একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপি’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের প্রথমদিনে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের অবরোধ বিরোধী মিছিলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদ রোডস্থ জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন ইয়াকুবের মোটরগ্যারেজের সামনে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, টাঙ্গাইলে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল ফকির (৫৫) ও তার ছেলে ইব্রাহিম ফকির (২৩) এবং ওই ওয়ার্ডের সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দ সোনার মামাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে বিএনপি’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ বিরোধী মিছিল করতে ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. হুমায়ুন আকন্দ সোনা এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল ফকির তাদের অনুসারীদের নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে অবরোধ বিরোধী মিছিল শেষে ফেরার পথে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকিরের অনুসারীরা সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দ সোনার মোটরসাইকেল বহরের কর্মীদের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এতে দুই পক্ষের কয়েকটি মোটরসাইকেল রাস্তায় পড়ে কয়েকজন কর্মী সামান্য আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমঝোতা করে দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই ঘটনার জের ধরে আদালত প্রাঙ্গণে ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকিরের কথিত সেরেস্তার সামনে সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দের (সোনা) মামাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ আকন্দকে আটকে রেখে মারপিট করে।
খবর পেয়ে সভাপতির অনুসারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলাল ফকিরের অনুসারীদের উপর হামলা করে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকির ও তার ছেলে ইব্রাহিম ফকির এবং সভাপতির মামাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ আহত হয়।
এ প্রসঙ্গে আহত টাঙ্গাইলে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল ফকিরের মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দ সোনা জানান, অবরোধ বিরোধী দলীয় মিছিলে তিনি শতাধিক মোটরসাইকেলসহ অনুসারীদের নিয়ে অংশগ্রহন করেন। প্রথম ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পৌর মেয়র সমাধান করে দেন। তিনি বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষরা তার উপর হামলা করে। পরে তাকে রক্ষা করার জন্য তার অনুসারীরা পাল্টা হামলা করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ আকন্দ সোনা ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ইতোপূর্বে সাধারণ সম্পাদকের ছেলে ইব্রাহিম ফকির একই ওয়ার্ডের সভাপতির ভাতিজাকে কুপিয়ে আহত করে। ওই ঘটনা থেকে উভয়ের মধ্যকার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির ডাকা ৭২ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিন (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ছিল গণপরিবহন শূন্য। তবে পণ্যবাহী ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঘারিন্দা রেল স্টেশনেও নেই যাত্রীদের চাপ। কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকায় যাচ্ছেন না।
তাই স্টেশনেও যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।
স্টেশনে কথা হয় রাইসুল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে।
তিনি জানান, ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাবেন। নতুন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখেন কোনো বাস ঢাকা যাবে না।
তাই তিনি ঘারিন্দা রেল স্টেশনে এসেছেন ট্রেনে ঢাকা যাবেন। জরুরি প্রয়োজন না হলে তিনি ঢাকা যেতেন না। ওই হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বাধ্য হয়ে ঢাকা যেতে হচ্ছে তাকে।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ও রেল স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। কেউ যাতে কোনো প্রকার নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কটিতে র্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির ৯৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদেরকে নাশকতা ও পূর্বের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত চারদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, জেলার ১২টি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গত চারদিনে ৯৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ। টাঙ্গাইল সদরে ১২ জন, বাসাইলে ৬ জন, সখীপুরে ৪ জন, মির্জাপুরে ৮ জন, দেলদুয়ারে ৯ জন, নাগরপুরে ১৫ জন, কালিহাতীতে ৮ জন, ঘাটাইলে ৬ জন, ভূঞাপুরে ১০ জন, গোপালপুরে ৫ জন, ধনবাড়ীতে ৪ জন, মধুপুরে ১১ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগদানে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এ গণগ্রেফতার করা হয়। হরতাল ও অবরোধে আমাদের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে না পারে সেজন্য এমন গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এটা একটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য বাধা ও অন্যায় বলে দাবি করেন তারা।