একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দ্রুতগতির বিনিময় বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম (২১) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার দিগর ইউনিয়নের আঠারোদানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের আঠারোদানা এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। সাইফুল কালিহাতীর শাহজান সিরাজ কলেজের ছাত্র ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু মোটরসাইকেল আরোহী শাহীনুর (২০) গুরুতর আহত হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বিকালে দুই বন্ধু চাচাত ভাইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। এ সময় বাড়ির কাছেই টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে ঢাকাগামী বিনিময় বাসের সাথে মোটরসাইকেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের থাকা সাইফুল মাথা থেতলে মৃত্যু বরণ করে।
পরে মোটরসাইকেলের অপর আরোহী শাহীনকে স্থানীয়রা উদ্ধারকরে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,মোটরসাইকেলের সাথে অজ্ঞাত একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার বাসায় রাতের আধারে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ও নগদ অর্থসহ চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার (১ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীর মেয়ে শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গরবার দিবাগত রাতে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী গ্রামে চাঁন মিয়ার স্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার শুভকী গ্রামে তার বাড়িতে প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তার ভাগনী জামাই সজীব ঘরের দরজা-জানালা ভালভাবে আটকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা উক্ত বাড়ি-ঘরের দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে ঘরে রাখা আলমারীর তালা ভেঙ্গে আলমারীতে রাখা নগদ ১ লাখ সত্তুর হাজার টাকা এবং ১ ভরি ৫ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনা (যার মূল্য অনুমান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা) নিয়ে যায়। অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা চলে যাওয়ার সময় উক্ত ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে যায়। তার ভাগনী জামাই ও ভাগনী শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখে যে, ঘরের দরজা এবং ঘরের আলমারী খোলা। আলমারীতে রাখা উক্ত টাকা এবং গহনা অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা নিয়ে গেছে। পরে শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা বুধবার (১ জানুয়ারি) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রতিবেশী সামেদা আক্তার, রাশেদা বেগম, নুরুল ইসলাম ,মো. আফজাল হোসেনসহ অনেকেই জানায়, আযান দেওয়ার আধঘন্টা পুর্বে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার বাড়িতে হাউমাউ করার শব্দ পেয়ে তারা এগিয়ে যান। পরে দেখেন স্টিলের আলমারী ও সুকেচ ভাঙা। ওই বাড়িতে বেড়াতে আসা আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আরিফ তার খালাতো ভাই। কিছুদিন পুর্বে তার খালাতো ভাই আরিফ ৩ লাখ টাকা ধার করেন। সেই ধারের টাকার জন্য বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে পাওনাদার। পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি গরু বিক্রি করে ১ লাখ সত্তুর হাজার টাকা নিয়ে এসেছেন।
মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে ও মামলার বাদী শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা বলেন, তার ভাই সম্প্রীতি ৩ লাখ টাকা সুদ করেন। সেই টাকার জন্য সুদ কারবারীরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে তিনি ওই সুদকারবারীকে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন। সাকুল্য টাকা দিতে না পারায় তাদের বাড়িতে ওই সুদ কারবারীরা সাইনবোর্ড লাগায়। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমার খালতো ভাই আক্তার হোসেন গরু বিক্রি টাকা নিয়ে আসছিলো। সেই টাকা ও আমাদের স্বর্ণ অলংকার গুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় তিনি দেলদুয়ার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোয়েব খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল করায় অভিযান চালিয়ে ২জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জানুয়ারি)দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি আশিক হাসান মুন্না(২৩) ও যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক রাহাত,(১৯)।
জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক ওরফে তানজীলের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী শহরের নিরালা মোড় থেকে ঝটিকা মিছিল করেন। পরে শহরের মেইন রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী কার্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা ।শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ৭ টার দিকে নিরালা মোড় এলাকা থেকে ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয় । পরে তারা মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের অফিসের দিকে যায়। পরে সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলে যায়। মীর ওয়াছেদুল হকসহ মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তারা আত্মগোপনে আছেন।
এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইলের সমন্বয়ক আল আমিন বলেন, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত। সেই দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কখনও কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। এ বিষয় সরকারের কঠোর নজরদারি রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত এ নিষিদ্ধ দলের সন্ত্রাসীরা যে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক তাদের প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা। তা না হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)তানবীর আহমেদ জানান ,পুলিশের বিশেষ অভিযানে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৌর এলাকা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনের নামে মামলা রয়েছে।
তিনি আরো জানান,রবিবার (৫ জানুয়ারি) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভোরে টাঙ্গাইল শহরে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

জানা গেছে, শনিবার ভোরে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিরালার মোড় থেকে মিছিলটি বের করে নিষিদ্ধ সংগঠনটি। মিছিলটি নিরালার মোড়ে হয়ে মেইন রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পূণরায় ঘুরে জগলু রোডের দিকে চলে যায়। ‘জয় বাংলা’স্লোগান দিয়ে মিছিলটি বের করলেও বেশিক্ষণ শহরে অবস্থান করতে পারেনি তারা।এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াসহ মিছিলের নেতৃত্ব দেয় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ারেছুল হক তানজীল। কর্মসূচিতে ৮ থেকে ১০জন নেতাকর্মীউপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।
এ দিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের হঠাৎ কর্মসূচি পালনে হতবাক টাঙ্গাইল শহরের সাধারণ মানুষ। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জেলায় ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ছাত্র ফেডারেশনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের মিছিল ও পুষ্পস্তবক অর্পণের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘টাঙ্গাইল ছাত্রলীগের আজকের মিছিল এটা। শহর ছাত্রলীগের সভাপতি তানজীলসহ বাকি গুন্ডা বাহিনী দিব্যি ঘুরে বেড়ায়, উদ্যানে এসে মুড়ি খেয়ে যায়। তাহলে টাঙ্গাইলের প্রশাসন আসলে কি করে?
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুরো শহরে টহল দেওয়া হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য,গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর জেলায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই ধরনের কর্মসূচি এই প্রথম পালন করা হলো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণরত ১৪ কনস্টেবলকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে তাদেরকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কারণে অদ্য ২ জানুয়ারি অপরাহ্ণ থেকে প্রশিক্ষণ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
