একতার কণ্ঠঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের নবগঠিত কমিটির সাথে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু কর্নারে এই শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় কালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন উপস্থিত সংস্থার সদস্যদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নবগঠিত জেলা ইউনিটের পক্ষথেকে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মতবিনিময়ের সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব হলো টাঙ্গাইলে কর্মরত সকল সাংবাদিকদের মাদার সংগঠন। জেলায় কর্মরত অন্যান্য সাংবাদিকদের মতো জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা ইউনিটের সকল সদস্য টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাথে সকল বিষয়ে সমন্বয় করে সাংবাদিকতা করবে বলে আমি আশা করি। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা রইল।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের পেশার প্রতি সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে ও তাদের পেশার প্রতি সৎ থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সদস্য কবি শামসুজ্জামানসহ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টুটুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরমান কবীর (সৈকত), তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়া, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক সাহান হাসান, মো. সাগর আহমেদ, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শুভ সাহা, সহ-প্রচার সম্পাদক মো. মুক্তার হোসেন, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন প্রমূখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ইউনিটের কার্যনির্বাহী সদস্য, মো. কামরুজ্জামান, হাবিবুল্লাহ বাহার, সজীব মিয়া, রেজাউল করিম, নাজমুল সাহান প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডভোকেট মামুন-অর-রশিদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ প্রমুখ।
এসময় জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু।
পরে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাহার আহমেদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর আসনে টানা তিনবার বিজয়ী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে ৭২ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মামুন-অর-রশিদ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৮৬৭ ভোট। বিজয়ী ছানোয়ার হোসেন ৬ হাজার ৪’শত ৯ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছানোয়ার হোসেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে তিনি এলাকায় সুপরিচিত।
নির্বাচিত হয়ে ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমি টাঙ্গাইলের মানুষের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শেখ হাসিনার একজন কর্মী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আসনটি উপহার দিলাম। টাঙ্গাইলের জনগণের সঙ্গে ছিলাম আছি থাকব।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়িতে আওয়ামী লীগের অফিস দুধ দিয়ে ধুয়ে নৌকার প্রার্থীর ব্যানার খুলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার সাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পোড়াবাড়ি বাজারে আওয়ামী লীগের অফিসে নৌকার প্রার্থী এডভোকেট মামুন-অর-রশিদের ব্যানার খুলে ঈগলের প্রার্থী ছানোয়ার হোসেনের ব্যানার লাগিয়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম।
এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীরা নৌকার কর্মী ও অনুসারীদের বাড়ি ঘরে হামলাসহ হুমকি দিচ্ছেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট মামুন-অর-রশিদ।
সংবাদ সম্মেলনে মামুন-অর-রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সদর আসনে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন কালো টাকা ছড়িয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নৌকার নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি দিয়ে তার পক্ষে কাজ করিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে বাড়িছাড়া। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, পোড়াবাড়ি আওয়ামী লীগ কার্যালয় দুধ দিয়ে ধুয়ে আমার ব্যানারের পরিবর্তে সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার লাগিয়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। গালা ইউনিয়নের সূত্রধরপাড়ায় সাধন চন্দ্র, ঘারিন্দা ইউনিয়নে বড়রিয়া গ্রামের স্বাধীন, মগড়ার চৌরাকররা গ্রামের স্বাধীন, মাজেদুর, শামীমসহ নৌকার অসংখ্য নেতাকর্মীকে হুমকি ও মারধর করছেন এমপি ছানোয়ারের নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় পৃথক পৃথকভাবে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের শাস্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, উপ-দপ্তর সম্পাদক আনন্দ মোহন দে, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এলেন মল্লিক, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল ইসলাম আজাদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক বলেন, জহিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করেছেন। তাতে কোনো আপত্তি নেই। আওয়ামী লীগের কার্যালয় তিনি দুধ দিয়ে ধুয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছবি লাগানোর কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পোড়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি ঈগলের নির্বাচন করেছি। তবে অফিস দুধ দিয়ে পরিষ্কার করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী ও কালো টাকা নেই। কোনো প্রকার কালো টাকা ছড়াইনি। নৌকার প্রার্থী কালো টাকা ছড়ানোর কারণে আমি ভোট কম পেয়েছি। তা না হলে আমি আরও অনেক বেশি ভোট পেতাম।