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। আমাদের কোন নেতাকর্মী বাড়িতে থাকতে পারছে না। সকলের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর জন্য গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে তিনদিনের অবরোধ শুরু হবে। এসব কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন রাজপথে থাকতে না পারে এজন্য পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন বন্ধ করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর অন্যায় ও অত্যাচার করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমাদের চলমান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দীন বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় নাশকতা ও পূর্বের দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা আমাদের নিয়মিত রুটিন ওয়ার্ক। আমরা সারাবছরই বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে থাকি। জেলায় বর্তমানে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। কেউ যেন জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না করতে পারে এজন্য টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সজাগ রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল কোর্ট এলাকায় ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অ্যাডভোকেট বার সমিতির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি এসএম ফাইজুর রহমান ও আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা মিঞা। সমাবেশ পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম জহির।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, টাঙ্গাইল বারের সভাপতি মঈদুল ইসলাম শিশির, এডভোকেট জহুরুল ইসলাম জহির, এমদাদ কবির, শাহ্জাহান কবীর, ওমরাও খান দিপু, আইন উদ্দিন বিপ্লব, মোবারক হোসেন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপি’র ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের যান চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের ও চাকরিজীবী মানুষ। বিকল্প হিসেবে সিএনজি, অটোরিকশা ও অটোভ্যানে গাদাগাদি করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন তারা। তবে এপর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার সমাবেশ থেকে এই সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল না করলেও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। যে কোন বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এ পর্যন্ত কোথাও কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর আশরাফ জানান, শনিবার (২৮ অক্টোবর) মহাসড়কে যানবাহন কম ছিলো, রবিবার (২৯ অক্টোবর) আরও কম চলাচল করছে।
একতার কণ্ঠঃ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঢাকায় আয়োজিত সমাবেশে আসতে বাঁধার মুখে পড়তে হবে জেনে, কয়েক দিন আগেই টাঙ্গাইল থেকে ১০ হাজারেরও বেশি বিএনপি নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বাকিরা শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) এর মধ্যেই পৌঁছে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) সমাবেশে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছে যাওয়া টাঙ্গাইল বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দলীয় হাইকমান্ড থেকে তাদের শুধু স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে একদফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, ঢাকায় প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের নানা অপকৌশলের কথা মাথায় রেখে গত কয়েকদিন আগে থেকেই রেল, বাসসহ বিভিন্নভাবে ঢাকায় যেতে শুরু করেন নেতা কর্মীরা। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তারা মাইক্রোবাসের মতো বাহনে দল বেঁধে যাচ্ছেন না।
ঢাকায় পৌঁছে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। এ ছাড়া গ্রেপ্তার এড়িয়ে রাজধানীতে অবস্থান এবং সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর ব্যাপারে নানা সতর্কতা অবলম্বন করছেন তারা।
টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম জানান, তিনিসহ দলের অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছে গেছেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যাওয়া নেতাকর্মীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। আরও আসছেন। সবাই যার যার নিজ নিজ খরচে এবং নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় আসছেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের শুধু স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে যোগ দিতে আহ্বান করা হয়েছে। সেখান থেকে একদফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিপদ হতে পারে জেনেও মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছি। আসলে এই সরকারের আমলে এত বিপদে আছি যে, আর কি হতে পারে জানালেন জেলার এক বিএনপি কর্মী।
এলাকায় গ্রেপ্তার অভিযানের পাশাপাশি ঢাকায় মহাসমাবেশে না যেতে পুলিশের দেখানো ভয়-ভীতি, আসার পথে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট এবং রাজধানীতে এসে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন অনেক বিএনপি কর্মী।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, দেশে যেন কোন প্রকার নাশকতা না করতে পারে সে জন্য ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাততে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার অবশ্য স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ উপলক্ষে তারা কাউকে গ্রেপ্তার করছেন না। শুধু ডাকাতি রোধে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলার কালিহাতীতে ১ জন, দেলদুয়ারে ২জন, মধুপুরে ২জন, ধনবাড়ীতে ২জন, নাগরপুর উপজেলার ২ জন ও বাসাইল উপজেলায় ১জনসহ মোট ১০জন বিএনপি নেতা কর্মীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে গত বছরের নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্র টাঙ্গাইলে বিনামূল্যে দেখার সুযোগ পেলো শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল কালেক্টরেট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিনামূল্যে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন। এরপর দুপুর দেড়টায় বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্রটি দেখেন। আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দুপুর দেড়টায় মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়; ৩০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দুপুর দেড়টায় পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়; ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় কুমুদিনী সরকারি কলেজ এবং দুপুর দেড়টায় বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়; ১ নভেম্বর সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ এবং দুপুর দেড়টায় নার্সিং মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে চলচ্চিত্রটি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, জেলা কালচারাল অফিসার এরশাদ হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এলেন মল্লিক প্রমুখ।
