/ হোম / আইন-আদালত
টাঙ্গাইলে ‘মা’ ইলিশ ধরার অপরাধে ৩ জেলের দণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ‘মা’ ইলিশ ধরার অপরাধে ৩ জেলের দণ্ড

একতার কণ্ঠঃ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে টাঙ্গাইলের যমুনা নদী থেকে ‘মা’ ইলিশ ধরার অপরাধে মো. আ. খালেক নামে এক জেলেকে ৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া আরও দুই জেলেকে ২০০ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে  ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।এসময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলীসহ নৌ পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে সরকার। সেই সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যমুনা নদী থেকে ইলিশ ধরার অপরাধে সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের চক গোপাল গ্রামের আজিম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে মো. আ. খালেককে ৫ দিনের কারাদণ্ড  এবং আরো দুই যুবককে ২০০ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান,  এছাড়াও প্রায় ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২১ ০১:২৯:এএম ৫ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটুক্তি করায় পৌর কাউন্সিলর স্বপন কারাগারে - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটুক্তি করায় পৌর কাউন্সিলর স্বপন কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৭ অক্টোবর)  টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাউদ হাসানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন হাফিজুর রহমান।  বিচারক সেই আবেদন নামঞ্জুর করে হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান। গত ৫ জুন হাফিজুর রহমান শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় একটি জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে ওই জমির মালিকের জামাতার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি তাকে বলেন ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও মানি না।’ এ সময় তিনি অশালীন মন্তব্যও করেন। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ বাদি হয়ে কাউন্সিলর স্বপনের বিরুদ্ধে ৯ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এছাড়াও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় শহরের আকুর টাকুর পাড়ার প্রয়াত আশরাফ চৌধুরীর জামাতা মফিজুর রহমান টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মামলা হওয়ার পর থেকে হাফিজুর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালতে গিয়ে আট সপ্তাহের জামিন লাভ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরে তার জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেন।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শন তানভীর আহমেদ জানান, কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের পর হাফিজুর রহমানকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র পদ থেকেও অব্যহতি দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২১ ০১:৩০:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হত্যার পর সেতুর রেলিংয়ে ঝুলাল ভ্যানচালকের লাশ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হত্যার পর সেতুর রেলিংয়ে ঝুলাল ভ্যানচালকের লাশ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় চানমিয়া চানু (৬০) নামে এক ভ্যানচালক খুন হয়েছেন। তাকে হত্যা করে সেতুর রেলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে জানান স্থানীয়রা। বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পলাইআটা-ধলপুর সেতুতে ঝুলন্ত অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।কুড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাম্মদ আলী  ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত চান মিয়া কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ধলপুর গ্রামের পলাইআটার মৃত জুব্বার মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।

কুড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাম্মদ আলী জানান, সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গামছায় পা বাঁধা অবস্থায় নেটের প্লাস্টিক রশিতে ঝুলে থাকা চানুর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

মধুপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) তারিক কামাল জানান, দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অক্টোবর ২০২১ ১২:৩০:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হামলার শিকার সেই ম‌্যা‌জিস্ট্রেটের মামলা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হামলার শিকার সেই ম‌্যা‌জিস্ট্রেটের মামলা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হ‌য়ে‌ছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টার পর হামলার শিকার উপ‌জেলা সহকা‌রী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) ও নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল রনী বাদী হ‌য়ে উপজেলা বাস মিনিবাস, কোচ শ্রমিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পাপ্পু খানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জ‌নের না‌মে ভুঞ‌াপুর থানায় মামলা দা‌য়ের ক‌রেন।

মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও হামলায় আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল থেকেই ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা‌কে কেন্দ্র ক‌রে থমথমে অবস্থা বিরাজ কর‌ছে। থানায় মামলা দা‌য়েরের পর প‌রিবহন শ্রমিকদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ কর‌ছে। এতে অন‌্যান‌্য দি‌নের মত ভুঞাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে তেমন প‌রিবহন ছে‌ড়ে যায়‌নি।

ভূঞাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত প‌রিচালনার সময় পরিবহন শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট বাদী হ‌য়ে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের নামে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অক্টোবর ২০২১ ০৯:২৬:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমান আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলাঃ ক্ষমা চেয়ে মুক্তি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমান আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলাঃ ক্ষমা চেয়ে মুক্তি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পরিবহন শ্রমিকদের হামলায় আহত হয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রনীর নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে ৭ দিনের কারাদণ্ড অনাদায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের যুগিহাটী গ্রামের মৃত মজিদ মণ্ডলের ছেলে হারুনুর রশিদ (৪০) ও উপজেলা কাগমারীপাড়ার ইকেন আলীর ছেলে মানিক।

