইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, এরা সবাই নাশকতার উদ্দেশ্যে পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় সমবেত হলে পুলিশ ৬টি ককটেলসহ এদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরো জানান, বিএনপির ২০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে থানায় নাশকতা ও দাঙ্গা-মারামারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপি এক বিবৃতিতে জানান, এটা গায়েবী মামলা। আভঙ্গী এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বুধবার রাতে কোন ধরনের ঘটনা ঘটায়নি। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশেকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলায় আ’লীগ নেতাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডিত মিজানুর রহমান লিটন টাঙ্গাইল আ’লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ায়েজ আল করুনী সাক্ষী-প্রমাণ ও শুনানি শেষে এ রায় দেন।
মিজানুরের বিরুদ্ধে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মিলন মাহমুদ বাদি হয়ে গত ২৪ মার্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
আদালত পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নয় লাখ টাকা অর্থদন্ড করেছেন। রায় ঘোষনার সময় মিজানুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম তালুকদার জানান, মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মিলন মাহমুদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ১৪ লাখ টাকা ধার নেন। তিনি দুই দফায় নয় লাখ টাকা পরিশোধের জন্য পৃথক দুটি চেক মিলন মাহমুদকে দেন। পরে টাকা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকেন। মিলন মাহমুদ ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর দেখা যায় সেখানে টাকা জমা নেই। চেকটি ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখান হয়। পরে মিলন মাহমুদ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদি মিলন মাহমুদ বলেন, মিজানুর টাকা ধার নিয়ে ফেরত দেয়নি। উল্টো আমাকে বিভিন্ন হামলা-মামলার হুমকি দিয়ে টাকা পরিশোধ না করে নানান টালবাহানা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও শহর আ’লীগের সভাপতি এসএম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, মিজানুর রহমান লিটন শহর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এধরনের অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকলে তার জন্য আমরা ভবিষ্যতে পদপদবির জন্য সুপারিশ করবো না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরত (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের জয়েরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত হযরত মির্জাপুর পৌর এলাকার পাহাড়পুর গ্রামের খন্দকার আজিজের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া ও এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সোমবার রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের জয়েরপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
এসময় খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরতকে গ্রেপ্তার করা হয় । পরে তার কাছে থাকা লাল-কালো রংয়ের একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার অন্যান্য সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম খান জানান, খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরতকে মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি জেনেছেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির কথা জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে হযরতকে গ্রেপ্তার এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পাহাড়পুর গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ: এসএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মারুফ (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের বলমআটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ একই গ্রামের মো. ইবরাহীমের ছেলে। সে পাশের গোপালপুর উপজেলার বড়শিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হলে মারুফ ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এতে সে হতাশায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে । পরে রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে তার মা মারুফকে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকলে সাড়াশব্দ না পেয়ে মারুফকে ঘরের ধরণায় ঝুলতে দেখে। পরে মারুফকে নামিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল করা হয়। পরিবার ও প্রতিবেশিদের মাধ্যমে জানা গেছে সে এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি এক বিষয়ের ওপর অকৃতকার্য হওয়ায় আত্মহত্যা করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মারুফের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘড়িয়া এলাকায় নিউ ধলেশ্বরী নদীর ডান তীরে ভেকু বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বসতবাড়ী ও ফসলী জমি ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, কুড়িঘড়িয়া গ্রামের হাজী ছানোয়ার হোসেন ভূইয়া, তার ভাই শহীদুল ইসলাম ও ছেলে স্বাধীন ভূইয়াসহ একটি প্রভাবশালী মহল প্রায় ১৫ দিন ধরে নদীর তীর কেটে ভেকু বসিয়ে অবৈধভাবে ফসলী জমির মাটি কেটে অবাধে বিক্রয় করছে। দিনরাত মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের ফলে রাস্তার দু’পাশে বসবাসরত জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তাদের আশবাবপত্র বিছানাসহ খাবারেও মাটির প্রভাব পড়ে। এতে এসব এলাকায় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। এছাড়াও ক্রমাগত নদী তীর কেটে মাটি বিক্রি করলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার বসতভিটা সহ ফসলী জমি ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনকে অবহিত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিউ ধলেশ্বরী নদীর ডান তীর কেটে ভেকু বসিয়ে প্রায় ৪০ ফুট করে গভীর গর্ত করে মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ওই মহল। তারা জানান, প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের সাথে সমঝোতা করেই ব্যবসা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইন জানান, নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রয়ের বিষয়টি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আজগর আলী (২২) নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাত ৩ টার দিকে উপজেলার আটাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আজগর আলী আটাবাড়ি গ্রামের মৃত শরীফ উদ্দিনের ছেলে।
তাকে রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজগর আলীর চাচী মর্জিনা বেগম জানান, রোববার রাত ৩ টার দিকে আজগর তার নিজ ঘর থেকে বের হয়ে বাহিরে চেঁচামেচি শুরু করে।
এ সময় তার শরীর ও ঘরের বিছানায় রক্তে ভিজে যায়।
তিনি আরো জানান,কে বা কাহারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে কে বা কাহারা এঘটনা ঘটেছে জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একতার কণ্ঠঃ জমি বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চাচাতো ভাইদের এলোপাথারি হামলা থেকে আরেক চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাককে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই আব্দুল হামিদ (৪৫)।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদ একই গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাতে নিহতের স্ত্রী শাহিনা বেগম ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ওই রাতেই প্রধান আসামি সাঈদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), আজিজুল (৩৫), সোনা মিয়া (৫০) এবং আলেয়া খাতুনকে (২৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ভূঞাপুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাঈদ-আজিজুলদের সাথে জমি নিয়ে নিহত হামিদের চাচাতো ভাই আব্দুল রাজ্জাকের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। তারা সালিশ না মানলে একপর্যায়ে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে ১০৭ ধারা আইনে মামলা করেন নিহতের ভাই আব্দুর রাজ্জাক। আদালতের নোটিশ পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সকালে রাজ্জাকের উপর হামলা চালায়। এসময় রাজ্জাকের বড় ভাই হামিদ ও তার স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালায়। এতে তারাও আহত হয়।
এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। তারমধ্যে রাজ্জাকের ভাই হামিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে সেখানকার চিকিৎসক হামিদকে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, এজাহারের পর অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
তিনি আরো জানান, তাদের মধ্যে তিনজনকে শনিবার সকালে ও অপর আরেকজনকে রবিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আাসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভুয়াপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের চর পাথাইল কান্দি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের গোলচত্বরে উত্তর পাশের একটি আম বাগানে অজ্ঞাত যুবকের ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, লাশের গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। যুবকটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি কেউ তাকে হত্যা করে রেখে গেছে, ময়না তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাড়ির পাশের টিলা থেকে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। সোমবার(২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের মাকড়াই এলাকার বনবেষ্টিত পাহাড়ি টিলা থেকে লাশটি উদ্ধার করে ঘাটাইল থানার পুলিশ।
নিহত ওই নারীর নাম সেলিনা বেগম (৪৫)। তিনি মাকড়াই এলাকার মৃত কুবেদ আলীর মেয়ে।
তাঁর স্বামী আবদুল গফুর একই ইউনিয়নের মালেঙ্গা বড়চালা এলাকার বাসিন্দা। নিহতের বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ির দূরত্ব ২০০ মিটারের মতো হবে। বাবার বাড়ির পূর্ব পাশের টিলায় লাশটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন জানান, স্থানীয় কয়েকজন নারী সোমবার দুপুরে টিলা এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় তাঁরা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা বিকেলে থানায় খবর দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে।
সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, নিহত নারীর গলায় ওড়না দিয়ে কয়েকটা প্যাঁচ দেওয়া। ওড়নার অপর প্রান্ত বোরকার সঙ্গে বাঁধা। তবে শরীরের আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
সেলিনার বড় ভাই আবদুল মান্নান জানান পারিবারিক কলহের জেরে সেলিনা মাস তিনেক আগে তাঁদের বাড়িতে আসেন। তখন থেকে এখানেই থাকতেন। গত রাতে বাড়িতে না পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন, সেলিনা তাঁর স্বামীর বাড়িতে গেছে। কিন্তু সকালে খোঁজ করে সেখানেও পাওয়া যায়নি। পরে টাঙ্গাইলে আরেক ভাইয়ের বাসায়ও খোঁজ করা হয়। দুপুরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ বাড়ির পাশের টিলায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় নারীরা। সেলিনাকে কেউ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন আবদুল মান্নান।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন এক তরুণী। রোববার (২০ নভেম্বর)থেকে এ অনশন শুরু করেন তিনি। প্রেমিকার উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন প্রেমিক হৃদয় (২২)।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে এলেঙ্গা পৌরসভা মসিন্দা গ্রামে। হৃদয় হোসেন ওই গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির ছেলে। আর মেয়ের বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলায়। .
এদিকে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক হৃদয়ের বাড়িতে অবস্থান করায় বাড়ির লোকজন ওই তরুণী ব্যাপক মারধর করে। বর্তমানে মেয়েটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী জানান, প্রায় দুই বছর আগে কালিহাতী উপজেলার মসিন্দা গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির ছেলে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের প্রেমের সম্পর্ক রূপ নেয় দৈহিক সম্পর্কে। কয়েকদিন আগে সে বিয়ের জন্য চাপ প্রেমিক হৃদয় হোসেনকে। কিন্তু সে বিয়েতে রাজি না হয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে।
যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে রোববার দুপুর থেকে সে প্রেমিক হৃদয় হোসেনের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে।
এদিকে রোববার দুপুরে ওই তরুণী বিয়ের দাবিতে হৃদয় হোসেনের বাড়িতে উঠলে বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে গেটের সামনেই অনশন চালিয়ে যেতে থাকে সে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত হৃদয় হোসেন ও তার বাবা হাবিবুর রহমান বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শাকিল মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উপজেলা সদরের সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের পেছন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাকিল মিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের বুদ্দু মিয়ার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দীন মৃধা জানান, শাকিল মিয়া স্থানীয় বাথুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তিনি মাঝে মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। রোববার (২০ নভেম্বর) রাতে লিটন নামে একজনের অটোরিকশা নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন।
পরে সোমবার সকালে স্থানীয়রা কলেজের পেছনে শাকিলের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা শাকিলকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা সেতু নির্মাণ কাজে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ওই সেতু নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে এমনটা জানার পরও আইনগত প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
রবিবার (২০ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাখার উপসচিব আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এসব চিঠি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে দেওয়া হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী, সহকারী প্রকৌশলী রাজীব গুহ ও উপসহকারী প্রকৌশলী জিন্নাতুল হক।
এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ নামা পাওয়ার ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তাদের লিখিতভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
জানা গেছে, বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতু দেবে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। আট মিটার প্রস্ত ও ৪০ মিটার দৈর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা।
তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘ব্রিকস্ অ্যান্ড বিল্ডিং লিমিটেড’এবং ‘দ্যা নির্মিতি কে (জেভি)’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ কাজ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক জানান, তারা মন্ত্রানালয়ের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চিঠির জবাব দিবেন।