এদিকে, অব্যাহতি পাওয়া প্রশিক্ষণরত কনস্টেবলরা রাতেই ট্রেনিং সেন্টার ত্যাগ করে যার যার বাড়িতে রওনা হয়েছে বলে সূত্রে গেছে।
মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন থেকে ৫৪তম ব্যাচের টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ৭৯৩ জনের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর মধ্যে ছয় জন অসুস্থ হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়। পরে ৭৮৭ জন কনস্টেবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
১৯ ডিসেম্বর প্রশিক্ষণরত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলের (টিআরসি) সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও সেটির তারিখ বাতিল করে ১২ জানুয়ারি করা হয়।
অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহফুজা আক্তারের স্বাক্ষরিত বাতিল হওয়া কুচকাওয়াজের চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ প্রাপ্তদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গত ২৪ জুন থেকে সাতটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী; পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, (টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, খুলনা, রংপুর); পিএসটিএস, বেতবুনিয়া, রাঙামাটি ও এএসটিসি, খাগড়াছড়িতে চলমান রয়েছে। চলমান প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ নির্ধারিত ছিল। অনিবার্য কারণবশত সমাপনী কুচকাওয়াজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। উক্ত কুচকাওয়াজ আগামী ১২ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া কনস্টেবলরা দাবি করেন, ১৯১ দিন প্রশিক্ষণ হয়েছে। ৭৮৭ জন কনস্টেবলের প্রশিক্ষণ হয়েছে। পাসিং প্যারেড হওয়ার কথা থাকলে সেটির তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হঠাৎ অব্যাহতির চিঠি দেওয়া হয়। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনও কাজ না করেও তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ হওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার সাহেদ মিয়া জানান, এই বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ছাড়া আমরা কোনও বক্তব্য দিতে পারবো না।
মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার রেজিনা বেগমের ক্রয়কৃত ৩৪ শতাংশ সম্পত্তি ৭০ বছর ধরে দখলে থাকা জমিতে সংখ্যালঘু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভাংচুর করে জমি দখল করার চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভিআইপি অডিটোরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. শাওন আল মনসুর বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের দলিল ও রেকর্ড মুলে প্রাপ্ত হই। ১৯৪০, ১৯৫৩ এবং ১৯৬৪ সনে টাঙ্গাইল সাব রেজিষ্টার অফিস হতে রেজিস্ট্রীকৃত দলিল মুলে রিজিনা বেগম, স্বামী আব্দুর রহিম মিয়া এই জমির মালিকানা প্রাপ্ত হন। বি.এস জরিপ আগত হইতে ১/১নং খতিয়ানে এস.এ ১০৫৪,১০৫৫, ১০৫৬, ১০৫৭নং দাগে ৩৫৬৫, ৩৫৬৬, ৩৫৫৬ দাগে রুপান্তরিত হয়। বর্তমানে ১/১ নং খতিয়ান এসএ দাগ নং ১০৫৪.১০৫৭ যা বিএস নকশাকৃত দাগ ৩৫৬৬। যা রেজিয়া ওয়ারিশগন ভোগ দখলরত আছে। এমত অবস্থায় ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে একদল লোক সংখ্যালঘুর নাম ভাঙিয়ে ভাংচুর ও উক্ত জমি দখলের চেষ্টা করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দখলে থাকা উক্তভুমিটি ১২ বছর পুর্বে কয়েক লাখ টাকা খরচ করিয়া বাউন্ডারী ওয়াল করার জন্য সিসি কলাম করা হয়। ২০২২ সালে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল্ল্যাহ হেল ওয়ারেজ (হুমায়ন) টাঙ্গাইল পৌরসভার আমীন দ্বারা পরিমাপ করে যার-যার অংশ বুজিয়ে দেন। তারপর আমরা ওয়ারিশগন উক্ত জায়গায় সিসি কলামের উপর টিনের বেড়া দিয়ে জায়গাটি ঘিরে