একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার দুপুরে অপহরণ, ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করাসহ নগদ ৫’শ টাকা আদায়ের অভিযোগে ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী যুবক মো. রুবেল রানা।
গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই সরকার দলীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও হাতিলা গ্রামের ধীনেশ সরকারের ছেলে প্রশান্ত সরকার (৩৫), ইউনিয়ন ছাত্রীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাতিলা গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে রিপন মিয়া (৩০), ধীরেন চন্দ্র মন্ডলের ছেলে প্রতিক কুমার সরকার (২৩), অজিবর রহমানের ছেলে রিমন মিয়া (২১)।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন- আইনুদ্দিনের ছেলে সবুজ (২১), চাঁদ মাহমুদের ছেলে রনি (২৩), জুলহাস মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও আজগর আলীর ছেলে সুজন (২১)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন।
তিনি জানান, পাশের কালিহাতী উপজেলার বিনোদ লুহুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রুবেল রানা হাতিলা গ্রামের শশুর কান্দু মিয়ার বাড়িতে যাওয়ার পথে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অপহরণ করেন আটককৃতরা। মুক্তিপণের জন্য রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত অপহৃতের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় তারা। এ সময় অপহৃত রুবেলের কাছে থাকা ৫’শ টাকা ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। ঘটনাটি রাতেই অপহৃতের ভাই বাবু পুলিশকে জানায়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে অপহৃত রুবেলকে উদ্ধার করাসহ অভিযুক্তদের আটক করে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অপহৃত রুবেল নিজে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা অপরহণ ও চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বেপরোয়া গতির বালুবাহী ট্রাক্টর কেড়ে নিল সিএনজি যাত্রী এক যুবকের প্রাণ।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল-দৌলতপুর আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা এলাকার ব্র্যাক অফিসের সামনে বালুবাহী ট্রাক্টর-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ওই যুবক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এইচ এম জসিম উদ্দিন।
নিহত ওই যুবকের নাম রাকিব মিয়া(২৪)। সে উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের নরদহি গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুরে নাগরপুর থেকে একটি সিএনজি টাঙ্গাইলের উদ্যেশে রওনা হয়। অপরদিকে, টাঙ্গাইলের দিক থেকে বালু ভর্তি একটি ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে নাগরপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার ডাঙ্গা এলাকার ব্র্যাক অফিসের সামনে পৌঁছলে সিএনজি-ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে সিএনজিতে থাকা রাকিব ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আহত হয় সিএনজি চালক।পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরো জানায়, বালুবাহী ট্রাক্টরগুলো দিনরাত আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। অধিকাংশ ট্রাক্টর চালক কিশোর হওয়ায় কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রচন্ড গতিতে ট্রাক্টর চালায় তারা। ফলে এই সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক ট্রাক্টরটি আটক করলেও চালক পলাতক রয়েছে। এব্যাপারে থানায় কোন মামলা হয়নি।
তিনি আরো জানান,আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে কাগজপত্র সঠিক না থাকায় তিন বাসকে ১৭ হাজার ৫’শত টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) টাঙ্গাইলের মোটরযান পরিদর্শক গোলাম সরওয়ারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তিনটি বাস সঠিক কাগজ পত্র না দেখানোর কারনে ১৭ হাজার ৫’শত টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ সাইম (১৪) নামের এক কিশোরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে ওবাইদুল (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের রানাগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইম ঘারিন্দা ইউনিয়নের গোসাই জোয়াইর গ্রামের মো. আব্দুল হালিম মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় আজিম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ওবাইদুল নামে একজনকে প্রধান আসামি ও ৫ জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতেই টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে রাতেই পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ওবাইদুল নামে একজনকে রানাগাছা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের রানাগাছা নামক স্থানে (বাড়ির পাশে) যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোর সাইম। রানাগাছা এলাকার মুদি দোকানদার ওবাইদুলের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সাইম ও তার বন্ধুদের সাথে তর্কাতর্কি হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ওবাইদুলের হাতে থাকা দোকানের কাজে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে সাইমের বুকে আঘাত করে। পরে তাকে বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাইমের বাড়িতে নিয়ে আসে। তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মামা সোহাগ বলেন, সাইমকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কী এমন ঘটনা ঘটেছে যে আমার ভাগ্নেকে মেরে ফেলতে হবে। আমি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জানান, আমি যতটুক জেনেছি, পূর্বের একটি বাগবিতন্ডার জের ধরে সাইমকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ওবাইদুলকে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, এর পূর্বে রাতেই সাইমের মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলাদার করেন। নিহত সাইমের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বটতলা বাজারে পচা মাংস বিক্রির দায়ে নূর নবী নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হীরা মিয়া, ভেটেরিনারি সার্জন আবু সাইম আল সালাউদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী নূর নবী পচা মাংস বিক্রি করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে থাকা ৩৫ কেজি মাংস জব্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ নানা আয়োজনে টাঙ্গাইলে শিক্ষাবিদ ও দানবীর, জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী চাঁদ মিয়ার ৮৮ তম মৃতবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দিনব্যপী সদর উপজেলার করটিয়া জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে সা’দত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এ মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান আনছারী।
সা’দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু, করটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আনছারী, সরকারী সা’দত কলেজের সাবেক এজিএস সোহেল আনছারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সা’দত বাজার ব্যাবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাক সাইমন তালুকদার রাজীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শাহজাহান আনছারী বলেন, ব্রিটিশ আমলে মুসলমানরা যখন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিলো তখন অত্র অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে আসেন করটিয়ার চাঁদ খ্যাত দানবীর ওয়াজেদ আলী খান পন্নী। তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে, সরকারি সা’দত কলেজ, এইচএম ইনিষ্টিটিউব স্কুল অ্যান্ড কলেজ,আবেদা খানম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রোকেয়া ফাজিল মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সরকারি সা’দত কলেজ বঙ্গের আলীগঢ় হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
দিনব্যপী কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো, মরহুমের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ, মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত, মরহুমের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা সভা ও দশ হাজার লোকের মাঝে তোবারক বিতরণ।
একতার কণ্ঠঃ প্রচন্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ। আকাশে মেঘের দেখা নেই বৃষ্টিহীন চরম অস্বস্তিকর এ পরিস্থিতিতে গরম থেকে মুক্তি ও বৃষ্টির জন্য টাঙ্গাইলে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির জন্য সালাতুল ‘ইস্তিসকার’ নামাজ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজে ইমামতি করেন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খতিব ও জেলা ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন ঈমান।
নামাজে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেয়।

নামাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন মুসল্লি জানান, টানা কয়েক দিনের প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদের কারণে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বাইরে বের হতে পারছে না অনেক মানুষ। এ কারণে বৃষ্টি চেয়ে আল্লাহর দরবারে দুই রাকাত সালাতুল ‘ইস্তিসকার’ আদায় করা হয়।
উল্লেখ্য, মূলত সালাতুল ‘ইস্তিসকার’ সুন্নতি আমল। এ নামাজ ঈদের নামাজের মতো। নামাজ শেষে খুৎবা পাঠ করা হয়। তারপর দোয়ায় অনাবৃষ্টি ও অসহ্য গরম থেকে মুক্তি এবং মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর সাফ বলে দিয়েছেন, একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় অবশ্যই যেতে পারবেন। তবে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ভোটের দিন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কেন্দ্রে গিয়ে অবশ্যই তার ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু কোনো প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন না।