একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু (ভিটমাটি) বিক্রির দায়ে দুই বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রবিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার গোড়াইল ও ইচাইল এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
অর্থদন্ড প্রাপ্তরা হলেন উপজেলার গোড়াইল গ্রামের মৃত দীন মোহাম্মদের ছেলে আলমগীর মৃধা (৫০) ও যুগী গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে ইউসুফ মিয়া (২৭)।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান জানান, আলমগীর মৃধা বংশাই নদীর গোড়াইল এবং ইউসুফ মিয়া লৌহজং নদীর ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ইচাইল এলাকা থেকে রাতের আধারে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু কেটে বিক্রি করে আসছিলেন।
তিনি আরও জানান, পরে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ওই দুই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড.আব্দুর রাজ্জাক এমপির বিরুদ্ধে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এরআগে গত ১৯ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার বলিভদ্র গ্রামের মেহেদী হাসান রনির বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
মানববন্ধনে মেহেদী হাসান রনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনে মধুপুর-ধনবাড়ির সংসদ সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেছি। যার ফলে আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে তার ভাই ও মামাতো ভাইয়েরা মিলে আমার বাড়িতে হামলা করেছে। হামলা করার সময় তার মামাতো ভাই সাবেক ধনবাড়ি পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন ও তার সাথে প্রায় কয়েক জন সন্ত্রাসী বাহিনী হঠাৎ করে এলোপাথাড়ি হামলা করে বাড়ির জানালা, দরজা, গেট ভাংচুর করে।
তিনি আরও বলেন, পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এঘটনায় রাতেই একটি ঝটিকা মিছিল করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে।
প্রকাশ, মেহেদী হাসান রনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ কমিটির সাবেক সদস্য।এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জসীম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বেসরকারি বিদ্যালয় এমপিও নীতিমালার সুযোগ ভোগে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে স্কুল। চাঞ্চল্যকর এমনটাই ঘটেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর গ্রামে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজসে গড়ে তোলা হয়েছে ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যাপিঠ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সদ্য স্থাপিত বিদ্যালয় আর কর্মরত শিক্ষকদের এমপিও ভুক্ত করতে শিক্ষক প্রতি মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডে স্থাপিত ২০১৫ সাল দেখানো হলেও চলতি জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে স্কুল কার্যক্রম বলে স্বীকার করেছেন কর্মরত শিক্ষক আর অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ উঠা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ সদর উপজেলার আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক। ইতোপূর্বেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারিভাবে বন্ধ থাকা বৃত্তি পরীক্ষা টাঙ্গাইলে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ভবন বিক্রির অভিযোগ।
এছাড়া ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়া পেশায় একজন আইনজীবী সহকারি। কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়ার ছেলে শাকিল আহমেদ রয়েছেন ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এমএলএসএস) পিয়ন পদে কর্মরত।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১০জন। কর্মরত শিক্ষক পদে ৫ আর (এমএলএসএস) পিয়ন পদে কর্মরত রয়েছেন ১ জন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দূর্গম এই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রয়োজন। বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমিও ক্রয় করা হয়েছে। ক্রয়কৃত জমির উপর বিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্কুল স্থাপন আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির এমপিও ভুক্তির নাম ভাঙিয়ে আর অবৈধ প্রক্রিয়ার শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে মোটা টাকা বাণিজ্যের বিরোধীতা করছেন তারা।
বিদ্যালয়টির নির্দিষ্ট কোন ভবন না থাকলেও এটি এমপিও ভুক্ত হচ্ছে তথ্যটি যেমন সুখের, তেমনি শিক্ষক নিয়োগ আর এমপিও ভুক্তির লোভ দেখিয়ে ৫ শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার সংবাদটি দুঃখজনক। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন শিক্ষকের বয়স ৩২ বছরের উপরে হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে আর কোন পন্থায় নিয়োগ দেওয়া হলো সেটিসহ এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ভবানীপুর গ্রামের মো. খাদেম আলী সরকার বলেন, চলতি মাসেই মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়টি চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামের ছাত্র হারুন জানায়, মাসখানেক যাবৎ মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়টি চালু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী কতজন সেটি না জানলেও পাঁচজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে কর্মরত বলে জানান সে।
ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী লামিয়া জানায়, মাত্র ১৬ দিন যাবৎ এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সে।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র জুনায়েদ জানায়, প্রায় তিন সপ্তাহ হলো সে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আগে এখানে মক্তব ছিল, নতুন করে এই বিদ্যালয়টি চালু করা হয়েছে।
