/ হোম / সদর
টাঙ্গাইলে অটোরিক্সা কর্মবিরতি; চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অটোরিক্সা কর্মবিরতি; চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অটোরিক্সার ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে দিনব্যাপী জেলা অটোরিক্সা , টেক্সি ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রমিকরা অটোরিক্সা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে রবিবার সকালে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড, নিরালা মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ডিস্ট্রিক আদালত চত্বর, বটতলা মোড় ও শান্তিকুঞ্জ মোড়ে কোন অটোরিক্সা চলতে দেখা যায়নি। এতে বিকল্প হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় যাত্রীরা চলাচল করেন। এ সুযোগে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার হেঁটেই গন্তব্যে গিয়েছেন।

সাব্বির মিয়া নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, অটো শ্রমিকদের এ আন্দোলন ও দাবি অযৌক্তিক। তারা অটো বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। আমরা অটো না পায়ে, হেঁটে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছি।

আল মুতাকাব্বির সামি বলেন, বর্তমানে যে ভাড়া আছে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি ভাড়া হলে সেটা সাধারণ মানুষের উপর বোঝা হয়ে যাবে। তাদের এ দাবি এক প্রাকার জিম্মি করার মতো। আমরা এ দাবি মানবো না।

জেলা অটোরিক্সা, টেক্সি ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন উল্লাস বলেন, শ্রমিকরা সারাদিনে যে ভাড়া পায়, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন করছি। জেলায় চার হাজারের বেশি অটোরিক্সার শ্রমিক রয়েছেন।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছে। ইতোপূর্বে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রকে জানিয়েছি। এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, শ্রমিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে পৌরসভায় এসেছিলেন। আমি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা শুনে দ্রুত আন্দোলন প্রত্যাহার করে অটোরিকশা চালু করতে বলেছি। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশাসন সাংবাদিকসহ সকল পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. মার্চ ২০২৪ ০৩:১২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের লৌহজং নদীর একাংশ পরিষ্কার করলেন ‘বিডি ক্লিনের’ দুই হাজার সেচ্ছাসেবক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের লৌহজং নদীর একাংশ পরিষ্কার করলেন ‘বিডি ক্লিনের’ দুই হাজার সেচ্ছাসেবক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকের ডাকে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে টাঙ্গাইলে এসেছে ‘বিডি ক্লিন বাংলাদেশে’র প্রায় দুই হাজার সেচ্ছাসেবক।

তারাই এ নদীর ময়লা, আবর্জনা আর বর্জ্যের ভাগাড় নিমিষে পরিষ্কার করেন।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় পৌর শহরের হাউজিং মাঠ এলাকায় লৌহজং নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম রবি, টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়ক এমরান রহমান অনিম প্রমুখ।

শুক্রবার সকালে বিডি ক্লিনের দুই হাজার সদস্যরা প্রথমে টাঙ্গাইল পৌর শহরের হাউজিং মাঠে জড়ো হন। এরপরে শপথ বাক্য পাঠ করে নেমে পড়ে নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লৌহজং নদী। এই নদীকে ঘিরে এক সময় মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ হতো। তবে বর্তমানে নদীটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন ময়লা আর আবর্জনা এসে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই নদীটি।

২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক নদীটি পুনঃখনন ও দূষণমুক্ত করতে কাজ শুরু করে। আংশিক অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অতিদ্রুত নদীটি পুনঃখনন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করা হলে মানচিত্র থেকে এই নদী হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন স্থানীয় জনসাধারণ। বর্তমান জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম তিন কিলোমিটার নদী উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এখন নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।

স্থানীয়রা জানান, লৌহজং নদীটি সদর উপজেলার যুগনী থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটার। এক সময় শহরের নিরালাড়া মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা আসতো এ নৌবন্দরে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে সব কিছুই যেন রূপকথার গল্প।

স্থানীয় তারেক মিয়া বলেন, ময়লার ভাগাড়ে ও অবৈধ দখলদারদের কারণে নদীটি মরা খালে পরিনত হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নদী উদ্ধারের যে কাজ হাতে নিয়েছে এখন নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।

বিডি ক্লিনের সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের আহ্বানে আমরা দুই হাজার সদস্য কয়েকটি বাসে করে ঢাকা থেকে শুক্রবার টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছাই। স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজ করে আমাদের অনেক ভালো লাগে। এ সামাজিক কর্মকাণ্ডে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।

জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, লৌহজং নদী দীর্ঘ মেয়াদি পূর্ন উদ্ধারের অংশ হিসেবে শুক্রবার আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিয়ান শুরু করেছি। বিডি ক্লিনসহ সবার সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছি। নদীর দু’পাড় দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম এগুলো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত ভাবে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করে লৌহজং নদী দীর্ঘদিনের পুরোনো যে নদীর পানি প্রবাহ ছিল সেটি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, পৌর শহরের হাউজিং ব্রিজ পাড় এলাকা থেকে শুরু করে বেড়াডোমা ব্রিজ পাড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার নদীর বর্জ্য পরিষ্কার করল বিডি ক্লিনের ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের দুই হাজার সদস্যরা। আর এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পৌরসভা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. মার্চ ২০২৪ ০২:৪৮:এএম ৩ বছর আগে
বিপিএম পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার - Ekotar Kantho

