আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তিন মাসের মাথায় আবারও যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীরও ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার (২১ মে) ভোর ৫টা পর্যন্ত রংপুরগামী বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতদল লুটপাট চালায় বলে জানান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যাত্রী টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে আল ইমরান পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে মহাসড়কের বিভিন্নস্থান থেকে যাত্রী সেজে ডাকাতরা বাসে ওঠেন। সুযোগ বুঝে তারা বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।
বাসের সুপারভাইজার ও যাত্রীরা জানান, রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কিছু যাত্রী উঠে। প্রায় ৯ থেকে ১০ জন নারীসহ ৩৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।
যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীবেশী আট থেকে ১০ জন ডাকাত ছুরি, চাপাতিসহ দেশিও অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় ডাকাতরা বাসটি নিয়ে বেশ কয়েকবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়ায় যাওয়া-আসা করে।
পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের শিবপুর এলাকায় বাসটি রেখে ডাকাতদল চলে যায় বলে জানান যাত্রীরা।
বাস চালকের সহকারী ২১ বছর বয়সি আতিকুর রহমান রাঙ্গা বলেন, ডাকাতরা যাত্রীদের ও বাসের চালকসহ সকলের চোখ, মুখ বেঁধে ফেলে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলতে থাকে।
এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, টাকা, সোনারগহনা এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়। রাতভর কয়েকবার বাসটি নিয়ে ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়। বাসটি নিয়ে ডাকাতরা চার থেকে পাঁচ বার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া সড়কে যাওয়া-আসা করে।
ভোরে ডাকাতদল বাসটি ছেড়ে দিলে যাত্রীদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করা হয় বলে জানান এই বাস চালকের সহকারী।
বাসের যাত্রী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ৫২ বছর বয়সি আফাজ উদ্দিন বলেন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নারী যাত্রীদের তল্লাশীর সময় তাদের শ্লীলতাহানী করা হয়। আমার চোখমুখ বাঁধা ছিল। তবে ঘটনার সময় নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ডাকাতদের ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটে।
আরমান কবীরঃ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের আয়োজন এবং ভোট চুরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে এমপি নির্বাচিত করার অভিযোগে টাঙ্গাইলে সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভূঞাপুর থানা আমলী আদালতে কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম মামলাটি আমলে নিয়ে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদি কামরুল হাসান (৫৫) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।
মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনাসহ ১৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী আব্দুল আওয়াল, তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
বাদি মামলায় উল্লেখ করেন, ‘আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারতের নির্দেশক্রমে শেখ হাসিনা অন্য আসামিদের সাথে যোগসাজশ করে বিগত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একটি ডামি নির্বাচনের আয়োজন করেন। বাদি কামরুল হাসান ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের ভারই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন। তিনি অন্য ভোটারদের সাথে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা তাকে মারপিট করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। নির্বাচনে পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এভাবে অন্যের ভোট চুরি করে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরকে এমপি পদে নির্বাচিত করা হয়। এতে দেশ ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।’
বাদিপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইল বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু রায়হান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে ভূঞাপুর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেইসাথে আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে রবিবার (১৮ মে) দুপুরে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।
রবিবার বিকেলে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর আলী, দেলদুয়ার থানা যুব লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, টাঙ্গাইল সদর থানা যুবলীগের সদস্য আহসানুজ্জামান খান ইমরান, টাঙ্গাইল নির্মাণ শ্রমিক প্রকৌশলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খন্দকার বাবু, মেহেদী হাসান মহসিন, সজিব সরকার, নবী নূর মিয়া, সোহেল রানা টিটু ও মজিবর রহমান।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে কৃষক শামছুল হক হত্যা মামলার আসামি মা ও মেয়েকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ দিলারা আলো চন্দনা এ আদেশ দেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী গ্রামের মৃত রাজ্জাক ওরফে রুজুর স্ত্রী রাহিমা ওরফে রহিমা (৫৫) ও তাদের মেয়ে রোজিনা আক্তার (৩২)।