মসজিদের ঈমাম আবু রায়হান বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়ার আত্মীয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বিদ্যালয়ের জন্য মোতালেব মিয়া আবেদন করার কারণে মনে হয় তাদের যোগাযোগ হয়েছে। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক আমিনা খাতুন রিমু বলেন, এমপিও করার আশ্বাসে বিদ্যালয়টি সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। এমপিও করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি এখানে শিক্ষকতা করছেন। টাকা লেনদেনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি আমার অভিভাবকরা বলতে পারবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোজী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বিদ্যালয়ে কর্মরত। ভবন না থাকায় অস্থায়ীভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে চলতি জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নদী পাড় হয়ে এই গ্রামের ছাত্র ছাত্রীদের অন্যত্র বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় বলেই এখানে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ আর বিদ্যালয়ের সভাপতি মোতালেব আঙ্কেলের সরকারি হওয়ার আশ্বাসে বিনা বেতনে তারা বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনিসহ বিদ্যালয়ে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকের বাড়ি শহরে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়া বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানেন না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ মিটিং এ আছি বলে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য না দিয়েই ফোনটি কেটে দেন। এরপর থেকে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কাতুলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ভবানীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ওই গ্রামে বিদ্যালয়টি চালু হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানেন না।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন মিয়া বলেন, ভবানীপুরে একটি বিদ্যালয় হবে, এটি আমি জানি। তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় স্থাপন ও শিক্ষক নিয়োগে টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, কাতুলী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা রয়েছে। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে যদি কেউ টাকা নেন বা চান তাহলে উনাকে থানায় হস্তান্তর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের জোড়দীঘি গ্রামের সোহরাব হোসেন (৩০) ও একই ইউনিয়নের শহরগোপীনপুর গ্রামের কায়সার আহমেদ (২৮) পেশায় দু’জনই কাঠমিস্ত্রি। একই কর্মে থাকায় বন্ধুত্ব হয় দু’জনের মধ্যে। দু’জনেই বিবাহিত। বন্ধুত্বের সুবাদে দুই পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে সুসম্পর্ক। একে অপরের বাড়িতে প্রতিনিয়ত ছিল তাদের যাতায়ত। এক পর্যায় সোহরাবের স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে কায়সারের। সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় প্রেমিকার ঘরের পেছনে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কায়সার।
মৃত্যুর আগে গায়ে পরিহিত গেঞ্জিতে তিনি লিখেছেন- ‘তর কারণে আজ আমার এই অবস্থা, তুই বাবিনা শান্তি পাবি তুই। তরা মা মেয়ে মিলে ভালো।’ এর পরের লেখা বুঝা যায় না।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের জোড়দীঘি গ্রামে।
সোহরাবের প্রতিবেশিরা জানায়, কায়সার আহমেদের বাড়ি থেকে তার বন্ধু সোহরাব হোসেনের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। দু’জনের আয়ের পথ একই হওয়ায় বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জোড়দীঘি বাজারে কাঠের দোকান রয়েছে কায়সারের। এরই মধ্যে কাঠমিস্ত্রির কাজ বাদ দিয়ে সোহরাব চলে যান প্রবাসে। বাজারের পাশেই সোহরাবের বাড়ি হওয়ায় বন্ধুর বাড়ি যাতায়াত বেড়ে যায় কায়সারের। সাত মাস আগে দেশে আসেন সোহরাব। দেশে আসার পর পরই তার স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যান কায়সার।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, বন্ধুত্বের সুবাদে সোহরাবের স্ত্রী, ১০ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তানের জননীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে কায়সারের। কায়সার নিজেও বিবাহিত। কায়সার বন্ধুর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যান। তিনদিন থাকার পর নিজের ইচ্ছায় আবার সোহরাবের বাড়িতে চলে আসেন তার স্ত্রী। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে সোহরাবের শ্বশুর এসে মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। ছেলে সন্তানের দিকে তাকিয়ে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধান করে পুনরায় ঘর সংসার শুরু করেন সোহরাব।
ইউপি সদস্য আরও জানান, সোহরাবের ঘরের পেছনের দিক দিয়ে পা পথ চলে গেছে। সেই পথ দিয়ে ভোরে স্থানীয় লেবু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বাজারে যাওয়ার সময় কাঁঠাল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় কায়সারকে দেখতে পান। তার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে লাশ নিচে নামান। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটা আত্মহত্যা। নিহতের গায়ে পরিহিত গেঞ্জিতে একটি নোট লেখা আছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গোসল করতে বলায় লামিয়া আক্তার (৯) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লামিয়া ওই গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, লামিয়া তীব্র শীতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে গোসল না করায় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার মা তাকে গোসল করতে বলে। লামিয়া গোসল করবে না বললে মা তার সঙ্গে রাগারাগি করে। পরে মা পরিবারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই ফাঁকে লামিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে অনেক ডাকাডাকির পর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লামিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