রাখি। এমতঅবস্থায় টিনের বেড়া খুটি, সাইনবোর্ড ঘরের দরজাসহ বিভিন্ন জিনিষ ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। ওইদিন যদি আমরা বাধা দিতাম তাহলে একটি অপ্রীতিকর অস্থার সৃষ্টি হতো এবং হতাহত হতো, যে কারণে আমরা বাধা দেইনি। এই জমিতে আমরা খেলাধুলা করেছি এবং বড় হয়েছি। তখন কেউ এই জমি তাদের বলে দাবি করেনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আইনে বিশ্বাস করি, তারা যদি এই জমির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমরা এই জমি ছেড়ে দিবো। আর যদি দেখাতে না পারে তাহলে তাদের এই জমির দাবি ছেড়ে দিতে হবে। ইতোমধ্যে ভাঙচুর ও লুটপাট বিষয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। জমির বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পাভেল এ রৌফ, মো. ফরহাদ মিঞা ও মো. আবীর হোসেন।
এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার কান্দাপাড়া মৌজায় থানাপাড়া সুইপার কলোনিতে পত্তনসুত্রে প্রাপ্ত ৪০ শতাংশ জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণের পায়তার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পৌরসভার মেয়রকে বিবাদী করে উক্তভুমির মালিক কার্তিক চন্দ্র হরিজন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ৪৫/২০২২। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৌর কর্তৃপক্ষ বহুতল ভবণ নির্মাণের পায়তারা করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা সুত্রে জানাগেছে, সন্তোষের জমিদার প্রমথ নাথ রায় চৌধুরীর স্বত্ব দখলীয় জোত (পাঁচআনী জমিদার স্টেটের) ভুমির ৪০ শতাংশ জায়গা তাদের জমিদারী এলাকায় পয়নিস্কাশনের জন্য ভারতের এলাহাবাদ থেকে এনে মহদেব জমাদার এর পরিবারদের থাকার জন্য পত্তন দেন। যাহার কাগমারী পরগনার কান্দাপাড়া মৌজার খতিয়ান নং ৩, ক্রমিক নং ২১৮ হিসাব নং ১১৫, সিএস দাগ নং ১৩৫। যাহার উত্তরে থানাপাড়া বিসিক রোড, দক্ষিনে মাসুদ গংয়ের বাড়ি, পুর্বে টাঙ্গাইল পৌরসভার জায়গা ও পশ্চিমে দেলদুয়ার রোড। বর্তমানে টাঙ্গাইল দেলদুয়ার রোডের জন্য উক্ত ভুমির ১.৮৬ পয়েন্ট সরকার ভুমি অধিগ্রহন করায় ৩৮.১৪ শতাংশ ভুমি কার্তিক হরিজনের দখলে রয়েছে।বর্তমানে ওই ভুমিতে নিঃস্তান মহাদেব চন্দ্র জমাদারের দত্তক সন্তান কার্তিক চন্দ্র হরিজন তার পরিবার-পরিজন নিয়ে শতবছর ধরে বসবাস করে আসছে এবং জায়গাটি স্বত্বঃবান রয়েছে।
গত এসএ জরিপে ১৩৫ দাগটি এসএ ২২৫ দাগে রুপান্তরিত হওয়ায় এবং ভুলক্রমে মহাদেব চন্দ্র হরিজনের নামে লিপিবদ্ধ না হইয়া এসএ ৩নং খতিয়ানে ২২৫ নং দাগ হিসেবে বাড়ি শ্রেণীরুপে টাঙ্গাইল পৌরসভার নামে লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু উক্ত ভুমিটি হালের বিএসে ৪৩৮ খতিয়ানে মহাদেব হরিজনের দত্তক পুত্র কার্তিক হরিজনের নামে ২৪.২৫ শতাংশ ভুলক্রমে মাঠপর্চায় অর্ন্তভুক্ত হয়। পরে উক্ত ভুমিটি নিয়ে কার্তিক হরিজন পৌরসভাকে বিবাদী করে আদালতে ৩৮.১৪ শতাংশ জমি দাবি করে রেকর্ড কারেকশনের মামলা করেন। যাহার নাম্বার ৪৫/২২। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। কিন্তু টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে উক্ত পত্তন সুত্রে প্রাপ্ত মালিকানা অস্বীকার করিয়া নিজেদের মালিকানা দাবিতে মামলা করেন।
গত নভেম্বরের ৮ তারিখে পৌরসভার নিয়োজিত ঠিকাদার উক্ত ভুমি দখল নিতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে চলে আসে।
এ প্রসঙ্গে, কার্তিক চন্দ্র হরিজন বলেন, উক্ত ভুমির পত্তন সুত্রে পাওয়া মালিক মহাদেব নিঃসন্তান হওয়ায় আমাকে দত্তক আনেন। হঠাৎ তার পালক পিতা মহাদেব হরিজন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার পিতার অনুমতিক্রমে মাতা মহাদের স্ত্রী লক্ষী ওরফে কমলী হরিজন ১৯৯০ সালের মে মাসের ১৭ তারিখে তার সকল স্থাবর-অস্থাবর আমাকে রেজিষ্ট্রি করে দেন। সে থেকে আমি পৈত্রি সুত্রে পাওয়া ভুমিতে শতবছর যাবত পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। সম্প্রীতি টাঙ্গাইল পৌরসভা মালিকানা দাবি করলে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি, মামলাটি চলমান আছে।