জানা যায়, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের গেটের সামনে এলোপাতাড়িভাবে পার্কিং করে দখল করার বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উঠানো হয়। উপস্থিত অনেকেই পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গেলে শ্রমিকরা ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা করে। এতে ম্যাজিস্ট্রেটের নাক ফেটে রক্ত বের হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এর আগে ওই ম্যাজিস্ট্রেট দুই পরিবহন শ্রমিককে জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তার উপর হামলা চালায়।

এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক পরিবহন নেতাদের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়। পরে শ্রমিক নেতারা ইউএনও ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ২ জন শ্রমিককে জেল-জরিমানা করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়ে পুলিশ ভ্যানে বসে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা চালায়। পরে ইউএনও কক্ষে শ্রমিক নেতারাসহ সবাই বসে বিষয়টি সমাধান করে। এতে পরিবহন শ্রমিকরা ক্ষমা চাওয়ায় দুই শ্রমিককে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হামলার শিকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অক্টোবর ২০২১ ০২:২২:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার ‘অপরাধে’ ৩০ বেত্রাঘাত! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার ‘অপরাধে’ ৩০ বেত্রাঘাত!

একতার কণ্ঠঃদুপুরে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশে বের হয় সাবির মাহমুদ। পথে ভ্যানগাড়ির সঙ্গে বেঁধে তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। ওই ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরেই সাবির ৩টার দিকে মাদ্রাসায় পোঁছায়। এই দেখে হাসাহাসি করে সহপাঠিরা। সেখানে আসেন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ। তিনি এসে ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে আসার অপরাধে সাবিরকে অমানবিক বেত্রাঘাত করেন। এ সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের কোনো শাস্তি দেননি শিক্ষক আব্দুল মাজেদ।

সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় ওই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ পলাতক আছেন ঘটনার পর থেকেই। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা সদরের জমশেদ আলীর ছেলে।

আহত শিক্ষার্থী সাবির মাহমুদকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সলিমনগর ভড়পাড়া গ্রামের শামীম আল মামুন পীর সাহেবের ছেলে।

সাবির মাহমুদের পরিবার জানায়, সাবিরের শরীরে ৩০টি বেত্রাগাতের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। সন্ধ্যায় সাবির বাড়িতে গেলে পাঞ্জাবি খোলার পর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। পরে সাবিরের অভিভাকরা মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। একই সঙ্গে ইউএনও’র নির্দেশে সাবিরের বাবা মির্জাপুর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।

এদিকে, মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকদের ডেকে আনেন। সেখানে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদকে মাদ্রাসার থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিনের অফিসে বসা হয়েছিল। তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অক্টোবর ২০২১ ০১:২০:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ইয়াবা সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার  করেছে র‌্যাব - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ইয়াবা সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের কান্দিলা বাজারের তিন তারা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেণ্টের সামনে মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে ২৩০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. মঞ্জু মিয়া(৩১) ও সাবালিয়া এলাকার মো. ফজল মিয়ার ছেলে ছদরুলর আলম সবুজ ওরফে নাদিম(২৩)।

র‌্যাব-১২ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে একদল র‌্যাব কান্দিলা বাজারে অভিযান চালায়।

অভিযানে ২৩০ পিস ইয়াবা, দুইটি মোবাইল সেট ও সিমকার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ১০০ টাকা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অক্টোবর ২০২১ ০১:২৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার(১১ অক্টোবর) দুপুরে দাইন্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ব্যানারে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই  মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান বাচ্চু ও এম এ মতিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদি নয়ন, দাইন্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রুবেল ও  সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু গত ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. অক্টোবর ২০২১ ০১:১৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বাল্যবিয়ে দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে প্রতারণা, ২ জনের কারাদন্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাল্যবিয়ে দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে প্রতারণা, ২ জনের কারাদন্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ের ‍বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হয়। এ বিয়ে আটকাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে কনে সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়ের বাবা প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি মেয়েকে মেজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে তারই এক তালাকপ্রাপ্ত আত্মীয়কে কনে সাজিয়ে হাজির করেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের বাবা ও তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩নং  ওর্য়াডের কাগমারা এলাকার গাড়ি চালক আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে ও স্থানীয়ে একটি বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়ার বিয়ে ঠিক হয়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই মেয়ের বাড়িতে যাওয়া হয়। এ সময় মেয়ের বাবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তারই এক তালাকপ্রাপ্ত আত্মীয় এনি আক্তারকে মেয়ে সাজিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করেন। এনি আক্তারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার বয়স দেখা যায় ২১ বছর। এনি দাবী করেন শুক্রবার তারই বিয়ে হচ্ছে।

