একতার কণ্ঠঃ পারিবারিক কলহের জেরে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন করেছে স্ত্রী। পরে স্বামী ময়নাল (৬০) তার স্ত্রী মনোয়ারাকে (৫০) কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের ফয়েজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ময়নাল দপ্তিয়র ইউনিয়নের ফয়েজপুর গ্রামের তোফান শেখের ছেলে এবং নিহত মনোয়ারা একই ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত তাহেরুল আমিনের মেয়ে।
সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, ময়নাল ও তার স্ত্রী একই সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে এলাকায় আসে। পরে বাজার করা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ময়নালের স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন করে। পরে ময়নাল ঘরে থাকা গাছ কাটার কুড়াল নিয়ে তার স্ত্রীর ঘাড়ে দুটি কোপ দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ময়নালকে স্থানীয়রা আটক করে গাছে বেঁধে রাখে এবং পরবর্তীতে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। পরে ময়নালকে আটক করতে গিয়ে দেখা যায়, তার পুরুষাঙ্গ কাটা এবং পরনের লুঙ্গি রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছে। তখন তাকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ময়নালকে টাঙ্গাইল জেলার হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ময়নালের পুরুষাঙ্গের কিছু অংশ কাটা অবস্থায় ছিল। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এড. মোতালিব হোসেনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কুইজবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে মগড়া ইউনিয়ন বিএনপি।
সভা আহ্বান ছাড়া বাজেট, বৈষম্যহীন ট্যাক্স, বিভিন্ন উন্নয়ন তহবিলের টাকা ও প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাত, পরিষদে গড় হাজিরার মত দূর্নীতিতে সম্পৃক্তসহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট মুতালিব হোসেনের অপসারণের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মগড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান উত্তম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হারুন মিয়া প্রমুখ।
এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক খোদা বক্স, সদস্য সচিব রাসেল রানা, স্বেছাসেবক দলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠণের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ভারতের মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতা নিতেশ রানে ও ধর্মগুরু রামগিরি মহারাজ কর্তৃক মুসলমানদের হত্যার হুমকি ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভটি মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে মিছিলটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোঃ কামরুল ইসলাম, আল-আমিন, মনিরুল ইসলাম, আকরাম, সিয়াম, মুফতি আব্দুর রহমান, মাওলানা ইসমাঈল, মুফতি মুকাব্বির প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, মহানবীকে নিয়ে যারা কটুক্তি করছে অবিলম্বে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মহানবীর সম্মানে মার্চ টু মুম্বাই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই সময় বক্তারা ভারতীয় পন্য বর্জনের আহ্বান করেন সমাবেশ থেকে।
পরে মোনাজাতের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সমাবেশটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মোনাজাত করেন মুফতি আব্দুর রহমান।
একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টাঙ্গাইলে গুলিতে নিহত ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ মিয়া (১৪) হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তানভীর হাসান ফেরদৌস নোমানকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র্যাব দুপুরে নোমানকে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪ এর স্কোয়াড কমান্ডার (এএসপি) মো. আব্দুল বাসেত।
গ্রেপ্তারকৃত তানভীর হাসান ফেরদৌস নোমান টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এ হত্যা মামলার ১৬ নাম্বার আসামী।
