একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(২৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ খেকে ডাকাতির সরঞ্জামসহ তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বুধবার(২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ রানা (৪০) উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার বানিয়াবাড়ি এলাকার আবু তাহেরের ছেলে ও এলেঙ্গা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আজিজের আপন ভাগ্নে।
কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক রাজু আহমেদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও মোটরসাকেল ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির ১১২ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নগদা শিমলা বাজারের চাল ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেনের বাড়ি ও আয়নাল হকের দোকান থেকে বস্তাগুলো উদ্ধার করেন।
জানা যায়, চাল ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩০ কেজি ওজনের ৭০ বস্তা ও ৫০ কেজি ওজনের ১৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। পরে একই বাজারের আরেক চাল ব্যবসায়ী আয়নাল হোসেনের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি ওজনের আরও ২৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিপুল পরিমাণ চাল জব্দ করেছি। নিয়মিত মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে পুলিশ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন আদেশ পুনঃ বিবেচনা ও লাইসেন্সসহ ৮ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলে সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে অটোরিক্সা চালকরা। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা অটো রিক্সা, মেট্রো রিক্সা, ট্যাক্সি ও অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, রিক্সা, ব্যাটারি রিক্সা ও ইজি বাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন, জেলা অটো রিক্সা, ট্যাক্সি ও অটো ট্যাম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আ. লতিফ মিয়া, সদস্য সচিব লুৎফুল কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন উল্লাস প্রমুখ।
সমাবেশ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সহশ্রাধিক রিক্সা শ্রমিক অংশ নেয়। পরে পৌর উদ্যান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, অটো রিক্সা, মেট্রো রিক্সা বন্ধে হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন আদেশ গরীবের পেটে লাথি মারা ব্যতিত কিছু নয়। এ আদেশ বাস্তবায়নে বৃদ্ধি পাবে বেকার সমস্যা। এতে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এ পেশায় লিপ্ত শ্রমিকরা। এছাড়াও এ ধরণের পরিবহনে চলাচলরত সাধারণ মানুষের বৃদ্ধি পাবে ব্যায়। সমস্যা লাঘবে হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন আদেশ পুনঃ বিবেচনা ও লাইসেন্সসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই জনকে আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলার চর পাথাইলকান্দি এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান খন্দকারের নেতৃত্বে জরিমানা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান খন্দকার জানান, সকাল থেকে ভূঞাপুর এলাকায় তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছিলেন। চর পাথাইলকান্দি এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুই জনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। নির্বাচন লঙ্ঘন আইন অনুযায়ী তাদের জরিমানা করা হয়। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাকেই আইনের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচ এম কামরুল হাসান জানান, ‘সকাল ৮টা থেকে জেলার তিনটি উপজেলার ২১ টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে ৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৮জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৮জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৫ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৮জন করে আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় র্যাব এবং ডিবির টিমও কাজ করছেন। আশা করছি বিগত সময়ের মতো এবারও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ’র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
রোববার(২৬ ডিসেম্বর) বিকালে আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সকল নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ’র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