পরবর্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট ওই বাড়ি থেকে চলে যান। কিন্তু পরে খোঁজ খবর নিয়ে রানুয়ারা খাতুন জানতে পারেন সাত্তার তাঁর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়ার বিয়ে দিচ্ছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুনরায় সাত্তারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় মেয়ের বাবাকে ৭দিন এবং প্রতারণা করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা এনি আক্তারকে ৫দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে কনের বাড়িতে হাজির হয়েছিলাম। প্রথমে তারা একজন তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে হাজির করে বলেন তার বিয়ে হচ্ছে। পরে তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তিতে খবর পাই তারা প্রতারণা করেছে। পরে আবারও বিয়ে বাড়িতে হাজির হই। তবে খবর পেয়ে বর পক্ষ বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়নি। মেয়ের বাবা মেয়েকে বাল্য বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। পরে মেয়ের বাবা ও তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অক্টোবর ২০২১ ০২:১৭:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলার দুই আসামী গ্রেফতার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলার দুই আসামী গ্রেফতার

একতার কন্ঠঃ মোবাইল ফোনে পরিচয়। মাঝে মধ্যে চলতো খুনসুটি। এভাবেই একে অন্যের সাথে তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। তরুণীর বয়স কেবল ১৫ হলেও প্রেমিকের আছে বউ-বাচ্চা। সব জেনেও চলছিল অদম্য প্রেমালাপন। প্রথম সাক্ষাতেই প্রেমিকের বাহুডোরে ধর্ষিতা হয় এই তরুণী। শুধু প্রেমিক নয় প্রেমিকের মামাও অংশগ্রহণ করেন এই ধর্ষণযজ্ঞে । পরে আরো একজন অংশ নিতে চাইলে ধর্ষিতার কান্না আর ক্ষমা প্রার্থনায় প্রাণে রক্ষা পায় ওই তরুণী।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের দোলালিয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।  বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় লক্ষিন্দর ইউনিয়নের মুরাইদ গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে মোস্তফা(২৫) এবং একই এলাকার মফেজ উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জল (৩৫) কে আটক করে পুলিশ।

সাগরদিঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান (ইন্সপেক্টর) এবং ধর্ষিতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই তরুণীর সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় মোস্তফার। মাঝে মাঝে কথা হত তার সাথে। গত দুই দিন আগে ওই তরুনী পরিবারের সাথে রাগ করে চাকরির খোঁজে চলে যায় গাজীপুর। কোথাও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পরে ওই মেয়ে। পরে মোস্তফাকে বিষয়টি জানালে সে ওই তরুনীকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ডেকে নেন। মোস্তফা ওই মেয়েকে পরের দিন একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে বলে এক রাত অপেক্ষা করতে বলেন তরুনীকে।

পরে মোস্তফা তার প্রতিবেশি এক মামা মোফাজ্জল হোসেনের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায় ওই মেয়েকে। পরে মামা-ভাগিনা দুইজনে মিলে পালাক্রমে চালায় অত্যাচার। এসময় ধর্ষিতা চিৎকার করলে মোস্তফা তার মামাকে টেলিভিশনের ভলিয়ম বাড়িয়ে দিতে বলে। ধর্ষিতাকে নানা ভয় দেখিয়ে চলতে থাকে পাশবিকতা।

এসময় আরো একজন উপস্থিত হয় এতে অংশগ্রহন করতে। কিন্তু মেয়েটি কান্না করে ক্ষমা চাওয়ায় বেঁচে যায় তার হাত থেকে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদেরকে আটক করে।পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

এ প্রসঙ্গে  ঘাটাইল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার পিপিএম বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা  হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অক্টোবর ২০২১ ০১:১৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আইনী জটিলতায় মা ও ৩ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার ৭ বছরেও শুরু হয়নি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আইনী জটিলতায় মা ও ৩ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার ৭ বছরেও শুরু হয়নি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাসহ তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিচার আইনী জটিলতায় সাত বছরেও শুরু হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো মজিবর রহমান, তাঁর মা জবা বেগম ও শ্যালক মোফাজ্জল হোসেন।

আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে একজন আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। উচ্চ আদালত এই পিটিশনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত করেছেন। ফলে থেমে আছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার।