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল জেলার তিনটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি বলেন, যে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে- সেখানে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে অথবা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকে, তাহলে সেখানে যে প্রিজাইডিং অফিসার আছেন, তিনিই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। তিনি যদি কোনো কারণে বন্ধ করতে না পারেন অথবা কারো সঙ্গে তার আঁতাত হয়ে যায় যে বন্ধ করবেন না- সেক্ষেত্রে আমাদের যারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার থাকবেন, তারাই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। আর এমন যদি হয়, উপজেলা নির্বাচনের কোনো কেন্দ্রেই নির্বাচন সুষ্ঠু করা যাচ্ছে না- তাহলে পুরো নির্বাচনটাই বন্ধ করে দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, যদি কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক অন্য কোনো প্রার্থী বা সমর্থককে আক্রমণ করেন, আগুন জ্বালিয়ে দেন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেন। যেগুলোকে ফৌজদারি অপরাধ বলে- সে বিষয়ে শাস্তি আরও কঠিন হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি যথেষ্ট না, আরও নির্বাচনী আইন আছে। সেই আইনের অধীনে ফৌজদারি অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের অফিসার এবং পুলিশও মামলা করতে পারবেন। আমাদের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
ইসি আলমগীর বলেন, এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাই থাকবে- শুধু সেনাবাহিনী থাকবে না। সেনাবাহিনী শুধু জাতীয় নির্বাচনে রাখা হয়। জাতীয় নির্বাচন সারা দেশে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কম থাকে- সেজন্য সেনা মোতায়েন করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কয়েকটি ধাপে হবে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরি সদস্য আমরা অনুমোদন দিয়েছি।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম। এসময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমানসহ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, মধুপুর ও গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের বেহাল দশা দেখে এর রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে এসেছে একদল স্বেচ্ছাসেবী। তারা নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে পাইপ কিনে ঈদগাহ্ মাঠে পানি দিচ্ছে। এই মাঠের মধ্য দিয়ে যেন কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করে মাঠটিকে নষ্ট করতে না পারে সেজন্য মাঠের দক্ষিণ দিকের ভেঙে যাওয়া গেটটি বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই গেট দিয়ে এখন শুধুমাত্র পথচারীগণ চলাচল করতে পারে। এছাড়া ঈদগাহ্ মাঠে গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও আছে তাদের। সারা বছর মাঠটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন লোক নিজেদের অর্থায়নে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে তাদের।
এই স্বেচ্ছাসেবক দলে রয়েছে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোক। তাদের দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষ ফি-বছর ঈদগাহ্ মাঠের উন্নয়নের বুলি আওড়ালেও কাজের কাজ কিছুই করে না। ফলে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় তোপের মুখে পড়েন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছাসেবকগণ নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ্ মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে এসেছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুব মনি, আব্দুল আলীম, দিনেশ চৌহান, গণেশ চৌহান, আনন্দ চৌহান, মোহাম্মদ হুমায়ুন, মো. মজিবর মিয়া, রঞ্জিত সরকার, শ্যামল চৌহান, সবুজ মোল্লা, শহিদুর রহমান, সিদ্দিক মন্ডল, মো. হৃদয় মিয়া প্রমূখ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাব্দি প্রাচীন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠের বর্তমানে বেহাল দশা। মাঠটি এখন ঘাস উঠে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে ন্যাড়া হয়ে গেছে। এছাড়া মাঠের উওর ও দক্ষিণ দিকের গেটগুলো ভেঙে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঠের সীমানা প্রাচীর বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। ঈদগাহ্ মাঠের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যান চলাচলের ফলে জায়গায় জায়গায় মাটি উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের পূর্ব পাশে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে রাবিশ এনে জড়ো করে রেখেছে।
১৯০৫ সালে স্থাপিত এই ঈদগাহ্ মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের হলেও তারা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ফলে ঈদগাহ্ মাঠটি এখন ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবলমাত্র বছরে দুই ঈদেই লোক দেখানো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এই মাঠের। তার পরে আর পৌর কর্তৃপক্ষ কোন খোঁজ-খবর
রাখে না এই মাঠের।
