একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে শিক্ষক দম্পতিসহ দুই দম্পতির চার যমজ মেয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর )এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে কুমুদিনী সরকারি কলেজ ও হলিক্রস কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে তারা জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
সখীপুর পৌর এলাকার আল আমিন মিয়া ও আফিয়া আক্তার দম্পতির সন্তান সামিয়া জাহান আফসানা ও সাদিয়া জাহান শাহানা সরকারি কুমুদিনী সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারা পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
বাবা আল আমিন বড়চওনা কুতুবপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মা আফিয়া আক্তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শাহানা ও আফসানার বাবা উপজেলা জামায়াতের আমীর আল আমিন মিয়া বলেন, আমরা দুজনেই শিক্ষকতা পেশায় থাকার কারণে মেয়েদের সময় দিতে পারিনি। তবে মেয়েরা পড়াশোনার বিষয়ে খুবই মনোযোগী ছিলো বলেই তারা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। ডাক্তার হয়ে মানুষের স্বপ্ন দেখছেন তার দুই মেয়ে বলেও জানান তিনি।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আফসানা ও শাহানা বলেন, আমাদের ভালো ফলাফলে বাবা-মার পাশাপাশি শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমরা পড়াশোনায় সময়ের গুরুত্ব দিয়েছি বলেই ভালো ফলাফল করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে তারা দুইজনই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
অপরদিকে, আবু জুয়েল সবুজ ও চায়না আক্তার শিক্ষক দম্পতির সন্তান যারীন তাসনীম ও যাহরা তাসনীম হলিক্রস কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারাও পিএসসি জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। যারীন ইঞ্জিনিয়ার আর যাহরা ডাক্তার হতে চায়।
আবু জুয়েল সবুজ সূর্য তরুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাদের মা চায়না আক্তার গজারিয়া শান্তিকুঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
যারীন ও যাহারার বাবা আবু জুয়েল সবুজ বলেন, আমি মেয়েদের পড়ার জন্য চাপ দিইনি,তারা তাদের মতো পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করেছে। যারীন তাসনিম ইঞ্জিনিয়ার এবং যাহরা তাসনিম ডাক্তারী পড়তে ইচ্ছুক।
শিক্ষার্থী যারীন ও যাহারা বলেন, আমরা নিয়মিত পড়াশোনা করেছি বলেই পরিশ্রম অনুযায়ী সাফল্য পেয়েছি। আমরা যাতে বুয়েট এবং ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়ে বাবা মার মুখ উজ্জ্বল করতে পারি সে চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। আমাদের সাফল্য কামনায় সকলের দোয়া কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ বছর এই ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারা প্রত্যেকেই বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।
কলেজ সূত্র জানায়, চলতি বছর এই কলেজ থেকে ৫৬ তম ব্যাচের ৪৮ জন ক্যাডেট এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে তাদের প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এদের মধ্যে ৪৬ জন গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল রিয়াজ আহমেদ চৌধুরী পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, সেনা সদরের দিক নির্দেশনা, বিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর ঐকান্তিক প্রয়াস, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, অভিভাবকবৃন্দের নিয়মিত অনুপ্রেরণা ও ক্যাডেটদের কঠোর অনুশীলনের সমন্বিত রূপায়ণ হচ্ছে এ অনন্য সাফল্য। এ ধারা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ঝিনাই নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে দুই নৌকার সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার পুরাতন থানা ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই কিশোরের নাম অপু পাল (১২)। সে কালিহাতী পৌরসভার দক্ষিণ বেতডোবা এলাকার বিষ্ণু পালের ছেলে। কালিহাতী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গণেশ সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো প্রতিমা বিসর্জ্জন দেওয়ার আগ মুহুর্তে বিভিন্ন নৌকা নিয়ে এলাকাবাসী ভ্রমণ করে থাকে। বিকালের দিকে নৌকার স্পিড বেশি থাকার ফলে দুইটি নৌকার সংঘর্ষ হয়, এতে অপুসহ কয়েকজন আহত হয়।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কালিহাতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অপু পালকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গলায় পরনের কাপড় পেঁচানো অবস্থায় আইয়ুব আলী (৪৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আইয়ুব আলী সদর উপজেলার ভবানীপুর পাতুলী এলাকার মৃত নছিম মিয়ার ছেলে। তিনি বিভিন্ন স্থানে নারী সেজে যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন বলে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানায়।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে নতুন বাসস্ট্যান্ডে এলাকার মাইক্রোবাস্ট্যান্ডের পেছনের পরিত্যক্ত ঘর থেকে গলায় পরনের কাপড় পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। ধারনা করা হচ্ছে,রাতে কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
