আরমান কবীরঃ ‘কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিও না’, ‘দিওয়ানা দিওয়ানা তোমার প্রেমের দিওয়ানা’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’ ‘দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ’ ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘দুষ্ট ছেলের দল’, ‘বিজলী চলে যেওনা’, ‘মীরা বাঈ’, ‘পাগলা হাওয়ার তোড়ে’, ‘না জানি কোহি’সহ জনপ্রিয় অনেক গান গেয়ে টাঙ্গাইল মাতালেন নগর বাউল জেমস।
মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ (বিবিএফসি) উপলক্ষে আয়োজিত ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক দর্শককে মাতালেন এই রকস্টার।
দর্শক-শ্রোতাদের উল্লাসে নিজেও মেতে উঠেন তিনি। গানে গানে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান রঙিন করে তুলেন জেমস। এছাড়াও পারফর্ম করেন টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীরা। বিকাল থেকেই শুরু হওয়া কনসার্ট চলে রাত পর্যন্ত।
এর আগে দুপুর থেকে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে জেমসের ভক্তরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়া শুরু করেন।
আয়োজক কমিটি জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপি ও আয়োজক কমিটির নেতারা।
টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ার মারুফ হাসান বলেন, মঞ্চে জেমস মানেই যেন অন্যরকম উন্মাদনা। দর্শকদের পাগলামো আর হৈ-হুল্লোড়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রকস্টারও মেতে উঠেন।
শহরের আকুর-টাকুর পাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ আজগর আলী বলেন, ইতোপূর্বে টাঙ্গাইলে এত দর্শক নিয়ে কেউ প্রোগ্রাম করতে পারেনি। মঙ্গলবার শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
কলেজছাত্র সুমাইয়া রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে আসতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। গুরু জেমসের গান শুনে তা পূরণ হয়েছে। জেমস টাঙ্গাইলে এসে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন।
চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের শিল্পীদের ব্যান্ডিং করার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম আমরা হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিন্দুবাসিনী চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। আমাদের প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে- সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর পরে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্যাসিবাদ বিদায়ের জন্য সকলে মিলে ভূমিকা পালন করেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আদর্শিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে।
আরমান কবীরঃ শতাব্দি প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের বর্তমানে বেহাল দশা। শহরের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়ক গুলোর সাথে সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রতিবছর শহরে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা পৌরবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটির বেহাল দশা। শহরের যানজট নিরসনে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পরেও দীর্ঘদিনধরে কোন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে ট্রাক-বাসসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে এই সড়কে।
শহরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্লাব রোড। এই সড়কটি মূলত একটি লিংক রোড। যা শহরের ব্যস্ততম জেলা সদর রোড ও ভিক্টোরিয়া রোডকে যুক্ত করেছে। পৌর ভবন থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। এছাড়া এই সড়কটিতে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সারাবছর এই সড়কের একটি অংশ পচা ড্রেনের পানিতে ডুবে থাকে।
শহরের মালঞ্চ সিনেমা হল-সাহাপাড়া-বাজিতপুর সড়কটি বৃষ্টি হলেই পানির নিচে ডুবে যায়। যে কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এছাড়া জমে থাকা ড্রেনের পানি গিয়ে ঢুকে পড়ে বসত বাড়িতে। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এইসব এলাকায় বেশি দেখা যায়।
এছাড়া শহরের জেলা সদর হয়ে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটির খুবই বেহাল দশা। নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট এড়াতে অনেকেই এই সড়কটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই সড়কে কোন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে চায়না। ফলে শহরের ১ ও ২ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ জেলার উত্তর অংশের মানুষদের শহরে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । এই সড়কটি জেলা গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন।
এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ থেকে মেসের মার্কেট পর্যন্ত সড়কটি ভেঙেচুরে বর্তমানে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিকল্প সড়ক হিসেবে হাউজিং এস্টেটের সড়ক ব্যবহার করে অনেকটা ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের দিঘুলিয়া নিজাম উদ্দিন সড়কের শাহ্ আলমের বাড়ি থেকে কাজীবাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা। সড়কটিতে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এরফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী জহির সুমন বলেন, এই সড়ক ব্যাবহার করে দুটি প্রাইমারি স্কুল ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি ডুবে যাওয়ার ফলে, তাদের বিদ্যালয় যেতে চরম সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা এই সড়কটি ব্যবহার করে, শহরে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের শহরে আসার একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়কটির দ্রুত উন্নয়নের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