স্বেচ্ছাসেবকগণ জানান, গত বেশ কয়েকদিন ধরে ঈদগাহ্ মাঠের মধ্যে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় পুরো মাঠ ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়। এছাড়া ঝড়ো বাতাস এলেই ঈদগাহ্ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় মাঠের ধুলোবালি উড়ে গিয়ে আস্তরণ পড়ে যায়। মাঠের উওর ও দক্ষিণ দিকের সব গেট ভাঙ্গা থাকায় ছোট বড় সব ধরনের যানবাহন মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ঈদগাহ্ মাঠের ঘাস উঠে ন্যাড়া হয়ে গেছে। এছাড়া জায়গায় জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকগণ আরও জানান, কিছুদিন পূর্বেও মাঠের পশ্চিম দিকের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ডাব গাছ, আম গাছসহ বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছ ছিল। সেগুলো বিভিন্ন সময়ে ঝড়ে ভেঙে গেছে। সেই জায়গাগুলোতে তারা নতুন করে গাছ লাগাতে চাচ্ছে। এছাড়া মাঠের ধুলোবালি উড়া বন্ধ ও নতুন করে ঘাস গজানোর জন্য পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে। এই মাঠের মধ্যে দিয়ে যেন কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারে সেজন্য মাঠের দক্ষিণ দিকের ভাঙ্গা গেটটি বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তারা আশাবাদী, এই রক্ষণাবেক্ষণের ফলে এই ঈদগাহ্ মাঠ আবারও ব্যবহারের উপযুক্ত হবে।

বিন্দুবাসিনী স্কুল ফ্রেন্ডস নেটওয়ার্কের (এসএফএন) সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. শামীম আল মামুন বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগহ্ ময়দানের পশ্চিম ও উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ১’শত ছায়া দানকারী গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া একটু স্বাভাবিক হলেই গাছ লাগানো শুরু করা হবে। তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে লাগানো গাছ গুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণও করা হবে।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগহ্ মাঠের বেহাল দশা প্রসঙ্গে মো. আবুবক্কর মিয়া, জাহিদুল ইসলাম, মো. বাহারুল ইসলাম বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে টাঙ্গাইলের এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠটির বর্তমানে বেহাল দশা। পৌর কর্তৃপক্ষের মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও তারা সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে না। শতাব্দি প্রাচীন এই ঈদগাহ্ মাঠের উন্নয়নের জোর দাবি জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর একতার কণ্ঠকে জানান, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) অনুমোদন হয়েছে। খুব দ্রুতই ঈদগাহ্ উন্নয়নের কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এই প্রকল্পে ঈদগাহ্ মাঠের উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে, বর্তমান মিম্বরটি ভেঙে বড় করা, মাঠে সবুজ ঘাস লাগানো, চারটি প্রবেশদ্বারে নতুন করে গেট লাগানোসহ মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও ওযু খানা তৈরি করা।
তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই ঈদগাহ্ উন্নয়নে
পৌর কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহ্বান করবে। আশা করা যায় ঈদুল আযহার আগেই উন্নয়নের কাজ শুরু করা যাবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন একতার কণ্ঠকে বলেন, এবার ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় প্রতিশ্রুত ঈদগাহ্ উন্নয়নের কাজের অনুমোদন হয়েছে। আগামী বছরের ঈদুল ফিতরের পূর্বেই টাঙ্গাইলবাসীকে একটি নান্দনিক ঈদগাহ্ উপহার দিতে আমি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, এই মাঠের উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, মাঠে শুধু মাত্র শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ থাকবে। এই ঈদগাহ্ মাঠকে কেন্দ্র করে এখন যে সমস্ত ব্যবসায়ীক স্থাপনা ও কর্মকাণ্ড রয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় এক বালিকা মাদ্রাসায় বোরকা পরে সিয়াম নামের এক যুবক প্রবেশ করায় গণপিটুনির শিকার হয়েছে। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনির কবল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ।
সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে করটিয়ার রওজাতুল মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই যুবক টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আটককৃত মো. সিয়াম হোসেন সিপু (১৯) টাঙ্গাইল পৌরসভার ধুলেরচর মাদ্রাসা সংলগ্ন বৈল্যা এলাকার মো. ফরহাদ আলীর ছেলে। সিয়াম এবছর বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো।