নিহতের ছেলে অনিক মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা শনিবার সন্ধ্যায় কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। রবিবার সকালে আমার বাবার মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালে আসি।’
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, ‘নিহতের মুখে আঙ্গুলের ছাপ ছিল। গলায় পরনের কাপড় পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যা করার পর তার মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের জেলা সদর লেক থেকে শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে মিজানুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মিজানুর রহমান টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাগমারা এলাকার বাহেজ উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)তানবীর আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান,শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলা সৌখিন মৎস শিকারী সমিতির পাশে জেলা সদর লেকে ভাসমান মরদেহ দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশে খবর দেয়।
পরে মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত কাঠের পাটাতনের গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় থাকা মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের সাথে থাকা একটি ব্যাগে আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের সঙ্গে যুবকের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ আরো জানান, মিজানুর রহমান (৩৪) নামের ওই যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান,নিহত মিজানুর রহমান টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাগমারা এলাকার বাহেজ উদ্দিনের ছেলে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসি আরোও জানান,খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টাঙ্গাইল সদর সার্কেল) সোহেল রানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইনা ইউনিয়নের ‘জয় মা’ ক্লাবের উদ্যোগে সার্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দুর্গোৎসবের মহা অষ্টমী তিথিতে জয় মা’ ক্লাবের পূজা মণ্ডপে ‘দেবী দুর্গার মর্ত্যে আরোহন, অশূর বধ ও মাতৃধামে ফিরে যাওয়া নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ হয়। জয় মা ক্লাবের সদস্যরা এই নাটকে অভিনয় করেন।

এ ছাড়া মন্ডপে চলে পূজা-অর্চনা। ভক্তগণ এসে দেবী দুর্গাকে অর্চনা নিবেদন করেন। ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত ছিল পূজা মন্ডপ।
‘জয় মা’ ক্লাবের সভাপতি রামপ্রসাদ সাহার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দাইনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ গুণ ঝন্টু, দাইনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, মহিলা সদস্য বিলকিস বেগম , ক্লাবের
কার্যকরী সভাপতি শুভ সাহা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জনি সাহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক তাপস সাহা, আকাশ সাহা, স্বাধীন সাহা, কোষাধ্যক্ষ, আবির সাহা, সদস্য অন্তত সাহা,অনিক সাহা,নীবির সাহা প্রমূখ।
উল্লেখ্য,বুধবার ২ অক্টোবর মহালয়ার শুরুর মধ্যে দিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মনে পূজোর ভাব চলে আসছে। দেবী দূর্গা এবার দোলায় চড়ে আগমন করেছেন এবং প্রস্থানও করবেন ঘোটকে চড়ে। আগমন শুভ এবং প্রস্থান এবার অশুভ।
এবার পূজায় প্রার্থনা থাকবে পৃথিবী ও দেশ থাকুক শান্তিময়। ৯ অক্টোবর ষষ্ঠীতে দেবীর দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ১৩ অক্টোবর বিজয় দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই বর্ণিল উৎসব।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ১৩ ঘন্টার ব্যবধানে একই স্থানে বাসের ধাক্কায় অটোরিক্সার চালকসহ দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ছয় জন।
শুক্রবার(১১ অক্টোবর ) সন্ধ্যায় মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকায় অরিণ ট্রাভেলস্ পরিবহনের দ্রুত গতির একটি বাসের ধাক্কায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- অটোরিক্সার চালক জেলার ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চেংটাপাড়া এলাকার চান্দু মন্ডলের ছেলে সওকত মন্ডল ও অটোরিক্সার যাত্রী ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকার নয়ন চন্দ্র দাস। নয়ন পূজা উপলক্ষে তার শ্বশুরবাড়ি সল্লা বেড়াতে এসেছিলেন।
এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকায় ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, নিহত ও আহতরা শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার দেউপুর পূজা মণ্ডপ থেকে অটোরিক্সা যোগে সল্লা ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়ক পার হবার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী অরিন ট্রাভেলস্ এর একটি বাস অটোরিক্সাটিকে ধাক্কা দেয়৷ এতে অটোরিক্সায় থাকা শিশুসহ আটজন যাত্রী ৎগুরুতর আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে নয়নের মৃত্যু হয়। অন্য আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিক্সার চালক সওকত মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হলে ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন খান জানান, বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কন্ঠঃ বাংলাদেশে নিযুক্ত চার দেশের রাষ্ট্রদূত টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এশিয়াখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা’র দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল্লাহী শেখ ও তার স্ত্রী হাজজা সাতা শেখও দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এই ভিআইপি অতিথিরা শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছেন।
সেখানে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল রিনা ক্রুস ও কুমুদিনী হাসপাতালের উপ-পরিচালক অনিমেষ ভৌমিক লিটন তাদের স্বাগত জানান ।
রাষ্ট্রদূতরা হলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পওলো ফার্নান্দো দিয়াস ও তার স্ত্রী ইল্লানি অ্যালক্যানতারা ফেরেম, সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন মারিয়া স্ট্রিটসম্যান ও প্রথম সচিব জোহাননা মারটিনসন, নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ললিতা সিলওয়াল ও সেকেন্ড সেক্রেটারি ওজানা ব্যামজান এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলাই শেখ ও তার স্ত্রী হাজজা সাতা শেখ।
অতিথিরা কুমুদিনী লাইব্রেরিতে চা চক্র শেষে ভারতেশ্বরী হোমসের গেট হয়ে বজরা নৌকায় লৌহজং নদী পার হয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার পূজা মণ্ডপে যান। সেখানে রণদার পৌত্র কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাদের স্বাগত জানান।
পরে অতিথিরা দানবীর রণদা’র বাড়িতে জলযোগ শেষে রণদা’র মণ্ডপে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ ও ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করেন।
মহাষ্টমীতে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা দুর্গামণ্ডপের সামনে ভক্তদের প্রচুর সমাগম ঘটে।
একইভাবে শিল্পী সংঘ অনির্বাণ যুব সংঘ ও আনন্দময়ী যুব সংঘের মণ্ডপেও দেখা গেছে ভক্তদের প্রচুর সমাগম। বিকেল ৪টার পর থেকে উপজেলা সদরের প্রত্যেক রাস্তা বা সড়কে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেক ভক্ত পূজার প্রথমভাগেই দূরের মণ্ডপগুলোর প্রতিমা দর্শন শেষ করে নিজেদের বাড়ির পূজা উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য,এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ১৪ ইউনিয়নে ২০৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। গত বছর এ উপজেলায় ২৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। অন্য বছরের চেয়ে এ বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশি জোরদার লক্ষ করা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য স্থিতিশীল রাখা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে টাঙ্গাইলে বাজার পরিদর্শন করছে জেলা প্রশাসনের দ্রব্যমুল্য পর্যালোচনা তদারকির বিশেষ টাস্কফোর্স টিম।
শুক্রবার (১১অক্টোবর) সকালে শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার পার্ক বাজারে এই তদারকি শুরু করা হয়।
এসময় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস ও মুরগীর বাজার তদারকি করা হয়।এতে মুরগী, ডিম ও মাছের ‘বাজার মুল্যে’ তালিকা টানানো সহ পণ্যের ক্রয়ের রশিদ খতিয়া দেখা হয়।
বাজার তদারকিতে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও দ্রব্যমুল্য পর্যালোচনা তদারকির বিশেষ টাস্কফোর্সের আহবায়ক মো.জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন টাঙ্গাইল এর সহকারী পরিচালক ও বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব সিকদার শাহীনুর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বিশেষ টিমের সদস্য মো.সোহেল রানা, কৃষি কর্মকর্তা ও সদস্য ফারজানা, ক্যাবের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও সদস্য মো.আবু জুবায়ের উজ্জল, উপজেলা প্রানী সম্পাদ কর্মকর্তা ও সদস্য মো.মেহেদী হাসান, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মো.আইয়ুব আলী, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মো.মুসা প্রমুখ ।