স্পেশাল জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান কবির জানান, বিগত ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কাতুলী গ্রামের কৃষক শামছুল হক (৫৫) বাড়ির পাশে নিজের জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের রাজ্জাক ওরফে রুজু তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিয়ে শামছুল হককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শামছুল হককে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুততম সময়ে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর শামছুল হক মৃত্যুবরণ করেন।
পরে শামছুল হকের স্ত্রী জামিরন বেগম বাদি হয়ে রাজ্জাক এবং তার স্ত্রী রাহিমা, মেয়ে রোজিনা ও ছেলে রফিকুলকে আসামি করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা চলাকালীন অবস্থায় আসামি রাজ্জাক মারা যান। এছাড়া ঘটনার সময় রফিকুলের বয়স কম থাকায় শিশু আদালতে এখনো তার মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার দণ্ডিত আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নেওয়া হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সহযোগী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) বিকালে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে তিনজনকে টাঙ্গাইল সদর থানায় সোপর্দ করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। অপরজনকে মির্জাপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৬ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পাথাইলকান্দি এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ দুইজন আসামিকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাগর আলী (২৭), ছাত্রলীগের সক্রিয়কর্মী ও আব্দুস ছাত্তার ফকিরের ছেলে সুমন ফকির (৩২) এবং অপরজন চর পাথাইলকান্দি গ্রামের শাহ আলম প্রামাণিকের ছেলে মামুন প্রামাণিক (৩০)।
অন্যদিকে, মির্জাপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি নিষিদ্ধ সংগঠনের যুবলীগ নেতা পাকের আলীকে একইদিন রাতে নিজ এলাকা থেকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে রাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়। তিনি উপজেলা পৌর শহরের বীরহাটি গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, গত ১৪ এপ্রিল বুধবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে মশাল মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের নির্দেশ দেয় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি তানভীর হাসান ছোট মনির। জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়টি স্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃত পাকের আলী, সাগর আলী ও সুমন। মামুন তাদের সহযোগী ছিল। পরে তাদের শনিবার বিকালে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মিছিলে আরও যারা অংশ নেন তাদেরকেও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত রোজার ঈদে ছোট মনির টাঙ্গাইলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও মিছিল-মিটিংয়ের জন্য গ্রেপ্তারকৃত সাগরকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। সেই টাকা তিনি তার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে কৌশলে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে প্রদান করতেন বলেও জানায় সাগর আলী।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, আমরা গ্রেপ্তারকৃত দুইজন আসামিকে বুঝে পেয়েছি। ৩ জনের মধ্যে একজন আসমিকে ভূঞাপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে চালান করে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) টাঙ্গাইলে মশাল মিছিল করার অভিযোগে এপর্যন্ত ১২ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গরীবের ডাক্তার খ্যাত এড্রিক বেকারের হাসপাতালে র্যাবের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) দুপুরে র্যাব-১৪ এর উদ্যোগে এ চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান আমেরিকান ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে চিকিৎসা সামগ্রী তুলে দেন। চিকিৎসা সামগ্রী পেয়ে খুশি হাসপাতালের কর্মকর্তারা।
এ সময় র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাউসার বাঁধনসহ র্যাবের অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি র্যাব সেবায় যেনো অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ ধারা অব্যহত থাকবে।
উল্লেখ্য, টানা ৩২ বছর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরগড়ে অবস্থিত কালিয়াকৈরে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পর ২০১৫ সালে মারা যান নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ৭৪ বছর বয়স্ক ডাক্তার এড্রিক বেকার।
গ্রামের সবার কাছেই যিনি ডাক্তার ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমেরিকা থেকে ছুটে এসে বর্তমানে ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডি হাসপাতালটি দেখাশোনা করছেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে পেটে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকালে শহরের বটতলা সিটি বাজারে ওই মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের বটতলা সিটি বাজারে ‘সোহেল মাংসের দোকান’-এ দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন সদর উপজেলার চিলাবাড়ির পাইকপাড়া গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল মিয়া। শুক্রবার বটতলা সিটি বাজারে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক সিল মারতে গিয়ে গর্ভবতী গাভি শনাক্ত করেন। এর পর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, জবাই করা গাভিটির পেটে বাচ্চা ছিল।