বিপিএম পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার

একতার কণ্ঠঃ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ন থাকা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) সেবা পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পদক তাকে পরিয়ে দেন। সরকার মোহাম্মদ কায়সার অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত।

এ সময় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজি), চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি জনাব সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার) পিপিএম , পুলিশ সদর দপ্তরের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সরকার মোহাম্মদ কায়সার ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর টাঙ্গাইলে যোগদান করেন। তার পর থেকে তিনি টাঙ্গাইলে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:০৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল ক্যাপসুল মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় বসানো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল ক্যাপসুল মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় বসানো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ ভাবে বসানো ছোট-বড় ১০টি ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

একই সাথে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, ভিক্টোরিয়া রোডে বসানো ৫টি ভ্রাম্যমান ফাস্টফুডের ফুড-কার্ট দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘন্টাব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

টাঙ্গাইল পৌরসভার সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, প্যানেল মেয়র মো. হাফিজুর রহমান স্বপন, কাউন্সিলর মো. জহুরুল ইসলাম আজাদ, মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্না চৌধুরীসহ টাঙ্গাইল জেলা প্রসাশন ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তায় যানবাহন ও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে টাঙ্গাইল পৌরসভার অধীন ক্যাপসুল মার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা, শহীদ জগলু রোড, খালপার রোডসহ সুপার মার্কেটের সামনে ছোট-বড় অবৈধভাবে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, রাস্তার পাশে ও ফুটপাতের উপর দোকান বসানোর কারনে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধার জন্য এইসব দোকান মালিকদের পূর্বেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। একই সাথে মাইকিংও করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সেটি তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। তাই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত পৌরসভার ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় পৌরসভার একশ্রেণীর কর্মচারীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দোকান পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র। ফলে প্রচন্ড রকমের ব্যস্ত ভিক্টোরিয়া রোডের এই অংশে সব সময় যানজট লেগেই থাকতো।

এছাড়া ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে অবস্থিত টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রচন্ড অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে আসছিল। ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার ফলে জনমত তৈরি হয়। বুধবার জেলা প্রসাশন, পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এই উচ্ছেদ অভিযানের‌ ফলে পৌরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:১৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ২৮ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ২৮ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. নুর আলমকে (৪৯) প্রায় ২৮ বছর পর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বন্দর থানার গোরস্থান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত নুর আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. সোহেল জানান, ১৯৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর পৌরসভার বেবিস্ট্যান্ড এলাকার মো. রফিককে তুলে নিয়ে যমুনা নদীর চরে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে নিহত রফিকের বাবা আরশাব আলী বাদি হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সদর থানার পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মো. নুর আলম ও একই এলাকার মাহতাবের ছেলে লতিফকে অভিযুক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, শুনানী শেষে ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলের সেশন জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল কুদ্দছ রায়ে দু’জন আসামিকেই যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। রায়ের পর থেকে আসামি মো. নুর আলম ও লতিফ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন স্থানে নানা নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বসবাস করছিলেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. নুর আলমকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় পলাতক আসামি লতিফকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:০২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে লাইসেন্স না থাকায় ২টি ক্লিনিক সিলগালা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে লাইসেন্স না থাকায় ২টি ক্লিনিক সিলগালা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে লাইসেন্স না থাকায় ২টি ক্লিনিক সিলগালা ও মালিকদের ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের দেওলা ও সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত ফেয়ার হসপিটাল ও রেহানা মর্ডান হসপিটালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড হাসান বিন মোহাম্মদ আলী।

হাসান বিন মোহাম্মদ আলী জানান, কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় শহরের নতুন দেওলা ও সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত ফেয়ার হসপিটাল ও রেহানা মর্ডান হসপিটাল সিলগালা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ফেয়ার হসপিটালের তিন মালিককে ৫ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা ও রেহানা মর্ডান হসপিটাল মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এসময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলামসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০১:০৯:এএম ৩ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৯ নেতা সাময়িক বহিষ্কার - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৯ নেতা সাময়িক বহিষ্কার

একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ নেতাকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়ানোর অভিযোগে কেন্দ্র থেকে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, সেটি লিখিত জানাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের এসব নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত সভাপতি সমর্থিতরা হলেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন মামুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ. এইচ. এম. অপু হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান রকি, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক ইকবাল।

বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সমর্থিতরা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জোবায়ের দৌলা রিওন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাওন ঘোষ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ রাব্বু।

উল্লেখ্য, এর আগে গত (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর গ্রুপের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হন বেশকয়েকজন।

এরপর ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট প্রেরণের জন্য ১৪ দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়।এছাড়া হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় মাভাবিপ্রবি ছাত্রলীগের দুপক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেন।