একতার কন্ঠঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের নতুন কমিটির অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের জেলা প্রতিনিধি মাছুদুর রহমান মিলনকে সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক কালের বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টুটুলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের পূনাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির
সভাপতি মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবুল বাশার মজুমদার ও মহাসচিব মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জেলা কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবুল কালাম সিদ্দিকী নিপু (দৈনিক জনতার কথা),শহিদুল ইসলাম খান রুমি, মির্জা মাসুদ রুবেল (মাইটিভি), আলামিন শোভন (আনন্দ টিভি)।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরমান কবীর সৈকত (দৈনিক আমাদের নতুন সময়), রাইসুল ইসলাম লিটন (দৈনিক আমার সংবাদ), মাজহারুল ইসলাম শিপলু (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি) সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হোসেন (দৈনিক একুশের বানী)।
যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শামসুদ্দিন সায়েম (দৈনিক ভোরের সময় ), জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক আমার বার্তা) সবুজ সরকার (দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন), অর্থ সম্পাদক মোত্তালেব হোসেন (দৈনিক অপরাধ কন্ঠ), সহ অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিন (দৈনিক বর্তমান কথা)।
দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল খান আরিফ (সাপ্তাহিক লোকধারা), সহ-দপ্তর সম্পাদক সাগর আহম্মেদ (সাপ্তাহিক মৌবাজার), প্রচার সম্পাদক বিভাষ কৃষ্ণ চৌধুরী (দৈনিক নওরোজ), সহ প্রচার সম্পাদক মুক্তার হোসেন (দৈনিক যুগধারা), ক্রীড়া সম্পাদক শামীম আল মামুন (সাপ্তাহিক মৌবাজার) সহ-ক্রীড়া সম্পাদক সাহান হাসান (একতার কণ্ঠ)।
সাহিত্য ও জনকল্যাণ সম্পাদক বোরহান তালুকদার (দৈনিক আজকের টেলিগ্রাম) শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন খান (সাপ্তাহিক গণ-বিপ্লব), তথ্য ও প্রয়ুক্তি সম্পাদক মোস্তফা কামাল (দৈনিক জনতার কথা), সহ তথ্য ও প্রয়ুক্তি সম্পাদক জাহিদ (ডেইলি অবজারভার), আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শামসুল আলম, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রমজান আলী, মানবাধিকার সম্পাদক মোঃ উজ্জল মিয়া, (দৈনিক স্বাধীন সংবাদ । ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম (মৌবাজার) সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শুভ সাহা।
কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন, মোশাররফ হোসেন ঝিন্টু সিদ্দিকী (সাপ্তাহিক গণবিপ্লব),সেলিম তরফদার (সাপ্তাহিক পাপিয়া) রশিদ আহাম্মদ আব্বাসী (এশিয়ান টিভি ও বাংলাদেশ সময়) এনামুল হক দীনা (সাপ্তাহিক লোকধারা), সাজ্জাত হোসেন লিংকন (ডেইলি অবজারভার), আব্দুস সাত্তার (দৈনিক ভোরের পাতা), খন্দকার খায়রুল ইসলাম (দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ) রেজাউল করিম (দৈনিক বাংলাভূমি), মাসুম ( দৈনিক দেশ বার্তা), বাবুল রানা (বাংলাদেশ সমাচার) আনোয়ার হোসেন ( দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন), আতোয়ার রহমান খান (দৈনিক কালের বার্তা) কামরুজ্জামান (দৈনিক বর্তমান কথা), হাবিবুল্লাহ বাহার (দৈনিক কালের বার্তা), মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ (একতার কণ্ঠ), মজনু মিয়া (দৈনিক যুগধারা), এম এ করিম (দৈনিক কালের বার্তা), নোমান (দৈনিক মজলুমের কন্ঠ) মাহদী মাসুদ (দৈনিক কালের বার্তা), নজরুল ইসলাম (মৌবাজার), মজিবর রহমান (দৈনিক কালের বার্তা), , মোঃ সজিব (দৈনিক কালের স্রোত)।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, এই নির্বাচন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্রই এই নির্বাচনে আঘাত করতে পারবে না। জনগণই মোকাবেলা করবে এবং জনগণই প্রতিরোধ করবে। অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ৩ জানুয়ারি ভাচ্যুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে জনসভায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি কার্যক্রম শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এবার বাংলাদেশের মানুষ হরতাল অবরোধ ভুলে গেছে। ২০১৪ ও ২৩ সালের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য রয়েছে। এবার তারা নির্বাচনের দিন কোন সন্ত্রাস করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের অনেক নির্দেশনা রয়েছে। সকল মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলে ৮টি আসনই নৌকা জয়যুক্ত হবে। টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী মামুন অর রশিদ, টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী ডা. কামরুল হাসান খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় সদস্য নিহত বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহমদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার(২৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে শহরের কলেজপাড়ার নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বাদ যোহর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান জামে মসজিদে মরহুমার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং মরহুমার আত্মীয়-স্বজনরা অংশগ্রহণ করেন। পরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেধাবী ও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মৌলভী আব্দুস সবুর মাস্টার শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহ আলম কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা সোলায়মান, মহাসচিব শাহনাজ বেগম লাইজু, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডাক্তার শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ হতে নবম শ্রেণির মেধাবী ও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেনের প্রচারণায় আনুষ্ঠানিকভাবে নামলেন জেলা, পৌর ও যুব মহিলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের পার-দিঘুলিয়ায় অবস্থিত ছানোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবনে’ সভার আয়োজন করে জেলা ও পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুজ সালেহীন, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী তালুকদার, সাংগঠণিক সম্পাদক ডা. তাসলিমা খায়ের প্রমুখ।
জেলা মহিলালীগের সহ-সভাপতি মাহমুদা শেলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলালীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক আসমা হোসাইন মলি, নাসরিনসহ শহর মহিলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক মহিলা নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তিনি আমাদের রাজনৈতিক নেতা ও অভিভাবক। টানা দুইবার তিনি এ আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এ কারণে আমরা উনার নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছি। আমাদের বিশ্বাস এবারও তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখ উজ্জল করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। তার বাড়ি জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামে। টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ড। রাস্তায় প্রতিদিন এভাবেই ভাড়ায় চালিত অটোরিক্সায় যাত্রী নিয়ে অটো চালাতে দেখা যায় রোজিনাকে।
শহরে যানজটের পাশাপাশি নানা ধরনের ঝামেলা সামলে পুরুষ চালকদের যখন অটোরিক্সা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, এমতো অস্থায় গত ৫ বছর ধরে একমাত্র নারী অটোরিক্সা চালক রোজিনা এই অটোরিক্সা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছে।
টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিক্সা অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিক্সার স্টিয়ারিংয়ে বসে যাত্রী ডাকছেন- কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল মার্কেট, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩ জন যাত্রী নামবে। ট্রাফিক পুলিশ অন্য অটো চালকদের অটো দাঁড় করাতে না দিলেও রোজিনা অটো দাঁড়া করে তিনজন যাত্রীকে নামাতে দিচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশসহ অটোচালকরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করেন।
অটোরিক্সার চালক রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম উঠে। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দূর্ঘটনা ঘটবে। কিন্তু আমার অটোতে ছেলে যাত্রীরাই বেশি উঠে। আমি খুব হিসেব করে অটো চালাই। খুব দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দূর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিক্সা চালকরা আমাকে অনেক সম্মান করে। আমি যখন রাস্তার ওপর অটো ঘুরাই তারা নিজেদের অটো দাঁড়া করে রেখে আমাকে অটো ঘুরাতে সুযোগ করে দেন। বড় গাড়ির চালকরাও যখন আমাকে দেখেন আমি নারী চালক তখন তারাও আমার প্রতি সম্মান দেখান।
অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যদি দেখি সে রাস্তায় অটো ঘুরাচ্ছে তখন আমাদের অটো দাঁড়া করিয়ে তাকে অটো ঘুরানোর জন্য সুযোগ করে দেই। আমরা চাই তাকে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা হোক।
অটোরিক্সার যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে উঠেছি। অটোর চালক নারী দেখেও আমি তার অটোতে উঠি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়ে তার অটো চালানো অনেক ভালো। তাকে যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হয়। সে একটু ভালো ভাবে চলতে পারবে।
আরেক যাত্রী বক্কর মিয়া বলেন, নারী অটো চালকের পাশের সিটে বসতে কিছুটা সংকোচবোধ হলেও তিনি কোন সংকোচবোধ মনে করেন না। তিনি খুব সাবধানে অটো চালায়।
রোজিনার সাহসিকতা দেখে নারী সংগঠক সিরাজুমমনি বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিক্সা চালায় আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো দিক থেকে কম নন, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। জনপ্রতিনিধি ও সরকারিভাবে তাকে কোন একটা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে দিলে তার আর রাস্তায় অটো চালাতে হবে না বলে আমি মনে করি।
অটোরিক্সায় বসে রোজিনার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, রোজিনার বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় মেয়ে রোজিনা। অভাব-অনটনের সংসারে বাবা-মা তাকে এক এতিম যুবকের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিক্সা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত চোখের দৃষ্টি শক্তি আরও কমতে থাকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিক্সা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় স্বামীর চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া, খাওয়ার পাশাপাশি মেয়েদের পড়ালেখার খরচ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, দিশেহারা হয়ে পরেন তিনি। পরে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার তাও চলছিল না। এরপর এনজিও থেকে ধার করে কোন রকম সংসার চালাতে পারলেও মেয়েদের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করতে পারছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে রোজিনা নিজে অটোরিক্সা চালাতে আগ্রহ হয়। স্বামী রফিকুলের কাছে তা শিখতে চান। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছে অটোরিক্সা চালানো শিখেন রোজিনা। পরে গ্রামের পথে ৫-৬ দিন শিখে বাড়ি থেকে অটোরিক্সা নিয়ে একদিন সরাসরি টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এভাবে ধীরে ধীরে অটোরিক্সা চালানো শুরু হয় তার।