টাঙ্গাইল কোর্টের আইনজীবি জসীমউদ্দীন বলেন, আদালত প্রাঙ্গনের রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে রাস্তাটির সলিং উঠে গিয়ে রড বেড় হয়ে গেছে। বের হয়ে থাকা এইসব রডের সাথে বেজে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া এই সড়কে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তা মেরামতের সাথে সাথে রাস্তার ড্রেন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া এলাকার নিক্সন খান বলেন, বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, পৌর শহরের অধিকাংশ সড়ক বর্তমানে ব্যাবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহরে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতার তৈরি হয়। টাঙ্গাইল শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই সরকারি আমলা। তাদের জনসম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। ফলে তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত এমন প্রশাসক নিয়োগ দিলে শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাকরি।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, জেলা সদর থেকে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটি গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের বাজেট না থাকায় টাঙ্গাইল পৌরসভাকে রাস্তাটি মেরামতের অনুরোধ করা হয়েছে। শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মেরামতের বাজেট টাঙ্গাইল পৌরসভা মন্থনালয়ে প্রেরণ করেছে। আশাকরি অতিদ্রুতই রাস্তাটির মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল ও পৌরসভার প্রশাসক শিহাব রায়হান বলেন, রাস্তাগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। পর্যায়ক্রমে দ্রুত রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নতকরন করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বড় ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির এবং তার ভাই জাহিদুল ইসলাম খোকা।
মনির ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার ভাই জাহিদুল ইসলাম খোকা ইতালি প্রবাস ফেরত এবং তিনিও এই দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
রবিবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার জিগাতলা ঈদগাহ্ মাঠে তাদের বড় ভাই নাজমুল হক ওরফে তারা মেম্বারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কুকাদাইর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে জানাজায় মনিরুজ্জামান মনির ও জাহিদুল ইসলাম খোকাকে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ডেভিল হান্ট নামক অভিযানে নাশকতার মামলায় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। সেই আতঙ্কে মনির ও খোকাও আত্মগোপনে রয়েছেন।
শনিবার (১০ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমুল হক তারা মেম্বার মৃত্যুবরণ করেন। রবিবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও স্থানীয় মুসল্লিদের অনেকেই জানাজায় অংশ নেন, তবে আত্মগোপনে থাকা দুই ভাই জানাজায় আসেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হকের ছেলে অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন বাবু জানান, গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে তার দুই চাচা—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও ইতালি প্রবাস ফেরত জাহিদুল ইসলাম খোকা জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
আরমান কবীর: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “আওয়ামী লীগ কচুর পাতার পানি নয়”।সেটা সিদ্ধ হবে, না নিষিদ্ধ হবে; রায় দেয়ার মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা জিনিস বুঝতে হবে শেখ হাসিনার দল, মাওলানা ভাসানীর তৈরি করা দল, বঙ্গবন্ধুর লালন পালন করা দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনেছে; সেটা সিদ্ধ হবে, না নিষিদ্ধ হবে; রায় দেয়ার মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ।’’
রবিবার (১১ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতীহাটি গ্রামে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘‘কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলেই নিষিদ্ধ হয়ে যায় না; জনগণ যদি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অনুমোদন দিলেও সেই দল দাঁড়াতে পারে না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিচার হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু কোনো পরিষদ সিদ্ধান্ত নিলেই সেটা কার্যকর হবে বা সেটাই শুদ্ধ, সেটা ঠিক না।’’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ, কালিহাতী উপজেলা যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম নাজমুল আলম ফিরোজ, বল্লা ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি মোস্তফা আনসারী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে এক স্কুল ছাত্রী ও এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ।
শুক্রবার (৯ মে) রাত ১টায় ঘাটাইলের দেওপাড়া ইউনিয়নের যুগিয়া টেঙ্গর এলাকা ও শনিবার (১০ মে ) সকালে সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, স্কুলছাত্রী মোছা. আঁখি আক্তার (১৪) ও বৃদ্ধা কাজলী বেগম (৬০)।
আঁখি ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আয়েজ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলী বেগম সখীপুর উপজেলার কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
দেওপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখি মেধাবী ছাত্রী ছিল। রাতে সে পড়তে বসেছিল, এর মধ্যে টেবিলের নিচে থাকা একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। তীব্র ব্যথায় আঁখি চিৎকার করলে রাতেই তাকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেমন না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। কিন্তু পথেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকের বরাতে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখির পায়ে বিষধর সাপের কামড়ের দাগ ছিল।
এদিকে, কাজলী বেগমের ছেলে হোসেন আলী জানান, তার মা সকালে পানি আনতে ঘরের পাশে নলকূপে যান। সেখানে একটি সাপ তার বাঁ হাতে ছোবল দেয়। এতে তার দুই আঙুলে সাপের দাঁতের দাগ বসে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি ছেলেকে জানান।
ছেলে হোসেন আলী আরও জানান, মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে আমি সাপ দেখতে পারি নাই। কিন্তু হাতে সাপের কামড়ের দাগ দেখে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। তারপরও মাকে বাঁচাতে পারলাম না।
তিনি জানান, সাপে কামড়ের দেড় ঘণ্টার মধ্যে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই নারী মারা গেছেন। তার বা হাতের দুটি আঙুলে ক্ষতচিহ্ন দেখে বিষধর সাপের কামড় বলেই মনে হয়েছে। বিষয়টি থানায় জানিয়ে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