গত (১৬ ফেব্রুয়ারি) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মানিক শীলসহ ১২ জনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন সম্পাদকের অনুসারী জয় কুমার ধর।

অন্যদিকে, গত (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন সভাপতির অনুসারী রুবেল হাসান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৪৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সুবিধাবঞ্চিত ২ শতাধিক শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌরাকররা গ্রামে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে এই বই বিতরণ করা হয়।

এসময় শিশু শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া ২ শতাধিক শিশুর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ৪ শতাধিক বই বিতরণ করা হয়।বইয়ের মধ্যে ছিল- শিশুদের গল্পের বই, কবিতার বই, ছড়ার বই, বর্ণমালা পরিচিত বই, ফল-মূল ও পশু-পাখি ইত্যাদি নানা ধরণের পরিচিত বই। বই পেয়ে শিশুদের চোখে ছিল আনন্দ আর মুখে ছিল উচ্ছ্বাস।

বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি শাহজাহান মিয়া।

বিতরণকালে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান, সদস্য শাকিল আহমেদ, সুমন চৌধুরী, রিপন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার বলেন, আমার গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে। আমি মাঝে মাঝে পাঠাগারে এসে বই পড়ি। আজ বই উপহার পেয়ে আমি আনন্দিত।

বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান বলেন, বই শিশুর বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি ও মনের সুপ্ত ভাবনার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। শিশু বয়স থেকেই শিক্ষামূলক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাই গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করে থাকি।

প্রসঙ্গত, “এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি” স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি গ্রামের মানুষের মধ্যে পাঠ্য অভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণুপাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৩২:এএম ৩ বছর আগে
কৃষিবিদ টাঙ্গাইলের দিনব্যাপী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

কৃষিবিদ টাঙ্গাইলের দিনব্যাপী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবস্থানরত কৃষিবিদদের নিয়ে ‘কৃষিবিদ টাঙ্গাইল’ এর আয়োজনে মিলনমেলা ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ মিলনমেলা ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও সাপোর্ট সার্ভিসেস) মো. জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (অব:) ডা. মোঃ আফাজ উদ্দিন মিঞা, কে-কোচার এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডা. খন্দকার হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য কৃষিবিদগণ বক্তব্য রাখেন।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আজিজুল হক।

মিলনমেলা ও সাধারণ সভায় টাঙ্গাইলে অবস্থানরত কৃষিবিদরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০১:২৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে রাখা প্রায় ৫০টি ছোট-বড় ট্রাক সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পূর্বে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে উপজেলা সদর ভূমি (এসিল্যান্ড) অফিসের এক কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে এসে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি বিকাল ৬টার মধ্যে সরিয়ে নিতে ট্রাক স্ট্যান্ডের দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দকে মৌখিক নির্দেশ প্রদান করে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান থেকে ট্রাক স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। আশা করি, এরফলে ১১৮ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের পরিবেশ ও পবিত্রতা ফিরে পাবে।

এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে স্থাপিত টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে গত বছরের অক্টোবর মাসে টাঙ্গাইল ভাসানী হলের সামনে থেকে ট্র্যাক স্ট্যান্ডটি সরিয়ে ঈদগাহ্ ময়দানে বসার মৌখিক অনুমোদি দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে ট্রাক স্ট্যান্ড বসার পরে টাঙ্গাইলের সর্বসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঈদগাহ্ ময়দানে ট্রাক স্ট্যান্ড বসানোর ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হলে, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক মিটিংয়ে ঈদগাহ্ থেকে ট্রাক স্ট্যান্ডটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৪২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস ও বিবর্তন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস ও বিবর্তন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শাড়ির প্রাথমিক খ্যাতি এর সূক্ষ্ম বুনট ও মিহি বস্ত্রের কারণে । এজন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দাবি করতে পারে বসাক তাঁতিরা। টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিরা আসলে ঢাকা থেকে দেশান্তরী হওয়া তাঁতি। তাদের মধ্যে প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে তারা ঢাকা—মূলত ধামরাই ও চৌহাট নামক স্থান থেকে টাঙ্গাইলে এসে নিবাস গড়ে তুলেছিল। এ কথার সমর্থন মেলে বিশ শতকের প্রথমার্ধে ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিক হাকিম হাবিবুর রহমানের প্রদত্ত বিবরণ থেকেও। তিনি সূক্ষ্ম কাপড় উৎপাদনের সঙ্গে এর পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন,

…কাগমারি পরগণা, যা পশ্চিম ময়মনসিংহের টাংগাইল মহাকুমার প্রসিদ্ধ জায়গা, সূক্ষ্ম কাপড় তৈরির ব্যাপারে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এখানে এটা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে ঢাকা শহর থেকে ছয় মাইল পশ্চিমে তুরাগ নামে এক নদী প্রবাহিত রয়েছে, যা ময়মনসিংহ জেলার আলপসিং পরগণার যমুনা নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং ঢাকার আটীর সামনে বুড়িগঙ্গায় এসে মিলিত হয়েছে। এই নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে এর তীর বরাবর বাংলার বড় বড় জমিদার, মুসলিম নেতাদের এবং কিছু হিন্দু ধনী পরিবারের অধিবাস রয়েছে। কাশিমপুরের রায়সাহেবরা, তালেবাবাদের সিদ্দিকী সাহেবগণ, সফরতলীর খান সাহেবরা (সম্ভবত শ্রীফলতলী), পাক আল্লাহ (পাকুল্লা) এবং দেলদুয়ারের সৈয়দ ও গযনবী বংশীয়রা, করটীয়ার পন্নীরা, যারা ইউসুফযায়ী পাঠানদের একটা শাখা, সন্তোষের রাজা সাহেবরা, সকলেরই এই নদীর তীরে বসবাস। এঁরা ছাড়াও কিছু সম্ভ্রান্তজন ছিলেন যাঁরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন। এঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই শিল্প ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ওখানে পৌঁছেছে। ১

বিশিষ্ট গবেষক জোলেখা হক লিখেছেন, “As mentioned before the homespun muslin thread was the domain of Hindu weavers of tantis, who, after the fall in the trade of fine muslin, gradually migrated from Dhaka to present-day Tangail and neighbouring Bajitpur, which also became famous as a center of fine cotton saris.” ২

এ দুই বিবরণের ভিত্তিতে বলা যায়, টাঙ্গাইলের তাঁতিদের উৎস হলো ঢাকার তাঁতি সম্প্রদায়। সে হিসেবে বলা যেতে পারে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা মসলিন বয়নের কৌশল অনুসরণ করেই বস্ত্র বয়ন করত। তবে কালের প্রবাহে নানা পরিবর্তনও এসেছে তাতে। যেমন অতীতে সনাতনী গর্ত তাঁত ব্যবহার করে বস্ত্র বয়ন করা হতো, যেখানে মাকু ছোড়া হতো হাতে। কালক্রমে সনাতনী গর্ত তাঁতের সংখ্যা কমে গেছে (এখন নেই বললেই চলে) এবং এর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে খটখটি বা ঠকঠকি তাঁত, ফ্রেম তাঁত এমনকি চিত্তরঞ্জন তাঁত পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। আগে শুধু ঝাঁপের সাহায্যে হাতে নকশা বুটি তোলা হতো। এখন জ্যাকার্ড ও ডবি ব্যবহার করে নানা ধরনের ডিজাইন করা হচ্ছে। বোধগম্য কারণে টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিদের বয়ন পদ্ধতি ও কৃৎকৌশলে নানা পরিবর্তন এসেছে।

টাঙ্গাইলের শাড়ির খ্যাতি নকশার কারণেই বিস্তার লাভ করেছিল। এবং এ খ্যাতি লাভের পেছনে মূলত দুটি কারণ সক্রিয় ছিল। প্রথমত, মসলিনের তাঁতি হওয়ায় তারা সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা ব্যবহার করে উন্নতমানের বস্ত্র তৈরির কৌশল জানত। ফলে জোলা বা যোগীদের চেয়ে তাদের বস্ত্রের মান ভালো হতো। বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের প্রতিবেদনে (১৯২৯) স্পষ্টই বলা হচ্ছে, The popularity of these cloths is due to the fact that they are fine and look well. The Bajitpur weavers use 120 to 250 counts of yarn for fine cloths. ৩

দ্বিতীয়ত, বিশ শতকের প্রথম দশকের মধ্যে নানা কারণে মসলিন বয়ন বন্ধ হয়ে গেলে টাঙ্গাইলের এ বসাক তাঁতিরা অতি দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। এর একটা হলো তৎকালীন আধুনিক প্রযুক্তি অর্থাৎ ঠকঠকি তাঁত ব্যবহার এবং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনের ব্যবহার। বিভিন্ন সূত্র থেকে যা জানা যায়, তাতে মনে হয় যে ১৯২০-১৯৩০ কালপর্বেই টাঙ্গাইলে ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনসহ ফ্লাইসেটেল বা ঠকঠকি তাঁতের প্রচলন হয়েছিল। সাবুদ হিসেবে বলা যায়, টাঙ্গাইলে সরকারি বয়ন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে। ফলে ১৯২০-৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সেখানে ডবি ও জ্যাকার্ড চালু হয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব। বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের কুটির শিল্পবিষয়ক জরিপ প্রতিবেদন (১৯২৯) এবং রঘুনাথ বসাক (১৯১৩-২০০৯) এর সাক্ষ্য এ বক্তব্য সমর্থন করে। ৪

তার মানে অবশ্য এই নয় যে জ্যাকার্ড বা ডবি আসার আগে কাপড়ে কোনো নকশা ছিল না। তখনো নকশা হতো টাঙ্গাইলের শাড়িতে। তবে এখন যেসব রকমারি নকশা দেখা যায় টাঙ্গাইল শাড়িতে, সে রকম নয়। ডবি বা জ্যাকার্ড মেশিন আসার আগে টাঙ্গাইলে কী ধরনের নকশা হতো, কীভাবে বোনা হতো সেসব নকশা, তার চমকপ্রদ বর্ণনা দিয়েছেন রঘুনাথ বসাক (১৯১৩-২০০৯) তার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিতে।