রবিবার দুপুরে নোমানকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, র্যাব গ্রেপ্তারের পর কাউন্সিলর নোমানকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে নোমানকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখনো রিমান্ড শুনানি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট নিহত মারুফের মা মোর্শেদা বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুসহ ৫৬ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অজ্ঞাত ১৫০ জন থেকে ২০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক হিসাবরক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ওই সংস্থাটির পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার(২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের সদর সড়কের বেসরকারি সংস্থা ‘সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট থ্রু ইউনিটি’র (সেতু) প্রধান কার্যালয়ের পাশ থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তাঁর নাম হাসান আলী (২৩)। তিনি সিরাজগঞ্জ উপজেলার উল্লাপাড়া থানার পুঠিয়া গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। হাসান ওই এনজিওর জামালপুরের পিয়ারপুর শাখার সহকারী হিসাবরক্ষক ছিলেন।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মির্জা সাহাদত হোসেনের ছেলে ও সংস্থাটির উপ-পরিচালক (মানবসম্পদ) মির্জা সাকিব হোসেন, উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. শরিফুল ইসলাম, কর্মসূচি ব্যবস্থাপক খায়রুল হাসান ও সহায়ককর্মী রাশেদুল ইসলাম।
সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংস্থাটির পিয়ারপুর শাখার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক ও সহকারী হিসাবরক্ষক তিনজন যোগসাজশ করে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর তিনজনকে প্রধান কার্যালয় টাঙ্গাইলে আনা হয়। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপককে ছেড়ে দেওয়া হলেও ব্যবস্থাপক ও হিসাব রক্ষক হাসান আলীকে সপ্তম তলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর হাসানের মা-বাবাকে কার্যালয়ে ডেকে এনে বিষয়টি জানানো হয়।
শুক্রবার গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের সদর সড়কে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় সেতু টাওয়ারের পশ্চিম পাশ থেকে হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, হাসানকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।
তবে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার রাতে সাততলা থেকে লাফ দিয়ে হাসান ‘আত্মহত্যা’ করেন। ঘটনার পরপরই রাতে সংস্থাটির পাঁচ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
নিহত হাসানের বাবা আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করছে। আমাকে শুক্রবার রাতে সেতু অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়, আপনার ছেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে। আপনি আসেন। পরে থানা থেকে ফোন করে হাসানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।’
শনিবার সন্ধ্যায় নিহত হাসান আলীর মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটক পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ পাঁচজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।
সেতুর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) বিমল চক্রবর্তী বলেন, পিয়ারপুর শাখার ম্যানেজার ও সহকারী হিসাবরক্ষককে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। অফিসের সাততলায় তাঁদের থাকার জন্য একটি রুম দেওয়া হয়। সেখান থেকে লাফ দিয়ে হাসান গতকাল রাতে আত্মহত্যা করেন।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, হাসানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্ত করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর ‘বিজয় মিছিলে গিয়ে গুলিতে নিহত’ টাঙ্গাইলের হৃদয়ের লাশ ৪০ দিন পরেও পায়নি তার পরিবার।
মা রেহেনা বেগম এখনও অপেক্ষায় আছেন, জীবিত না ফিরলেও অন্তত শেষবার মৃত ছেলেকে ছুঁয়ে দেখতে চান তিনি।

হৃদয় (২০) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের আলমনগর মধ্যপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক লাল মিয়ার ছেলে। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে নিজের লেখাপড়া আর সংসারের খরচ চালাতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় অটোরিক্সা চালাতেন হেমনগর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয়।
গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর কোনাবাড়ির কাশিমপুর সড়কের মেট্রো থানার শরীফ মেডিকেলের সামনে থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে হৃদয়ের সঙ্গে তার ভগ্নিপতি ইব্রাহিম ও বন্ধু রবিন ছিলেন।