এ সময় জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ছাড়াও জেলা পর্যায়ে সকল সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের জন্য বিনামূল্যে ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্র দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সিনেমাটি দেখে বঙ্গবন্ধুর জীবন নীতি আর্দশকে দর্শকদের হৃদয়ে লালন করতে পারবো। মুজিব একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি দেখার জন্য পর্যায়ক্রমে উপজেলাগুলোতে বিনা টিকিটে দেখার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ শনিবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় বিএনপি’র মহাসমাবেশে যোগ দিতে টাঙ্গাইল থেকে দলের নেতা-কর্মীরা চলে গেছেন। দলের নেতারা জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল থেকে এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেবেন। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলের মধ্যে ৩-৪ হাজার নেতা-কর্মী ঢাকায় পৌছে গিয়েছেন। এ ছাড়া অনেক কর্মী বিভিন্ন কৌশলে পৌঁছে গেছেন ঢাকায়। কেউ দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, প্রাইভেটকার ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সমাবেশে যাচ্ছেন। শুক্রবারের মধ্যে অন্যরা ঢাকায় পৌঁছাবে।
এদিকে সমাবেশেকে কেন্দ্র করে জেলার ১০জন বিএনপি’র নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
মহাসমাবেশ সামনে রেখে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ করে দেওয়াসহ সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের বাধা ও প্রতিবন্ধকতা এড়াতে আগেভাগেই বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ঢাকায় যাচ্ছেন।
বিএনপি’র নেতারা বলছেন, মহাসমাবেশ কর্মসূচির এক সপ্তাহ আগে থেকে সরকারি দল যে যুদ্ধ প্রস্তুতি দেখাচ্ছে, এর উদ্দেশ্য ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে লোকসমাগম কমানো। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর চূড়ান্ত আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া, যাতে নির্বাচনের আগে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ না পায় বিএনপি।
বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বলেন, ঢাকার সমাবেশে যোগ দিতে এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ইউনিট থেকে নেতা-কর্মীরা ঢাকায় ঢুকতে শুরু করেছেন কয়েক দিন আগে থেকেই। পুলিশি হয়রানির ভয়ে নানা কৌশলে বিভিন্ন যানবাহনে এবং বিভিন্ন রুটে তাঁরা ঢাকায় ঢুকেছেন।
বিএনপি’র নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের তল্লাশিচৌকি বসিয়ে বিভিন্ন পরিবহনে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশের সদস্যরা।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাঁধার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছি। আমরা প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যাবো। আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের গাড়ি আটকে রাখতে পারেন। যেভাবেই হোক আমরা সমাবেশে পৌছাবো। বৃহস্পতিবার থেকেই আমাদের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার পতন ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত কারাগারে ১০জন বিএনপি’র নেতাকর্মীরাকে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কালিহাতীতে ১ জন, দেলদুয়ারে ২জন, মধুপুরে ২জন, ধনবাড়ীতে ২জন, নাগরপুর উপজেলার ২ জন ও বাসাইল উপজেলায় ১জন রয়েছন। তাদেরকে গত বছরের নাশকতার মামলায় বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, দেশে যেন কোন প্রকার নাশকতা না করতে পারে সে জন্য ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাততে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ২৮ তারিখের সভাকে কেন্দ্র করে কোন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। ডাকাতি বন্ধে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম অংশ হিসেবে মধুপুরে, এলেঙ্গা, গোড়াই, হামিদপুরে ৪টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে প্রতিদিনের ন্যায় নিয়মিত চল্লাশি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।উপজেলার বেড়ী পটল গ্রামে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে হামলার শিকার ওই যুবক বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক।
নিহত আব্বাস আলী (২৬) ওই গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে। হামলায় তার বড় ভাই আক্তার হোসেনও (২৮) আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, আব্বাস আলীর কাছে সদর থানার কাকুয়া ইউনিয়নের পোলী গ্রামের নুরুর ছেলে সোহেলের কাছে মোবাইল বিক্রির দুই হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকার জন্য মেয়ের জামাই আব্দুল মমিনকে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আব্বাসের বাড়িতে যান তিনি।
সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আব্বাস আলীকে চাপাতি ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। ভাইকে রক্ষায় আক্তার হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত আক্তার হোসেনের পা ভেঙ্গে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আর চাপাতির কোপে মাথায় আঘাত পাওয়া আব্বাসের ক্ষতস্থানে চিকিৎসক সেলাই করে দিলে তিনি বাড়ি চলে যান। পরে বুধবার বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের ফাতেমা-তুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) আছরের নামাজের পর ইউনিয়নের মন্ডল মোরের মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে এই ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ওয়াজ মাহফিলে মো.আজগর আলী মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখবেন গাজীপুরের ইসলামী আলোচক হাফেজ হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ.তোফাজ্জল হোসেন ও হযরত মাওলানা মোহাম্মদ.আবু বকর সিদ্দিক।
ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.নূর-এ আলম তুহিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সাপ্তাহিক গনবিপ্লব পত্রিকার বার্তা-সম্পাদক মো.মাসুম ফেরদৌস নান্নু, হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শামীম আল মামুন জুয়েল, এস আই মো.শাহাদাত হোসেন ও বিজয় টিভি এবং দৈনিক কালবেলার টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মো.আবু জুবায়ের উজ্জল ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এটি এখন টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে তাঁকে অশোভন আচরণ করে ভিডিও কলে কথা বলতে। এ নিয়ে টাঙ্গাইল ছাত্রদলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
সদস্য সচিব রাজ্জাক (২৭) সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা গ্রামের সিরাজুল হক সিরুর ছেলে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে অনেকে মন্তব্য করেন যে, দল যেখানে বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও কলে ব্যস্ত।
ভাইরাল হওয়া ছাত্রদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটি একটি চক্র। প্রথমে আমার সাথে বন্ধুত্ব করে, তারপর উলঙ্গ হয়ে আমার সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছে। সেগুলো স্ক্রিন রেকর্ড করে আমার কাছে টাকা চেয়েছে। সাথে এটাও বলেছে আমি যদি টাকা না দেই তারা আমার ভিডিও ভাইরাল করে দিবে। আমি টাকা দেইনি দেখেই এখন তারা সেই ভিডিও ভাইরাল করছে।
এবিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবদুল বাতেন বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। সে যেটা করেছে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনের কারনে কেন্দ্রের সবার সাথে কথা বলতে পারিনি। তবে খুব অচিরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে কথা বলে তারা যে সিদ্ধান্ত দেয়, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ কলেজ পড়ুয়া ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান সাব্বির আলম ও তার বন্ধু হামিদ।
গত ৪ জুন (রোববার) টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। সাব্বির পাশ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামের মো. সুরুজ্জামানের ছেলে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ঘাটাইলের ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
শুধু সাব্বির আলম নয়, তার মতো টাঙ্গাইলের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর ও উঠতি বয়সের ছেলেদের হাতে মোটরসাইকেল দেয়ার ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানোর কারনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে চলছে দুর্ঘটনা। তবে গত এক বছরে কত জন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি জেলা পুলিশ ও জেলা নিরাপদ সড়ক চাইসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।
সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলাম না। তারপরও ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। ছেলেরে শখ পূরণ করতে গিয়ে আজীবনের জন্য ছেলেকে হারালাম।
নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা বাবার বড় সন্তান। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনায় এখনও শোক কাটেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। ওই শোকটি এখন গ্রামের মানুষ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল, বাসাইল সখিপুর, মধুপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ২১ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১৩ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তারা ঘাটাইলের একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।
এ ছাড়া জেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের মুখ্য গাঙ্গাইর গ্রামের মো. আবু’র ছেলে মো. রনি (১৮) । নিহত রনি ঘাটাইল জিবিজি কলেজের ছাত্র ছিল। নিহত অপরজন হলেন, একই উপজেলার কদমতলী এলাকার মেছের আলীর ছেলে শহিদুর রহমান (৩৫)।
গত ১৭ মে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা (২৪) ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কাগমারী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাসেল নিহত হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯২ টি মামলা হয়েছে। এতে ১৩৪ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিন জন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
জেলা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যায়, তাদের বেশির ভাগই কিশোর ও যুবক। রেজিষ্ট্রেশন ও লাইনেন্সবিহীন বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারনে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক বাবা মার বুক খালি হচ্ছে। তবে জেলায় এক বছরে কত গুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ও কত জন প্রাণ হারিয়েছে তার কোন তথ্য নেই।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে অভিভাবক, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।