একজনের খেলাপি ঋণের জামিনদার(গ্যারাণ্টার) থাকার কারণে গত ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল-৭ আসনের উপ নির্বাচনের রিটার্টিং অফিসার ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাহিদুল নবী চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ’র মনোনয়ন বাতিল করেন।
মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে রোববার শুনানী শেষে শুভ’র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এতে নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ’র আর কোন বাঁধা রইল না।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর খান আহমেদ শুভ প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি নিজে কোন ঋণ গ্রহণ করেননি ও ঋণ খেলাপি ছিলেন না। এক ব্যক্তির ঋণের গ্যারাণ্টার থাকার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। আপিলে তিনি ন্যায় বিচার পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। পরে এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
আগামি ১৬ জানুয়ারি এ আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ছাড়াও জাতীয় পার্টিসহ আরও চারজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন টাঙ্গাইলের দুটি ইউনিয়নের দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী।
তারা হচ্ছেন ভূয়াপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়নের আমিনুল ইসলাম আমিন (বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ) এবং ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম খান (বিএনপি)।
আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, সকালের দিকে সুষ্ঠু ভোট হলেও পরাজিত হওয়ার আশংকায় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তায় বহিরাগতদের নিয়ে জোরপূর্বক ভোট দেওয়া, কেন্দ্র দখল, প্রভাববিস্তার করে নৌকা মার্কায় ভোট নেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার নাজমা সুলতানা বলেন, এ ব্যাপারে তারা কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান ভোটের আগের রাত থেকেই নৌকা মার্কা প্রার্থীর লোকজনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার এজেন্টদের মারধর, ভোটকেন্দ্র হতে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখল এবং জাল ভোটের অভিযোগ এনে দুপুর ১২টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এগারো বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব-১২) ।শুক্রবার(২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ির একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ অনিকের (১৯) বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ পোষ্টকামুরী গ্রামে এবং পেশায় একজন শ্রমিক।
জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে অনিক। পরে শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় অনিক।
ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর মা মির্জাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় র্যাব ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও দেন তিনি।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানান, ‘বার বার স্থান পরিবর্তন করায় অনিককে ধরতে পারছিল না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে অনিক।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৩০ ভাগ সিলেবাস বহালের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ওই দাবিতে ঘন্টাব্যাপি মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধের ফলে মহাসড়কের উত্তরবঙ্গমুখি এলেঙ্গা আর ঢাকামুখি করটিয়া বাইপাস পর্যন্ত জানযটের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তা অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেয় টাঙ্গাইলের সৃষ্টি স্কুল এন্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা আশেকপুর মহাসড়কে বসে অবস্থান নেয় ও মিছিল করে।
সৃষ্টি স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র সোহান বলেন, ২০২১ সালের এসএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ ভাগ সিলেবাস বহাল ছিল। ২২ সালের শিক্ষার্থীদের ৩০ ভাগ সিলেবাসের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে করোনা মহামারির কারণে আমরা পর্যাপ্ত লেখাপাড়া সুযোগ বঞ্চিত হয়েছি। এ কারণে আমরা ৩০ ভাগ সিলেবাস বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। ইতোপূর্বে এ দাবিতে আমরা জেলা প্রশাসক মহাদয়ের স্মরণাপন্ন হই। তবে তেমন কোন আশ্বাস না পাওয়া আমরা বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা ৩০ ভাগ সিলেবাস বহাল রাখার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনার আশ^াস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার(২২ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার সিরাজ আল মাসুদ এক প্রেস বিফিং এর মাধ্যমে ওই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, উপজেলার আজগনা ইউনিয়নের ঘাগড়া এলাকার একটি কলাবাগানে গত ১৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত এক মহিলার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল জেলা এই হত্যা মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারী নিহতের স্বামী মো: ওয়াসীমকে সনাক্ত করে এবং তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মো: ওয়াসিম দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার ডাঙ্গারপাড়া এলাকার ইছাহক এর ছেলে।