এই দুজনেরই ভাষ্য, তারা পুলিশের গুলিতে হৃদয়কে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে এবং তার লাশ নিয়ে যেতে দেখেছেন। কিন্তু পরে আর চেষ্টা করেও হাসপাতাল মর্গ বা অন্য কোথাও হৃদয়ের লাশের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরে এ ঘটনার ভিডিও দেখেও স্বজনরা হৃদয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান ইব্রাহিম।
১১ দিন অপেক্ষার পর গত ২৬ অগাস্ট কোনাবাড়ি থানায় ৫৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান হৃদয়ের ভগ্নিপতি ও মামলার বাদী ইব্রাহিম।
হৃদয়ের পরিবার জানায়, হৃদয় ছিলেন দুই বোনের এক ভাই। দুই বোনের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। বাবা লাল মিয়া এলাকায় রিকশাভ্যান চালিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে লাল মিয়া আর কাজ করতে পারতেন না।
পরে বাধ্য হয়েই সংসারের খরচ চালাতে মে মাসে লেখাপড়ার পাশাপাশি হৃদয় অটোরিক্সা চালানো শুরু করেন। তখন বাবা-মা এক বোনের বাড়িতে থাকতেন।
আলমনগরে হৃদয়দের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটি জরাজীর্ণ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা রেহেনা বেগম। বাড়িতে রাখা ছেলের জামা-কাপড়, খেলাধুলায় পাওয়া বিভিন্ন পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি সারাক্ষণ কাঁদেন আর ছেলের পথ চেয়ে বসে থাকেন। বাবা লাল মিয়াও ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন না, আগামী দিনে তার সংসারটি কীভাবে চলবে।
হৃদয়ের বাবা লাল মিয়া বলছিলেন, বড় মেয়ের জামাইয়ের একটি ঘরে আমি স্ত্রী নিয়ে থাকি। ছেলে একটি ভাঙাচোরা ঘরে থাকে। ছেলেটা কোনাবাড়িতে অটোরিক্সা চালাতো। ঘটনার দিন লাল মিয়া ছেলেকে বাড়িতে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু হৃদয় বলেছিল, ভাইয়ের (বোন জামাই) সঙ্গে যাবো। বাবাডা আর ফিরে এলো না। এখন আমার ছেলের মরদেহ ফেরত চাই।
হৃদয়ের মা রেহেনা বেগম বলেন, আমাদের খাবার ও হৃদয়ের পড়াশুনার খরচ যোগানোর জন্য কোনাবাড়িতে কাজ করতে গেছিল। ১০ হাজার টাকা কিস্তি তুলে ছেলেকে দিয়েছি গাড়ি চালানো শিখতে। ছেলে গাড়ি চালাবে। সেই কিস্তির টাকা এখন কে দেবে? আমার ছেলেডাকে মাইরা ফেলেছে পুলিশ গুলি করে। আমার ছেলের মরদেহ ফেরত দেন আমি দেখবো। আমি তারে ধরতে চাই। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হৃদয়ের বন্ধু রবিন বলেন, ৫ অগাস্ট বিকালে কোনাবাড়ির কাশিমপুর সড়কের মেট্রো থানার শরীফ মেডিকেলের সামনে থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে হৃদয়, ইব্রাহিমসহ তারা গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, মেট্রো থানার সামনেই আমরা অবস্থান নিয়েছিলাম। এ সময় পুলিশ আমাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদুনে গ্যাস ও গুলি করে। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমরা একপাশে ছিলাম। আর হৃদয় ছিল অন্যপাশে। তখন হৃদয় ভয়ে একটি বাড়ির পাশে লুকিয়ে ছিল। সেখান থেকে পুলিশ তাকে ধরে সড়কে নিয়ে যায় এবং মারধর করে।
রবিন বলছিলেন, আমরা দূর থেকে এইটা দেখছিলাম। ভাবলাম, হয়তো মারধর করে ছেড়ে দিবে। কিন্তু তারা গুলি করে হত্যা করেছে। এ সময় চতুর্দিকে গুলি করা হয়। ভয়ে এগিয়ে যেতে পারিনি। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম তার মৃত্যু।
ভেবেছিলাম, পরিবেশ শান্ত হলে তার মরদেহ আনতে যাবো। পরে পুলিশ তার মরদেহ নিয়ে চলে যায়। ওইদিন রাত ১২টার পর যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেখানে শুধু তার রক্তাক্ত লুঙ্গিটা পাই। তবে পুলিশ মরদেহ নিয়ে কোথায় রেখেছে সেটা আর জানতে পরিনি। পরে আশপাশে খোঁজ-খবর নিতে গেলে কয়েকজনের কাছে সেদিন সেখানকার ঘটনার একটি ভিডিও পান রবিন।
সেই ভিডিও দেখার কথা জানান হৃদয়ের ভগ্নিপতি ইব্রাহিমও। তিনি বলেন, ভিডিওটি আশপাশের বাসা থেকে ধারণা করা হয়েছিল। এরকম ছোট ছোট কয়েকটি ভিডিও দেখার কথা জানান তিনি।
ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. হামিদ। তার কোনাবাড়িতে একটি দোকান আছে। মিছিলের আগে হৃদয় সেই দোকানের সামনেই ছিলেন। সঙ্গে তার ভগ্নিপতিকেও দেখেছিলেন হামিদ।
তিনি বলছিলেন, আমি তাকে মিছিলে যেতে বারণ করেছিলাম। তারপরও তারা আনন্দ মিছিলে যোগদান করেছে। বোনের জামাই ইব্রাহিম দূর থেকে দেখেছেন কিভাবে হৃদয়কে গুলি করে মেরেছে পুলিশ। কিন্তু ভয়ে কেউ সামনে যাওয়া সাহস পায়নি।
যারা হত্যা করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে দোকানদার হামিদ বলেন, হৃদয়ের মরদেহ যেন তার পরিবার ফিরে পায়।
