/ হোম / আমাদের টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে ১২শ’ রোগী পেল চিকিৎসাসেবা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে ১২শ’ রোগী পেল চিকিৎসাসেবা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গরীব ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং এর দিকনিদের্শনায় এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের অধিনস্থ ৯৮ সংমিশ্রিত ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এবং ২৪ই বেংগল এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মেডিসিন, গাইনী এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ১ হাজার ১৭৫ জন গরীব ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ এবং ৯৫ জন চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়।

ক্যাম্পেইন চলাকালে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মামুনুর রশীদ পরিদর্শন করেন। এসময় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভবিষ্যতেও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ ও চক্ষু রোগীরা চশমা পেয়ে আনন্দিত। তারা সেনাবাহিনীকে এ অঞ্চলের গবীর ও দুস্থ জনসাধারণের পাশে দাঁড়ানোসহ সার্বিক কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার দাবি জানান।

কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রমজান মিয়া বলেন, ‘বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ পেয়ে মানুষ অনেক খুশি হয়েছেন। এ অঞ্চলের গরীব ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও তাদের মাঝে ঔষধ বিতরণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২৪ ০১:৪১:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মাংস ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি শ্বাসরোধ করে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাংস ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি শ্বাসরোধ করে হত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক মাংস ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার যমুনা সেতু-ভূঞাপুর লিংক রোডের কষ্টাপাড়া এলাকায় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের ধারনা, বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতের কোন এক সময়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার তার মরদেহ  রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

সাইফুল ইসলাম উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কুকাদাইর গ্রামের মৃত বদি মিয়ার ছেলে। তিনি আশুলিয়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বপরিবারে বসবাস করছেন।

স্থানীয়রা জানায়, সাইফুল ইসলাম গত দেড় মাস আগে পরিবার নিয়ে ঢাকার আশুলিয়া চলে যায়। সেখানে তিনি মাংস ব্যবসায়ীর (কসাই) কাজ করতেন। ঢাকায় থাকলেও তিনি গরু কেনার জন্য প্রায়ই বাড়িতে আসতেন। স্থানীয় হাট থেকে দু’একটি গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে জবাই করে মাংস বিক্রি করতেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তার কাছে গিয়ে দেখতে পায় কুকাদাইর গ্রামের মাংস ব্যবসায়ী সাইফুলের মরদেহ। পরে তারা পরিবারকে খবর দেয় তারা বিষয়টি জানাজানি হলে মরদেহ দেখতে ঘটনাস্থলে শতশত উৎসুক জনতা ভিড় করে।

সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শত্রুতা করে কেউ পরিকল্পিতভাবে আমার বড় ভাই সাইফুল ইসলামকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে। তার সাথে কারো শত্রুতা নেই। আমার ভাই হত্যায় যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি।

এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে। এনিয়ে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫৩:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বেশি দামে ডিম বিক্রি, ৩ ব্যবসায়ীকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বেশি দামে ডিম বিক্রি, ৩ ব্যবসায়ীকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

একতার কণ্ঠঃ অতিরিক্ত দামে ডিম বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় তিন ব্যবসায়ীকে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর ও বড়চওনা বাজারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর জানান, খামারি ও ডিমের পাইকারি আড়তে তদারকি করে বিক্রয় রশিদে মূল্য উল্লেখ না করা, ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করা, সরকার নির্ধারিত যৌক্তিক দামের অতিরিক্ত দামে ডিম বিক্রি করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় কুতুব বাজারের মেসার্স রবিউল ট্রেডার্সকে ৮০ হাজার, একই অপরাধে মেসার্স এসএসএস এন্টারপ্রাইজকে ৮০ হাজার ও বড়চওনা বাজারের জাকিয়া এন্টারপ্রাইজকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অক্টোবর ২০২৪ ০২:২১:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনায় আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনায় আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ গত ৪ আগস্ট টাঙ্গাইল জেলা সদর রোডের বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও গুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজহারভুক্ত আসামি শহিদুল ইসলাম সমেজকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩।

সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকালে টাঙ্গাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ধুলেরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম সমেজ টাঙ্গাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বৈল্লা এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। সে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি শহিদুল ইসলাম সমেজের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাবের একটি চৌকোষ দল সোমবার বিকালে শহরের ধুলেরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিছিলে হামলা ও গুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ১২১নং আসামি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি শহিদুল ইসলাম সমেজকে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মামলার অন্যান্য এজহারভুক্ত ভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অক্টোবর ২০২৪ ০২:৪৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলা, আ’লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলা, আ’লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলার দেলদুয়ার ও মির্জাপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার( ৮ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ কোম্পানি এর কমান্ডার মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের নাসির গ্লাস ইন্ডাস্ট্রির এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকুল্ল্যা-বাইপাস সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

