একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে এক সপ্তাহ আটকে থাকা একটি বিড়ালকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত সরকারি শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব মহিলা কলেজের চারতলা একটি ভবনের সানশেডে আটকে থাকা বিড়ালকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ ধরে বিড়ালটি ওই ভবনের সানশেডে আটকে ছিল। পরে পাশের ভবনে থাকা ওয়াহিদ আকরাম সুবিন শুক্রবার বিকালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসের সাড়া না পেয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি বিড়ালটি উদ্ধারে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চান। তারপরও সাড়া দেয়নি টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস।
বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মন্তব্যে বিশিষ্ট কবি বুলবুল খান মাহবুব লেখেন ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করবে না কেন, তাদের কাজ কি শুধু আগুন নেভানো।
এনিমেল রেস্কিউ অব টাঙ্গাইল গ্রুপের মুনিয়া ইতু ও ইথিকা ইমু বলেন, ভিডিওটি দেখে খুব মায়া লাগে বিড়ালটির জন্য। পরে ফায়ার সার্ভিসকে অনুরোধ করা হয়। প্রথমে তারা নেতিবাচক থাকলেও পরে রাজি হয়। তারা এসে আটকাপড়া বিড়ালটিকে উদ্ধার করেছে।
টিম এনিমেল লাভার্স গ্রুপের মো. জাকির বলেন, বিড়ালটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিক নওশাদ রানা সানভী বলেন, আশা করছিলাম ফায়ার সার্ভিস অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেবে। কিন্তু তারা প্রথমে বিড়ালটিকে উদ্ধারে রাজি হয়নি। একটু দেরি হলেও উদ্ধার করেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করি, সকল প্রাণীর বিপদে তারা তাৎক্ষণিক পাশে থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদী খনন প্রকল্পের কাজ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কালিহাতী থানা পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে।
শনিবার(১২ ফেব্রয়ারি) দুপুরে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ-নুরুল ইসলাম মেম্বার ও সাবেক মেম্বার সুলতান গ্রুপের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে সুলতান গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ-নুরুল ইসলামের বালুরঘাটে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে মাসুদ গ্রুপের লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সাবেক মেম্বার সুলতান ও তার ভাইয়ের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় মাসুদ গ্রুপের লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পুলিশ দুই গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার সুলতান জানায়, জোকারচর এলাকার মাসুদ সরকার ও নুরুল ইসলাম মেম্বারের লোকজন আমার এবং আমার ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে। আমার ঘরের ভিতরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।
অপরদিকে মাসুদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, বালুর ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুলতান মেম্বারের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা একটি সাজানো নাটক।
কালিহাতীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান,জোকারচর এলাকায় বালুরঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় দুই গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নুরভানু (৫৮) নামে এক বৃদ্ধা নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার(১২ফেব্রয়ারি) সকালে উপজেলার দুয়াজানী গ্রামে ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নুরভানু নাগরপুর সদর উপজেলার দুয়াজানী গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুয়াজানী গ্রামের আব্দুল মিয়া তিন ছেলে সন্তান রেখে প্রায় ১২ বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী নুরভানু পুনরায় পাশের ভঙ্গবকুটিয়া গ্রামের তিন সন্তানের জনক বাবুল মিয়াকে বিয়ে করে দুয়াজানীর নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। শনিবার বাবুল মিয়া সকালে কৃষি জমিতে কাজ করতে যান। এসময় তার স্ত্রী নুরভানু বাড়িতে সকালের রান্নার কাজ কাজ করছিলেন। কে বা কারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে রান্নার চুলার পাশেই ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত নুরভানুর স্বামী বাবুল মিয়া বলেন, সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সার নিয়ে চলে যাই। স্ত্রীর হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে রান্না ঘরের সামনে আমার স্ত্রীর রক্তাক্ত মৃতদেহ পরে থাকতে দেখি।
নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও লাশের ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের ছেলে ও ছেলের বৌ এবং নিহতের স্বামীসহ কয়েক জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সদ্য নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ম্যুরালের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজের সামনের দৃষ্টিনন্দন মোড়ে ওই ম্যুরালের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু, তানভীর হাসান ছোট মনির, খান আহমেদ শুভ এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, অপরাজিতা হক এমপি, জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
গত ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনে ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে এই শেখ রাসেলের ম্যুরালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি।
পরে কৃষিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা ও টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভর সংবর্ধনায় যোগ দেন।