মামলার এজাহার জানাযায়, মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণ সোহাগপাড়া গ্রামের প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম তাঁর তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। বড় মেয়ে মনিরা আক্তার মির্জাপুরের গোড়াই উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মনিরা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এতে তার পরিবারের সদস্যরা রাজি ছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে হাসনা বেগমের বসতঘরের দরজার নিচ এবং জানালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে দেন। পরে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে দগ্ধ হয়ে ঘরেই মারা যান হাসনা বেগম (৩৮), তাঁর তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), বাক্‌প্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১১) ও নার্সারির শিক্ষার্থী মলি আক্তার (৭)।

পরদিন হাসনা বেগমের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার কিছুদিন পর জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদ নামের দুই আসামি গ্রেপ্তার হন। দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলাটি প্রথমে মির্জাপুর থানা এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন নয় আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, নুর মোহাম্মদ, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, আবুল বাশার, আবদুল মান্নান, মীর আসাদুল, ওয়াসিম মিয়া ও হারুন অর রশিদ।

২০১৬ সালের ২ মে মামলাটি বিচারের জন্য টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে। পরে ওই বছর ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, অভিযোগ গঠনের পর মামলার আসামি হারুন অর রশিদ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য হাইকোর্টে একটি রিভিশন মামলা করেন। উচ্চ আদালত মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশ দেন। এ জন্য মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ হচ্ছে না। তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের পর ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদীসহ তিন সাক্ষী হাজির করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম এখনো টাঙ্গাইলের কারাগারে। অন্য আসামিরা জামিনে।

মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন হাসনা বেগমের পরিবারসহ মানবাধিকারকর্মীরা।

হাসনা বেগমের স্বামী মজিবর রহমান আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘কত মাইনসের বিচার অইলো। ছয় মাসেও বিচার শ্যাষ অইলো শুনলাম। কিন্তু আমার বউ-পোলাহান মরার সাত বছর পর বিচারই শুরু অইলো না। এইডা কোন দ্যাশ।’

মজিবরের মা জবা বেগম জানান, ছেলের বউ আর নাতনিদের হত্যাকারীর বিচারের আশায় চেয়ে থেকে তাঁর স্বামী চাঁন মিয়া দেড় বছর আগে মারা গেছেন। ক্ষুব্ধ জবা প্রশ্ন করেন, ‘বিচার কি সব পানি হয়ে গেল?’

মামলার বাদী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বোন-ভাগনি যে কত আপন তা কেউ বুঝব না। আর আমি হেই আপন জিনিস হারাইছি। ওরা তো আর ফিরা আইবো না। ওগো মারার বিচারের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতাছি। কিন্তু কেউ মুখ ফিরা তাকায় না।’

টাঙ্গাইলের মানবাধিকারকর্মী মাহমুদা শেলী জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব জটিলতা নিরসন করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এভাবে দিনের পর দিন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকলে বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হবে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অক্টোবর ২০২১ ০২:৩৪:এএম ৫ বছর আগে
দুদকের অনুসন্ধান থেকে আ’লীগ নেতা শিবলীকে বাদ দেওয়া কেন অবৈধ নয়ঃ হাই কোর্টের রুল - Ekotar Kantho

দুদকের অনুসন্ধান থেকে আ’লীগ নেতা শিবলীকে বাদ দেওয়া কেন অবৈধ নয়ঃ হাই কোর্টের রুল

একতার কণ্ঠঃ টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন এম শিবলী সাদিকের নাম দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, শিবলী সাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি জাহিদ সারওয়ার কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারির আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন।

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিগত ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি ডটকমসহ অন্যান্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান শেষে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রমাণিত না হওয়ায় তার নাম বাদ দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) শেখ ফাইয়াজ আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত করা হয়েছে। এরপর এ বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (৩ অক্টোবর) দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে শিবলী সাদিকের নাম বাদ দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন দেলদুয়ারের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।

আদালতের শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুদকের মামলায় পাঁচ বছর সাজা হয়। এরপর হাইকোর্টে সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের এ নেতার নাম দুদকের অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি এই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন তিনি।

রিটকারী আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বরাদ্দকৃত টিআর-এর ২৭ লাখ টাকা দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিক ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। দুস্থ, অসহায় পরিবার ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টিআর বরাদ্দ দেওয়ার বিধান থাকলেও দেলদুয়ারে চলছে হরিলুট। বিষয়টি নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধান করে দুদক তার নামসহ অভিযোগটিও বাতিল করে দেয়। এ কারণে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আমি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হই।  সোমবার আদালত আমার আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২১ ০৩:২৩:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।