তার ভাষায় : “এরপর ১৩২৫ সনের পর হইতে ১৩৩৫ সন পৰ্য্যন্ত টাঙ্গাইল তাঁত বস্ত্র শিল্পের ক্রমে বৎসর পর বৎসর আরও উন্নতি লাভ করিতে লাগিল। এই সময়সীমার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য এই যে সাদা জমিনে তিন পাইড় অর্থাৎ পাছা পাইড় বলা হইত এগুলি প্রচুর তৈরি হইয়া বাজারে আদরের সহিত বিক্ৰী হইত। এই সময়ের কিছু কাল পূৰ্ব্ব হইতে কিছু কিছু নক্সীর কাজ আরম্ভ হইল যথা:- বেকী পাইড়, চোকবেকী, চাটাই পাইড়। তৎপর বৎসর গুলিতে জরির, আর্ট সিল্ক রঙ্গীন সুতা ইত্যাদি ক্রমে আমদানী হইতে লাগিল উহা দ্বারা ১৩৩০ হইতে ক্রমে চেন পাইড়, বিস্কুট পাইড়, জরির বা শিল্কের চোচা পাইড় পটাপটি পটাপটি (সিতি সিন্দুর) পাইড়, তাজ পাইড়, আনারকলি পাইড়, চুরি পাইড়, স্কার্ট (?) পাইড়, ফিতাচুরি ফিতা বালেট পাইড়; এতদ্‌ব্যতীত আরো বিভিন্ন পাইরের নমুনার বস্ত্র তৈরি হইত। কিন্তু এসব কাপড়ই সাদা জমিনে ছিল। ওপরোক্ত সাদা জমিনে লাল সাদা জমিনে পাছা পাইড় শাড়ী গুলি ১৩৩৫ সন হইতে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। তৎপর ১৩৩০ সনের পর হইতে ১৩৩৫ সন পর্যন্ত বয়ন শিল্পের আরও উন্নতি হয়। এ সময়ের মধ্যেও কোনো মেশিনের সাহায্য ছিল না। সবই হাত পা বাঁশ লোহার মাকুর সাহায্যে বস্ত্র তৈরী করিত।” ৫

অবশ্য উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশ শতকের বিশ কিংবা ত্রিশের দশকে ঠকঠকি তাঁত এবং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন টাঙ্গাইল ছাড়াও আরো অনেক স্থানেই প্রচলিত হয়েছিল, তার পরও টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশেষ খ্যাতি লাভের কারণ কী? কারণ বসাক তাঁতিরা শুধু এটা ব্যবহার করেই থেমে থাকেনি। শাড়ির নকশায় নানা রকমের নতুনত্ব, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ইত্যাদির ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছিল। ফলে টাঙ্গাইলের শাড়ির নকশায় নানা রকম উন্নতি ঘটেছে। তবে এ উন্নতি একদিনে ঘটেনি। রঘুনাথ বসাকের বিবরণ থেকে জানা যায়—

“তৎপর ১৩৩৫ সন হইতে জ্যাকার্ড মেশিন ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে বসাক তাঁত শিল্পীদের উৎকৃষ্ট নমুনার বয়ন শিল্পের এক নবযুগ আরম্ভ হইল। টাঙ্গাইল নিবাসী মহাভারত বসাকের পুত্র রমেশ বসাক সৰ্ব্ব প্রথমে টাঙ্গাইলে ব্রিটিশ আমলের গভর্নমেন্ট উইভিং স্কুল হইতে জ্যাকার্ড মেশিনের ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে বস্ত্র বয়ন করা শিক্ষা লাভ করে তথা হইতে উইভিং পাশ করে আসিয়া সে নিজ বাড়ীতে সৰ্ব্ব প্রথমে জ্যাকার্ড মেশিনে ও ফ্লাইসেটেলের একটি তাঁত বসাইয়া বিভিন্ন রকমের লতাপাতা নক্সী শাড়ী তৈরী আরম্ভ করে। ইহা দেখিয়া বিভিন্ন বসাকদের গ্রামের বসাকগণ ২/১টা করে জ্যাকার্ড মেশিনের তাঁত বসাইয়া লতাপাতার নক্সী শাড়ী তৈরী আরম্ভ করিতে লাগিল এবং এইরূপে ক্রমে ক্রমে প্রতি বসাকদের গ্রামে গ্রামে অল্প কয়েক বৎসরের মধ্যে প্রায় বসাকদের ঘরে ঘরে জ্যাকার্ড ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে উৎকৃষ্ট বয়ন শিল্পের কাজ চালু হইয়া গিয়াছিল। এই প্রকারের ২/১ বৎসরের মধ্যে ১০০/১৫০ ডাঙ্গি জ্যাকার্ড মেশিনে বিভিন্ন নমুনার নক্সী লতাপাতা, জরি বা আর্ট শিল্পের শঙ্খ পাইড়, পাহাড় পাইড় বিশেষ উল্লেখযোগ্য।” ৬