আরমান কবীরঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতা।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে তারা। পরে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ জাবেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারদিন ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, আওয়ামী লীগকে অতিদ্রুতই নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন পর্যন্ত কি কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো না তা আমরা জানতে চাই। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অনেকেই এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে ইশীকা আরাত (২০) নামের এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরাতন বটতলা মুরগির বাজার এলাকার এক বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
নিহত ঈশীকা আরাত পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। সে বটতলা এলাকার মালেক ভূঁইয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন।
বাগান বাড়ি এলাকার স্থানীয়রা জানান, ঈশীকার ৩ বছর আগে হাজরাঘাট এলাকার রিয়াদ খানের সাথে বিয়ে হয়েছিল। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। তাদের সংসারে বনি-বনা না হওয়ায় এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে বাগান বাড়ি এলাকার একটি ছেলের সাথে তার আবারও বিয়ে হয়। সে সংসারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পূর্বে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। যে কারণে সে বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেমরাজুল ইসলাম রুবেল একতার কণ্ঠ-কে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরমান কবীরঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে ফিরোজ তালুকদার পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
পলাশের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের ঘাটান্দি গ্রামে। তিনি মরহুম সোহরাব হোসেন ও বেনু বেগমের ছেলে।
সম্প্রতি শহীদ পলাশের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেট্রো চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।
এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (৭ মে) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলামসহ তদন্ত কর্মকর্তা পলাশের লাশ উত্তোলন করতে গেলে মামলার বাদী পলাশের স্ত্রী রেশমা সুলতানা লাশ না তোলার জন্য আবেদন করেন।
এ সময় পলাশের বৃদ্ধা মা বেনু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ছেলের লাশ কবর থেকে উত্তোলনে বাধা দেন। ফলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ তার লাশ উত্তোলন না করে ফিরে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশক্রমে শহীদ পলাশের লাশ উত্তোলন করতে চাইলে মামলার বাদী পলাশের স্ত্রী রেশমা সুলতানার আবেদন ও পলাশের মা সহ স্বজনদের আপত্তির কারণে লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টি মহামান্য আদালতকে অবগত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্তরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি আসার পথে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুলিতে ফিরোজ তালুকদার পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
এরপর তাকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের নিজ গ্রাম ঘাটান্দি এলাকায় দাফন করা হয়। তিনি রাজধানীর ঢাকার মিরপুর ১২ নম্বরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং রংপুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন। তার এক মেয়ে রয়েছে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পলাশ ছিল বড় এবং তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গল থেকে অধীর সূত্রধর (৬৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের পীরগাছা এলাকার সেগুনবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অধীর সূত্রধর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কোনাবাড়ী এলাকার গোপি সূত্রধরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
অধীর সূত্রধরের ভাতিজা মুকুল সূত্রধর জানান, তার চাচা গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন বাড়ি না ফেরায় তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বনের মধ্যে ঝুলন্ত একজনের মরদেহ দেখে তিনি চাচাকে শনাক্ত করেন। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, স্থানীয় লোকজন জঙ্গলে গরু চড়াতে গিয়ে সেগুনবাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে তিনি জানান।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রায়হান (২৮) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর তিনটার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম ইব্রাহিম (৩৫)। সে কালিহাতী উপজেলার রামপুর হাটিপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।
ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার ২নং আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাতে কালিহাতী উপজেলার রামপুর কুকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে রায়হানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় ইব্রাহিম ও তার সহযোগীরা। নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রাব্বি (১৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী৷
মঙ্গলবার (৬ মে ) বেলা ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল-শালগ্রামপুর আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কাজিবাড়ী গোরস্থান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে। সে দেশের বাহিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, মোটরসাইকেল আরোহী একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে ইফাত (২০) ও ইমান আলীর ছেলে জাহিদ (১৫)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেল যোগে কাজিবাড়ী থেকে রামপুর যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীন সময় রাব্বি মৃত্যুবরণ করে। আহত অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।
নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’
নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।