একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী ফারজানা আলম এ দণ্ডাদেশ দেন।
জয়নাল আবেদীন উপজেলার সাড়াশিয়া গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে।
জানা যায়, জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নানা সময় উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে।
প্রতিকার চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক রেবেকা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনি ওই শিক্ষককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, সোমবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের দুইটি বাজারে ডিমের আড়তে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল।
রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে শহরের পার্ক বাজার ও বটতলা বাজারে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে ডিম বেচাকেনার পাকা রশিদ দেখাতে না পারায় আমজাত ডিমের ঘরকে ২ হাজার টাকা ও আব্দুল ছোবহানের ডিমের আড়তকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বটতলা বাজারে ডিমের মূল্য তালিকা না থাকা ও বেচাকেনার পাকা রশিদ দেখাতে না পারায় বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে জেলা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করে।
তিনি আরও জানান, অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের পণ্য বেচাকেনার রশিদ সংরক্ষণ ও মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের পৌর এলাকার সাবালিয়ায় জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে চার চিকিৎসকসহ ১০জনকে জেলহাজাতে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসীন এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া চার চিকিৎসক হলেন- টাঙ্গাইল জেলা বিএমএ-এর সাধারণ সম্পাদক সিলেট মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল্লাহ কায়সার, তার স্ত্রী ডা. আসমা আক্তার, টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার আজিজুল হক, গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তাপস চন্দ্র সাহা।
এছাড়া অন্যরা হলেন- ডা. তাপস চন্দ্র সাহার স্ত্রী মুক্তা রানী প্রামাণিক, মো. ওয়ারেস, আতোয়ার রহমান, মামুনুর রহমান, আব্দুল্লা আল মিলন ও সুলতানা ইয়াসমিন।
আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ জানান, শহরের সাবালিয়া এলাকার সাজ্জাত হোসেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করেন, বিবাদিরা টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের সাবালিয়া এলাকায় তাদের ১০ শতাংশ জমি জাল পর্চা তৈরি করে ক্রয় বিক্রয় করেছেন।
তিনি আরও জানান, বুধবার মামলার তারিখে আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ আগস্ট) ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সজল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ইউপি সদস্য শহীদুল ও তার সহযোগী কাজলের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
ভুক্তভোগীর মা জানান, আমার মেয়ের চাকরির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য আমার মেয়ে ইউপি সদস্য শহিদুলের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে যায়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকায় শহিদুল আমার মেয়েকে মিথ্যা কথা বলে, তার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী জানান, শহিদুল মেম্বারের সঙ্গে আমি আমার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখি, ইউনিয়ন পরিষদ তালা বদ্ধ। পরে শহিদুল মেম্বার আমাকে বলে তার বন্ধু জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজ করে। এ সময় আমাকে নিয়ে সেই বাড়িতে যায়। এ সময় ঘরের ভেতর প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং আমাকে ধর্ষণ করে। পরে আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়। আমি একজন অসহায় মেয়ে। আমার পরিবারে মা ছাড়া আর কেউ নেই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শহিদুলের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘাটাইল অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সজল খান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের গজারি বনে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দ রবিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ আদেশ দেন।
জানা যায়, আসামিদের সবার বাড়ি উপজেলার কচুয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায়। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হচ্ছে- বুলবুল আহমেদ (২৪), লাবু মিয়া (২৬), মোহাম্মদ বাবুল (৩০), আসিফ হোসেন (২৩) ও শফিক আহমেদ (২৫)। এছাড়া, গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামী মোজাম্মেল হক (৩০) গত শুক্রবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সখীপুর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় চাঁদেরহাট নামক বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে আসামিরা এক দম্পতিকে আটক করে গজারি বনে নিয়ে যান। এ সময় তারা স্বামীকে প্রহার ও বেঁধে রেখে দলবদ্ধভাবে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ওই দিন রাত ১টার দিকে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই গৃহবধূ সখীপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই রাতেই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, চাঁদের হাটের এলাকার বাইরে কচুয়ার বনে সংগঠিত এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামী স্থানীয় কিছু বখাটে যুবক। এরা বেড়াতে আসা লোকজনকে, বিশেষ করে অপরিচিত যুগলকে টার্গেট করে আটক করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে। টাকা-পয়সা, মুঠোফোন ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম ঘটায়। ইতিপূর্বে যারা ধরা পড়েছেন, তারা সবাই সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় ছিঁচকে সন্ত্রাসী। তাদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত, নেশাগ্রস্ত সন্ত্রাসী চক্র বলে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে সখীপুরের বাসিন্দা মোস্তফা স্থানীয় একটি সমিতি থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী শাহজালালের কাছ থেকে অর্থ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।
সে অনুযায়ী দোকান থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে শাহজালালের পথরোধ করে হামলা চালান মোস্তফা ও তার সহযোগী আলামিন। শাহজালালকে রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়।
এ সময় শাহজালালের চাচা মজনু মিয়া সঙ্গে থাকায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
১৯ জুলাই ক্লুলেস ও বহুল আলোচিত টাঙ্গাইলের সখীপুরে নৃশংসভাবে ব্যবসায়ী শাহজালাল ও তার চাচা মজনু খুনের ঘটনায় মোস্তফা মিয়া (২০) ও আলামিনকে (২৭) গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত শাহজালালের বাবা বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৪ এর অভিযানে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও টাঙ্গাইলের সখীপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, ভিকটিম শাহজালাল টাঙ্গাইলের সখীপুরের হামিদপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি হামিদপুর বাজারের একজন জনপ্রিয় ও অতিপরিচিত ব্যবসায়ী। শাহজালালের চাচা ভিকটিম মজনু মিয়া এলাকায় কৃষি কাজ করতেন। মজনু মিয়া কৃষি কাজের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে শাহজালালকে ব্যবসায়িক কাজে দোকানে সহযোগিতা করতেন।
শাহজালাল ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষে প্রায় রাতের খাবার খেতে বাড়িতে যেতেন। তিনি মাঝে মধ্যে রাতে বাড়িতে থাকতেন আবার দোকানেও থাকতেন। যেদিন তিনি বাড়িতে থাকতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন।
ঘটনার দিন শাহজালাল দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। চাচা মজনু মিয়াকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন। পথিমধ্যে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন তারা।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, মোস্তফার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মোস্তফা ও আলামিন দুজনেই স্থানীয় একটি সমিতির সদস্য ছিলেন। মোস্তফা সমিতি থেকে উচ্চ সুদে বেশ কিছু টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধ ও পারিবারিক খরচ বহনের জন্য তার বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন ছিল। ভিকটিম শাহজালাল যেদিন বাড়িতে রাত্রি যাপন করতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন। এ বিষয়টি মোস্তফা ও আলামিন জানতেন।
শাহজালালের বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণ করে টাকা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। বিষয়টি আলামিনকে জানালে তিনি সম্মতি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই রাত ১০ টার দিকে মোস্তফা ও আলামিন সখীপুরের বাঘের বাড়ি এলাকায় জামালের চালায় নির্জন জঙ্গলে ওৎ পেতে থাকেন। শাহজালাল মোটরসাইকেলে করে তার চাচা মজনু মিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মোস্তফা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। মোস্তফা ভিকটিম শাহজালালকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
ভিকটিম শাহজালাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। মজনু মিয়া চিৎকার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আলামিন লোহার রড দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন।
পরে মোস্তফা ও আলামিন তাদের এলোপাতাড়ি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আলামিন ভিকটিমদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশের একটি জমিতে ফেলে দেন এবং শাহজালালের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
পরে তারা টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকায় আত্মগোপন করেন। মোস্তফা টাঙ্গাইল ও আলামিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে থাকাকালীন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মো.শামীম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (তৃতীয়) আদালতের বিচারক আতিকুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো.শামীম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দন্ডপ্রাপ্ত শামীম পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌশলী (এপিপি) শহিদুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি জানান, ২০১২ সালের ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের মায়ের দোয়া হোটেলের সামনে থেকে ১৫ গ্রাম হেরোইনসহ মো. শামীমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেন টাঙ্গাইল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সাইফুল আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক সাইফুল আলম বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার (১৯ জুলাই ) সেই মামলায় আদালতের রায়ে শামীমকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়েন।