এসময় ওয়াসিম জানায়, ২০১৯ সালে মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যানের পাশে একটি ইট ভাটায় কাজ করার সময় নাজমা বেগমের সাথে পরিচয় হয়। সে ভোলা জেলার লালমহন থানার দেবীর চর বেরীবাঁধ হাওলাদার বাড়ী এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে। নাজমা ওই ইট ভাটায় বাবুর্চির কাজ করতো।
ইট ভাটায় কাজ করার সময় নাজমার সাথে ওয়াসিমের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে ইট ভাটার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তখন ওয়াসিম নিজ এলাকা দিনাজপুর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একথা শুনে নাজমা ওয়াসিমকে ঢাকা উদ্যানে দেখা করার কথা বলে। পরে নাজমার ভাড়া করা বসায় নিয়ে যায়। সেখানে নাজমা ও তার লোকজন জোরপূর্বক ওয়াসিমের সাথে নাজমার বিয়ে পড়ায় এবং তিন লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর মির্জাপুর ইট ভাটায় নাজমা বেগম ওয়াসিমের সাথে দেখা করতে আসে। পরে সেখানে দুই জনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকটির এক পর্যায়ে নাজমা তাকে দেনমোহরের তিন লক্ষ টাকা ও ডিভোর্স চায় তা না হলে মামলা করার ভয় দেখায়।
এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে আরো ঝগড়া হয়। পরে ইট ভাটার পাশে কলাবাগানে ওয়াসিম নাজমার গলায় থাকা উড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার জন্য কলাবাগানের ভিতর মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃবাংলা খবরের কাগজে তার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তারা চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে শান্ত, ভদ্র, এবং বিচক্ষণ তরুণ হিসেবেই জানতেন। তার চেহারা ছিল অমায়িক, মুখ ভরা ছিল ছোট করে ছাটা পরিপাটি দাড়ি। অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম বলতে ছিল—মুসলিম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের এক নেতার সঙ্গে তার প্রায়শ ফোনালাপ।
কিন্তু গত কিছুদিনের অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই ফোনালাপ নিছক সাধারণ কিছু ছিল না। এর সূত্র ধরেই জানা গেল এই মঈনুদ্দীন হলেন কমান্ডোর মতো গুপ্ত ঘাতক একটি সংগঠনের প্রধান যারা ঢাকায় একটি ইটভাটায় শত শত বিশিষ্ট বাঙালি অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজীবী ও সাংবাদিককে হত্যা করেছে।
ডিসেম্বর ১৭ তারিখে শেষ হওয়া যুদ্ধের আগের তিন দিন ধরে খাকি প্যান্ট আর কালো সোয়েটারের উর্দি পরা এই আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেছিল। সেই সময় যারা আটক হয়েছিলেন তারা বলেছেন, এদের লক্ষ্য ছিল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করা, যারা পাকিস্তান থেকে একটি স্বাধীন ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কাজ করেছেন।
অনেক বাঙালি মনে করেন তখনই যদি যুদ্ধ শেষ না হতো তাহলে আলবদর তাদের পরিকল্পনায় সফল হতো। ওই ইটভাটায় যে ১৫০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে তাদের অধিকাংশেরই ছিল নখ উপড়ানো এবং আঙুল কাটা। ইট ভাটার কাছের মাঠেই ২০টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে শত শত মানুষকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন
এটা এখন স্পষ্ট যে আলবদর হলো বাঙালিদের দ্বারা তৈরি বাহিনী, পশ্চিম পাকিস্তানী কিংবা ভারত থেকে আসা বিহারীদের, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের দ্বারা নয়।
‘পৃথিবীর এমন কিছু নেই যা আমাদের সঙ্গে ঘটেনি,’ বলছিলেন সম্পাদক এহতেশাম চৌধুরী, যার পত্রিকায় কাজ করতেন মঈনুদ্দীন।
আলবদর বাহিনী এহতেশাম চৌধুরীর ছোট ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করে। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এহতেশাম। আলবদর সদস্যরা সেই রাতে রাত বাড়িতে হানা দিয়েছিল।
যা ঘটেছে আমি যখন এটা ভাবি, আমার পা অসাড় হয়ে যায়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ভালো হতো, যদি তারা আমাদের নিচে চাপা পড়ে থাকত।’