কয়েকটি ভিডিওর একটিতে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ এক যুবককে ধরে সড়কের উপর নিয়ে লাঠিপেটা করছে। এরপর তাকে চারদিকে ঘিরে মারধর করছে। চারদিকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে হঠাৎ করেই গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক।
পরে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে চলে যায়। এরপর আবার চারজন পুলিশ সদস্য সেখানে আসেন। তাদের মধ্যে দুইজন হাত দুইজন পা ধরে তাকে চাংদোলা করে নিয়ে যাচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনজন মিলে যুবকের লাশ টেনে গলির ভিতর নিয়ে যাচ্ছে। তখনও আশপাশে প্রচণ্ড গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এরপর ওই তিনজন তার মরদেহ ফেলে চলে যায়। তার একটু পর আবার দুইজন এসে মরদেহটি গলির আরও ভিতর নিয়ে যাচ্ছে।
হৃদয়ের বোন জিয়াসমিন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন বিকালেই মোবাইলে ভাইয়ের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি ভাইকে বাসায় চলে যেতে বলেছিলেন। তখন হৃদয়ের কাছে স্বামী ইব্রাহিমের খোঁজ-খবরও নেন।
এর আধা ঘণ্টা পর ইব্রাহিম স্ত্রী জিয়াসমিনকে মোবাইল করে হৃদয়ের মারা যাওয়ার কথা জানান। তখন জিয়াসমিন আবার হৃদয়ের মোবাইলে ফোন দেন। তখন একজন ফোন ধরে বলেন, মোবাইলটি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছেন।
জিয়াসমিন আক্তার বলছিলেন, ভাইয়ের আশা ছিল লেখাপড়া করে চাকরি করবে। বাবা-মায়ের মুখে খাবার তুলে দিবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পুলিশ শেষ করে দিল। যারা ভাইকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। দেশ স্বাধীনে যেন শহীদের খাতায় ভাইয়ের নাম থাকে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ডোবা থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার এলেঙ্গা সুপার মার্কেটের পিছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ডোবা থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহটি জিহাদ মিয়া (১৫) নামে এক কিশোরের। নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত জিহাদ মিয়া এলেঙ্গা পৌরসভার চেঁচুয়া গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলো জিহাদ, রবিবার বেলা ১২ টার দিকে মার্কেটের একজন কর্মচারী পিছনে প্রস্রাব করার জন্য গেলে জিহাদের লাশটি দেখতে পান। পরে মার্কেটের অন্যান্য লোকজনকে সে বিষয়টি জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
কালিহাতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পরিত্যক্ত একটি ডোবা থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ গোপালগঞ্জে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম জিলানীর গাড়ি বহরে হামলা ও কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারকে হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক ও সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফী ইথেনের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
প্রতিবাদ মিছিলে বক্তব্য রাখেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন জুয়েল, রুবেল মিয়া, জাহিদুর রহমান জাহিদ, রাশেদুল ইসলাম রিমন, সুমন খান, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের জুয়েল, তানভীর হাসান খান রুবেল, মাসুদ রানা, তুষার, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের মামুন খান, সজীব প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন- গোপালগঞ্জে নিজ বাড়িতে বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের হামলায় জিলানী ভাইসহ প্রায় ৬০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারকে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৃথক স্থান থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘাটাইল উপজেলার কাইতকাই এলাকায় একটি বাড়ির পাশের ধানখেত থেকে কিশোর শামীম (১৪) ও কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শামীম উপজেলার ভানিকাত্রা গ্রামের ভ্যানচালক করিমের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘাটাইল উপজেলার কাইতকাই এলাকায় ধানখেতের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। শামীম ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট-সংলগ্ন ঝড়কা বাজারের একটি মুরগির দোকানে কাজ করত। মাঝে মধ্যে মানুষের বাড়ির গাছগুলোর ফলমূল চুরি করত সে। যে বাড়ির পাশে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে সেই বাড়িতে কেউ ছিল না। তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে একই সময়ে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তার মৃত্যু ট্রেনে কাটা পড়ে নাকি অন্যকিছু হয়েছে সেটা জানা যায়নি।