পরবর্তীকালে এ নকশার নানা পরিবর্তন ঘটেছিল। এর বিবরণও রঘুনাথ দিয়েছেন—

“তৎপর ১৩৪০ সন হইতে ৫০/১০০/১৫০/২০০/২৫০/৩০০ ডাঙ্গি জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে সাদা ও রঙ্গিন জমিনের মধ্যে শুধু মিহি সুতায়, হাফ সিল্ক, (হাওয়া শাড়ী) ফুল সিদ্ধ শাড়ীগুলির মধ্যে লাল জরি কম, সাদা জরির ও লাল জরি সংমিশ্রণে ১০০/১৫০/২০০/২৫০ ও ৩০০ ডাঙ্গি ইত্যাদি নানা প্রকার লতাপাতা ডিজাইনের মিনা পাইড় শাড়ী তৈরী হইতে লাগিল।…এর ২/৩ বৎসর হইতে ঢাকা, কলিকাতা, বোম্বে ইত্যাদি বড় বড় সহর হইতে নূতন নমুনার ডিজাইন আনিয়া সুদক্ষ সুপার ফাইন্ বসাক তাঁত শিল্পীদের দ্বারা আরও অধিক উন্নত ধরনের শাড়ী তৈরী হইতে লাগিল। এই নমুনার শাড়ীগুলির আবার পৃথক পৃথক নাম রাখা হইয়াছিল যথা:- জরি ও সিল্কযুক্ত ‘মানে না মানা’, ‘মেট্রো’, ‘জয়হিন্দ’, ‘জর্জেট’, ইত্যাদি।…” ৭

ফলে দেখা যাচ্ছে, বিশ শতকের প্রথমার্ধেই টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় বাইরের প্রভাব পড়েছিল। এ ধারাবাহিকতা ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরেও প্রবাহিত ছিল। তবে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার আরেকটা পর্ব আছে, সেটার সূত্রপাত বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বিশ শতকের আশির দশকে। এর সঙ্গে টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের কর্ণধার মুনিরা ইমদাদের বিশেষ ভূমিকা আছে। এছাড়া পরবর্তীকালের ঢাকার বুটিক হাউজগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

ওপরের এ বিবরণ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে এখানে আমাদের যা বলার আছে তা হলো জামদানির মতো টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ির নকশা প্রাচীন কোনো ঐতিহ্য বহন করে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন আসার পর টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার গল্পটা মূলত আত্তীকরণের ও আত্মস্থকরণের গল্প। এবং এটা জামদানির মতো অতটা প্রাচীনও নয়। কিন্তু অপেক্ষাকৃত অর্বাচীন হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার বৈচিত্র্য কিন্তু কম আকর্ষণীয় নয়।

মজার তথ্য হলো, এ দুই ধারার শাড়ির নকশা কিন্তু একটা আরেকটাকে কখনো কখনো প্রভাবিত করেছে। জামদানি শাড়ির একটা নকশার নাম টাঙ্গাইল্যা পাইড়। আবার জামদানির ডিজাইন অনুসরণ করে জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে শাড়ি তৈরি হতে দেখা যায় টাঙ্গাইলে। টাঙ্গাইলের সে নকশার নাম জামদানি পাইড়।

ঠকঠকি তাঁত ও ডবি বা জ্যাকার্ড মেশিন আসার আগে টাঙ্গাইলের শাড়িতে যে ধরনের নকশা হতো, তা ছিল সাধারণ মানের। সে সময়ের তাঁতের কাজের বিবরণ দিয়েছেন রঘুনাথ বসাক এ ভাষায়—

“তৎকালে বস্ত্র তৈরীর জন্য কোনো মেশিন ছিল না। শুধু হাত ও পা দ্বারা বাঁশ কাঠের সাহায্যে যন্ত্র তৈরী করিতে হইত। ফ্লাইসেটেল ছিল না। এক জোড়া ভালকাঠের দপ্তী দ্বারা, সুরু লোহার মাকুর দ্বারা, সুতার বওয়ের দ্বারা, ৮০০/৯০০/১,০০০/১১০০/১২০০/১৩০০ শানা দ্বারা, মাটী গর্ত করিয়া (পরীগাথ) তথায় বাঁশের রড় দ্বারা, পারাপারি দ্বারা সাদাসিদা ভাবে সব সাদা কাপড় তৈরী করিত। তখন এক ফর্দ রঙ্গিন শাড়ী ছিল না। পরীগাথার গর্ভের মধ্যে পা দিয়া ঝাপ ধরিত আর দুই হাত দ্বারা লোহার চিকন মাকু ডাইন হাতের আঙ্গুল দ্বারা ধাক্কা দিয়া বাম হাতে লইত এবং আবার বাম হাতের আঙ্গুল দ্বারা ধাক্কা দিয়া ডাইন হাতে লইত। এইভাবে সমস্ত রকমের বস্ত্র তৈরী করিত।” ৮

