একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে হাকিম মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। স্ত্রী বাবার বাড়ি গিয়ে আর ফিরে না আসায় তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) রাতে পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানি মহিলা কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাকিম মিয়া উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের আড়াইপাড়া গ্রামের ফটু মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশার চালক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, হাকিম মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে মহিলা কলেজ পাড়ার একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। এক সপ্তাহ আগে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্ত্রী বাপের বাড়ি গাইবান্ধায় চলে যান।
অটোরিকশা বিক্রি করে দুই দিন আগে হাকিম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু স্ত্রী ফিরে না আসায় বুধবার রাতে তিনি আত্মহত্যা করেন। এর আগে মা-বাবাকে তিনি মোবাইলে আত্মহত্যা করার কথা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে ওই বাসার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মির্জাপুর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ৩ দিন ধরে অবস্থান করছেন তিন সন্তানের জননী। শনিবার (১৪ অক্টোবর) থেকে পরকীয়া প্রেমিক যুবক আবুল হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই নারী। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক গা ঢাকা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক আবুল হোসেন উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার হিজুলী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। তিনি ওয়ালটন কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ৭ বছর ধরে আবুল হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার আমাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। কোনো উপায়ন্তর না দেখে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছি।
স্থানীয় কাউন্সিলর মুক্তার আলী জানান, ছেলের সঙ্গে ওই নারীর ঘটনার বিষয়ে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান মনির জানান, এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত পরিবহনের মাধ্যমে চোরাই মালামাল লোড-আনলোড করে গুদামজাত ও স্থানান্তর করে একটি চক্র চোরাই মালের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পূর্বপাড় থেকে এলেঙ্গার ভাবলা, সল্লা, আনালিয়াবাড়ীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, বাস, লড়িসহ বিভিন্ন পরিবহনে আনা চোরাই মালামাল লোড-আনলোড ও ক্রয়-বিক্রয়ের নিরাপদ পয়েন্ট হিসাবে বেছে নিয়েছেন চোরাকারবারিরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ওই সকল পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলে চোরাই মাল লোড আনলোড ও ক্রয় বিক্রয়ের কারবার।
দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল গুদামজাত করার জন্য চরভাবলা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে রেল স্ট্রেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঘর ভাড়া নিয়ে গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই চক্রটি ট্রাক, বাস, লড়িতে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রড, স্টীলসীট, কেরোসিন ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গম, ভুট্টা, আদা রসুন, জিরা, এলাচ, লংসহ মশলা জাতীয় পণ্য, ভারতীয় শাড়ী এমনকি বিভিন্ন নেশা জাতীয় পণ্যে এনে জেলায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম শান্ত নামের জনৈক সরকারি কর্মচারী জোকারচরের রমজান আলী ও চরভাবলার প্রভাবশালী ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত নির্বিঘ্নে চোরাই মালের ব্যবসা করে অগাধ বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক সারারাত পরিবহনে আসা চোরাই মালামাল লোড-আনলোড করে গুদামজাত ও স্থানান্তরের কাজ করে থাকেন। পরিবহন চালক সুপারভাইজার ও হেলপারদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তারা নির্ধারিত পয়েন্টে ওইসব মালামাল আনলোড করে এবং মূল্য পরিশোধ করে থাকেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম শান্ত জানান, চোরাই মালামাল লোড-আনলোড ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে আমি জড়িত নই।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গা থেকে ব্ঙ্গবন্ধু সেত পূর্ব এই এলাকাটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অধিনে বিধায় এ বিষয়ে আমার কোন ধারনা নেই।
বঙ্গব্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর আশরাফ জানান, তিনি এই থানায় নতুন এসেছেন তাই এই চোরা কারবারিদের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তার।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্য্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার দক্ষিণ বিলডগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগির নাম হায়দার আলী খান। তিনি উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ বিলডগা গ্রামের মৃত ইদ্রিস খানের ছেলে।
