একতার কণ্ঠঃ নানা আয়োজনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
২৬ মার্চ (রবিবার) সূর্য উদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনেরমধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ভাষ্কর্য প্রত্যয়’ ৭১ ও বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
এছাড়া শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এসোসিয়েশন, ৩য়শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, ৪র্থশ্রেণী কর্মচারী সমিতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ভাসানী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাঁধন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যয়’ ৭১এর পাদদেশে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে ইএসআরএম গ্যালারীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শণী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং ক্যাম্পাসের মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
সকল কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন,রেজিস্ট্রার, চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) টাঙ্গাইল জেলা শাখা।
২৬ মার্চ (রবিবার) সকালে শহরের শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন ।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন খান, সহ-সভাপতি সেলিনা তালুকদার, অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, সুলতানা বিলকিছ লতা সহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
পরে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার।
নিহত স্কুলছাত্ররা হলো-উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের সুভাষ পালের ছেলে সুজয় পাল (১৬) ও রঞ্জিত পালের ছেলে লিখন পাল (১২)।
সুজয় গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণি ও লিখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সুজয় ও লিখনসহ ৬ থেকে ৭ জন বন্ধু মিলে বেলা ১২টার দিকে বাড়ির পাশে যমুনা নদীতে গোসল করতে যায়। নদীতে নেমে তারা পানিতে ডুব খেলা করছিল। এক পর্যায়ে বড় ভাই সুজয় নদীর গভীরে গিয়ে পানিতে ডুবতে শুরু করে। এ সময় সুজয়ের চাচাতো ভাই লিখন তাকে উদ্ধার করতে গেলে সেও পানিতে ডুবে যায়। তখন বাকী বন্ধুদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা আহতাবস্থায় দুই চাচাতো ভাইকে নদী থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সুমাইয়া জান্নাত জানান,, দুইজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান,মরদেহের সুরতহাল শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
২৬ মার্চ, রবিবার, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
পরে শহরের শহিদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পন ও শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সমাবেশ, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসি সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০ টায় শহিদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ, পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এদিন বাদ যোহর জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবা যত্ম কেন্দ্র সমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর প্রেসক্লাব গ্রন্থাগার কে সমৃদ্ধ করতে ৫ শতাধিক বই হস্তান্তর করলো এক যুগ বয়সী অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘মধুপুরবাসী ফেইসবুক গ্রুপ’।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) বিকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বই হস্তান্তর হয়।
মধুপুরবাসী ফেসবুক গ্রুপ আয়োজিত বই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ের গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি এবং গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক কো অর্ডিনেটর ড. আবু হাদী নুর আলী খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. উত্তম কুমার দাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বজলুর রশীদ খান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সহসভাপতি অধ্যাপক আবদুল আজিজ, আবদুল লতিফ, এস এম শহীদ প্রমুখ।
আয়োজক সংগঠনের মর্ডারেটর খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ সজীব মধুপুরবাসী ফেইসবুক গ্রুপের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও বিগত ১২ বছরের সাংগঠনিক কর্মকান্ড, মানবিক ইভেন্টের চিত্র তুলে ধরেন। এতে আর্থিক মূল্যমানে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মানবিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধুপুর প্রেসক্লবের গ্রন্থাগার ও মধুপুরের সাংবাদিকদের সমৃদ্ধ করতে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল সংগঠন মধুপুরবাসী ফেইসবুক গ্রুপ বিশেষ ইভেন্ট ঘোষণা করে। সংগঠনের নির্বাহী প্রধান জাপান প্রবাসী হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে দেশ ও বিদেশে অবস্থান করা সচেতন নাগরিকদের কাছ থেকে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিশেষ প্রকাশনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বই মাস ব্যাপি সংগ্রহ করা হয়। ৫শ ৮৪ টি বই সংগ্রহ শেষে স্বাধীনতার মাসে এগুলো তারা মধুপুর প্রেসক্লাবে হস্তান্তর করে।
একতার কণ্ঠঃ ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ মার্চ) বিকালে ওয়ান বাংলাদেশের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রত্যয়’ ৭১ এর সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান , ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে ২৫শে মার্চ কালরাত্রি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচির আয়োজন করার কথা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল রেল সড়কের মির্জাপুর রেল স্টেশনের অদূরে দুটি ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের চালক তৌহিদুজ্জামানসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) দুপুর ও রাতে মির্জাপুর ট্রেন স্টেশন এলাকার বাওয়ার কুমারজানি পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস নামক দুটি ট্রেনে ওই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত চালক তৌহিদুজ্জামান রেলওয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা মির্জাপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানান মির্জাপুর রেল স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান।
ঢাকা থেকে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলৎপুর গ্রামের আব্দুস ছবুরের ছেলে ইলিয়াস সরকার।
আহত এই ট্রেনযাত্রী জানান, শুক্রবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ঢাকার কমলাপুর থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে ওই ট্রেনে উঠেন।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মির্জাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে আচমকা পাথর এসে তার কপালে আঘাত করে এবং কপাল ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। এ ঘটনায় তার পাশের আরও ৪ যাত্রী আহত হন বলে জানান তিনি।
ওই সময় ট্রেনে অবস্থানকারী পাকশী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের ট্রেনেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিন বেলা ৩টার দিকে কলকাতা থেকে ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি মির্জাপুর স্টেশন এলাকায় পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা ওই ট্রেনে পাথর ছোড়ে। এ ঘটনায় ওই ট্রেনের চালক তৌহিদুজ্জামান গুরুতর আহত হন বলে জানান মির্জাপুর ট্রেনস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান।