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে কেউ হত্যার পর সেখানে ফেলে গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ফারুক জানান, রেললাইনের পাশে পড়েছিল ওই বৃদ্ধের মরদেহ। যেহেতু মরদেহটি রেললাইনের পাশে পড়েছিল সেহেতু বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করেন।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও )বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধন শেষে যাওয়ার পথে ছাত্রীদের ইভটিজিং ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫-৬ জন শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হয়। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ট্রাক শ্রমিকরা।
হামলায় গুরত্বর আহত শিক্ষার্থী আসমাউল হাসান সহ কয়কজনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা ভূঁইয়াপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
পরে বিকেলে শিক্ষার্থীদের উপর শ্রমিদের হামলার ঘটনায় দুই শ্রমিককে এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিমা বিনতে আখতার।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ, থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি )আহসান উল্লাহ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদের রবিবার হঠাৎ বদলির আদেশ হয়। ইউএনও’র এই বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। পরে শিক্ষার্থীরা ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এরপর তারা সড়ক থেকে সরে গিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচী শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের উপর হামলা করে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকরা দুই জন ছাত্রীকে ইভটিজিং ও লাঞ্চিত এবং ছাত্রদের মারধর করে। এতে হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাদশা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয় তাকে। এর আগে শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মির্জাপুর থানার পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বাদশা মিয়া ওই ইউনিয়নের ডোকলাহাটী গ্রামের হাকিম মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি।
পুলিশ জানায়, গত ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের সোহাগপাড়া এলাকায় গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় কলেজ ছাত্র ইমন (১৮)। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান তিনি। পরে নিহতের ভাই সুমন গত ২২ আগস্ট ১৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১০০ নম্বর আসামি বাদশা মিয়া।
নিহত ইমন গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন মণ্ডল বাড়ি এলাকার জুলহাস মিয়ার ছেলে। তিনি অলোয়া মনিরুজ্জামান খান বিএম কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে হেমনগর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়েছিল।
এ মামলায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ছাড়াও সাবেক সাত সংসদ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মির্জাপুরের পাঁচজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরও ১৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চাচা ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা হামলাকারী তালেব (৩৫) নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় তাজমুল (৪২) নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তাকে পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের কাতার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছাত্তার (৫০) ও আসাদুল (২৮)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্তারের সঙ্গে একই গ্রামের তালেব মিয়ার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তালেবের সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছাত্তারকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে ভাতিজা আসাদুল এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে তালেব। গুরুতর আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ঘাতক তালেবকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসীম উদ্দিন বলেন, নিহত চাচা-ভাতিজার মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তালেবের লাশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।