স্থানীয় মিনজু হরিজন,পন্ন হরিজনসহ অনেকেই জানান, পৈত্রিক সুত্রে এই জমির মালিক কার্তিক হরিজন। এলাকার কিছু অসাধু লোক পৌরসভার লোকজনের সাথে আতাত করে জমিটি বহুতল ভবন নির্মাণ করার পায়তারা চালাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভা তাদেরকে জায়গা বুঝিয়ে দিলে তারা কাজ ধরবে। পৌর কর্তৃপক্ষ জায়গা বুঝিয়ে দিতে না পারলে বহুতল ভবনের প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার দায়িত্বরত প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার মন্ত্রালয়ের উপসচিব মো. শিহাব রায়হান জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। যেহেতু বহুতল ভবনটি টাঙ্গাইল এলজিইডির প্রকল্প সেহেতু এলজিইডির নির্বাহী কর্মকতার নিকট কথা বলার পরামর্শ দেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তরকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আল আমিন (২৭), জেলার কালিহাতী উপজেলার সিঙ্গাইর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহম্মেদ লিজন (২৮) এবং নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বিজবাগ গ্রামের মজিবল হকের ছেলে হাসান(২৬) ও একই গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশরাফ হোসেন (২৫)। এর মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আল আমিনের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতিসহ ২৭ টি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত অন্যন্য আসামীদের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর থানায় দুটি ডাকাতী মামলা হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে নেমে কক্সবাজার জেলা হতে দুইজনকে ও নোয়াখালী থেকে অপর দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের সাথে থাকা ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আল আমিন ও লিজনকে আটকের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাসান ও আশরাফকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বগুড়াগামী মোটরসাইকেল আরোহী নোমান শেখ উত্তরবঙ্গ-ঢাকা মহাসড়কে গত ১৪ নভেম্বর টাঙ্গাইলের কান্দিলা পৌঁছলে পেছন থেকে দু’টি মোটরসাইকেল এসে তার উপর হামলা করে। হামলাকারীরা তাকে আহত করে দুই লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যায়। এ বিষয়ে মো. নোমান শেখ টাঙ্গাইল সদর থানায় বাদীহয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও মির্জাপুর উপজেলা এবং কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাস বেতকা মৌজার ৩৪ শতাংশ ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দীর্ঘদিন বেদখল ছিলো। দেশের রাজনৈতিক পটপরির্তনের পর একটি সংখ্যালঘু পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের সহযোগীতায় গত ১৭ ডিসেম্বর জায়গাটি দখলমুক্ত করে। এরপর থেকেই উক্ত বেদখলকারী কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে আসছে ।এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার(২৬ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটিরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছে উক্ত ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপ্লব কুমার গুহ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের পৈত্রিক ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাস বেতকা মৌজার ৩৪ শতাংশ জায়গা যার সিএস খতিয়ান নং ৬৫০,দাগ নং ১০০৪ ও ১০০৫ এর মালিক ভুবনময়ী দাস্যা জং ভৈরব চন্দ্র গুহ পরলোক গমন করার পর তাদের একমাত্র সন্তান সতীষ চন্দ্র গুহের একমাত্র ছেলে সুশীল চন্দ্র গুহ ওয়ারিশ সুত্রে মালিকানা প্রাপ্ত হোন। যা বিগত এস এ রের্কডে খতিয়ান নং ৭৪৭ দাগ নং ১০৫৪,১০৫৫,১০৫৬,১০৫৭ সুষ্পষ্টভাবে শুশীল চন্দ্র গুহের নাম লিপিব্দ হয়েছে। শুশীল চন্দ্র গুহ আমাদের পিতা। তিনি পরলোক গমন করার পর আমরা ৫ ভাই যথাক্রমে গৌরাঙ্গ চন্দ্র গুহ, নারায়ণ চন্দ্র গুহ ,দীপক কুমার গুহ,সুবীর চন্দ্র গুহ,বিপ্লব কুমার গুহ উক্ত ভুমির ওয়ারিশান সুত্রে মালিকানা প্রাপ্ত হই। আমাদের নামে উক্ত ভুমির ডিজিটাল নামজারী করা আছে এবং হালসনের ভুমি উন্নয়নকর পরিশোধ করা আছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন ,দীর্ঘদিন