এছাড়াও ছাত্র প্রতিনিধি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্য মনিরুল ইসলাম ও মো.আল আমিন বাজার পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও গুলির ঘটনার মামলায় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার(১০ অক্টোবর ) বিকালে পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের উত্তর ছায়া বীথি এলাকা থেকে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাহজাহান আনছারী (৬৫) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া কলেজ পাড়া এলাকার মৃত সাহেব আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইল শহরে গত ৪ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের জেলা সদর সড়কের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শটগান, পিস্তলসহ আগ্নেয়াস্ত্র এবং চাপাতি, রামদা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলে হামলা করা হয়। তাদের ছোড়া গুলি লাল মিয়া নামে একজনের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে বিদ্ধ হয়। পরে গত ৩১ আগস্ট লাল মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শাহজাহান আনসারী।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান ,শাহজাহান আনছারী এ মামলার ৮ নাম্বার আসামি ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে তাকে ৩ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন কাভার্ডভ্যানের চালক।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর)ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সল্লা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহত ট্রাকের চালক ঠাকুরগাঁও জেলার মহেষপুর এলাকার আজহার আলীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম। বাকি হতাহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আতাউর রহমান ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই শাহাদত হোসেন জানান, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। এসময় উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যানটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই গাড়িতে থাকা তিনজন আটকা পড়ে।’
তারা আরও জানান,পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে আধাঘন্টা চেষ্টার পর আটকেপড়া তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ট্রাকে আটকাপড়া চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছুটা যানজট রয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানায় পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাস-মিনিবাস মালিক সমিতিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করেছেন গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড়মনি। সমিতিকে দলীয়করণের মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিক ও মালিকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সদস্যগণ।
তারা জানান, প্রতিদিন আনন্দ ভ্রমণের নামে ৫০ টাকার কুপন বানিয়ে সেই টাকা থেকে ৪০ টাকা ভ্রমণ খরচ দেখিয়ে ১০ টাকা করে তার নিজ পকেটে নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মালিক সমিতির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, ২০১৩ সালের পূর্বে টাঙ্গাইল জেলা বাস মালিক সমিতি ও টাঙ্গাইল জেলা লাক্সারি মিনিবাস মালিক সমিতি নামে দুটি আলাদা পৃথক সমিতি শ্রম মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রেশন ছিল। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবে বড়মনি ও ছোট মনির দুটি সমিতিকে একত্রিকরণসহ রাজত্ব কায়েম করে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড়মনি বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব করে অবৈধ ভাবে নতুন কমিটি গঠন করে দেন। যা এখনও বহাল আছে। জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি ছাত্র হত্যা ও একাধিক ধর্ষণ মামলার আসামী।
তিনি আরও বলেন, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বড় মনি ছাত্রদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি ছোড়েন যা টাঙ্গাইলবাসীসহ সারাদেশের মানুষ দেখেছেন। আমরা এ দলীয়করণ বাদ দিয়ে একটি গঠন মূলক কমিটি চাই। বড় মনি ও ওই কমিটির নেতারা মোট ৮১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, আমরা মালিকরা ওই টাকা ফেরত চাই।
সম্মেলনে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য সৈয়দ জাহিদুল হক, নিলুফার ইয়াছমিন খান, নজরুল ইসলাম খান, ছানোয়ার হোসেন ছানা, শহিদুর রহমান, রুমি ভূইয়াসহ অন্যান্য সদস্যরাসহ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।