এই আলবদর বাহিনী যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সজ্জিত ছিল এ ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রমাণ উঠে আসছে এখন।
পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডেস্কের উপর পাওয়া কিছু গোপনীয় কাগজে এই আলবদর বাহিনীর কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ক্যাপ্টেন তাহির, আলবদরের জন্য গাড়ি’, ‘আলবদরের ব্যবহার’—তাড়াহুড়ো করে লেখা একটি কাগজের নোটে পাওয়া গেছে।
ক্যাপ্টেন তাহিরকে বলা হয়ে থাকে, রাজাকার ও বিহারী মিলিশিয়ার একজন কিংবদন্তীতুল্য পাকিস্তানী কমান্ডার যাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করত।
অন্য আরেকটি পাতায় লেখা রয়েছে ‘নিজাম উদ্দিন, মোটিভেটেড নিউজ’। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন বাঙালি সাংবাদিক যিনি পাকিস্তানবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে সুবিদিত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তার নামের পাশে পেন্সিল দিয়ে অজ্ঞাত বিশেষ এক ধরনের চিহ্ন আঁকা ছিল।
তবে হত্যাকারীরা কিছু ক্লু রেখে গেছে। রাতে কারফিউ চলাকালীন তারা তাদের টার্গেটকে তুলে নিয়ে যায়। তারা কখনোই নিজেদের পরিচয় দিত না। কড়া পাহারার মধ্যে দূরে নিয়ে গিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়।
যুদ্ধ শেষ হবার আগের দিন ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সেই ইটভাটার পাশে যে কৃষকদের বসবাস, তারা কালো সোয়েটার, খাকি প্যান্ট পরা লোকদের দেখেছেন অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে ধরে নিয়ে যেতে। কিন্তু চোখ বাঁধা লোকগুলো কারা ছিলেন তা দেখার জন্য খুব কাছে যেতে পারেননি তারা।
হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন লোক সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন এই ঘটনার কথা বলার জন্য। পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মোহাম্মদ রউফ ১৩ তারিখ ভোরবেলা দরজায় জোরে টোকার শব্দ শুনে জেগে উঠেছিলেন। উত্তর দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। দরজায় দাঁড়ানো ১২ জন সশস্ত্র লোককে তিনি বলেছিলেন তার স্বামী বাসায় নেই, কিন্তু এরপরও তারা জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে।
‘তারা আমাকে কিছুই বলেনি। যতক্ষণ না তারা তাকে (স্বামীকে) পেয়েছে ততক্ষণ ঘর তল্লাশি করেছে’ বলেন মিসেস রউফ।
‘এরপর তারা তাকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায়।’
ভাগ্যক্রমে, রউফ যে পেস্ট্রিশপে কেনাকাটা করতেন সেই দোকানেরই এক কর্মচারীকে তার সঙ্গে একই ঘরে বন্দী রাখা হয়। শ্রী চন্দপাল নামের পেস্ট্রিশপের সেই কর্মচারী পরে আলবদরের দলে থাকা এক বন্ধুর মধ্যস্থতায় মুক্তি পায়।
‘ওখানে ৪২ জন ছিলাম আমরা সেই রুমে’ চন্দপাল বলেন, ‘আমাদের সবার হাত ছিল পিছমোড়া করে বাঁধা এবং চোখ কাপড়ে ঢাকা। একটা পর্যায়ে আমি চোখের বাঁধন আলগা করতে পারি। সেই রুমের অধিকাংশ লোক ছিলেন পেশায় অধ্যাপক এবং ডাক্তার। সেখানকার প্রহরীরা আমাদের কিছু খেতে দেয়নি। এমনকি আমরা যখন পানি চাইছিলাম তারা হেসে বলেছিল যাও ইন্দিরা গান্ধীকে বলো।’
চন্দপাল বলছিলেন, ওদের সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের আলোচনা শুনে আলবদরের বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‘তারা বলছিল কেন বাঙালিদের হত্যা করা দরকার। আমরা অন্য ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনছিলাম।’
‘সেই রাতে প্রহরীরা প্রফেসর রউফসহ ১০ জনকে নিয়ে যায় যারা আর ফিরে আসেননি।’
ডিসেম্বর ১৫ তারিখ যখন চন্দপাল মুক্তি পান, তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ঢাকার শারীরিক শিক্ষা কলেজের একটি ডরমিটরিতে যা আমেরিকান সাহায্যে তৈরি করা আধুনিক ভবন ছিল।
কলেজের দারোয়ান মকবুল হোসাইনও সেই রাতগুলোর কথা মনে করেন। ‘সুন্দর কাপড় পরা এবং হাত বাঁধা অবস্থায় শত শত লোককে সেখানে নিয়ে আসা হতো। ওই ঘরগুলো থেকে আমরা সব সময় আর্তনাদ আর চিৎকার শুনতে পেতাম,’ বলেন তিনি।
আলবদর নামটি নেওয়া হয়েছে মদিনার কাছে যে জায়গায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে মহান যুদ্ধ করেছিলেন সেখান থেকে। তার (নবীর) অসংখ্য সাহসী সেনাকে এই নাম দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকার জেলে আটক আছেন এরকম একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপোর্টার মঈনুদ্দীন ছিলেন এই আলবদরের মূল হোতা। মঈনুদ্দীনের সঙ্গে তার ঘরেই থাকত এরকম একজনের একটি ডায়রি পাওয়া গেছে যেখানে আলবদর বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা এবং তারা কত টাকা চাঁদা দিয়েছিল তা উল্লেখ ছিল।