তিনি বলেন, অটো চালানোর চিন্তাটা আমার জন্য খুব সহজ ছিল না। ৫ বছর ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিক্সা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কি করবো অভাবের সংসার। ভাড়া বাড়িতে থাকার খরচ কমাতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনি। পরে সেখানে সরকার আমাকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তুলে দেয়।
রোজিনা বলেন, যখন খুব অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছিলাম তখন মানুষ আমাদের ঠাট্টা করেছে। যখন জীবনের তাগিদে অটোরিক্সা চালাতে শুরু করি তখনও নানা কথা বলেছে। তবে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও কিছু করতে পারে।
রোজিনা আরও বলেন, আমার দুই মেয়ে, বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে ছোট মেয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। আমার তো থেমে গেলো চলবে না। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধারদেনা শোধ করতে হবে। আমি অটোরিক্সা চালিয়েই দুই সন্তান মানুষ করতে চাই। আমার পাশে যদি সরকার দাঁড়ায় তাহলে আমি অটোরিক্সা চালানো বাদ দিয়ে অন্য কোন কাজ করবো।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী অটোরিক্সা চালক রোজিনা। কেউ যেন তাকে বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে ট্রাফিক পুলিশ সব সময় নজর রাখে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ তাকে সব সময় সহযোগিতা করে।
টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। ওই নারী এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসে নাই। সে যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করে অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দ্বি বার্ষিক নির্বাচনে জাফর-নাসির পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছে। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ।
সহকারি নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন এড্ভোকেট এস. আকবর খান ও আনন্দ মোহন দে।
এর আগে দুপুর ২টা থেকে বিকেলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচনে সর্বমোট ৭৪ ভোটারের মধ্যে ৭৩ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে দুই জন, সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন, যুগ্ম সম্পাদক পদে তিন জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দুই জন ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ ৫৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিমান বিহারী দাস পেয়েছেন ১৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. নাসির উদ্দিন ৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মহব্বত হোসেন পেয়েছেন ৩২ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি একরামুল হক খান তুহিন পেয়েছেন ২ ভোট। ৫১ ভোট পেয়ে কাজী তাজউদ্দিন রিপন প্রথম ও ৪৩ ভোট পেয়ে ইফতেখারুল অনুপম যুগ্ম সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি মহিউদ্দিন সুমন পেয়েছেন ৩২ ভোট। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কাজী হেমায়েত হোসেন হিমু। তার প্রতিদ্বন্দ্বি শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা পেয়েছেন ২৮ ভোট। ৪৭ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মাসুদুল আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বি মোস্তাক আহমেদ পেয়েছেন ২৪ ভোট।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় জাফর-নাসির পরিষদের সহ-সভাপতি পদে কাজী জাকেরুল মওলা, শাহাবুদ্দিন মানিক, কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুর রহিম, লাইব্রেরী ও দফতর সম্পাদক পদে অরণ্য ইমতিয়াজসহ কার্যকরী সদস্য পদে হাবিবুল্লাহ্ কামাল, মামুনুর রহমান মিয়া, মো. শামীম আল মামুন, জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ও কাদির তালুকদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী মিছিলে আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনের সমর্থকের গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন, কর্মী সিয়াম ও রোকন মিয়া। তাদের মধ্যে রোকনুজ্জামানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ওই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ জানান, রাতে বাঘিলে নৌকার পক্ষে তার সমর্থকরা মিছিল বের করে। এসময় বর্তমান এমপি ছানোয়ার হোসেনের সমর্থকরা মিছিলে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন জানান, রাত ১১টি ৩০ মিনিটে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কেন মিছিল করা হয়েছে? নৌকার পক্ষের লোকজন ঈগলের অফিস ভাংচুর করে এই নাটক সাজিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় যারা আহত হয়েছে, তারা কেউ যুগনি এলাকার লোক নয়। এরা সবাই বহিরাগত। ঈগলের অফিস রাতে ভাঙচুর করার সাথে সাথেই সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আশা করি, সুষ্ঠ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হন ছানোয়ার হোসেন। তবে এবার তাকে সরিয়ে ওই আসনে মামুনুর রশিদকে নৌকার মাঝি করেছে আওয়ামী লীগ।