হায়দার আলীর চাচা হাতেম আলী খান বলেন, প্রতিবন্ধী হায়দার আলী রেলওয়ে চাকরি নিয়ে জয়দেবপুরে কর্মরত ছিলেন। এরআগে বেলুয়ার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা ও উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বড়শিলার একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। প্রথম স্ত্রী থাকা পরও হায়দার আলী আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকতেন। উভয় সংসারে একটি করে ছেলে হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে একটি গরু কিনে বাড়িতে আসলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে পুরো ঘরে রক্ত ছিটিয়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে তাকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে ঘটনার পর রাতেই প্রথম স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিম আল রাজি জানান, রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বিশেষ অঙ্গটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তের মা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক বহনের দায়ে আমিনুর রহমান নামে এক জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার(৫ অক্টোবর ) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোস্তফা শাহরিয়ার খান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান ।
দণ্ডিত মো. আমিনুর রহমান (৩৯) মির্জাপুর উপজেলা পানিশাইল গ্রামের বাসিন্দা।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আকবর খান জানান, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ওই উপজেলার পাকুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্দেহবশত আমিনুরকে আটক করে।
এসময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম মাদক হেরোইন জব্দ করা হয়। এ ঘটনার পরদিন ডিবির এসআই মো. নুরুজ্জামান বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।
তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই ওবায়দুর রহমান ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় দেয়।
রায়ে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকা থেকে ১০ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জেলার মির্জাপুর উপজেলার ছিট মাহমুদপুর গ্রামের মো. জালাল মিয়ার ছেলে মো. শাহ আলম (৩০) ও তার স্ত্রী মোছা. বাছির খাতুন (২৮)।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি চৌকষ দল বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে গোড়াই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ১০ হাজার ২০০ পিস বিক্রি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ওই স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি করছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলেও জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার এলাকাবাসী।
বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শহরের জেলা সদর রোডে অবস্থিত টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের উত্তর বেগুনটাল ও কাশিনগর গ্রামের প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের স্ত্রী মালেকা বেগম, ছেলে মোতালেব হোসেন বাবু, এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল হালিম, মো. আরফান আলী, সুজাব আলী ও বরকত আলী প্রমুখ।
মানবন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গুগড়া ইউনিয়নের উত্তর বেগুনটাল গ্রামে জমিতে কালাই বোনা নিয়ে সংঘর্ষে আব্দুর রহীমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে ১০টন নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর শুভ হোটেলের সামনে একটি কাভার্ডভ্যানে অভিযান চালিয়ে ওই পলিথিন জব্দ করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমান ওই অভিযান চালায়।
টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গোপণে সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খুদিরামপুর শুভ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে একটি কাভার্ডভ্যানে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় ওই কাভার্ডভ্যান থেকে ১০টন নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত কাভার্ডভ্যানের ড্রাইভারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পলিথিন ভর্তি কাভার্ডভ্যানটি রাজশাহী যাচ্ছিল।
তিনি জানান, অভিযানকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুুলতানা রাজিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজীব কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুুহিন আলম। এ সময় জেলা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাসানী হলের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ৪ মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন এই আদালত।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে মাদকসেবীদের ১ জনকে ১ বছর ও ৩ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদাল টাঙ্গাইল পৌরসভার কালিপুর এলাকার স্বর্গীয় নগা কর্মকারের ছেলে উদয় কর্মকারকে (৩৫) ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করে।
এছাড়া ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত তিনজন হলেন – টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা এলাকার স্বর্গীয় পরেশ মেহতার ছেলে রবিদাস মেহতা (৪৬), একই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের বীরপুষিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে হোসেন মিয়া (২৯) ও গালা ইউনিয়নের বেলটিয়াবাড়ী গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে ফজলু (৪২)।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম জানান, শহরের পরিত্যক্ত ঘোষিত ভাসানী হলে প্রায়ই মাদকাসক্তদের আসর বসে থাকে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে এমন গোপন খবর পেয়ে ভাসানী হলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪ জন মাদকসেবীকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযান পরিচালনাকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশ সহযোগিতা করে। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে মানুষের কঙ্কালসহ ওমর আলী (৪০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মোটেরবাজার এলাকা থেকে স্থানীয় পাহারাদাররা ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটককৃত ওমর আলী উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের গুবুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পাহারাদার বয়েস উদ্দিন ও শাহজাহান আলী বলেন, বস্তায় কবর থেকে তুলে আনা মানুষের মাথার খুলি, হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের হাড় থাকায় তাঁকে আটক করি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর করে। খবর পেয়ে মধুপুর থানা-পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