এ পদ্ধতিতে যেসব নকশা হতো, তা ছিল মূলত সরল ধরনের বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা। জটিল ও বাস্তবানুগ নকশা করার সুযোগ তাতে ছিল না। কিন্তু ত্রিশের দশক নাগাদ (কিংবা তার কিছু আগেই) জ্যাকার্ড ও ডবি মেশিন এবং ফ্লাইসেটেল লুম চালু হওয়ার পরে বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন ডিজাইন শাড়িতে ফুটিয়ে তোলায় আর অসুবিধা রইল না। ফলে যেসব বিষয়বস্তু বা মোটিফ নকশায় চলে এল, তা মূলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ। বিভিন্ন ধরনের ফুল, লতাপাতাসহ নানা ধরনের পাখি, প্রজাপতি, ময়ূর ইত্যাদি।

এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, টাঙ্গাইল শাড়িতে ডিজাইন হয় এখনো দুভাবে। আদি পদ্ধতি অনুযায়ী এখনো কিছু শাড়িতে হাতে বুটি তোলা হয় জমিনে। এগুলোয় পাইড়ে জ্যামিতিক ধরনের সাধারণ নকশা থাকে কিংবা কোনো নকশাই থাকে না। আর কোনো কোনোটায় শাড়ির পাইড়, আঁচল ও জমিনে জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে বুটি তোলা হয়। হাতে নিয়ে কাছ থেকে খেয়াল করলে বোঝা সম্ভব, বুটি হাতে তোলা নাকি জ্যাকার্ডে তোলা। হাতে তোলা বুটিগুলোর দুই পাশ অসম হয় কিন্তু জ্যাকার্ডের বুটিগুলো দুই পাশ সমান।

আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক মোটিফ যেমন ‘নৌকা’ ব্যবহার করে শাড়ির পাইড় নকশা করার কথাও শোনা যায়। সত্তরের দশকে ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এ শাড়ির পাইড়ে নৌকার নকশা খুব জনপ্রিয় ছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশী তাঁতের প্রতি বাঙালি জাতির যে আগ্রহ ও মমত্ববোধ তৈরি হয়, তাতে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা উপকৃত হয় এং শাড়ির নকশায়ও এর প্রভাব পড়ে। এ সময় থেকে টাঙ্গাইলের শাড়ির নকশা আরো জটিল ও সমৃদ্ধ হতে থাকে।

তবে সাম্প্রতিককালের টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার কৃৎকৌশলগত নতুন সংযোজন হিসেবে বলতে হয় কম্পিউটার ব্যবহারের কথা। আগে জ্যাকার্ড মেশিনের জন্য গ্রাফ কাগজে নকশা আঁকা হতো, এখন এর বিকল্প হিসেবে নকশা করতে কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া হয়। জ্যাকার্ড মেশিনে নকশা করার একটা সুবিধা এই যে যেকোনো ধরনের নকশা শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা যায়। এর মূল বিষয়টি নির্ভর করে জ্যাকার্ড মেশিন বয়নের জন্য প্রস্তুত করার ওপর। বয়নকারী তাঁতি বা কারিগরের ওপর নকশা নির্ভর করে না, যেমনটা করে জামদানির ক্ষেত্রে। এ বিপুল স্বাধীনতা নানা রকম চিত্তাকর্ষক নতুনত্বের পাশাপাশি বিচিত্র (!) অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে নকশার ক্ষেত্রে।

যেমন সরেজমিন অনুসন্ধান করার সময় আমরা মোবাইল ফোনের টাওয়ার, সেলফোন, এমনকি হেলিকপ্টার পর্যন্ত টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় মোটিফ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে দেখেছি। এ ধরনের নতুনত্ব বা নবতর সংযোজন ভালো না খারাপ, সে বিতর্কে না জড়িয়েও আমরা বলতে পারি এটাই টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্য যতটা না ঐতিহ্যমুখী, তার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবমুখী ও সাম্প্রতিক ধারাপ্রবণ। এর ফল হয়েছে এই যে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা সবসময়ই পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেছে ও যাচ্ছে। কোনো একটা বিশেষ ঘরানার দ্বারা টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা প্রভাবিত হয়নি। বরং বিভিন্ন ধরনের নকশার ধারা এসে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় মিশে গেছে। আর বসাক তাঁতিদের হাতেও কোনো নতুন নকশা তৈরি হয়নি, তাইবা আমরা জোর গলায় কীভাবে বলি? কিন্তু নকশার নিদর্শন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভাবে এ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা দুরূহ।

উল্লেখ্য, পুরনো দিনের টাঙ্গাইল শাড়ির হদিস পাওয়া এখন খুবই মুশকিল। বাংলাদেশের কোনো জাদুঘরে পুরনো টাঙ্গাইলের শাড়ি সংগৃহীত আছে বলে আমার জানা নেই। আর ব্যক্তিগত সংগ্রহের শাড়িগুলোও নানা কারণে নষ্ট হয়ে বা হারিয়ে গেছে কিংবা সেগুলো খুঁজে বের করা কঠিন। ফলে পুরনো দিনের টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র (মৌখিক ও লিখিত) থেকে যতটুকু জানা গেছে, নিদর্শনের অভাবে তার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা মুশকিল। আর তাছাড়া আজও টাঙ্গাইলের তাঁত ও তাঁতি নিয়ে নানা রকমের নৃতাত্ত্বিক বা উন্নয়নমূলক গবেষণা হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা নিয়ে বিশেষ কোনো গবেষণা হয়েছে বলে শোনা যায় না। কিংবা এর কোনো যথাযথ ডকুমেন্টেশন করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