এ সময় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষ অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই মো. আতিকুর রহমান বলেন, সকালের দিকে সখীপুর থেকে এক স্কুল শিক্ষার্থীর লাশ হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। যতটুকু জানতে পেরেছি সে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি জেনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আব্দুল মান্নান (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় নাতি মো. রাব্বিকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি বাইপাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাব্বি কালিহাতী উপজেলার আউলটিয়া ভোটেরবাড়ী গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।
র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক মনজুর মেহেদী ইসলাম রবিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মান্নান ও তার নাতি রাব্বির মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দাদা-নাতির মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মান্নানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন রাব্বি। মান্নানের স্ত্রী ও মেয়ে বাধা দিতে গেলে রাব্বি তাদেরও আঘাত করেন।
পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মান্নানকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হাফিজ উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে রাব্বি পলাতক ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ফজলু তালুকদারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে পৌরসভার সুন্দর পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আসমা বেগম (৩৫)। তিনি উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চাশ গ্রামের আরশেদ আলীর মেয়ে। গ্রেপ্তারকৃত ফজলু সুন্দর গ্রামের নুরুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তান নিয়ে রাজমিস্ত্রি স্বামী ফজলু ও আসমা বেগমের সংসার। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী ও সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়লে মেয়ের ওড়না দিয়ে ফজলু আসমা বেগমের গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মেয়ে চিৎকার করে বাড়ির সবাইকে এ ঘটনা জানায়। স্থানীয়রা রাতেই ফজলুকে আটক করে পুলিশে দেয়।
গোপালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন ভূঁইয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুলিশের টহলের জন্য নেওয়া সিএনজিতে পর্দার কাপড় না থাকায় সুমন নামে এক সিএনজি চালককের শরীরের জামা-কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন করে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সেই উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ্ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিভিন্ন গণম্যাধমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
আহসান উল্লাহ্ জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই হাসিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করে এবং তাকে পুলিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি দুপুরে থানা ত্যাগ করছেন।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসআই হাসিবুলের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন সিএনজি চালকেরা। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে থানায় হাজির হন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে সুমন নামে এক চালক সিএনজি নিয়ে পুলিশের টহল কাজে বের হন। সিএনজির পর্দা না থাকায় চালককে গালিগালাজ ও শরীরের জামা-কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিবুল হাসানের বিরুদ্ধে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রবাসীর স্ত্রী ফারিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৭ জানুয়ারী) রাতে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর পুরাতন বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
তার শশুর-শাশুড়ি তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফারিয়া ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে প্রবাসী ফরহাদের স্ত্রী। ফারিয়া বাঘেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল শেকের মেয়ে।
তার শশুর আব্দুর রশিদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পরে দীর্ঘক্ষণ ফারিয়ার রুমের দরজা বন্ধ পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকি। কিন্তু রুমের ভিতর থেকে কোন আওয়াজ না আসায় দরজা বাহির থেকে খোলা হয়। এসময় আমরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারিয়ার চাচী সখিনা বেগম বলেন, ফারিয়া ও ফরহাদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। তার শাশুড়ি তাকে বিভিন্ন সময় গালমন্দ করেন। তিনি দাবি করেন,তারা তাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে। তিনি এর বিচার চান।
ফারিয়ার চাচাতো ভাই মো. ইমরুল শেখ বলেন, তাকে তার শাশুড়ি অনেক নির্যাতন করেছে, ওকে উনারা তাদের ছেলের বউ হিসেবে রাখতে চায় না। আমার বোন ওর স্বামীর সাথে একসাথে থাকতে চেয়েছে এবং আমার বোন দুপুরে কিংবা বিকেলের আগে আমার খালামনিকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। তার পর সন্ধায় তার মৃত্যু হয়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান ফারুক জানান, আত্মহত্যার ঘটনা শুনেছি। তাকে কেউ আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে গিয়েছে।
তিনি আরো জানান, মেয়ের ভাই রুমি রায়হান বাদি হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচন ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটের পেপারসহ ব্যালট বাক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৫ রাউন্ড গুলি করেন। এই ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য আহত হয়েছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের কাহেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ভোট বর্জন করেছেন।
কাহেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাজহারুল হক বলেন, দুর্বৃত্তরা আতর্কিতভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পুরুষ ওয়ার্ডের তিন নম্বর কক্ষ থেকে একটি ভোটের পেপার ভর্তি ব্যালট পেপার বাইরে নিয়ে তাৎক্ষনিক আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ব্যালট বাক্স পুড়ে গেছে। ব্যালট বাক্সে প্রায় তিনশ ভোটের পেপার ছিল। পরে সেখানে থাকা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা ব্যালট উদ্ধারে ৫ রাউন্ড গুলি করেন। এ ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য আহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করার পর কেন্দ্রের বাকি বালটবাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে দায়িত্বরতরা কেন্দ্র ত্যাগ করে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ঘটনা নিয়স্ত্রণে ৫ রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য আহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী সংসদস সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগকারী গোপালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন গণফ্রন্টের গোলাম সরোয়ার (মাছ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ রেজাউল করিম (ডাব), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাইফুল ইসলাম (আম) ও জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার (লাঙ্গল)।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় শফিকুল ইসলাম (৬০) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে হেলাল মিয়ার (২৬) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে অভিযুক্ত ছেলে মো. হেলাল মিয়াকে উপজেলার বেতুয়া পলিশা উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১ টার দিকে হেলাল মিয়া তার বাবার কাছে নেশার জন্য টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় বাড়ির উঠানে মায়ের সামনে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় তিনি। পরে বাবার চিৎকারে হেলালের বড় ভাই দুলাল মিয়া ঘর থেকে বের হয়ে এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় প্রথমে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে ভর্তি করা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বাড়িতে নিয়ে আসতে বলে। এরপর শফিকুল ইসলাম বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (১ জানুয়ারি) রাতে মৃত্যুবরণ করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম ভূঞাপুর থানায় তার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বখাটে ও নেশাগ্রস্থ ছিল। কোনো কাজ-কর্ম করতো না। নেশার টাকা জোগাতে না পেয়ে তার বাবার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করে এবং গুরুতর আহত হয়। পরে সোমবার রাতে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া যায়। এ নিয়ে থানায় হেলালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করি।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয় এবং তার বাবা শফিকুল ইসলামের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মিয়া তার বাবাকে আঘাত করার দায় স্বীকার করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বেড়ানোর কথা বলে পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দিয়েছে স্ত্রী। পরে স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রেমিক মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহতের নাম নাঈম হোসেন (২০)। সে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়। পরে বিকেলে আদালতে তোলা হলে স্ত্রী রেশমি খাতুন ও প্রেমিক মাসুদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এরআগে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার চর ডাকাইতাবান্দা এলাকা থেকে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই নিহত নাঈমের বাবা রেশমি খাতুন, তার প্রেমিক মাসুদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ ও স্ত্রী রেশমি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের চরভরুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে এবং নিহতের স্ত্রী রেশমি খাতুন একই ইউনিয়নের রামাইল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।
জানা গেছে, নাঈম ও রেশমি গেল প্রায় তিনমাস আগে প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। এরপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ডিসেম্বর স্ত্রী রেশমি ফোন করে নাঈমকে শশুরবাড়িতে যেতে বলে এবং নাঈমকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেয়। পরে নাঈম তার মার কাছ থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে রামাইলে শশুর বাড়িতে যায়। পরে রেশমি নাঈমকে নিয়ে বিকালে ঘুরতে বের হয়। এরপর রাতে রেশমি বাবার বাড়ি গিয়ে জানায় তার স্বামী নাঈম চলে গেছে। এরপর থেকে নাঈমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
গ্রেপ্তারকৃত রেশমির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রেশমি পরকীয়ায় আশক্ত ছিল। নাঈমকে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিল রেশমি। পরে পুরোনো প্রেমিকের কথায় স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে রেশমি। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামী নাঈমকে নিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। এরপর সরিষাবাড়ি সিমান্ত এলাকায় একটি চরে গিয়ে প্রেমিক ও কয়েকজনের সহায়তায় নাঈমকে প্রথমে গলায় গামছা পেছিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দেওয়া হয়। কাজ শেষ করে রেশমি বাবার বাড়িতে চলে যায়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। স্বামীকে বেড়ানোর কথা বলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুদের সহায়তায়। পরে তার মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দিয়ে দেয়। পরে রেশমিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিকালে নিহতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।