একই দিন জেলার মির্জাপুর উপজেলার দুল্লাবেগম এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বাচ্চুকে (৬৪) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত দু’জন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই জনকে মির্জাপুর থানা হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অক্টোবর ২০২৪ ০২:০২:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইল স্পেশাল জর্জ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে এই রায় দিয়েছেন।

দন্ডিত ব্যক্তির নাম রুহুল আমীন (৪৪)। তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আগ এলাসিন গ্রামের তাজুল মিয়ার ছেলে। তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সরকারী কৌশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, বিগত ২০১২ সালের (১২ এপ্রিল) দন্ডিত রুহুল আমিনসহ আরও কয়েকজন আগ এলাসিন গ্রামের আলম বাদশার ছেলে ফিরোজ আল মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ওই দিন রাতেই মামুন বাড়ি ফেরার পথে তার উপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে তাকে। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, পরদিন নিহত মামুনের মা শামসুন্নাহার বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ বিগত ২০১৩ সালের (২৭ মে) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার অপর ৪ আসামী জাহাঙ্গীর, আনিসুর রহমান, কালু ও রবি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অক্টোবর ২০২৪ ০৩:৪৯:এএম ২ বছর আগে
দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাগরপুরে জিআর চাল বিতরণ - Ekotar Kantho

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাগরপুরে জিআর চাল বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপ ভৌমিক এর সভাপতিত্বে উপজেলার ১২৬ টি পূজা মণ্ডপ সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দদের কাছে এই চাল হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাগরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বক্কর, মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি শ্যামল কুমার সাহা (রাদু), রাজন ভট্টাচার্য, সুব্রত শীল, সাধারণ সম্পাদক প্রভাস চক্রবর্তী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ঝুটন কুমার সাহাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অক্টোবর ২০২৪ ০২:২৭:এএম ২ বছর আগে
এবারের পূজাটি যেন নতুন বাংলাদেশের পূজা হয়: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার - Ekotar Kantho

এবারের পূজাটি যেন নতুন বাংলাদেশের পূজা হয়: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

একতার কন্ঠঃ মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গত কেবিনেট সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়েছে এবারের পূজাটি যেন নতুন বাংলাদেশের পূজা হয়। ইতিপুর্বে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাথে প্রধান উপদেষ্টা সভা করেছেন।

সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের সকলেই একটি পরিবার। এখানে সংখ্যালঘু সংখ্যাগরিষ্ঠ বলতে কিছু নেই।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা ঈদে আনন্দ করবো আর পূজায় ভয় পাবো এটা হয়না। আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে ভাল একটা পূজা করতে পারবো।

পূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে নিরাপত্তার কোন ঘাটতি নেই বলে জানান উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

জেলা প্রশাসক শরিফা হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু চিত্তরঞ্জন সরকার ও সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুন ঝন্টুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অক্টোবর ২০২৪ ০২:০৬:এএম ২ বছর আগে
ভাসানীর জীবনী পাঠ্য বইয়ে পুনরায় অর্ন্তভূক্তির দাবীতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

ভাসানীর জীবনী পাঠ্য বইয়ে পুনরায় অর্ন্তভূক্তির দাবীতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবনী বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুনরায় পাঠ্য বইয়ে অর্ন্তভূক্তির দাবি জানিয়েছে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন।

সোমবার(৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন।

মানববন্ধনে ভানাসী ফাউন্ডেশনের অনুসারীরা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালে ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর পাঠ্য বই থেকে মওলানা ভাসানীর জীবনী বাদ দিয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৫ ম আর ৮ ম ছাড়াও শিশু শ্রেনী থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত পাঠ্য সুচিতে ভাসানীর জিবনী দেখতে অন্তভুক্তি করতে হবে।

তারা বলেন, মওলানা ভাসানী শুধু বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব নেতা। তাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারী-বেসরকারী প্রতিটা অফিসে ভাসানীর ছবি দেখতে চাই। প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনুসের কাছে টাঙ্গাইলবাসীর পক্ষে এ দাবী পেশ করা হলো।
আশা করি, দাবী পুরণে তিনি ভূমিকা পালন করবেন।

মানববন্ধনে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ভাসানীর নাতি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন হামিদুল হক মোহন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি, এডভোকেট জাফর আহমেদ,সাবেক সভাপতি এডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ।