একতার কণ্ঠঃ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এডিপিভুক্ত শতভাগ প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ সম্পর্কিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), বিসিএস পাবলিক ওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিুকল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক (প ও স সার্কেল) প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম, এলজিইডি’র নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আইইবি টাঙ্গাইল উপকেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সাইদ আল খালিদ সোপান, সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজল কুমার সরকার, সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী তাজিন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পালপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার( ৯ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় শিশুসহ চারজন আহত হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জামুর্কী ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শংকর পালের সাথে প্রতিবেশী মৃত সুনীল পালের ছেলে তন্ময় পালের(২২) বাড়ীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।
ওই বিরোধের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় শংকর পাল বাড়িতে না থাকায় তন্ময় তার মা অনিতা পাল (৪৭) ও একই এলাকার গনেশ পালের ছেলে সুভাষ পালসহ আরো ৪ থেকে ৫জন অজ্ঞাত লোক এসে বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্নালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় শিশুসহ ৪ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন, শংকর পালের স্ত্রী জোসনা পাল (৪৫), ছেলে দুর্জয় পাল (১৮), মেয়ে স্বপ্না পাল (২৩) ও নাতনী অধরা পাল (৫)।
গুরুত্বর আহত জোসনা পালকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মির্জাপুর কুমুদিনি হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বাকী আহতরা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হামলার শিকার আহত দুর্জয় পাল জানান, বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিবেশীর আত্নীয় প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের উপর হামলা করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। হামলার পর আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লুৎফর রহমান বলেন , ঘটনাটি পারিবারিক, বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ভাবে বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় শর্ত সাপেক্ষে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান মুক্তির অন্তবর্তী কালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম।
অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রাণী দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ ছিল। তবে স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সুচিকিৎসার দাবিতে আসামীর জামিন আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম ও বাদি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে বিচারক শর্ত সাপেক্ষে মুক্তিকে অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন মঞ্জুরের সময় মুক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার পরবর্তী তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই ও বাবা আতাউর রহমান খান একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে দেওয়া ওই দুজনের স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর অন্য দুই ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এখনো পলাতক রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ বৃহস্পতিবার(১০ ফেব্রয়ারি) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ী নাগরপুর উপজেলায়। এই মৃত্যু নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬৩ জন।বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ২৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ৪৬ জনের করোনা সনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শতকরা ১৫ দশমিক ৬৯ ভাগ।
এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৬৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ১৭ হাজার ২০৭ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৮ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, সখীপুরে ৩ জন, মির্জাপুরে ৪ জন, বাসাইলে ২ জন, কালিহাতীতে ১ জন, ঘাটাইলে ২ জন, ভুঞাপুরে ১ জন, ও গোপালপুর উপজেলায় ১১ জন সহ মোট ৪৬ জন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান সকলকে করোনা প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য বিধি মেনে পথচারীদের মাস্ক পরে চলাচলের আহ্বানও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলায় মোমিনুল রহমান(৪২) নামে এক ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী গুরুত্বর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। বুধবার(৯ ফেব্রয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বেড়াডোমা ডাইভারশন সেতুর উপর ওই হামলার শিকার হন তিনি।
মোমিনুল টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের পার-দিঘুলিয়ার মৃত আজিজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেড়াডোমা সাবান ফ্যাক্টরির কাছে অবস্থিত ইউজার চয়েজ ক্যাবল ও ইন্টারনেট অফিস থেকে প্রতিদিনের মতো ব্যবসায়ী মোমিনুল তার পার-দিঘুলিয়ার বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বেড়াডোমা ডাইভারশন ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছাতেই কয়েকজন মুখোশধারি সন্ত্রাসী তার উপর বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় তার ডান হাত, মাথা, ডান পা ও নাক গুরুত্বর জখম হয়। তার ডান হাতের তিনটি আগুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া কোপের আঘাতে তার নাক কেটে ঝুলে যায়।তার ডান পায়ের রানের উপর আঘাতও গুরুত্বর । গুরুত্বর আহত অবস্থা তিনি হেঁটে কোন রকমে বেড়াডোমা বেবিস্ট্যান্ডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ মেডিসিন সপের সামনে গিয়ে পরে যায়। পরে আহতের ভাই মামুন ও মামুনের বন্ধু আলাউদ্দিন মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অপরেশন থিয়েটারে নিয়ে জরুরী অপারেশন করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