করটিয়া রওজাতুল বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মো. সিয়াম জানান, সোমবার সকালে মাহফিলের টাকা আদায়ের রশিদ নিয়ে বোরকা পরিহিত এক মহিলা বালিকা মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। পরে তার কন্ঠ শুনে ও আচরণে সন্দেহ হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে বোরকার উপরের অংশ খুলে চেক করা হলে সে যুবক বলে প্রমানিত হয়। একপর্যায়ে খবরটি ছড়িয়ে পরলে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা থেকে বের করে তাকে গণপিটুনি দিতে থাকে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তাকে দ্রুত করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও উৎসক জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সেখান থেকে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু বলেন, পরিষদের কাজে আমি উপজেলা পরিষদে থাকায় শাহীন মেম্বার ও লতিফ মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেলে দ্রুত পুলিশে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে ওই যুবককে আটক করে নিয়ে যায়।
আটককৃত সিয়ামের পিতা মো. ফরহাদ আলী জানান, তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝেমধ্যেই নানান কান্ড ঘটায়। তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার সকালে সিয়াম নানীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। তারপর পুলিশের কাছে খবর পাই তাকে করটিয়া থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সিয়ামের মানসিক সমস্যার কারণে এ বছর সে বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরিক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও দিতে পারেনি। তাকে নিয়ে প্রায়ই আমরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রাব্বানী জানান, খবর পেয়ে করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিয়াম নামের এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের ফুসফুস খ্যাত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের ৭টি শতবর্ষী রেইনটি গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) টাঙ্গাইল শাখা ও সবুজ পৃথিবী নামের দুটি সংগঠনের উদ্যোগে এই ঘন্টা ব্যপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাপা টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ এএসএম সাইফুল্লাহ’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ইব্রাহীম খা সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা রঘুনাথ বসাক, বাপা টাঙ্গাইল শাখার সহ-সভাপতি মোঃ আজাহারুল ইসলাম খান, যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ রানা, মোঃ এরফানুজ্জামান রুনু, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম সিদ্দিকী, আওয়াল মাহমুদ, ডাঃ আজিজুল হক, সবুজ পৃথিবী মির্জাপুর শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন নবীন, কালিহাতী শাখার সভাপতি মোঃ বুলবুল হোসেন, সবুজ পৃথিবীর পরিচালক সারমিন আলম।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল শাখার সাধারণ সম্পাদক, সবুজ পৃথিবীর প্রতিষ্ঠাতা সহিদ মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের এইসব শতবর্ষী গাছ রক্ষায় আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আমরা এইসব গাছ পাহারা দিবো। কোন অবস্থাতেই এই ৭টি শতবর্ষী রেইনটি গাছ কাটা চলবে না। এই গাছ গুলো রক্ষার টাঙ্গাইলে ক্রিয়াশীল পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য ,শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ টাঙ্গাইল শহরের ফুসফুস খ্যাত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের ৭টি প্রাচীন রেইন টি গাছ কাটতে শুরু করে। কোন রকম টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই মেয়রের একক সিদ্ধান্তে শুরু হয় প্রাচীন এইসব বৃক্ষ নিধন। মূহুর্তের মধ্যেই সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটা বন্ধ হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। এরপর স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান আসেন।
স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান বলেন, আইনতভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো গাছ কাটতে চাইলে প্রথমত স্থানীয় সরকারে আবেদন করতে হবে এবং তারপর সেই আবেদন বন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হলে বন কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদন হওয়ার পর প্রকাশ্য নিলাম আহ্বান করে গাছ কাটার প্রক্রিয়া করতে হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বরাবর কোনো আবেদন দেয়া হয়নি, তাই কিছুটা নিয়ম বহির্ভূত হয়েছে, আর এজন্য গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
ইতিপূর্বে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর জেলা সদর রোড প্রশস্ত করনের সময় টাঙ্গাইল সদর থানা ভূমি অফিসের সামনের শত বছরের প্রাচীন বট গাছ কাটার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সেই দেড়শ বছরের প্রাচীন বট গাছ কেটে যাত্রী ছাউনী তৈরি করেন।
তৈরিকৃত সেই যাত্রী ছাউনী বর্তমানে শহরবাসীর কোন কাজেই আসছে না। যাত্রী ছাউনিটি এখন নেশাগ্রস্ত লোক ও ভবঘুরে ও রাতের মোক্ষি রানীদের দখলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নবনির্মিত মসজিদের নাম পরিবর্তন না হলে কর্তৃপক্ষকে মারধরের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মুতালিব হোসেন নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার গালা ও মগড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের নামে নির্মিত হচ্ছে ওই মসজিদ।