এ সময় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায়ী ঐক্যজোট নেতা আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, জেলা ক্লিনিক ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অক্টোবর ২০২৪ ১২:৩৩:এএম ২ বছর আগে
গণহত্যাকারীদের কোন ছাড় নেই: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু - Ekotar Kantho

গণহত্যাকারীদের কোন ছাড় নেই: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

একতার কণ্ঠঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে কেউ আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারে, তাতে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু যারা গণহত্যার সাথে জড়িত, যেই দল ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা করেছে, তারা গণহত্যাকারী। এই গণহত্যাকারীদের কোন ছাড় নেই। বাংলাদেশের মাটিতে আগে তাদের বিচার করতে হবে।

রবিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে পৌর শহরের শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ মাঠে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশে মানুষ এই মুহুর্তে একটি জিনিস চায়, সেটি হলো একটি নির্বাচন হোক। বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য সকল সময় গণতন্ত্রের জন্য যে আকাঙ্খা এটি বুকে ধারণ করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এই যে আন্দোলন এটি একদিনে সফল হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছরের কষ্টের ফল আজকে এই ফ্যাসিস্ট পতন এবং পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।।ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব এ দেশের মাটিতে না ঘটে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র লালন করে। আমাদের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে ছিলেন। মানুষকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়ে ছিলেন। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন স্বৈরাচার এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর মুক্তি দাবি করে টুকু আরও বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ আমরা চাই। সকলের জন্য সমান অধিকারপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। কোন বৈষম্য থাকবে না। কারো মধ্যে কোন প্রতিহিংসা থাকবে না। সুন্দরভাবে বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে জন্য সকলকে মানসিকভাবে পরিবর্তন হতে হবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াস প্রমুখ।

পরে ভূঞাপুর প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসময় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক আব্দুল আলীম আকন্দ, মামুন সরকার, জুলিয়া পারভেজ ও ফরমান শেখ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন সাংবাদিকরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২৪ ০৯:২৬:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্নাঢ্য র‌্যালি এবং আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালন করা হয়েছে।

রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

র‌্যালিটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নিবাহী অফিসার(ইউএনও ) রুহুল আমিন শরিফ ও জেলা তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত প্রমুখ।

আলোচনা সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকরণের গুরুত্ব উপস্থাপন করা হয়।শিশু জন্ম গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয় আলোচনা সভায়।

এ সময় আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২৪ ০৪:৩৩:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আনারসের পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন শৌখিন পণ্য - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আনারসের পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন শৌখিন পণ্য

একতার কণ্ঠঃ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আনারস শুধু ফল হিসেবে নয়, এটির পাতারও ব্যবহার হয় নানান কাজে। অতীতে আনারস ফল তোলার পর পাতা ফেলে রাখা হতো অথবা গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হতো।

কিন্তু বর্তমানে এর পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানান শৌখিন পণ্য। সেই সঙ্গে মিলছে অর্থকড়িও। ক্রমে এর উৎপাদন এবং ব্যবহারেরও প্রসার ঘটছে।

আনারস উৎপাদনে প্রসিদ্ধ টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়। এখানকার নারীরা প্রথমে ব্যক্তি উদ্যোগে ঘর-গৃহস্থালির কাজে লাগে এমন কিছু শৌখিন জিনিসপত্র বানালেও পাতা থেকে সুতা উৎপাদনে হাত দেয় ‘মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি বাংলাদেশ’ নামের একটি বিদেশি সংস্থা। সেটি তাও ২০০৮ সালের কথা। এ সংস্থার প্রকল্পটি ছিল উপজেলার জলছত্র বাজারে। ২০১৭ সালে এসে বনাঞ্চলের জাঙ্গালিয়া গ্রামে ব্যুরো বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে একটি হস্তশিল্পের কারখানা। এখানে শতাধিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আনারসচাষিদের ফেলে দেওয়া পাতারও সদগতি হয়েছে। বিনিময়ে তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে।

ফাইবার এক্সট্রাকশন মেশিনের মাধ্যমে আনারস পাতা থেকে আঁশ বের করা হয়। তারপর ভাঙা প্লেট ও নারিকেলের খোল দিয়ে ঘষে পাতা থেকে আঁশ বের করে পানিতে ধুয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেগুলো রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। এক কিলোগ্রাম পাতা থেকে ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা শক্ত সুতা পাওয়া যায়। আঁশ বের করার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৩০ জন মানুষের সাহায্য লাগে। ১০০০ কেজি পাতা থেকে ১০০-১৫০ কেজি আঁশ পাওয়া যায়। এ সুতার বিভিন্নমুখী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে সুতাগুলো হাতে রশি পাকিয়ে হস্তশিল্প ও গৃহসজ্জার নানান রকম জিনিসপত্র বানানো যায়। এ ছাড়া সুতা থেকে উন্নতমানের কাপড়ও বানানো যায়। আশার বিষয়, আনারস পাতা থেকে উৎপাদিত সুতা দিয়ে উন্নতমানের লেদার বানানোর কাজে এটি দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে।