এই দুজন যে বাড়িটিতে থাকতেন তার সামনে ছিল ঢাকার জামায়াতে ইসলামীর সদর দপ্তর। মৌলবাদীদের এই দলটি গত বছর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। আলবদর বাহিনী হলো জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় এক শাখা সংগঠন যাদেরকে গত মার্চে পাক বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর খুব সতর্কতার সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে।
পূর্বদেশ পত্রিকার এক সহকর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি হবার পর মঈনুদ্দীনকে ১৩ ডিসেম্বর শেষবারের মতো ঢাকায় দেখা গিয়েছিল। তার সেই সহকর্মীকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলবদর সদস্যরা তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
সেই অফিসের আরেক কর্মী আতিকুর রহমান এখন মঈনুদ্দীনকে খুঁজতে শুরু করেছেন। রহমান বলেন, ‘আমরা তাকে খুঁজে বের করব, এর আগ পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’
[চৌধুরী মঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করতেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।]
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে, সাংবাদিক ফক্স বাটারফিল্ড প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন, অনুবাদ করেছেন এফ এম মিজানুর রহমান।
তথ্য সূত্রঃ দি ডেইলি স্টার অন লাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ডও দেয়া হয়।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন।দন্ডিত ব্যক্তি কালিহাতী উপজেলার উত্তর পৌলী গ্রামের মৃত আজমত আলীর ছেলে ফরমান আলী। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনকারী অতিরিক্ত পিপি সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, উত্তর পৌলী এলাকায় ডিস লাইনের তার চুরির ঘটনায় এলাকায় শালিস বৈঠকে ফরমান আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকা সংগ্রহের জন্য তার ছোট ভাই নুর ইসলামের বউ আছিয়া বেগমের কাছে যান এবং বিভিন্ন সময় টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না দেওয়ায় ২০০৬ সালের ১ আগস্ট সকালে দন্ডিত আসামী ফরমান আলী তার ছোট ভাইয়ের বউকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে উত্তর পৌলী গ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যা করে। পরে নিহতের শ্বশুরবাড়ীর লোকজন পালিয়ে যায়। নিহত আছিয়া বেগমের মামা মো. রজব আলী ঘটনার দিনই কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মো শামীম চৌধুরী দয়াল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরিবহন বাসে ছাত্রীকে ইভটিজিং ও অশোভন আচরন করায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আদালত পাড়ার মোঃ আব্দুল কাদের খানের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম (২৫) কে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদলত।
টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খাইরুল ইসলাম ১৮৬০ সনের ৫০৯ ধারায় ওই আদেশ দেন। এ ছাড়া জামিল হোসেন (১৯) নামে আর এক ১০ শ্রেনীর ছাত্রের কাছ থেকে একই ঘটনায় মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে টাঙ্গাইল শহরের বটতলায় এলাকায় ওই ইভটিজিং এর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি বাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বটতলা স্থানে পৌঁছালে ২ জন বখাটে প্রথম বাসে উঠে। একপর্যায়ে তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণে সন্দেহ হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নামিয়ে দিলে তারা দ্বিতীয় বাসে উঠে এবং কিছু দূর গিয়ে বাস থেকে নামার সময় গালাগালি করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে জামিল হোসেন (১৯) জানায়, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। সে ১০ম শ্রেনীতে পড়ে। এ সময় আরেকজন বখাটে পালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা জামিলকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।পরে পলাতক রাশেদুল ইসলাম (২১) কে হাজির করা হয়।
টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মো. খাইরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে রাশেদুল ইসলাম (২১) কে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জামিল হোসেন (১৯) কাছে থেকে মুলচেকা নিয়ে রাত ৮টায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে মাভাবিপ্রবি প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথেই শিক্ষার্থীদের দ্বারা আটককৃত বখাটেকে আমার অফিসে নিয়ে আসতে বলি। এ বিষয়ে পুলিশকে জানালে তারা এসে জিজ্জাসাবাদে সে পলাতক বখাটের পরিচয় জানায় এবং বলে পলাতক রাশেদুল ইসলামের (২১) পৃষ্ঠপোষকতায় সে ওই কাজ করেছে। এরপর রাশেদুল এবং উভয়ের অভিভাবককে অভিযুক্তের পরিচয়পত্রসহ হাজির করা হয়। পরবর্তীতে ইউএনও কে জানালে, ম্যাজিস্ট্রেট এসে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।