টীকা

১. হাকিম হাবিবুর রহমান, ঢাকা: পঞ্চাশ বছর আগে, অনুবাদ: ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্যাপিরাস, ঢাকা, ২০০৫ (প্র. প্র. ১৯৪৯), পৃ. ২৮

২. Zulekha Haque, ‘Sari: Cotton and Silk’, Textile Traditions of Bangladesh, National Crafts Council of Bangladesh, Dhaka, 2006, p. 68

৩. Government of Bengal, Department of Industries, Report on the survey of Cottage Industries in Bengal, Bengal Secretariat Book Depot, Calcutta, Second Edition: 1929, p. 79

৪. ঐ, পৃ. ৭৯-৮০। রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি।

৫. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি।

৬. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি। ১৯২৮ সাল থেকে টাঙ্গাইলে ফ্লাইসেটেল লুমের প্রচলনের এ বিবরণের সমর্থনে কুটিরশিল্প বিভাগের জরিপের তথ্য উল্লেখ করা যায়। সেখানে বলা হচ্ছে, ‘In many places in the interior of Tangail subdivision fly-shuttle looms have been introduced by the peripatetic weaving instructor. (Report on the survey of Cottage Industries in Bengal, p. 80)

৭. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

৮. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

[রচনাটি দেশাল প্রকাশিত লেখকের ’বাংলাদেশের তাঁতশিল্প’ গ্রন্থ (২০১৮) থেকে ঈষৎ সম্পাদিত রূপে এখানে সংকলিত]

লেখক: শাওন আকন্দ (চিত্রশিল্পী ও গবেষক)

সম্পাদনায়: মো. আরমান কবীর ও সাহান হাসান

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:০৮:এএম ৩ বছর আগে
অনুমোদন ছাড়াই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ - Ekotar Kantho

অনুমোদন ছাড়াই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই দোকান নির্মাণে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। ইতিমধ্যে একতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তে পলেস্তারার কাজ চলছে।

হাসপাতাল চত্বরে দোকান নির্মাণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও অনুমোদন মেলেনি। এরপরও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেনসহ কমিটির প্রভাবশালী সদস্যরা জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতাল চত্বরে দোকান নির্মাণে জায়গা বরাদ্দ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অনুমতি দেননি। এরপরও ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমতি দিয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সভার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষরও করেননি।

তবে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় রেজল্যুশন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন লাগে না। এটা ব্যবস্থাপনা কমিটির এখতিয়ার।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাড়ে ২৬ একর জমির ওপর নির্মিত টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরেই শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্থাপনা আছে।

ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য জানান, শিলা আনসারী নামের এক ব্যবসায়ী হাসপাতাল চত্বরে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে একটি আবেদন করেন। তিনি সেখানে এজেন্ট ব্যাংকের একটি শাখা, এটিএম বুথ ও স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত পণ্যের দোকান করবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। হাসপাতালের উপপরিচালক বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানান। কিন্তু মহাপরিচালক হাসপাতালের ভেতরে দোকান করতে জায়গা বরাদ্দের অনুমতি দেননি। এরপরও গত ১৩ নভেম্বর এক সভায় শিলা আনসারীর নামে ৭৫০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেন কমিটির সদস্যরা।

বরাদ্দের চুক্তিপত্রে দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নিতে বলা হয়েছে। ১২ বছর মেয়াদের চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিন বছর পরপর শতকরা ১০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর কথা উল্লেখ আছে। ভাড়ার শতকরা ১০ ভাগ হাসপাতাল মসজিদের উন্নয়নে, ৩০ ভাগ রোগী কল্যাণ সমিতিতে, ২০ ভাগ হাসপাতাল কর্মচারী সমিতিতে ও ৪০ ভাগ হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। তখন তিনি তাঁদের জানিয়ে দেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া জায়গা বরাদ্দ দেওয়া বিধিসম্মত হবে না। এরপরও তাঁরা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি সভার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেননি।

ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট অন্তত পাঁচজন অভিযোগ করেছেন, ওই জায়গা বরাদ্দ দিতে কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যকে বড় অঙ্কের উৎকোচ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলেও তাঁরা বিধিবহির্ভূতভাবে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

আরেক সদস্য টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান বলেন, বরাদ্দের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। দিয়েছেন এমপি ও মেয়র সাহেব।

বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে মেয়র এস.এস সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, সবার উপস্থিতিতে রেজল্যুশন করা হয়েছে। বরাদ্দের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় হাসপাতালের উপ-পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ নিয়েছেন কি না, আমি জানি না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৩৮:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।