আবার যেসব পাতা থেকে সুতা তৈরি করা যায় না, সেগুলো থেকে জুয়েলারি বক্স, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, ফ্লাওয়ার বক্স, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, চাবির রিংসহ নানান পণ্য বানানো হয়। আকর্ষণীয় এসব পণ্য যাচ্ছে চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে। এখানে কাজ করে অনেক নারীই হয়ে উঠছেন স্বাবলম্বী। আগে যেসব নারী বনে ও আনারসের জমিতে কাজ করে যে টাকা পেত, তার চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন এ হস্তশিল্পের কাজ করে। ফলে সংসারের অভাব মিটিয়ে তারা এখন অনেকটা সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। কথা হয় উপজেলার বেরীবাইদ গ্রামের ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। এ শ্রমিক জানান, আনারসের পাতা থেকে এত সুন্দর পণ্য তৈরি হতে পারে তা আগে জানতাম না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সব জানতে পেরেছি। তার মতো আরও অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তারা আনারস চাষের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পার্টটাইম কাজ করছেন।

আনারসচাষী রাজ্জাক মিয়া বলেন, একটি পরিপূর্ণ আনারস গাছে ৩৬টি পাতা হয়। একটি গাছে একবারই ফল ধরে। ওই গাছের গোড়ায় নতুন গাছ জন্মায়। আনারস কাটার পর ওই গাছের অন্তত ১৫-২০টি পাতা কেটে ফেলা হয়। আর নতুন গাছ হওয়ার পর সব পাতাই কাটা যায়। এই পাতাগুলো নিচে পড়ে নষ্ট হয়। মাটিতেই পচে মিশে যায়। কেউ কেউ গবাদিপশুর জন্যও নিয়ে যান। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমরা বিক্রি করছি। আনারস বেচার টাকার পাশাপাশি বাড়তি টাকা পাচ্ছি পাতা বিক্রি করে।

ব্যুরো বাংলাদেশের হস্তশিল্পের কারখানার এজিএম আমীর হামজা বলেন, নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগে যারা বন, আনারস বাগানে কাজ করতেন সেসব নারী আমাদের এখানে কাজ করছেন। এখানে ৭০ শ্রমিক নারী-পুরুষ কাজ করছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ নারী আছে। যারা সুধিবাবঞ্চিত নারী, স্বামী পরিত্যক্তা নারীরাই এখানে বেশি কাজ করেন। এখানে প্রায় চারশ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে মজুদ আছে অনেক পণ্য সে কারণে এখন আমরা উৎপাদন আপাতত কমিয়ে দিয়েছি। তবে আমরা একটি কম্পমেস কারখানা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’ এ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানের বাগানগুলো যদি সরকারের পক্ষে আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে তাহলে উৎপাদিত পণ্য গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা যেত বলে জানান এ কর্মকর্তা। স্থানীয় শ্রমিক শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রশিক্ষণের সময় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগায় তারা তেমনটি আগ্রহ প্রকাশ করে না এ কাজে। এজন্য শ্রমিকদের শিক্ষানবিশকালীন তাদের ভাতা বা প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলে তারা আগ্রহী হয়ে উঠবে এ পেশায়।

নারী উদ্যোক্তা ও ব্যুরো ক্রাফটের পরিচালক রাহেলা জাকির বলেন, ‘এ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস বেশি। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই মানুষদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মধুপুরে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’ এ উদ্যোক্তা আরও জানান, চীনের একটি মেলায় তারা অংশগ্রহণ করে এসব পণ্যের বেশ সাড়া পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও অনেক দেশই হস্তশিল্পের এ পণ্যের প্রতি আগ্রহের কথা জানিয়েছে। আনারসের কিছু পাতা আছে যেগুলো দিয়ে আঁশ বানানো সম্ভব হয় না সেগুলো দিয়ে আমরা টিস্যু পেপার তৈরি করছি। অর্থাৎ আনারসের কোনো জিনিসই আর ফেলনা নয়। তাদের ওয়ান টাইম প্লেট ও গ্লাস তৈরির পরিকল্পনা চলছে। পরিত্যক্ত প্রাকৃতিক কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব এসব পণ্যের দেশের বাইরে চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২৪ ০১:২৭:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।