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. শাহিন আলম জানান, বটতলা সিটি বাজারে সোহেল মাংসের দোকানে একটি গর্ভবতী গাভি জবাই করা হয়েছে, এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে যাই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গাভিটির পেটে প্রায় দুই মাসের ভ্রুণ ছিল।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, শুক্রবার সকালে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বটতলা সিটি বাজারে যাই। মাংস ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তিনি অকপটে সব দোষ স্বীকার করেন। তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা গাভির ৭০ কেজি মাংস সবার সামনে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও এএসআই মিলনসহ পুলিশের একটি দল।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আহবানে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের ৫০তম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইল নিরালা মোড়ে অবস্থিত সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্থ করে একতরফা ভাবে নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার করেছে ভারত। যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। আলোচনা সভায় অবিলম্বে বাংলাদেশে ভারত কর্তৃক অবৈধ বাঁধ প্রত্যাহার এবং ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক শানুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিমউদ্দিন, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির সদস্য এডভোকেট আল রুহী, মাওলানা ভাসানী ছাত্র ফাউন্ডেশনের নেতা নুরুল ইসলাম, সদর থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব ও হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ ‘কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিও না’, ‘দিওয়ানা দিওয়ানা তোমার প্রেমের দিওয়ানা’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’ ‘দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ’ ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘দুষ্ট ছেলের দল’, ‘বিজলী চলে যেওনা’, ‘মীরা বাঈ’, ‘পাগলা হাওয়ার তোড়ে’, ‘না জানি কোহি’সহ জনপ্রিয় অনেক গান গেয়ে টাঙ্গাইল মাতালেন নগর বাউল জেমস।
মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ (বিবিএফসি) উপলক্ষে আয়োজিত ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক দর্শককে মাতালেন এই রকস্টার।
দর্শক-শ্রোতাদের উল্লাসে নিজেও মেতে উঠেন তিনি। গানে গানে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান রঙিন করে তুলেন জেমস। এছাড়াও পারফর্ম করেন টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীরা। বিকাল থেকেই শুরু হওয়া কনসার্ট চলে রাত পর্যন্ত।
এর আগে দুপুর থেকে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে জেমসের ভক্তরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়া শুরু করেন।
আয়োজক কমিটি জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপি ও আয়োজক কমিটির নেতারা।
টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ার মারুফ হাসান বলেন, মঞ্চে জেমস মানেই যেন অন্যরকম উন্মাদনা। দর্শকদের পাগলামো আর হৈ-হুল্লোড়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রকস্টারও মেতে উঠেন।
শহরের আকুর-টাকুর পাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ আজগর আলী বলেন, ইতোপূর্বে টাঙ্গাইলে এত দর্শক নিয়ে কেউ প্রোগ্রাম করতে পারেনি। মঙ্গলবার শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
কলেজছাত্র সুমাইয়া রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে আসতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। গুরু জেমসের গান শুনে তা পূরণ হয়েছে। জেমস টাঙ্গাইলে এসে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন।
চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের শিল্পীদের ব্যান্ডিং করার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম আমরা হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিন্দুবাসিনী চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। আমাদের প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে- সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর পরে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্যাসিবাদ বিদায়ের জন্য সকলে মিলে ভূমিকা পালন করেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আদর্শিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে।
আরমান কবীরঃ শতাব্দি প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের বর্তমানে বেহাল দশা। শহরের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়ক গুলোর সাথে সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রতিবছর শহরে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা পৌরবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটির বেহাল দশা। শহরের যানজট নিরসনে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পরেও দীর্ঘদিনধরে কোন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে ট্রাক-বাসসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে এই সড়কে।
শহরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্লাব রোড। এই সড়কটি মূলত একটি লিংক রোড। যা শহরের ব্যস্ততম জেলা সদর রোড ও ভিক্টোরিয়া রোডকে যুক্ত করেছে। পৌর ভবন থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। এছাড়া এই সড়কটিতে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সারাবছর এই সড়কের একটি অংশ পচা ড্রেনের পানিতে ডুবে থাকে।