যাবত আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় ভয়ভীতি দেখাইয়া বিশ্বাস বেতকার শাওন-আল-মনসুর পিতা মৃত দুলাল আল মনসুরগং জোরপুর্বক আমাদের ওয়ারিশয়ান সুত্রে প্রাপ্ত ৩৪ শতাংশ জমিতে জোরপুর্বক দখল করিয়া ছিলো। এই জমির মালিকানা প্রাপ্ত হওয়ার বৈধ কোন কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। এই অবৈধ দখলদার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হওয়ায় নানা বৈষম্যর শিকার হয়ে বৈধ মালিক হওয়া সত্বেও জমিটির দখলে যেতে পারিনি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে একাধিকবার অবৈধ দখলদারের সাথে জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে শালিসের আয়োজন করা হলেও তারা সেই শালিসে উপস্থিত হয়নি। সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয়দের সহায়তায় আমাদের পৈত্রিক সম্পটি অবৈধ দখল মুক্ত করে আমরা দখলে গিয়েছি। তারপর থেকেই উক্ত অবৈধ দখলদারের যোগসাজসে কয়েকটি ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজ এই বিষয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, গৌরাঙ্গ চন্দ্র গুহ,নারায়ন চন্দ্র গুহ,দীপক কুমার গুহ,সুবীর চন্দ্র গুহসহ ওই পরিবারে বেশ কিছু সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে কালিহাতী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী সার্কেল এএসপি আব্দুল্লাহ আল ইমরান এ তথ্য জানান।
শনিবার(২২ ডিসেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ১টি ট্রাকসহ বিভিন্ন ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- সিরাজগঞ্জ সদরের চর বনবাড়িয়া এলাকার গহের আলী শেখের ছেলে শামীম শেখ (৩০), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বেলতৈল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আমছের আলীর ছেলে আব্দুল লতিফ (৪৭), হাট ফতেপুর এলাকার মৃত একাব্বর মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৮), ভূঞাপুর উপজেলার উত্তর চর বিহারী এলাকার রহিজ উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম রবি (২৭), সিরাজকান্দি মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত সোরহাব আলীর ছেলে খাদেম আলী (২৮), কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল্লা হিল কাফি (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে (কালিহাতী সার্কেল) এএসপি আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদেরকে টাঙ্গাইল আদালত প্রেরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়াসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল হাসপাতালে মিলছেনা সরকারিভাবে দেওয়া বিনামূল্যের র্যাবিস্ ভ্যাকসিন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীসহ স্বজনরা। কেউ কেউ একটি বা দুটি বিনামূল্যের ভ্যাকসিনের ডোজ পেলেও গত দুইদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে এর সরবরাহ। রোগীরা ভোগান্তির শিকার হলেও সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্যে ওই ভ্যাকসিন বিক্রির ফায়দা নিচ্ছেন ওষুধ বিক্রেতা। রোগীর চাপ বাড়ায় দায়িত্বরতরা ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকার অজুহাত দিয়ে ওষুধ বিক্রেতাদের মাধ্যমে বাড়তি সুবিধা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর)এ চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিক ভবনে স্থাপনকৃত র্যাবিস্ ভ্যাকসিন বিতরণ কক্ষে।
দেখা গেছে, এ ভবন চত্বরে শিশু,নারী ও পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় দুই শতাধিক রোগী ও স্বজনদের। বিনামূল্যের ভ্যাকসিন না থাকায় হতাশ আগত রোগী ও স্বজনরা। কেউ কুকুর আবার কেউ বিড়ালে কামড় বা খামচির শিকার। সরকারি বিনামূল্যের ভ্যাকসিন না থাকার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি কোম্পানীর ভ্যাকসিন ওই ভবন চত্বরেই বিক্রির কাজ করছেন ওষুধ বিক্রেতার কয়েকজন প্রতিনিধি। চারজনের এক একটি গ্রুপ মিলিয়ে একটি র্যাবিস্ ভ্যাকসিন ও চারটি সিরিঞ্জ প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্য সাড়ে পাঁচশ টাকায়। যদিও ভ্যাকসিনের গায়ে সর্বোচ্চ মূল্য লেখা ৫’শ টাকা আর পাঁচ টাকা মূল্যের এক একটি সিরিঞ্জের দাম নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা।