উপজেলার আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সোমবার ভোরে মোটেরবাজার এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ওই যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করা হয়। এ সময় তার হাতে থাকা বস্তায় তল্লাশি চালিয়ে মৃত মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, বস্তা থেকে মাথা, ডান হাত, দুই পাসহ কোমরের নিচের অংশবিহীন মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কঙ্কালসহ ওমর আলীকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, মেডিকেল কলেজে কঙ্কাল বিক্রি করার যে চক্র আছে, ওমর আলী সেই চক্রেরই সদস্য। বর্তমানে তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী সামিয়া (৯) হত্যাকান্ডের ২২ দিন পর মূল আসামি সাব্বির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর)রাতে সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)বিকেলে সখীপুর থানা কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ও সখীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথদল এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঋণের টাকার পরিশোধ করতে সাব্বির মুক্তিপণের পরিকল্পনা করেছিল। সে ছিল ঋণগ্রস্ত। পাওনাদার তাকে ঋণ পরিশোধে চাপ দিচ্ছিল। পাওনাদারদের কথায় অপমানও বোধ করে সে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধান্ত নেয়, এমন কাউকে সে ‘অপহরণ’ করবে, যার বাবার কাছে নগদ অর্থ আছে এবং নগদ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সে ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে নিতে পারবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশু সামিয়ার পরিবারের কাছে নগদ অর্থ আছে। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে (সামিয়া) অপহরণের সিদ্ধান্ত নেয় সাব্বির।
তিনি আরও জানান, সে পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ঘটনার দিন (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে সামিয়া বিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে সাব্বির তার নিজের মুদির দোকান থেকে নেমে সামিয়ার পিছু ছুটে। সামিয়া তার বাড়ির ২০০ গজ মধ্যে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে তার (সামিয়া) গলার মধ্যে চেপে ধরে পাশের বাঁশ ঝাড়ের দিকে নিয়ে যায়। বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে গেলে সামিয়া বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করে বলে পুলিশ সুপারকে জানায় গ্রেপ্তার সাব্বির। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলেও জানায় সাব্বির।
পুলিশ সুপারকে আরও জানায়, মুক্তিপণের জন্য সিদ্ধান্ত নিলেও, যখন সামিয়া সাব্বিরকে চিনে ফেলেছে এবং ছেড়ে দিলে তার মহাবিপদ হবে, ভেবে সে সামিয়াকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বঁাশের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে।সাব্বির পুলিশ সুপারকে আরও জানায়, সকাল নয়টার মধ্যে সামিয়াকে হত্যার পর সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে ‘ইমু’ আইডি থেকে অডিও বার্তায় ৫ লাখ টাকা ‘মুক্তিপণ’ দাবি করে সামিয়ার বাবার মোবাইলে পাঠায়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, সাব্বির জানায় ‘সে একাই সামিয়াকে খুন করেছে’। মুক্তিপণই ছিল তার মূল পরিকল্পনা।
গ্রেফতারকৃত সাব্বির উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেন ও সামিয়ার বাবা প্রতিবেশী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)। খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ও সখীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথদল কাজ করছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। খুনের মূল ও একমাত্র আসামি সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত চলছে। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামি সাব্বিরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা আক্তার (২৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার কথিত স্বামী রাশেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
বৃহস্পতিবার( ২৮ সেপ্টেম্বর)ভোরে ঢাকার সাভারের আমতলীর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রাশেদুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১ এর যৌথ একটি দল অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা কান্ডের পর থেকে রাশেদ পলাতক ছিল।
তিনি আরও জানান,খাদিজা আক্তার ও রাশেদ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের বিয়ের বিষয়টি খাদিজা আক্তারের পরিবারের লোকজন জানতে পারেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের কোন খোঁজ খবর না পেয়ে পরিবারের লোকজন বাসায় গিয়ে রুমের দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পরিবারের লোকজন ও বাসার মালিকসহ তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে তারা খাদিজা আক্তারকে খাটের উপরে পড়ে থাকতে দেখতে পান।
এসময় খাদিজার পায়ের গোড়ালীর পিছনের রগ কাটা ছিল। ঘটনার পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের বড় ভাই ইমান আলী (২৫) বাদী হয়ে রাশেদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল ইসলাম জানায়, মুন্নি আক্তার নামে তার স্ত্রী ও ৩ সন্তান রয়েছে। খাদিজা আক্তারের সম্পর্কের কথা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্বের স্ত্রীর সাথে তার মনোমালিন্য ছিল। খাদিজাকে নিয়ে সংসার করা অবস্থায় খাদিজা আক্তারও রাশেদের কাছে টাকা দাবি করেন।বারবার টাকা দাবি করায় এক পর্যায়ে রাশেদ উত্তেজিত হয়ে খাদিজাকে হত্যা করে।