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ী, অন্তত ২০টি মটরসাইকেল, কাজী ডিজিটাল হাসাপাতাল, উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙ্গচুর করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার(১৩ জুন ) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মধুপুর শহরে পৃথক সমাবেশ পালনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা হয়।

বিবাদমান দুই গ্রুপের এক পক্ষ স্থানীয় এমপি ও কৃষিমন্ত্রীর অনুসারী এবং আরেক পক্ষ মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবুর সমর্থক।
জানা যায়, মধুপুর পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে যৌথভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আয়োজন করা হয়।
অপর দিকে, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু থানা মোড়ের দক্ষিণে পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সভায় যোগদান করতে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পথিমধ্যে হামলার শিকার হন। এই ঘটনাকে ঘিরে মধুপুরে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আহতরা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাউফুলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে খলিলুর রহমান (৩২), দামপাড়া গ্রামের মোর্শেদের ছেলে মাসরাফি (২৩), ইদিলপুর গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০), ভবানটেকী গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে সোয়াইফ (২০), গাংগাইর গ্রামের খালেদ আহমেদের ছেলে মাসরুর আহমেদ প্রিতম (৩০), দানবাবান্দা গ্রামের আহসান আলীর ছেলে চাঁন মিয়া (৬৫)।

আহতদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে । এ ছাড়া ইদিলপুর গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মধুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, আলোকদিয়া ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে মটরসাইকেল ও অটোরিক্সা যোগে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের সমাবেশে আসার সময় থানা মোড়ে কতিপয় ছাত্র ও শ্রমিক নেতা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার নিকটে থাকা ৬০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। হামলাকারীরা সকলেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবুর নেতৃত্বাধীন কর্মী বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনার পর মধুপুর পৌরসভার মেয়র সমর্থিত নেতাকর্মীরা লাঠি-শোঠা নিয়ে এগিয়ে থানা মোড়ের দিকে এগিয়ে আসে। এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও সভা শেষে ছরোয়ার আলম খান আবুর নেতৃত্বাধীন মিছিলটি ফিরছিল। থানা মোড়ে মিছিল আসা মাত্রই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে । এ সময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। ভাঙ্গচুর করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়, তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি, অন্তত ২০টি মোটর সাইকেল, কাজী ডিজিটাল হসপিটাল। দুই গ্রুপের ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের গ্যাস গান ব্যবহারে থানা মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী বাসা বাড়ির লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। মধুপুরের দোকান পাট মুহুর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশ্ববর্তী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্তও বিক্ষিপ্তভাবে ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়।
রাত আটটায় মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ করা সম্পূর্ণ সংগঠন বিরোধী। তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করার এখতিয়ার নেই। তারপরও মেয়রের নেতৃত্বে গাড়ী, মটরসাইকেল, দোকান, হাসপাতাল ভাঙ্গচুর নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করে অন্তত ৫০ জনকে তারা আহত করেছে। তারা নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু আরো বলেন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান কৃষি মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি ড. আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী। এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দিবো।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, সহসভাপতি কাজী আব্দুল মালেকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করার অপরাধে কেন বহিষ্কার করা হবে না মর্মে শোকজ করা হয়েছে। বর্তমানে দলীয় কার্যক্রম করার এখতিয়ার তিনি হারিয়েছেন। তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের থানা মোড়ে আবুর কর্মীরা হামলা করে আহত করে। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমি বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত করে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মুরাদ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়েছে। কোন পক্ষই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। তার হেফাজত থেকে দুটি পুলিশ পোষাক, একটি পুলিশ বেল্ট, একটি পুলিশ রিফ্ল্যাক্টিং বেল্ট ও পাঁচটি ছোরা জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জুন)বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. সোনাব আলী (৫০)। সে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার চরকুরকী গ্রামের মৃত জিলানীর ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি উত্তর) অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. মোশারফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধ, অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান করা হয়। রাত সোয়া ১০ টার দিকে খবর আসে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারী কলেজ মোড়ে কিছু ডাকাত পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পুলিশের নকল পোষাক ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, অন্যান্য মালামালসহ অবস্থান করছে। পরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কাগমারী কলেজ মোড় থেকে মো. সোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান,শুক্রবার এসআই মনির বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে সোনাব আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি প্রস্তুতির সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় একজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অপর এক যুবককে মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া বেকসুর খালাম দেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা শাহারিয়ার খান।
মঙ্গলবার (২০ জুন) বিকেলে তিনি এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডিত আসামি মো. মিজানুর রহমান (২২) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অপর এক আসামি রাসেল মিয়া আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান জেলার সখীপুর উপজেলার নলুয়া গ্রামের আড়ালিয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে।
দুইবছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একই গ্রামের মৃত আবুল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৫)। এবং মামলায় খালাস পাওয়া একই উপজেলার যাদবপুর গ্রামের আব্দুর করিমের ছেলে মো. পাভেল মিয়া (২৫)।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পিপি খোরশেদ আলম জানান, টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২০১৯ সালের ২ জুন গোপন খবরের ভিত্তিতে সখীপুরের নলুয়া আড়ালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দণ্ডিত মিজানুর রহমানের কাছ থেকে এক হাজার ২পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫০ গ্রাম হিরোইন জব্দ করে। এছাড়া রাসেলের কাছ থেকে একশ পিচ ইয়াবা ও ১০ গ্রাম হিরোইন জব্দ করে।
এ ঘটনায় জেলা ডিবির (উত্তর) উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করে।
পরে সখীপুর থানার এসআই ছবেদ আলী তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ৩১ জুলাই আসামি মিজানুর রহমান, রাসেল মিয়া ও পাভেল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত জেলা কারাগারে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক মামলায় স্ত্রী লিলি বেগম (৪০) নামে এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে, একই মামলায় স্বামী বকুল সিকদারকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার(৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. মোস্তফা শাহারিয়ার খান এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত লিলি বেগম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সিংগুরিয়া গ্রামের বকুল সিকদারের স্ত্রী। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত বকুল সিকদার একই এলাকার মৃত কালু সিকদারের ছেলে।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান জানান, ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর স্ত্রী লিলি বেগম ও তার স্বামী বকুল সিকদারকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সিংগুরিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় স্ত্রী লিলির কাছ থেকে ৩০ গ্রাম এবং স্বামী বকুলের কাছ থেকে ১৫ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়।
তিনি আরোও জানান, এ ঘটনায় ওইদিনই তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে উপ-পরিদর্শক প্রবীর চন্দ্র সরকার লিপি ও বকুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুম্মান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ও কুকাদাইর গ্রামের হাছেন আলী তালুকদারের ছোট ছেলে।
জানা গেছে, গত ২০ মে রাত ১ টায় গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকার একটি গরুর খামারে ওই শিশুকে ডেকে নেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন। পরে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক হাত-মুখ চেপে ধরে বলাৎকার করে। এসময় শিশুটির ডাক-চিৎকার শুনে খামারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক বাক প্রতিবন্ধী এগিয়ে এসে ডাকাডাকি করলে খামারে থাকা অন্য শ্রমিকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে আসার আগেই আনোয়ার পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বলেন, আমি ঘটনাটি জানতাম না। কয়েক দিন পর জানতে পারলাম আমার ছেলের সাথে আনোয়ার মেম্বার অনৈতিক কাজ করেছে। মঙ্গলবার সকালে ভূঞাপুর থানায় এসে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। এই নেক্কারজনক ঘটনায় নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বলাৎকারের শিকার হওয়া শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে গোবিন্দাসী এলাকা থেকে সাবেক ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।