তিনি আরো জানান, শনিবার (২৫ মার্চ) তার (চালকের) চোখে অস্ত্রপচার হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের খবর পেয়ে শনিবার (২৫ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ, টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফজলুর রহমান ও মির্জাপুর থানা পুলিশ। তারা পৌর কাউন্সিলর আজম সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান, রওশনারা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর সাইজুদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন তরুণ-যুবকদের নিয়ে বৈঠক করেন।
ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেন নি। তবে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কাফনের কাপড় মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আউলটিয়া বেতবন থেকে নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করা হয়। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা বাংড়া ইউনিয়নের আউলটিয়া এলাকায় বেতবাগানে আনুমানিক এক দিন বয়সী একটি নবজাতকের লাশ সবার অগোচরে কে বা কারা ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা কাফনের কাপড় মোড়ানো নবজাতকের লাশটি দেখতে পেয়ে কালিহাতী থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কে বা কারা মৃত নবজাতকের লাশ ফেলে রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। ২৫ মার্চ শনিবার সকালে জেলা সদরে অবস্থিত বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সকালের প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন,পৌরসভা, প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার।স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শামীম আরা রিনি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অরিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুউদ্দীন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীক ও খন্দকার জহুরুল হক ডিপটিসহ অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন-ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের কামারকুমুল্লী গ্রামের জয়গন বেগমের অবস্থা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের কাদম্বিনীর মতো । ৬৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা বিধবা ভাতা উঠাতে গেলে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাকে জানানো হয়, ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ তার জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি মৃত। পরে নির্বাচন অফিসে খোঁজখবর নিলে জানতে পারেন হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। সেই থেকে এই বিধবা নারীর বিধবা ভাতা বন্ধ রয়েছে।
শুধু জয়গনই নন, উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে হালনাগাদ করা ভোটার তালিকায় বিপুলসংখ্যক জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানা কাজে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের ভুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এই সব ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে উপজেলার ২৭ জন মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়েছেন। আরও ২০৩ জনের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে!
জয়গনের নাতি রুমা (২৫) আক্তার জানান, নির্বাচন অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছ প্রত্যয়নপত্র নিয়ে দাদিকে সশরীরে নির্বাচন অফিসে গিয়ে প্রমাণ করতে হয় তিনি জীবিত আছেন।
আলমনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন জানান, নির্বাচন অফিস থেকে যাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। ফলে এই ইউনিয়নের অনেক জীবিতকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আলমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্যে ভুলের বিষয়টি আমি জানি। নির্বাচন অফিস থেকে ডেটাবেজে ভুল করেছে। ভুক্তভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে এমন ভুলগুলো সংশোধনে সহযোগিতা করছি।
গোপালপুর পৌরসভার মেয়র মো. রকিবুল হক সানা জানান, যাদের ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা পৌরসভায় যোগাযোগ করলে আমরা ঠিক করে দিচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা সবাই ছিলেন স্কুলশিক্ষক-শিক্ষিকা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেন তারা। তাদের কাজের নিয়মাবলি শিখিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। জীবিতদের মৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তিনি আরও জানান, ২০০৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উপজেলায় ২৭ জন ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে। যাদের জীবিত অবস্থায় তথ্য হালনাগাদে মৃত দেখানো হয়েছে, তারা জীবিত ফরমে আবেদন করলে সেগুলো সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান,এ ছাড়া ২০২২ সালের তথ্য হালনাগাদে আরও ২০৩ জনের তথ্যে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলে এদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আসফিয়া সিরাত জানান, বিষয়টি জেনেছি এবং নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মোট ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ২২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৭১২ জন।
একতার কণ্ঠঃ রমজানের প্রথম দিনে এতিম শিশুদের সাথে ইফতার করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
শুক্রবার (২৪ মার্চ)সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।ইফতার মাহফিলে সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা)৯১ জন বাসিন্দা অংশ নেন।
এ ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আইরিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) নাফিসা আক্তার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহআলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার প্রমুখ।
একই সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর এলাকার বাগান বাড়িতে সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাশেম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর রিনা বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকালে করটিয়া জমিদার বাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার স্বামী মনির হোসেন পলাতক রয়েছে।
নিহত রিনা বেগম করটিয়া ঢুলিপাড়া গ্রামের মো. ফারুক হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়, ৪ বছর পুর্বে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পুর্বপাড়ার মো. রাজনের ছেলে মনির হোসেনের(২৫) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রিনা বেগমের। তাদের ঘরে ১১ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোমবার (২০ মার্চ) গভীররাতে তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে স্বামী মনির এলাকায় প্রচার চালায়। শুক্রবার সকালে জমিদারবাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর পাড়ে হাটাহাটির সময় পুকুরে পাঁ ভেসে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠে স্থানীয় এক কিশোর। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করলে রিনার লাশ বলে সকলে শনাক্ত করে তার স্বজনরা। লাশ উদ্ধারের পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত রিনা বেগমের স্বামী মনির অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি আরো অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রী অন্যকোন ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। কথাটি আমরা কেই বিশ্বাস করিনি।
তারা আরো জানান, তখন থেকেই আমাদের সন্দেহ ছিলো। কারন আমরা রিনা বেগম সর্ম্পকে জানতাম। সে অত্যান্ত নম্র-ভদ্র ও সংসারী মেয়ে ছিলো। তাছাড়া ১১ মাসের শিশু বাচ্চা রেখে রিনা পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার মত মেয়ে না। লাশ উদ্ধারের পরপরই স্বামীসহ পরিবারের সকলেই পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।