মসজিদটি মগড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বড়বাশালিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি দেওয়া সেই হুমকির অডিও ও ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় মুসুল্লীসহ দুই গ্রামবাসি।
বড়বাশালিয়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাঁ মাঠ আর গত ঈদুল ফিতরের পরের দিন স্থানীয় মাজেদার চা স্টলে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে মসজিদ নির্মাণে সম্পৃক্ত মুসুল্লীদের মারধরের হুমকি দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান বলে জানিয়েছেন মসজিদ নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা।
তাদের অভিযোগ, দুই গ্রামবাসির মসজিদ নির্মাণ ও নামকরণ নিয়ে কোন প্রশ্ন না থাকলেও জনপ্রতিনিধির ক্ষমতাবলে নাম পরিবর্তনের অজুহাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।
অ্যাডভোকেট মোতালিব হোসেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি টাঙ্গাইল টাঙ্গাইল আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী দূর্গাপুর-বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের দূর্গাপুরের নেতৃবৃন্দ ও মগড়া ইউনিয়নের বড় বাশালিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নেতৃবৃন্দ। মোট ১৪ শতাংশ জমিতে নির্মিত হচ্ছে মসজিদটি। উদ্যোগের সিদ্ধান্ত অনুসারে বড়বাশালিয়া গ্রামের আজিজুর রহমান মসজিদের নামে ১০ শতাংশ জমি দান করেন। বাকি ৪ শতাংশ জমি দূর্গাপুরের নেতৃবৃন্দ দান করেন। এছাড়াও মসজিদ নির্মাণে অধিকাংশ অর্থায়ন করছেন দূর্গাপুরের গ্রামবাসি। চলতি বছরের ৯ মার্চ থেকে যথারীতি নবনির্মিত ওই মসজিদে নামাজ আদায়ও শুরু করেছেন স্থানীয় মুসুল্লীরা।
মুসুল্লীদের অভিযোগ, মসজিদের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসি একমত থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান একাই বির্তক সৃষ্টি করছেন। মসজিদ নির্মাণের উনার কোন ভূমিকা না থাকলেও জোড়পূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বড়বাশালিয়ার একক নামে মসজিদটি নির্মাণের দাবি করছেন তিনি। মসজিদ আল্লাহর ঘর, এটি কারো ব্যক্তি সম্পদ নয়। মসজিদ নিয়ে উনার এমন নোংরা রাজনীতি মেনে নেয়া যায় না। ৬ মাস আগেও ইউপি চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে ও নতুন করে নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলেছেন গ্রামবাসির একমাত্র বড়বাশালিয়া দক্ষিণ পাড়া বায়তুন নাজাত জামে মসজিদ।

মগড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মসজিদের মুসুল্লী মো. মাজেদুর রহমান বলেন, আমার চাচা আজিজুর রহমান মসজিদের জন্য একাই দিয়েছেন ১০ শতাংশ জমি, বকি ৪ শতাংশ জমি দিয়েছেন দূর্গাপুরের মানুষ। এটি দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা। দুই গ্রামের নামে মসজিদের নামকরণ হওয়া নিয়ে সমস্যা কি? আমরা দুই গ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে মসজিদেও নাম দিয়েছি দূর্গাপুর বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
মসজিদের মুসুল্লী মো.ওয়াজেদ আলী বলেন, পূর্ব পুরুষের সমন্বয় অনুসারে আমরা এই দুই ইউনিয়নের মানুষ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দুই গ্রামের যৌথ নাম ব্যবহার করে আসছি। সেই নিয়ম মেনেই এই মসজিদটিও নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের পরের দিন মাজেদার চা স্টলে আমাদের হাত পা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন চেয়ারম্যান মোতালিব। সেই বক্তব্যের অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। আমরা শান্তি চাই বলে এখনও কোন আইনগত ব্যবস্থা নেইনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ব্যক্তি আক্রশ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। এ এলাকায় যৌথ নামে আর কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশি বড়বাশালিয়া কবরস্থান। বাঁশি কালিহাতী উপজেলা আর বড়বাশালিয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গ্রাম। এছাড়াও রয়েছে বড়বাশালিয়া দূর্গাপুর মসজিদ ও বড়বাশালিয়া ধলিহাটা মসজিদ। ওই প্রতিষ্ঠান গুলো নাম নিয়ে কোন সমস্যা না হলেও এই মসজিদের নামকরণ নিয়ে সমস্যা কি?
দূর্গাপুর-বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সেক্রেটারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান মোতালিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন কারো কোন প্রশ্ন ছিল না। মসজিদটি দুই গ্রামের হওয়ায় এবং দুই গ্রামে কোন মানুষ যেন নিজের মনে করে অন্যকে ছোট না করতে পারে সেজন্যই মসজিদটির নামকরণ হয়েছে দূর্গপুর বড়বাশালিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। দুই গ্রামের নামকরণ নিয়ে এখন কেন প্রশ্ন উঠছে। চেয়ারম্যান মোতালিব কেন মুসুল্লীদের হাত পা কেটে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন সেটি আমি জানিনা।
তিনি আরও বলেন, আমরা এক সমাজের মানুষ, রাগ ও ক্ষোভে মোতালিব ওই বক্তব্য দিলেও আমি মনে করি, তেমন কিছুই হবে না।
এ বিষয়ে ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোতালিব হোসেন।