শহরের মালঞ্চ সিনেমা হল-সাহাপাড়া-বাজিতপুর সড়কটি বৃষ্টি হলেই পানির নিচে ডুবে যায়। যে কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এছাড়া জমে থাকা ড্রেনের পানি গিয়ে ঢুকে পড়ে বসত বাড়িতে। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এইসব এলাকায় বেশি দেখা যায়।
এছাড়া শহরের জেলা সদর হয়ে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটির খুবই বেহাল দশা। নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট এড়াতে অনেকেই এই সড়কটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই সড়কে কোন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে চায়না। ফলে শহরের ১ ও ২ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ জেলার উত্তর অংশের মানুষদের শহরে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । এই সড়কটি জেলা গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন।
এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ থেকে মেসের মার্কেট পর্যন্ত সড়কটি ভেঙেচুরে বর্তমানে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিকল্প সড়ক হিসেবে হাউজিং এস্টেটের সড়ক ব্যবহার করে অনেকটা ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের দিঘুলিয়া নিজাম উদ্দিন সড়কের শাহ্ আলমের বাড়ি থেকে কাজীবাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা। সড়কটিতে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এরফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী জহির সুমন বলেন, এই সড়ক ব্যাবহার করে দুটি প্রাইমারি স্কুল ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি ডুবে যাওয়ার ফলে, তাদের বিদ্যালয় যেতে চরম সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা এই সড়কটি ব্যবহার করে, শহরে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের শহরে আসার একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়কটির দ্রুত উন্নয়নের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
টাঙ্গাইল কোর্টের আইনজীবি জসীমউদ্দীন বলেন, আদালত প্রাঙ্গনের রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে রাস্তাটির সলিং উঠে গিয়ে রড বেড় হয়ে গেছে। বের হয়ে থাকা এইসব রডের সাথে বেজে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া এই সড়কে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তা মেরামতের সাথে সাথে রাস্তার ড্রেন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া এলাকার নিক্সন খান বলেন, বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, পৌর শহরের অধিকাংশ সড়ক বর্তমানে ব্যাবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহরে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতার তৈরি হয়। টাঙ্গাইল শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই সরকারি আমলা। তাদের জনসম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। ফলে তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত এমন প্রশাসক নিয়োগ দিলে শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাকরি।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, জেলা সদর থেকে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটি গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের বাজেট না থাকায় টাঙ্গাইল পৌরসভাকে রাস্তাটি মেরামতের অনুরোধ করা হয়েছে। শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মেরামতের বাজেট টাঙ্গাইল পৌরসভা মন্থনালয়ে প্রেরণ করেছে। আশাকরি অতিদ্রুতই রাস্তাটির মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল ও পৌরসভার প্রশাসক শিহাব রায়হান বলেন, রাস্তাগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। পর্যায়ক্রমে দ্রুত রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নতকরন করা হবে।
আরমান কবীরঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতা।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে তারা। পরে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ জাবেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারদিন ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, আওয়ামী লীগকে অতিদ্রুতই নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন পর্যন্ত কি কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো না তা আমরা জানতে চাই। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অনেকেই এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে ইশীকা আরাত (২০) নামের এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরাতন বটতলা মুরগির বাজার এলাকার এক বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
নিহত ঈশীকা আরাত পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। সে বটতলা এলাকার মালেক ভূঁইয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন।
বাগান বাড়ি এলাকার স্থানীয়রা জানান, ঈশীকার ৩ বছর আগে হাজরাঘাট এলাকার রিয়াদ খানের সাথে বিয়ে হয়েছিল। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। তাদের সংসারে বনি-বনা না হওয়ায় এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে বাগান বাড়ি এলাকার একটি ছেলের সাথে তার আবারও বিয়ে হয়। সে সংসারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পূর্বে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। যে কারণে সে বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেমরাজুল ইসলাম রুবেল একতার কণ্ঠ-কে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।