মনিমুলের বড়বোন কামরুন্নাহার বলেন, হামলার খবর পেয়ে তার ভাই মামুন ও তার বন্ধু আলাদিন মোমিনুলকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হামলাকারিরা মুখোশ পরে থাকায় কাউকে চিনতে পারা যায়নি। ঘটনার পর হামলাকারিরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মমিনুলের বড় ভাই মাহবুব চৌধুরী মনি বলেন, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে বুধবার রাতেই মোমিনুলের জরুরি অপারেশন করা হয়েছে।তিনি বর্তমানে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।মমিনুলের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাই তারা আইনগত কোন ব্যবস্থার দিকে যায়নি। অবস্থার উন্নতি হলে তারা আইনগত প্রক্রিয়া যাবেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ( ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, বুধবার রাতেই ঘটনাটি জেনে ঘটনাস্থল ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তবে আহতের পরিবার থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ও বেকড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্লাস্টিকের হস্তশিল্প তৈরির পল্লী গড়ে উঠেছে। আর এর মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। দেশের টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাতীয় ওয়ানটাইম বেল্ট থেকে এ হস্তশিল্পের তৈরি হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মালিকানাধীন কারখানা।
এ সকল কারখানার মালিকরা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাতীয় বেল্ট কিনে নিয়ে আসেন, এই প্লাস্টিক দিয়ে গ্রামীণ নারী-পুরুষ মিলে তৈরি করেন- সিলিং, ডোল কিংবা বেড়া।
এ সকল পণ্যের চাহিদা রয়েছে সারাদেশেই, স্থানীয় হাট-বাজার ছাড়াও কারখানা থেকে তাদের তৈরি পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এ ডোল বেড় এর চাহিদা একটু বেশি। সারা বছর তৈরি করা পন্যর চাহিদা হলেও বছরে অন্যান্য সময়ে কারখানা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাতীয় বেল্ট দিয়ে কারিগররা তৈরি করেন, ঘরের সিলিং, বেড়াসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র।
প্লাস্টিকের তৈরি হলেও এ আসবাবপত্রগুলো দেখতে বাঁশ ও বেতের তৈরীর মতোই মনে হয়, টেকসই ও মজবুত হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। গ্রামীণ জনপদের নারী-পুরুষ সামান্য প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি করছেন এমন পণ্য। তাদের তৈরি এ পণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়, এতে করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ শিল্পকে ঘিরে।ফলে সংসারে অভাব-অনটন অনেকটাই লাঘব করতে সক্ষম হচ্ছেন নারীরা, এই শিল্পের মাধ্যমে পাল্টে যাচ্ছে তাদের পারিবারিক চিত্র।
বারাপুষা গ্রামের ইসহাক মেম্বার জানান, তার কারখানায় মোট ৮০ জন শ্রমিক কাজ করছে। তবে প্রায় কর্মীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতেই এ কাজগুলো করে নিয়ে আসে, কারখানায় এসকল কর্মীরা গড়ে ১৫/২০ পিস করে চেগার(আকার ভেদে) ও একজন কারিগর একটি করে ডোল বানাতে পারে।
তিনি আরও জানান, সিলিং প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, চেগার বিক্রি করেন ১১০ টাকা কেজি ধরে।
এ শিল্প কাজের সাথে জড়িত কয়েক জনের সাথে কথা বললে জানা যায়, তাদের উৎপাদিত পণ্য বেশ চাহিদা থাকলেও অর্থের অভাবে সরবরাহ করতে পারছেন না ক্রেতার চাহিদা মতো পণ্য। তবে ব্যাংক কিংবা কোন এনজিও প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে হয়তো এ শিল্প-কারখানা আরো প্রসারিত করা সম্ভব হতো বলে জানিয়েছেন কারিগররা।
টাঙ্গাইল বিসিকের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আল ফারুক জানান, এ শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা চাইলে বিসিক এর পক্ষ থেকে এ শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান জানান, এ শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ বুধবার(৯ ফেব্রয়ারি) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ী সদর উপজেলায়। এই মৃত্যু নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬২ জন। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৭০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ৭০ জনের করোনা সনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শতকরা ২৫ দশমিক ৪৫ ভাগ।
এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৬৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ১৭ হাজার ১৬৫ জন। সর্বমোট মারা গেছে ২৬২ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩৫ জন,ধনবাড়ীতে ১৩ জন ,নাগরপুরে ১জন, বাসাইলে ৯ জন, কালিহাতীতে ৫জন, ঘাটাইলে ৫জন ও ভূঞাপুরে ২জন নিয়ে মোট ৭০ জন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নাঈম হাসান (১৮) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার(৯ ফেব্রয়ারি) সকালে উপজেলার কচুয়া-আড়াইপাড়া সড়কের ঘোনারচালা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম কচুয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বিশা মিয়ার ছেলে।
নিহতের পারিবার সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে নাঈম মোটরসাইকেল যোগে কচুয়া বাজারে আসার পথে কচুয়া আড়াইপাড়া সড়কের ঘোনারচালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিপরীত দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা নাঈমকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কালিয়াকৈর এলাকায় পৌঁছলে তার মৃত্যু হয়।