ভুক্তভোগী ফাতেমা জানান, গত ১১ ডিসেম্বর আমার দুই বছরের বাচ্চাকে বিড়ালে খামচি দেয়। ১২ ডিসেম্বর এখান থেকে বিনামূল্যে প্রথম ডোজটি দিয়েছি। এভাবে তিনটি ডোজ দেয়ার তারিখ লিখে দেন কর্তব্যরত নার্স। রবিবার আমার বাচ্চার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার দিন। এসে শুনি সরকারি ভ্যাকসিন নাই। বাধ্য হয়ে জনপ্রতি ১৩৫ টাকা ভাগ করে দিয়ে একটি ভ্যাকসিন কিনে আমরা চারজনের বাচ্চাকে দিয়েছি। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের ভ্যাকসিন নেই এটা কি বিশ্বাসযোগ্য।
রুবী আক্তার নামের এক রোগীর স্বজন জানান, দুটি ডোজ বিনামূল্যে পেয়েছি। আজকে এসে শুনি ভ্যাকসিন নেই, তাই বাধ্য হয়ে এখানে থাকা এক ওষুধ বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে বাচ্চাকে শেষ ভ্যাকসিনটি দিতে হলো। সরকারি ভ্যাকসিন হঠাৎ উধাও হলো, নাকি বাড়তি সুবিধা নিতে দায়িত্বরতরা না থাকার এই অজুহাত সাজিয়েছেন।
দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আমিনুল ইসলাম জানান, বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন শেষ হওয়ায় রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। ভবনের বাইরে যে ভ্যাকসিন বিক্রি করছে সে আমাদের কেউ নন। তাকে এই ভবন চত্বরে ভ্যাকসিন বিক্রির অনুমতি না দেয়াসহ কোন বাড়তি সুবিধা তারা নিচ্ছেননা বলে দাবি করেছেন তিনি। দালাল আর বহিরাগত ওষুধ বিক্রেতাদের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, এরআগে কয়েক দফায় পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে তারা।
অপর দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রিজিয়া জানান,এ বছর রোগীর সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ায় সরবরাহকৃত ভ্যাকসিন সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে ভ্যাকসিনের চাহিদা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সরকারি ভ্যাকসিন পেয়ে যাবো।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও)ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন,চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় র্যাবিস্ ভ্যাকসিন বিতরণে সমস্যা হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে আমরা যে পরিমানের চাহিদা দিই, সেই পরিমানের ভ্যাকসিন আসেনা। সরকারি ভ্যাকসিন আসলেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের ভিতরে দালাল বা বাইরের ওষুধ বিক্রেতাদের বিক্রির সুযোগ নেই। এরপরও যদি কেউ কেউ বিক্রি করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলার আসামী সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার(১১ ডিসেম্বর )বিকালে মির্জাপুর আমলী আদালতের বিচারক সোহেল ম্রোং এ রায় দেন।
এরআগে বিকেলে সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে আদালত চত্বরে আনা হলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। পরে প্রিজন ভ্যান থেকে তাকে আদালতের ভিতরে না নিয়ে কারাগারে ফেরত নেওয়া সময় শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানায়। এসময় প্রিজন ভ্যানে থাকা সাবেক মন্ত্রীকে লক্ষ করে ডিম ছুড়ে মারে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে প্রিজন ভ্যানের গতিরোধ করার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এসময়ে শিক্ষার্থীদের উপর লাঠি চার্জ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, লাঠি চার্জ করা পুলিশকে এক ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত না করলে বড় পরিসরে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক একাধিক মামলার আসামী। মির্জাপুরে ইমন হত্যা মামলায় তাকে বুধবার আদালতে হাজির করার তারিখ ধার্য করা ছিল। এ মামলায় তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান,এছাড়াও নিরাপত্তা জনিত কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আদালত চত্বর থেকেই তাকে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।